মন্তব্য

'আদর্শিকভাবে আমি প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ঘোর বিরোধী'

প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৮

'আদর্শিকভাবে আমি প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ঘোর বিরোধী'

পরীক্ষার্থীদের ফাইল ছবি

  সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

গত বোরবার থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা। এবারের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৩৩১ জন।পরীক্ষার প্রথমদিনে ইংরেজি পরীক্ষায় গোটা দেশে অনুপস্থিত ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার ১৬৮ জন পরীক্ষার্থী। গত বছরও প্রথমদিনে ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮৩ জন অনুপস্থিত ছিল। প্রামথিক সমাপনী পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণ এবং এই পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

প্রথমত, আমার কাছে এটা খুবই অপ্রয়োজনীয় একটা পরীক্ষা মনে হয়। শিশুদের কাছে এটা একটা বোঝার মতো। এই পরীক্ষা নিয়ে কার স্বার্থ যে রক্ষা হচ্ছে কে জানে। তবে একমাত্র নোটবুক আর টিউশন বাণিজ্য যারা করছে তাদের ছাড়া কারও স্বার্থ রক্ষা হওয়ার কথা নয়। শিশুরা তোতা পাখির মতো পড়া মুখস্থ করে পরীক্ষার হলে বসছে। এ ধরনের পরীক্ষার কোনো অর্থ নেই। আদর্শিকভাবে আমি এই পরীক্ষার ঘোর বিরোধী।

প্রতি বছরই প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা অনুপস্থিত থাকছে। এর অনেক কারণও আছে। গ্রাম আর শহরে পড়াশোনার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। গ্রামে দক্ষ প্রাইমারী শিক্ষকেরও ঘাটতি আছে। একটা অসম শিক্ষা পদ্ধতির মধ্যে শিশুরা বেড়ে উঠছে। এরকম একটা পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে শিশুরা ভয় পাচ্ছে। প্রতি বছরই পরীক্ষার আগে অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই কারণেও অনেকে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে না। সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী অনেক শিশু আবার বাড়িতেও কাজ করে। এসব মিলিয়েই প্রতি বছর পরীক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকছে। আমি চাইবো, আগামী বছর থেকেই যেন কোমলমতি শিশুদের এ ধরনের পাবলিক পরীক্ষা থেকে মুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

‘আমরা যেন আরেকটা ট্র্যাজেডির জন্য অপেক্ষা করছিলাম’


আরও খবর

মন্তব্য

  অনলাইন ডেস্ক

আবারও আগুনে পুড়ে মানুষের প্রাণহানি। আবারও রাসায়নিক কারখানা থেকে ছড়িয়ে যাওয়া আগুনের শিখা। বুধবার রাতে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় একটি ভবনে আগুন। ভবনের নিচতলায় রাসায়নিক কারখানা থাকায় দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের চারটি ভবনে। এতে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭০ জনের। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই সংখ্যা বাড়তে পারে। পুরান ঢাকায় রাসায়নিক কারখানা, এত মানুষের প্রাণহানি এবং করণীয় প্রসঙ্গে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরিন

বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কথা হচ্ছে। পুরান ঢাকার ভবনগুলো একটার সঙ্গে আরেকটা লাগানো। ভূমিকম্প হলে এখানে আগুন লাগলে কোনভাবেই তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে –এটাও গবেষণায় বলা হয়েছে। তারপরও কোনও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

একটা আবাসিক এলাকায় কখনোই রাসায়নিক কারখানা থাকতে পারে না। ২০১০ সালের নিমতলী ট্র্যাজেডির পর এগুলো সরানোর ব্যাপারে একটা তৎপরতা ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটা কমে গেছে। মনে হয়, আমরা যেন আরেকটা ট্র্যাজেডির জন্য অপেক্ষা করছিলাম।

এটার জন্য শুধু সরকারকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে বারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওখানকার ব্যবসায়ী, স্থানীয়রা জায়গা ছেড়ে যেতে চাননি। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় থাকার কারণে জায়গার মায়া তারা ছাড়তে চাননি। আজকের এই ঘটনার জন্য এলাকাবাসীর অসচেতনতাও দায়ী। সরকার হয়তো নির্দেশ দিয়েছে কিন্তু সেটা কার্যকর করার জন্য নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে যারা আছেন, তাদের তৎপরতায় ঘাটতি ছিল। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে নির্দেশ থাকলেও এ ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রচারমাধ্যমের উচিত ছিল বিষয়টার ফলোআপ রাখা।

রাসায়নিক কারখানাগুলো সরানোর জন্য সরকারের পরিকল্পনা ছিল। সরকার এগুলো কেরানীগঞ্জ এবং জিঞ্জিরাতে সরানোর পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু নিমতলী ট্রাজেডির ৮ বছর পরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন আর অপেক্ষা করার সময় নেই। নিমতলী এবং চকবাজারের মতো ঘটনা যেন বারবার না ঘটে এজন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই রাসায়নিক কারখানাগুলো পুরান ঢাকা থেকে সরানোর উদ্যোগ নিতে হবে। 

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

'প্রাণের টানেই বইমেলায় ছুটে যাই '


আরও খবর

মন্তব্য
'প্রাণের টানেই বইমেলায় ছুটে যাই '

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

  অনলাইন ডেস্ক

ছোটদের জন্যই লিখেন তিনি। মাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়েছেন। কলকাতা থেকেও প্রকাশিত হয়েছে তার বই। এবারের বইমেলার আয়োজন, নিজের প্রকাশিত বই এবং বইমেলা নিয়ে নিজের ভাবনার কথা সমকাল অনলাইনকে জানিয়েছেন শিশুসাহিত্যিক আশিক মুস্তাফা 

টেলিভিশন, অনলাইন কিংবা পত্রিকা পড়ে বইমেলাকে যারা বিচার করেন; তাদের বলবো, মেলায় এসে একবার ঘুরে যান; আপনার ধারণা বদলে যাবে। মানুষের বই কেনা দেখে আপনিও স্মৃতি হাতড়ে প্রিয় লেখকের নাম মনে করতে থাকবেন। পছন্দের স্টলে গিয়ে বই খুঁজতে থাকবেন নিজের অজান্তেই। ছোটদের কর্ণারে গিয়ে পাবেন অন্যরকম প্রশান্তি। 

মেলায় আমার তিনটি বই এসেছে শিশু গ্রন্থ কুটির ও বাংলা প্রকাশ থেকে। 'হাতির শুঁড়ে বৃষ্টি নামে' এই বইটি প্রকাশ করেছে বাংলাপ্রকাশ। আর 'আঙুলেরা পাঁচ বোন' ও 'বৃষ্টিবু' এই বই দুটি প্রকাশ করেছে শিশু গ্রন্থ কুটির। 

ছোটরা আগে বড়দের কাছে গল্প শুনে নিজেদের কল্পনার জগৎ সাজাতো। এখন বড়দের ব্যস্ততার কারণে সেই সুযোগ তারা কমই পায়। আমরা ছোটদের দিকেই আঙুল তুলে বলি, তারা অনলাইনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। আমি সেটা মনে করি না। তাদের হাতে বই তুলে দিলে তবেই না তারা বই ভালবাসবে ,কল্পনার জগৎ তৈরি করতে পারবে।

এখনকার বাবা-মায়েদের অনেকেই তাদের ছোটবেলায় ওই বয়সীদের উপযোগী বই পেতেন না। সেই তুলনায় ছোটদের জন্য এখন প্রচুর বয়সভিত্তিক বই বের হচ্ছে। যারা এখনও পড়তে শিখেনি তাদের জন্যও বের হচ্ছে ছবির বই। 

ফরাসী লেখক একজুপেরির ভাষায়, বাগানের হাজারো গোলাপের চেয়ে নিজের পোষা গোলাপ অনেক বেশি কাছে টানে। আমার কাছেও বইমেলা অনেকটা পোষ মানানো গোলাপ গাছের মতো। প্রতিনিয়তই যে আয় আয় বলে ডাকে। বইমেলায় না গেলে আমার ভালো লাগে না। তাই অনিয়মিত হলেও প্রাণের টানে বইমেলায় ছুটে যাই। বিশেষ করে শুক্র-শনিবার শিশু প্রহরে আমার যেতে ভাল লাগে।

ছোটরা বই নিয়ে স্টলেই পড়া শুরু করে। যেকোন লেখকের জন্য এটিই জগতের সবচেয়ে পবিত্রতম দৃশ্য। এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বইমেলায় যাওয়া সুযোগ হয়েছে। কিন্তু কোনটাই আমাদের বইমেলার মতো এতটা উৎসবমুখর মনে হয়নি।

বইমেলাকে ঘিরে যতো আয়োজন সবই বড়দের জন্য। আমার মতে, এখানে ছোটদের জন্যও আলাদা মঞ্চ করা উচিত। যেখানে লেখকরা আসবেন, ছোটদের সামনে বসে তাদের গল্প শোনাবেন। ছোটরা প্রিয় লেখকের দিকে তাকিয়ে থাকবে, আলতো করে তাদের ছুঁয়ে দেখবে। আশা করছি, মেলা কর্তৃপক্ষ আগামীতে এ বিষয়ের দিকে দৃষ্টি দেবেন। 


সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

'বইমেলা একটা উৎসব, ঈদের মতোই আনন্দ লাগে'


আরও খবর

মন্তব্য

  অনলাইন ডেস্ক

তার লেখালেখির শুরুটা ফেসবুক দিয়ে। একটা সময় সেই লেখাগুলো গ্রহণযোগ্যতা পেতে থাকে বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিত-অপরিচিত মহলে। তারপরই শুরু বই লেখা। নতুন লেখক হিসেবে এরইমধ্যে তিনি বেশ জনপ্রিয়ও হয়ে উঠেছেন। এবারের বইমেলার আয়োজন, নিজের প্রকাশিত বই এবং বইমেলা নিয়ে নিজের ভাবনার কথা সমকাল অনলাইনকে জানিয়েছেন লেখক সাদাত হোসাইন

এবারের বইমেলার জায়গাটা বেশ প্রশস্ত। প্রথম থেকেই মেলায় বেশ ভিড় হচ্ছে। তবে অনেকেই বলছেন, মেলায় ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি।

মেলায় আমার ‘নির্বাসন’ নামে একটি উপন্যাস এসেছে অন্যধারা প্রকাশনা থেকে। একটা সময় মানুষের অবসর কাটানোর মাধ্যম ছিল বিটিভি দেখা, রেডিও শোনা কিংবা বই পড়া। অথচ এখনকার প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের বিনোদনের জন্য অনেক বিকল্প রয়েছে। অনেকগুলো টেলিভিশন চ্যানেল, ফেসবুক, টুইটারসহ অনেক কিছু নিয়েই তারা ব্যস্ত থাকে। তাদেরকে বইমুখী করা একটু কঠিন।

আমার লেখালেখির শুরু ফেসবুকে। লিখতে লিখতেই একটা সময় দেখি অনেকে আমার লেখা পছন্দ করতে শুরু করেছেন। নিজেকে আবিষ্কার করতে আমার অনেক সময় লেগেছে। হয়তো আমার উপস্থাপনার ভঙি এবং যে গল্পটা আমি দর্শকদের বলতে চাই সেটা পাঠকের সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে পেরেছে। এর কিছু ফলও এখন পাচ্ছি। যেমন- ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ফেসবুকে আমি পাঠকদের জানাতাম বইমেলায় যাচ্ছি। সেখানেই তাদের সঙ্গে আমার দেখা ও কথা হতো। কিন্তু ধীরে ধীরে পাঠকের ভিড় বেড়ে যাওয়ার কারণে ২০১৮-১৯ সাল থেকে শুধু শুক্র, শনিবার বইমেলায় যাচ্ছি। পাঠকের এতটা সাড়া পেয়ে আমি সত্যিই অভিভূত।

আসলে লিখতে হলে বই পড়ার বিকল্প নেই। কিন্তু তার থেকেও বড় ব্যাপার হলো, লেখকের জীবন পড়তে পারার ক্ষমতা থাকতে হবে। আপনি যদি নিজেকে, চারপাশের মানুষের অনুভূতি উপলব্ধি করতে না পারেন, তাহলে লেখাটা মানুষের হৃদয় ছুঁতে পারবে না।

বইমেলা একটা উৎসব। প্রতি বছর বইমেলা এলে আমার ঈদের মতোই আনন্দ লাগে। কলকাতায় বইমেলা হলে বড় বড় বিলবোর্ড টানানো হয় । আমাদের এখানেও সরকার এ ব্যাপারে নজর দিতে পারে। প্রচারণা বাড়ালে হয়তো দর্শনার্থীর চেয়ে বইমেলায় ক্রেতা কম-এই ব্যাপারটাও পরিবর্তন হবে। 

সংশ্লিষ্ট খবর