মন্তব্য

চিঠি দেব না, ডাকলে সংলাপে যাব: সেলিম

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০১৮ | আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৮

চিঠি দেব না, ডাকলে সংলাপে যাব: সেলিম

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

  অনলাইন ডেস্ক

একাদশ সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু করতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে বহুল আলোচিত সংলাপ শুরু হচ্ছে।  এরপর শুক্রবার সংলাপে বসবে বিকল্পধারা। সংলাপে বসতে আগ্রহ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার পর ওই তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এদিকে সংলাপে আগ্রহ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে  চিঠি দিয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। চলমান সংলাপের প্রক্রিয়া নিয়ে নিয়ে বুধবার বিকেলে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে সংলাপের জন্য প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এটা একটা ভাল পদক্ষেপ, তাদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু সংলাপ চেয়ে সরকারকে চিঠি দিতে হবে কেন, সরকারতো আন্তরিকভাবেই সব দলকে সংলাপে ডাকতে পারে। কারণ আমরা অনেকদিন ধরেই সংলাপের দাবি জানিয়ে আসছি, নতুন করে চিঠি দিতে হবে কেন। তবে আমাদের ডাকলে আমরা সংলাপে যাবো। বাম জোটকে সংলাপে ডাকা হলে আরও কিছু বিষয়ে আলোচনা করার সুযোগ ছিল।

সংলাপ চেয়ে যারা চিঠি দিয়েছে কিংবা যাদের সংলাপের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তারা সরকারের ঘরণার লোক। বাংলাদেশে একমাত্র বামপন্থী দলগুলো ভিন্ন চিন্তা করে। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও মানুষ এখনো তাদের ভোটের অধিকার পায়নি। মানুষের মুক্তির জন্য জাতীয় ঐক্যের কথা আমরাও বলে আসছি। সরকার কর্ণপাত করেনি। আমরা গণমানুষের মুক্তির জন্য আন্দোলন করে আসছি। আমরা সরকারের লাঠিপেটার শিকার হচ্ছি বার বার। আমরা কী চাই সরকার তা জানে। আনুষ্ঠানিকভাবে বলার কিছু নেই। সংলাপের উদ্যোগ নিতে হয় সরকারকে। বাস্তবায়নেও ভূমিকা থাকে সরকারের। সরকার এখনও আমাদেরকে সংলাপের ব্যাপারে কোনো প্রস্তাব দেয়নি। তবে আমরা সংলাপের বিষয়বস্তু পর্যবেক্ষণ করব।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণসহ চার-দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। দাবিগুলো হচ্ছে- নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং পুরো নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার করা।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

'আরসিবিসির সাবেক কর্মকর্তার সাজা একইসঙ্গে ইতিবাচক ও লজ্জাজনক'


আরও খবর

মন্তব্য

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ— ফাইল ছবি

  অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্সিয়াল ব্যাংক করপোরেশনের (আরসিবিসি) সাবেক কর্মকর্তা মায়া সান্তোস দেগিতোকে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। বৃহস্পতিবার আদালতের এ সংক্রান্ত রায়ে দেগিতোকে তার বিরুদ্ধে আনা অর্থ পাচারের ৮টি অভিযোগের সবকটিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মামলায় বিচার চলছে দেশটির আরও পাঁচ ব্যাংক কর্মকর্তার।

প্রায় তিন বছর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া ১০ কোটি ১০ লাখ ডলারের পুরোটা উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। আরসিবিসির সাবেক কর্মকর্তা মায়া সান্তোস দেগিতোর সাজা এক্ষেত্রে কতটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে— সে বিষয়ে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ

আরসিবিসির সাবেক কর্মকর্তা মায়া সান্তোস দেগিতোর সাজা হওয়ার ঘটনাটি একইসঙ্গে ইতিবাচক, আবার বাংলাদেশের জন্য লজ্জাজনক। এ রায়ের মাধ্যমে প্রমাণ হয়, বাংলাদেশ থেকে অর্থ চুরি হয়েছে, জালিয়াতি হয়েছে। ঘটনাটি লজ্জাজনক এই জন্য যে, বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা সরকার এ বিষয়ে উদাসীন। রিজার্ভের অর্থ চুরির কথা আমরা জেনেছি ফিলিপাইনের পত্রিকার মাধ্যেম। দেশটিতে এ নিয়ে হৈচৈ হয়েছে, সিনেটে আলোচনা হয়েছে। সেখানকার সরকার উদ্যোগী হয়ে এই জালিয়াতির বিচার করছে।

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়, রিপোর্টও দেওয়া হয়। কিন্তু সেই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। দেশের ভেতর কেউ জড়িত না থাকলে এতো বড় ঘটনা ঘটার কথা নয়। দেশের সম্পদ যে নাজুক অবস্থায় আছে সেটা এই অর্থ পাচারের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে। ব্যাংকের সুরক্ষায় যে ফাটল রয়েছে সেটাও বোঝা গেছে। ফিলিপাইনে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার সাজার সূত্র ধরে হয়তো কিছু অর্থ উদ্ধার হবে; তবে পুরোটা হবে কিনা সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। কারণ ঘটনাটির যেমন অনুসন্ধান হওয়া উচিত ছিল সেটা হয়নি। কারা এটা করল, কীভাবে করল, আগামীতেও এ ধরনের ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে কীনা সেটা ফাঁকাই রয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

'চ্যালেঞ্জ নয়, নতুন সরকারের সামনে অনেক সুযোগ'


আরও খবর

মন্তব্য

  অনলাইন ডেস্ক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছে ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগ। খুব শিগগিরই গঠন হবে নতুন সরকার। দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন সরকারকে কি ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে তা নিয়ে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন সাবেক রাষ্টদূত এম হুমায়ুন কবীর

চ্যালেঞ্জ নয় বরং নতুন সরকারের সামনে অনেক সুযোগ রয়েছে। দেশে যে উন্নয়নের ধারা চলছে সেটা ধরে রাখতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে পারে।এজন্য দেশে বাণিজ্যিক পরিবেশ আরও উন্নত করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে সংস্কারও করা প্রয়োজন। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ অর্থাৎ কর আদায়ের ব্যাপারে সরকারকে সচেষ্ট হতে হবে। এক্ষেত্রেও কিছু বিষয় সংস্কার করা প্রয়োজন। রাতারাতি উন্নয়ন তো সম্ভব নয়। এ জন্য অর্থের প্রয়োজন । সে কারণে অর্থ সংগ্রহ একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেসরকারি বিনিয়োগও বাড়াতে হবে। সরকার হয়তো মেগা প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বেসরকারি খাতে অনেক কাজের সুযোগ রয়েছে। এ কারণে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

আভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোরও চেষ্টা করতে হবে সরকারকে। শিক্ষা, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে যাতে বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়ে, সেজন্য আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করতে হবে সরকারকে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা খুবই জরুরি। সুশাসন নিশ্চিত না হলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হবে। সকলের অংশদারীত্ব নিয়ে এগুতে পারলে রাষ্ট্র টেকসই উন্নয়নের চেহারা পাবে। দেশের মানুষও তাদের কথা মনে রাখবে।    

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নীতি বা পরিকল্পনা নেই


আরও খবর

মন্তব্য

ইশতেহার ২০১৮: বিশিষ্টজনের চোখে

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নীতি বা পরিকল্পনা নেই

প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আয়শা খানম

রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করছে এবং একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে- এ বিষয়টিকে স্বাগত জানাই। সামাজিক-অর্থনৈতিক বিকাশ, উন্নয়ন ও প্রগতির জন্য ধারাবাহিক প্রক্রিয়া থাকা জরুরি। কিন্তু ধারাবাহিকতার প্রক্রিয়াটি নারীর অধিকারের প্রশ্নে অনেক ক্ষেত্রেই করা হয়নি। রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কোনো পদক্ষেপ, নীতি বা পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে ইশতেহারে তা উল্লেখ নেই।

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন প্রক্রিয়া চালু করা এবং আসন সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি করা নারী সমাজের দীর্ঘদিনের দাবি। বর্তমান সরকার বিভিন্ন সময়ে এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল; কিন্তু দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে এর কোনো প্রতিফলন নেই। শুধু তাই নয়, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ২০০৮-এর ৯০নং অনুচ্ছেদ বাস্তবায়ন অর্থাৎ সব রাজনৈতিক দলের কমিটিতে এক-তৃতীয়াংশ নারীর অন্তর্ভুক্তি করা এবং সাধারণ আসনেও অধিকসংখ্যক নারী প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক অঙ্গীকারও ব্যক্ত করা হয়নি।

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য সংসদে সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন এবং এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি, যা আওয়ামী লীগের ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের ১২নং অনুচ্ছেদে ছিল। পরে প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সালের ৮ মার্চ নারী দিবসেও এর ঘোষণা দেন; কিন্তু এটি করার জন্য যে প্রস্তুতি দরকার ছিল তা নেওয়া হয়নি। সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের কোনো নির্বাচনী এলাকা নেই। কারণ তারা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হয়ে আসেন। আজ আমাদের স্পিকারও নিজ এলাকায় নির্বাচন করছেন না। রংপুরে নির্বাচন করছেন। এ বিষয়টি রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী সমাজ, শিক্ষক, সংবাদিক, নাগরিক সমাজ সবাইকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ৪০ বছর ধরে রাজনৈতিক কৌশলের নামে কোনোক্রমেই রাজাকার, জামায়াত, যুদ্ধাপরাধী, স্বৈরাচার, ঋণখেলাপি, নারী নির্যাতনকারী, মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, গডফাদারদের সঙ্গে কোনো ধরনের ঐক্য গড়ে তোলা যাবে না বলে এবং তাদের মনোনয়ন দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু রাজনৈতিক সমীকরণগুলো এমন উগ্রভাবে, নীতিহীনভাবে হচ্ছে যে, তা দুঃখজনক। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার না করতে মহিলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে। কিন্তু রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নানাভাবে, নানা ভাষায়, নানা ব্যাখ্যায়, নানা পদ্ধতিতে করা হচ্ছে। দেশে জবাবদিহিতার প্রক্রিয়াও দুর্বল। এর ফলে রাজনৈতিক দলের নিজেদের ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নেও বাধা তৈরি করবে।

*সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ