মন্তব্য

'এমন অযৌক্তিক ধর্মঘটের ওপর সরকারের কী কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই'

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০১৮

'এমন অযৌক্তিক ধর্মঘটের ওপর সরকারের কী কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই'

  অনলাইন ডেস্ক

সম্প্রতি পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে রোববার থেকে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি কর্মসূচির নামে ধর্মঘট পালন করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। এতে সড়ক মহাসড়কে গণপরিবহন সঙ্কটে চরম বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়েছে এর প্রভাব। পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী ও 'নিজেরা করি'র নির্বাহী পরিচালক খুশী কবীর

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারশনের যিনি নেতা তিনি একজন মন্ত্রী। মন্ত্রীসভার সদস্যদের সম্মতিতেই আইনটি হয়। এখন সবার প্রশ্ন হলো,যখন আইনটি করা হয় তখন কি তিনি মন্ত্রীসভার বাইরে ছিলেন? সরকার যখন একটা আইন করেছে তখন তা পালন করতে সবাই বাধ্য। সেক্ষেত্রে ওই মন্ত্রী কোন যুক্তিতে এখনও মন্ত্রীপদে থাকছেন? কেবিনেটে অন্য যেসব মন্ত্রী আছেন তারা এই অযৌক্তিক ধর্মঘটের জন্য পরিবহন শ্রমিকদের সেই নেতার মন্ত্রীত্ব নিয়ে কেন প্রশ্ন তুলছেন না- সেটা সবার জিজ্ঞাসা।

এর আগে বিভিন্ন সময় বিরোধী দল ধর্মঘট ডেকেছে। মানুষ তা পালনও করেছে। কিন্তু শ্রমিক ফেডারেশনের কর্মীরা জোর করে তাদের ধমর্ঘট চাপিয়ে দিচ্ছে অন্যদের ওপর। এমনকী বিভিন্ন সংস্থার ব্যক্তিগত গাড়ি যারা চালাচ্ছে তাদের ওপর জোর করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। আগে যেভাবে ধর্মঘটের নামে নৈরাজ্য হয়েছে,এখনও তাই হচ্ছে। ধর্মঘটের নামে যারা রাস্তায় নৈরাজ্য করছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ, প্রশাসন থেকে এখন পর্যন্ত তাদের কাউকে গ্রেফতার করতে দেখা যায়নি। অথচ ফেসবুকে পোস্ট দিলে এবং সেটা অপছন্দ হলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করছে। ফেসবুকের পোস্ট কারও অপছন্দ হতে পারে। আরেকজন ভিন্নমত পোষণ করতে পারে, সেটা নিয়ে কমেন্ট করতে পারে, অবজ্ঞা করতে পারে। কিন্তু তাকে ধরে জেলে ভরার অধিকার নেই; কিন্তু সেটা হচ্ছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে অনৈতিকভাবে অনেককে জেলে ভরা হচ্ছে, মারধর করা হচ্ছে। এদিকে এমন অযৌক্তিক ধর্মঘটের কারণে যেখানে মানুষ মারা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে, সাধারণ মানুষ খাবার পাচ্ছে না- সেখানে সরকার নীরব কেন? ধর্মঘটের নামে আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে কিন্তু এ ব্যাপারে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এখানে সরকারের সেই মন্ত্রীর ভূমিকা কী,সরকারেরই বা ভূমিকা কী? এই অযৌক্তিক ধর্মঘটের ওপর সরকারের কী কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই! আমরা চাই সরকার জনগণের নিরপত্তা দেবে,এই নৈরাজ্যময় পরিস্থিতি থেকে আমাদের মুক্তি দেবে। এভাবে তো চলতে পারে না। 


মন্তব্য


অন্যান্য