চট্টগ্রাম

মহীউদ্দীন খান ও এহসানুল হক

রাজনীতির সেদিন রাজনীতির এদিন

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৯ | আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৯

রাজনীতির সেদিন রাজনীতির এদিন

ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও আ ন ম এহসানুল হক মিলন- সমকাল

  ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, চাঁদপুর

দীর্ঘদিনের 'রাজনীতিক শত্রু' তারা দুইজন। একজন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর অরেকজন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

দুইজনই চাঁদপুর-১ আসন থেকে নির্বাচন করেছেন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ক্ষমতায় থাকাকালে চরম অশান্তির কারণ ছিলেন একে অন্যজনের। মামলা-হামলার অভিযোগ অহরহ করতেন একে অপরের বিরুদ্ধে। তবে মঙ্গলবার দেখা গেল ভিন্ন চিত্র।

মিলনের শ্বশুরের জানাজায় হাজির হয়ে তাকে সমবেদনা জানালেন মহীউদ্দীন খান আলমগীর। আর এটিই নিয়েই এখন আলোচনা হচ্ছে কচুয়া তথা চাঁদপুরবাসীর মাঝে।

মঙ্গলবার চাঁদপুরের কচুয়ায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় এমপি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর সাবেক শিক্ষামন্ত্রী বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের শ্বশুরের জানাজা ও দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।

প্রায় ২৫ বছরের রাজনীতিক এই দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী একসাথেই জানাজার নামাজ পড়লেন এবং ড. আলমগীর সাবেক কর্মকর্তা পালগিরি গ্রামের প্রয়াত মো. ইউনুস খানের সম্পর্কেও বক্তব্য রাখলেন। ছবিতে ফ্রেম বন্দি হলেন একসাথে তারা দুইজন।

কচুয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক আবুল হোসেন জানালেন, এহছানুল হক মিলনের শ্বশুর ও বিএনপির মহিলা দলের সভানেত্রী নাজমুন নাহারের বাবা সোমবার রাতে ঢাকার একটি হাসপতালে মারা যান। মিলন তার শ্বশুরের লাশ নিয়ে যখন সড়কপথে আসছিলেন তখন তেল নেয়ার জন্য লাশের গাড়ি নিয়ে পাম্পে ঢোকেন।

এর আগেই ওই পাম্পে জ্বালানি তেল নিতে অপেক্ষায় ছিলেন ড. আলমগীর। তিনিও কয়টি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ডাকা থেকে কচুয়া আসছিলেন। এসময় দু' মুখোমোখি হয়ে যান এবং কুশল বিনিময় হয়। তখনই মিলনকে তিনি বললেন, আমি জানাজায় যাবো। অতঃপর যোহর শেষে ড. আলমগীর কচুয়া শহর থেকে পালগিরি গ্রামে আসেন, দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং বক্তব্যও রাখেন। এ সময় ড. আলমগীরের সাথে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও যোগ দেন।

ওই সাংবাদিক বললেন, সাবেক দুই মন্ত্রী একসাথ হয়েছেন কবে, কথা বলেছেন কবে এমনটা কচুয়ার মানুষ তিন দশকেও দেখেনি। বরং দেখেছে তাদের দু’য়ের মধ্যে চরম বিরোধ-বিবাদ। মামলা, হামলাসহ নানা রকম অসহিষ্ণু বিষয়গুলো। এখনো মিলনের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, চুরি ছিনতাইসহ ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। অনেকগুলোতে তিনি দীর্ঘদিন জেলও খেটেছেন। কোর্টে হাজিরা দেন। তার নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে অশংখ্য মামলাও রয়েছে।

তিনি বলেন, আবার ২০০১ সালে যখন বিএনপি ক্ষমতায় এলো তখন ড. আলমগীর ও তার নেতাকর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয় মামলা। মিলন তখন ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। ড. আলমগীর অনেক মামলায় জেলে যান। তাকেও নির্যাতন সইতে হয়। তাদের এই বিরোধ এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে আজও অস্বস্তি এবং পীড়াদায়ক উভয়দলের নেতাকর্মী সমর্থকদের কাছেও। কিন্তু মঙ্গলবার তাদের একসাথে দেখে সবাই আশ্চর্য!

আবুল হোসেন বলেন, এ এলাকার এক শান্তির বাতাস যেন বয়ে গেলো। মিলনের শশুরের জানাজায় আসা হাজারো মানুষ শুধু তাদের দুজনের দিকেই দৃষ্টি দিচ্ছিলেন এবং অনেকেই বলাবলি করছিলেন - আমাদের মেধাবী দুই নেতা যদি তাদের সকল অতীত ভুলে একসাথ হতেন নানা কাজে, তাহলে আমরা উপকৃত হতাম। আর ক দিনইবা তারা বেঁচে থাকবেন! যতোদিনি থাকেন যেন সুষ্ঠু রাজনীতির ধারা আমরা তাদের দেখতে পাই।

মন্তব্য


অন্যান্য