চট্টগ্রাম

বিচারকক্ষে হত্যাকাণ্ড: ক্ষোভ থেকেই ফারুককে ছুরিকাঘাত করে হাসান

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৯

বিচারকক্ষে হত্যাকাণ্ড: ক্ষোভ থেকেই ফারুককে ছুরিকাঘাত করে হাসান

অভিযুক্ত হাসান- ফাইল ছবি

  নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা

ক্ষোভ থেকেই সোমবার বিচার কাজ চলাকালেই বিচারকের সামনেই আপন চাচাতো ভাই মো: ফারুককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে হাসান। হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার সময় এমন কা বলে সে। এরপর তাকে আদালত জেল হাজতে প্রেরণ করেন। 

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা প্রদীপ মণ্ডল মঙ্গলবার বলেন, আসামী দোষ স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দেয়ায় আর রিমান্ড চাওয়া হয় নি। তিনি জানান, ঘাতক হাসান ২০১৩ সালের আপন দাদা হত্যা মামলায় নিজেকে দোষী মনে করেন না। তার বক্তব্য নিহত ফারুকের কারণেই তাকে ঐ হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। সে ওই হত্যা মামলার ৬ নম্বর আসামি। আর নিহত ফারুক হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামী ছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই সে ফারুককে হত্যা করে।

এদিকে বিচারকক্ষে আসামীর ছুরি নিয়ে প্রবেশ করায় আদালতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবিরা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুলস্নাহ আল মামুন সমকালকে বলেন, আদালতের এজলাসের নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যরা থাকেন না। হাজতখানা থেকে এজলাসে আসামীদের নিয়ে যান পুলিশ সদস্যরা। আসামীর সংখ্যানুযায়ী পুলিশ কনস্টেবলরা এ ডিউটি করে থাকেন।

সোমবারের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরল্ফম্নল ইসলাম বলেছেন, ঘাতক হাসান কোমরে লুকিয়ে ছুরি নিয়ে আদালতে প্রবেশ করে। আদালত কক্ষের প্রবেশ মুখেই সে ফারল্ফম্নককে দেখতে পেয়ে ধাওয়া করে ও ছুরিকাঘাত করে। ফারল্ফম্নক প্রাণে বাঁচতে দৌড়ে বিচারকের খাস কামরায় ঢুকে পড়ে। এ সময় হাসান তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে।

তিনি আরও জানান আগের দিন ফারুককে অবশ্যই আদালতে এসে হাজিরা দিতে বলে হাসান। নতুবা তার জামিন বাতিল হয়ে যাবে বলেও ভয় দেখায়। এ নিয়ে মোবাইল ফোনে তাদের দু'জনের মধ্যে কথা কাটাকাটিও হয়। ঘটনার দিন তারা আলাদাভাবে এসে আদালতে মিলিত হয়। পুলিশের তদন্ত্ম কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন জানান, বেধে দেয়া তিন কার্য দিবস সময়ের মধ্যেই তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন। কোন পুলিশ সদস্যের কর্তব্যে অবহেলা থাকলে প্রতিবেদনে উঠে আসবে। পাবলিক প্রসিকিউটর জহিরল্ফম্নল ইসলাম সেলিম জানান, অতিরিক্ত জেলা জজ-৩ এর আদালতটি তৃতীয় তলায় অবস্থিত। ওই আদালতে ঘটনা ঘটায় সেখানে এখনও রক্তের দাগ ও আলামত রয়েছে। তাই মঙ্গলবার ওই আদালতটি একই বিল্ডিংয়ের নিচতলায় সাময়িকভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে ও যথারীতি বিচার কাজ চলেছে।

সোমবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে কুমিলস্নার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতে বিচারক ফাতেমা ফেরদৌসের আদালতে ২০১৩ সালের ঐ হত্যা মামলার বিচার কাজ চলাকালেই বিচারকের খাস কামরায় আসামী ঘাতক হাসানের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে আরেক আসামী আপন চাচাতো ভাই ফারুক নিহত হন।

মন্তব্য


অন্যান্য