চট্টগ্রাম

'৯০ শতাংশ উপরিতল পানি সরবরাহ করছে ওয়াসা'

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০১৯

'৯০ শতাংশ উপরিতল পানি সরবরাহ করছে ওয়াসা'

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম শহরে সরবরাহকৃত পানির ৮৭ শতাংশ আসে উপরিতল বা বিভিন্ন নদী থেকে। ওয়াসার সবগুলো প্রকল্পের কাজ শেষ হলে আগামী দুই তিন বছরের মধ্যে গভীর নলকূপের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে পানির স্তরও রক্ষা পাবে চট্টগ্রামের। 

সোমবার দুপুরে রেডিশন ব্লু’র মোহনা বলরুমে ভান্ডলজুড়ি প্রকল্পের নির্মাণ কাজের চুক্তি সাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম ওয়াসার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তেইয়াং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনসট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডর সাথে এ চুক্তি সাক্ষর করা হয়। চুক্তিতে ওয়াসার পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ এবং নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক কিয়াং লিম চুক্তিতে সাক্ষর করেন। 

ওয়াসার এমডি বলেন, চট্টগ্রাম শহরের বাসিন্দাদের উন্নত জীবন মান নিশ্চিত করার জন্য আমরা বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। ইতি মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ওয়াসা নগরবাসীর চাহিদার ৮৫ শতাংশ পানি সরবরাহ করছে। এছাড়াও সেনিটেশন ব্যবস্থা উন্নতির জন্যও নেয়া হয়েছে স্যুয়ারেজ প্রকল্প। তিনি আরও বলেন, ওয়াসা শুধু নগরবাসী নয়; এবার দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য এ ভান্ডলজুড়ি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আশা করছি আগামী তিন বছরের মধ্যে এ প্রকল্প শেষে পানি সরবরাহ করা হবে।

অনুষ্ঠানে ওয়াসার বোর্ড সদস্য ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম-মহাসচিব মহসীন কাজী বলেন, এখন আমরা বাস্তবায়ন হওয়া বিভিন্ন প্রকল্পে নানা অনিয়ম দেখতে পাচ্ছি। কোথাও রডে বদলে বাঁশ দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি ওয়াসা এ ব্যাপারে নজরদারি মাধ্যমে যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। কোন ধরণের দুর্নীতি না রেখে এ প্রকল্পকে দেশের রুল মডেল হিসেবে বাস্তবায়ন করবে। পাশাপাশি সীতাকুন্ড ও মিরসরাই শিল্পাঞ্চলেও পানির সংকট সমাধানেও ওয়াসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করছি।

জানা যায়, দুই হাজার ১২৬ কোটি টাকার এ প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা, পটিয়া এবং বোয়ালখালী উপজেলাসহ কোরিয়ান ইপিজেডসহ অন্যান্য শিল্পাঞ্চলগুলোতে এ পানি সরবরাহ করা হবে। ৬ কোটি লিটার ধারণ ক্ষমতার এ প্রকল্পে জন্য পানি শোধনাগার, ১৩৩ কিলোমিটার পাইপ লাইন এবং দুইটি জলাধারও নির্মাণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কোরিয়া সরকারের ইডিসিএফ এর ঢাকার প্রতিনিধি কিম কেওং, ওয়াসার বোর্ড সদস্য আবিদা আজাদ, প্রকৌশলী জাফর সাদেক, ওয়াসার উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম হোসেন, প্রকল্প পরিচালক মাহবুবুল আলম প্রমুখ।

মন্তব্য


অন্যান্য