চট্টগ্রাম

ভাসছে দক্ষিণ চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভাসছে দক্ষিণ চট্টগ্রাম

শঙ্খ নদীর পানিতে ডুবে গেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-আরাকান মহাসড়ক- আহমদ উল্লাহ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো, পটিয়া প্রতিনিধি ও চন্দনাইশ সংবাদদাতা

অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় দক্ষিণ চট্টগ্রাম পানিতে ভাসছে। পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলায় পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। বহু পরিবারে চুলায় আগুন জ্বলেনি। এতে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তাদের। পানি উঠে গেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কেও। ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। চন্দনাইশ উপজেলার দক্ষিণ হাশিমপুর বড়পাড়া (কসাইপাড়া) অংশে দুই ফুট ও সাতকানিয়ার নয়াখাল থেকে কেরানীহাট পর্যন্ত সড়কে এক ফুটেরও বেশি ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তীব্র স্রোতে সড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার থেকেই আঞ্চলিক এই মহাসড়কে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ যানজটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা। সাতকানিয়ার কেরানীহাট অংশ কোনো প্রকারে পার হতে পারলেও চন্দনাইশের কসাইপাড়া অংশ পার হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

প্রায় আট দিন ধরে সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। গত শুক্র ও শনিবার শঙ্খ নদের পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ  করলে দুই উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে অনেকেই বাড়িঘর ফেলে নৌকায় আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বা সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিচ্ছেন।

এদিকে সরকারি ও নিজস্ব তহবিল থেকে ত্রাণ নিয়ে বন্যাদুর্গত এলাকায় ছুটছেন সরকারি কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা। এ ছাড়া স্থানীয় ব্যক্তিরাও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছেন বন্যাদুর্গত এলাকায়। তবে তীব্র পানির স্রোতের কারণে প্রকৃত বানভাসীদের কাছে ত্রাণ নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ওপর দিয়ে তীব্রগতিতে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় কোনো ধরনের যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। চন্দনাইশের কসাইপাড়া অংশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে কিছু কিছু যানবাহন চলাচল করলেও তীব্র যানজট লেগে আছে মহাসড়কে। এতে সড়কের উভয় পাশে কমপক্ষে ২০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান বাসচালক রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সকাল থেকে বাগিচাহাট অংশে দাঁড়িয়ে আছি। বিকেল ৫টার পরও কসাইপাড়া অংশ অতিক্রম করা সম্ভব হয়নি।

দোহাজারী সংবাদপত্র বিতানের স্বত্বাধিকারী মো. নুরুল আমিন বলেন, সংবাদপত্র বহনকারী গাড়িও ভোরে এসে বাগিচাহাট অংশে আটকে পড়ে। তীব্র স্রোতের কারণে হেঁটে গিয়েও পত্রিকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বিকেল ৪টা পর্যন্ত গতকাল ১৪ জুলাইয়ের সংবাদপত্র হাতে পাননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের সাতকানিয়ার বাজালিয়া বড়দুয়ারা এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে এখনও ৩-৪ ফুট উঁচু দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বাঁশখালী সড়কের আনুফকিরের দোকান থেকে চরপাড়া পর্যন্ত এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচুতে প্রবাহিত হচ্ছে বন্যার পানি। ফলে কেরানীহাট-বান্দরবান সড়ক ও কেরানীহাট-বাঁশখালী সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সঙ্গে ছয় দিন ধরে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম বদরুদ্দোজা সাংবাদিকদের বলেন, গত এক সপ্তাহের অবিরাম বর্ষণে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার পানিবন্দি ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরকারি ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া নিজ নিজ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া উপজেলার শেষ প্রান্ত চন্দনাইশের বাগিচার হাট, দেয়ানহাট, কসাইপাড়া, কেরানীহাট এলাকাসহ মহাসড়ক শঙ্খ নদের পানিতে ডুবে যাওয়ায় ১০ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার রাত ১২ থেকে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের উভয় পাশে হাজার হাজার যানবাহন আটকে পড়ে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন আটকে থাকতে দেখা গেছে। রাস্তার দুই ধারে পানি। ওই পানিতে স্থানীয়দের জাল দিয়ে মাছ ধরতে দেখা যায়। আটকেপড়া দূরপাল্লার হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হন।

এদিকে পটিয়া আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী গতকাল ব্যক্তিগত উদ্যোগে আটটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলার পর সেখানে নিজ অর্থে খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। বরাদ্দ করেছেন চার হাজার কেজি আলু, দুই হাজার কেজি ডাল, ২০ টন চালসহ প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী। আশ্রয়কেন্দ্রের এসব লোকজন যতদিন ঘরে ফিরতে পারবেন না, ততদিন তাদের খাবার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মন্তব্য


অন্যান্য