চট্টগ্রাম

নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণের দায়ে দুই মালিক কারাগারে

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৯

নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণের দায়ে দুই মালিক কারাগারে

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণের দায়ে দুই ভবন মালিককে কারাগারে পাঠিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। 

মঙ্গলবার দুই ভবন মালিক আদালতে আত্মসমর্পণ করলে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল আলম তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তারা হলেন- নগরের বাকলিয়া থানার কল্পলোক আবাসিক এলাকার বি-১১৩ প্লটের ভবন মালিক মো. নুর হোসেন ও বি-২১ প্লটের ভবন মালিক মো. জামাল উদ্দিন। 

চউক স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফয়েজ আহমদ সমকালকে জানান, চউকের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ না করায় তাদের বিরুদ্ধে ইমারত আইন অনুযায়ী গত ১৮ এপ্রিল মামলা দায়ের করেন ইমারত পরিদর্শক সৈকত পাল। আদালত দুই ভবন মালিককে হাজির হতে গত ১৯ মে সমন জারি করেন। তারা আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। মঙ্গলবার দুই ভবন মালিক আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগেও দুই ভবন মালিককে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন আদালত।

ইমারত নির্মাণ আইন-১৯৫২ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি চউকের নির্মাণ কমিটি বা অথরাইজড অফিসারের নির্দেশনা অমান্য করে ভবন নির্মাণ করলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান ছিল। কিন্তু ফৌজদারি কার্যবিধির ২য় তফসিলের অষ্টম কলাম এবং মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯-এর ৬(৩) ধারা অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধের শাস্তি ভ্রাম্যমাণ আদালত দিতে পারতেন না। ফলে নকশা না মেনে একের পর এক ভবন নির্মাণ হলেও আইনের প্রয়োগ করতে পারেনি চউক। আইনের আংশিক প্রয়োগ ও নোটিশ দিয়ে তারা দায়িত্ব এড়িয়েছে। 

গত ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে এবং রাষ্ট্রপতির আদেশে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলমকে চউকের ‘মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটে’র ক্ষমতা দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। চউকের আওতাধীন এলাকায় ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২, রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এবং মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সকল পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০-এর প্রয়োগ করবেন তিনি। রিয়েল এস্টেট আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছর, সর্বোচ্চ জরিমানা ২০ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছর ও সর্বোচ্চ জরিমানা ১০ লাখ টাকা। ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে চউকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আসছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। অবৈধ নির্মাণ প্রতিরোধে এসব আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রয়োগ করতে পারতেন না তারা।

মন্তব্য


অন্যান্য