চট্টগ্রাম

সুবর্ণচরে জলদস্যু বাহিনীর প্রধান 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০১৯

সুবর্ণচরে জলদস্যু বাহিনীর প্রধান 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত

ফাইল ছবি

  নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' জলদস্যু বাহিনীর প্রধান মো. ফকির ওরফে ফকির বাতাইন্যা (৪০) নিহত হয়েছেন। গত রোববার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের কাঞ্চন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত্মের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। জলদস্যু প্রধানের নিহতের খবরে উপকূলের জেলেদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি গুলি জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন জানান, ফকির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তাকে ধরতে র‌্যাবের একটি দল রোববার গভীর রাতে কাঞ্চন বাজার এলাকায় তার বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ফকির ও তার লোকজন র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে ফকিরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় র‌্যাব সদস্যরা। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার লাশ চরজব্বার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তার বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর, রামগতি, হাতিয়া ও সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার থানায় এক ডজন মামলা হয়েছে। ফকির সুবর্ণচর উপজেলার চেউয়াখালী গ্রামের মোস্তফা বাতাইন্যার ছেলে।

কে এই ফকির : ২০০০ সালের দিকে বনদস্যু বাহিনীর প্রধান বাশার মাঝির সক্রিয় সদস্য হিসেবে অপরাধ জগতে পা রাখে ফকির। ২০১০ সালে বাশার মাঝি র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হলে ফকিরসহ অন্য জলদস্যুরা মেঘনার মোহনা ও বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন অপরাধ শুরু করে। ২০১২ সালে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জলদস্যু নিজাম ডাকাত নিহত হলে তার একটি অত্যাধুনিক জি-থ্রি আগ্নেয়াস্ত্র ফকিরের কাছে রয়ে যায়। ২০১৩ সালে কালু ডাকাত পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হলে জলদস্যু ফকির তার বাহিনীকে সংগঠিত করে। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ও নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মাঝামাঝি গভীর সমুদ্রে জেগে উঠা নতুন চর ঠ্যাংগার চরে আস্তানা গাড়া ফকির বাহিনী নৌ ডাকাতি, অপহরণ, জিম্মি, খুন, গুমসহ নানা অঘটন ঘটিয়ে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে।

মন্তব্য


অন্যান্য