চতুরঙ্গ

বাঙালি মাত্রেই কি রাজনীতিতে বেশি মাতে?

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৯

বাঙালি মাত্রেই কি রাজনীতিতে বেশি মাতে?

  অজয় দাশগুপ্ত

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর বস্ত্রের জরুরি চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে শাড়ি-লুঙ্গি আমদানি করা হয়েছিল। ওপেন জেনারেল লাইসেন্স বা ওজিএল শব্দটি এই প্রক্রিয়ায় খুব পরিচিতি পেয়েছিল। আমদানিকারকরা ছিল বাংলাদেশের। তাদের কেউ কেউ নিম্নমানের কাপড় আমদানি করেছিল, যা নিয়ে সমালোচনা হয় প্রচুর।

সে সময়ে একটি কার্টুন পত্রিকায় এভাবে ছাপা হয়েছিল- ভারত থেকে আমদানি করা একটি শাড়ি নিয়ে এক জেলে চলেছে নদীর দিকে। কারণ তার মনে হয়েছিল, এটা আসলেই নেট বা জাল জাতীয় কিছু, যা দিয়ে মাছ ধরার কাজ চলে।

সে সময়ে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব চাঙ্গা করে তোলার যে কোনো সুযোগ গ্রহণে তৎপর ছিল একটি মহল। আমাদের অভাব-অনটন ছিল; খাদ্যসহ বেশিরভাগ পণ্যে ছিল প্রচুর ঘাটতি। সবকিছুর জন্য ভারতকে দায়ী করত একটি মহল। প্রবীণ রাজনীতিক মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জাসদের মেজর (অব.) জলিল ও আ স ম আবদুর রব এবং আরও অনেক নেতার মধ্যে কে কার চেয়ে বেশি ভারতবিরোধী- সেটা নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছিল। ভারত থেকে নিম্নমানের শাড়ি-লুঙ্গি আমদানি তাদের জন্য নতুন সুযোগ এনে দিয়েছিল।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত সর্বতোভাবে আমাদের পাশে দাঁড়ায়। প্রায় এক কোটি নারী-পুরুষ-শিশু সেখানে থাকা-খাওয়ার সুযোগ পায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, পাকিস্তানি বর্বর সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই করতে প্রস্তুত ছিল যে লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধা; তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান ও অস্ত্রসজ্জিত করা। খুব কম সময়ের মধ্যে এ কাজটি করতে পেরেছিল ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেও ভারতবিরোধী মনোভাব দেখা গেছে।

পশ্চিমবঙ্গের বাগুনদিয়া এলাকা ও ত্রিপুরার মেলাঘরে যে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প ছিল, সেখানে প্রশিক্ষণ ও গেরিলা অভিযানের জন্য আমার কিছু সময় থাকার সুযোগ হযেছিল। আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে আসা বাঙালি সৈনিক ও অফিসারের কয়েকজনের মন্তব্য ছিল এর রকম- 'সাহসে-শৌর্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ভারতের তুলনায় অনেক এগিয়ে। ভারতের সেনাবাহিনী আসলে 'ফকিরা পার্টি'। পাকিস্তান আর্মি অফিসারদের একটা টুপির দাম ভারতের অফিসারদের গোটা ইউনিফর্মের চেয়ে বেশি।'

রণাঙ্গনের চিত্র ছিল ভিন্ন। পাকিস্তানিরা ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ কমান্ডের কাছে রেসকোর্স ময়দানে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করেছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের রণাঙ্গনেও ইয়াহিয়া বাহিনী ভারতের কাছে শোচনীয়ভাবে হেরেছিল। তবে বাংলাদেশকে মুক্ত করার অভিযানে ভারতের যেসব সামরিক অফিসার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তারা মুক্তকণ্ঠে বাংলাদেশের জনগণ এবং বিশেষভাবে মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের সাহস-সংকল্প-বীরত্বের প্রশংসা করে বলেছেন- বাঙালিরাই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল।

গত চার যুগে বাংলাদেশ অনেক বদলে গেছে। আমাদের অর্থনীতির ক্ষমতা বেড়েছে। ১৬-১৭ কোটি লোকের বাংলাদেশে পাঁচ কোটির বেশি ছাত্রছাত্রী। গত ১০ বছর ধরে প্রবৃদ্ধির হার উচ্চ মাত্রায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। ভারত, চীন, জাপান, সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি দেশ আমাদের দেশে কল-কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে আগ্রহী। দশ-বিশ বছর আগেও যেসব বিজ্ঞ ব্যক্তি বাংলাদেশকে 'বাস্কেট কেস' বা 'বটমলেস বাস্কেট'-এর বাইরে কিছু ভাবতে রাজি ছিলেন না; তারাও বলছেন- উন্নতি করতেই পারে বাংলাদেশ। তবে সমাজে বৈষম্য বাড়ছে।

বাংলাদেশ ও ভারত প্রতিবেশী। সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা এবং জনসংখ্যায় ভারত আমাদের তুলনায় অনেক এগিয়ে। কিন্তু দুই দেশের স্থল সীমান্ত নিয়ে চলা বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে বাংলাদেশের অনুকূলে। ২০১৫ সালের মে মাসে ভারতীয় পার্লামেন্টে যে সীমান্ত চুক্তি অনুমোদিত হয়, তার ভিত্তিতে হয় ভূখণ্ড বিনিময়। এতে বাংলাদেশ পেয়েছে ১৭ হাজার ১৬০ দশমিক ৬৩ একর, যা ভারতের অভ্যন্তরে ছিল। অন্যদিকে ভারত পেয়েছে ৭ হাজার ২৬৭ দশমিক ৬৮২ একর, যা ছিল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। আমাদের এ অঞ্চলে শহর ও গ্রামে এক ইঞ্চি জমি ছাড়া-না ছাড়ার প্রশ্নে এমনকি ভাইয়ে ভাইয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। স্থল সীমান্ত নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশ সফরে এসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিছুটা আক্ষেপের সুরেই বলেছিলেন, 'ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত দেশগুলোর নেতারা সীমানা বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি করলে নোবেল শান্তি পুরস্কারসহ অনেক ধরনের পুরস্কার মিলত।'

বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্র সীমানা নিয়ে ভারতের যে সমস্যা ছিল, সেটার নিষ্পত্তি করেছে জাতিসংঘ ট্রাইব্যুনাল। ২০১৪ সালের ৯ জুলাই এ ট্রাইব্যুনালের রায় প্রসঙ্গে ভারতের 'দি টেলিগ্রাফ' পত্রিকার প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল এভাবে- 'Gone : Sea larger than Bengal UN tribunal awards Dhaka marine chunk.'

প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের আয়তনের চেয়ে বড় সমুদ্র এলাকা বাংলাদেশ পেয়ে গেছে। এ রায়ের কারণে এসব এলাকা এখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি পেল। ভারত চেয়েছিল, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সন্নিহিত এলাকাই কেবল বিরোধীয় হিসেবে চিহ্নিত হবে। কিন্তু বাংলাদেশ উড়িষ্যা ও অল্প্র্রব্দপ্রদেশ সংলগ্ন সমুদ্র এলাকার অংশও বিরোধীয় এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করতে সমর্থ হয়। এর আগে ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ নিজের অনুকূলে রায় পেয়েছিল।

প্রকৃতই এক নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত এখন কাজ করছে। ১৯৭২-৭৩ সালের ওজিএল-এর বাংলাদেশ এখন আর নেই- এটা ভারত খুব ভালো করেই বোঝে। আবার আমাদেরও মনে রাখতে হবে, ভারতে প্রচুর দরিদ্র লোকের বসবাস থাকলেও অর্থনীতিতে তারা প্রচুর উন্নতি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র-চীনের পরেই তারা বিশ্বে নিজের স্থান করে নিতে সচেষ্ট।

এ বাস্তবতারও দুই দেশেই উপলব্ধি- পরস্পরের অর্থনৈতিক উন্নয়নে দুটি দেশই অবদান রাখতে পারে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যে নতুন অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে, সেটা ভারত বুঝতে পারে বলেই আমাদের ধারণা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে গেলে বিশেষ সম্মান পাচ্ছেন। ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে তিনি আশ্রয় দিয়েছেন। তারা প্রধানত বসবাস করছে কপবাজার এলাকায়। সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সঙ্গে মোকাবেলা করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের একাধিক পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ বলছেন, বিশ্বে বাংলাদেশের উপস্থিতি দৃশ্যমান। এটা আর উপেক্ষা করে চলার সুযোগ কারও নেই।

ভারতের লোকসভায় নির্বাচন শুরু হয়েছে। বিশ্ব্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশে চলছে ভোট। ক্ষমতায় কি নরেন্দ্র মোদিই থেকে যাবেন? নাকি কংগ্রেসের পুনরুত্থান ঘটবে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে? অথবা পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অল্প্রেব্দর চন্দ্রবাবু নাইডু কিংবা উত্তরপ্রদেশের মায়াবতীর মতো কাউকে 'মিলি-ঝুলি' সরকারপ্রধান হিসেবে বেছে নেওয়া হবে? এ ধরনের নানা সমীকরণ নিয়ে চলছে আলোচনা।

এই নির্বাচনের ওপর নজর রাখছেন যারা, তাদের প্রায় সবার অভিন্ন মত- ক্ষমতার জন্য মরণপণ লড়াই চলছে। প্রচারের ক্ষেত্রে যে সৌজন্য-সহিষ্ণুতার ঐতিহ্য নিয়ে বড়াই করা হতো, সেটা এবার অনেকটাই বিদায় নিয়েছে- এমন মত অনেকের। ব্যক্তিগত আক্রমণ চলছে। নারী নেতাদের অসম্মান করে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক প্ররোচনা-উস্কানিও কম নেই। আনন্দবাজার লিখেছে, 'বিস্তর কুকথা' এবারের নির্বাচনে শোনা যাচ্ছে।

নির্বাচনে বাংলাদেশ নিয়েও আলোচনা চলছে। বিজেপি 'বিদেশি' ইস্যু সামনে এনেছে। এর মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের অভিলাষ গোপন নেই। এ দলটি মমতা ব্যানার্জির সমালোচনা করছে 'মুসলিম তোষণ'-এর অভিযোগ এনে। ফেরদৌস আহমেদ ও গাজী আবদুন নূর- এ দু'জন গুণী অভিনেতাও বিজেপির তুরুপের তাস হয়ে উঠেছে। সন্দেহ নেই, শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনের এ দু'জন জনপ্রিয় ব্যক্তি কূটনীতির মারপ্যাঁচ যে কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে- সে হিসাব কষতে শেখেননি।

কারও কারও মতে, 'বোকামি করেছেন তারা। রীতিমতো ইডিয়টিক' আচরণ করেছেন। কেউ বা তাদের অভিহিত করেছেন 'অপরিপক্ক' হিসেবে। তবে এটাও কিন্তু ঠিক, তারা অন্য একটি দেশে গিয়ে, কলকাতার মতো কসমোপলিটন মহানগরীতে গিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন বলেই ভোটের বাজারে তাদের চাহিদা তৈরি হয়েছে। তাদের মতোই জয়া আহসান এখন ভারতে স্টার আর্টিস্ট। জি-বাংলা বাংলাদেশের 'ঘরের টিভি' হয়ে উঠেছে। সেখানে জয়া আহসানকে গুণী ও জনপ্রিয় শিল্পী হিসেবে বিভিন্ন সময়ে তুলে ধরা হয়েছে।

ফেরদৌস আহমেদ ও গাজী আবদুন নূরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। যেহেতু ধর্মীয় পরিচয়ে এ দু'জন মুসলিম, তাই সাম্প্রদায়িক প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। তারা ভারতে কাজ করার জন্য বিজনেস ভিসা নিয়েছেন। এ ধরনের ভিসা পেতে যে অঙ্গীকার করতে হয়, সেটা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের সীমানায় আটকে থাকেনি। দিল্লি পর্যন্ত গড়িয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য এ ঘটনা যথেষ্ট বিব্রতকর, সন্দেহ নেই। তবে বাঙালি সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে যে কলকাতা মহানগরীর বহুকালের গর্ব, সেখানে তারা নিজেদের যোগ্য স্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন বলেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগকে এত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। তারা কেবল পশ্চিমবঙ্গের নয়, দিল্লির শাসকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়েছেন। মাথাব্যথার কারণ হয়েছেন।

তারা ভুল করেছেন- এটা মেনে নিতেই হবে। এ ভুল কি বাঙালিমাত্রই করে থাকে? বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে মাতামাতি আছে- এটা বলা হয়ে থাকে। তবে দেশের বাইরে- ব্রিটেন-আমেরিকা-জার্মানিতেও বাঙালিদের মধ্যে সেখানকার নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। ওইসব দেশে অনেক বাঙালির নাগরিকত্ব রয়েছে। তারা সেখানকার নির্বাচনে সক্রিয় হতেই পারেন। কিন্তু যারা নাগরিক না হয়েও চাকরি-ব্যবসায়ের সুযোগ পাচ্ছেন, তারা কেন অন্য দেশের রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামাবেন?

আমাদের এটাও জানা যে, সৌদি আরবে বাংলাদেশ কিংবা বিশ্বের আরও অনেক দেশের মতো দলীয় রাজনীতির অনুমোদন নেই। কিন্তু সেখানে আওয়ামী লীগ আছে, বিএনপি আছে। জামায়াতে ইসলামী তো আছেই। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার সহযোগী এ দলটির নেতা গোলাম আযম বাংলাদেশকে ফের পাকিস্তানে পরিণত করার জন্য সৌদি আরব থেকে প্রচুর অর্থ সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ ছিল এবং তা অমূলক বলা যাবে না। মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে বাংলাদেশিরা কাজ করছে। মালয়েশিয়ায় কাজ করছে। রয়েছে সিঙ্গাপুর ও ব্রুনাইয়ে। প্রতিটি দেশেই রয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে কাজিয়া-ফ্যাসাদ আছে। এমনকি দলের ভেতরেও কোন্দল আছে। বাংলাদেশের ভেতরে যেমন এক দল প্রতিপক্ষের মধ্যে ভালো কিছু দেখতে পায় না; সবকিছুতে খুঁত ধরার চেষ্টা থাকে; দেশেরই বাইরেও ব্যতিক্রম দেখি না। প্রধানমন্ত্রী সফরে গেলে এক পক্ষ স্বাগত জানায়, আরেক পক্ষ কালো পতাকা দেখায়। বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থ জোগাতে রাজি না হলে এক পক্ষের মন খারাপ হয়, অন্য পক্ষ খুশিতে মিষ্টি বিতরণ করে।

কবে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে? কবে প্রবাসে অবস্থানকারী সব বাংলাদেশি দেশের স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দেবে? কবে তারা এক জোট হয়ে বলবে- দেশে যত বিভেদ থাকুক, বাইরে আমরা বাঙালি-বাংলাদেশি?

পশ্চিমবঙ্গে অবশ্য ফেরদৌস আহমেদ ও গাজী আবদুন নূর একটি পক্ষের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছেন। আর এর বিরোধিতা করেছে বিজেপি। তারা ভারতের ভোটারদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখেন- এটাই বলা হচ্ছে। তারা অন্য দেশের জনমত প্রভাবিত করার মতো ক্ষমতা অর্জন করে থাকলে সেটা আমাদের জন্য খুশির খবরই হবে। তবে যেখানে থাকবেন এবং কাজ করবেন, সেখানকার আইন মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয় কি বিশ্বে লাল-সবুজের নতুন অবস্থান বিষয়ে সচেতন? বিশ্বে আমাদের ভিজিবিলিটি বেড়েছে, এটা সাদা চোখেই দৃশ্যমান। রাজনৈতিক কূটনীতি, অর্থনৈতিক কূটনীতি, কর্মসংস্থান কূটনীতি, রোহিঙ্গা কূটনীতি- অনেক বিষয়েই এখন আমাদের মতামতের গুরুত্ব আছে। স্বল্পোন্নত দেশটি কীভাবে উন্নয়নশীল দেশের সারিতে উঠতে পারছে, সেটা জানার আগ্রহ অনেক দেশের। প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি ছড়িয়ে আছে নানা দেশে। তাদের ভালো কাজের জন্য বাংলাদেশের সুনাম হয়। তবে মন্দ কাজের জন্য দুর্নামের বোঝাটা একটু বেশিই ভারি হয়। বাংলাদেশের দূতাবাস-হাইকমিশনগুলো কি এসব বিষয়ে সচেতন? তারা কি নিছক মাস-মাইনের কর্মী?

লেখক: সাংবাদিক
ajoydg@gmail.com

মন্তব্য


অন্যান্য