চতুরঙ্গ

ছাত্র আন্দোলন ও শিক্ষার্থী

প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০১৯

ছাত্র আন্দোলন ও শিক্ষার্থী

  অজয় দাশগুপ্ত

পাঁচ কোটিরও বেশি ছাত্রছাত্রী অথচ বাংলাদেশে এখন ছাত্র আন্দোলন কার্যত অনুপস্থিত।

পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে উত্তরণের সময় সংগঠিত শিল্পে শ্রমিক সংখ্যা সর্বসাকল্যে ছিল লাখ দুয়েক। কিন্তু এখন তৈরি পোশাক শিল্পেই কাজ করছে ৪০ লাখের বেশি শ্রমিক। কিন্তু শ্রমিক আন্দোলন কার্যত নেই। যেসব বামপন্থি রাজনীতিক শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে সর্বহারার একনায়কতন্ত্র কায়েমের কথা বলতেন, তারা এত বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের ক'জনকেই-বা সংগঠিত করতে পেরেছেন— সে হিসাব হাতে গুণেই করে ফেলা যায়। শ্রমিক নেতা ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম নির্মাণ শ্রমিকদের কথা প্রায়শই বলেন। এখন শহর-গ্রাম, সর্বত্র পাকা বাড়ি নির্মাণের জোয়ার। বসতবাড়ির বাইরেও নির্মাণ হচ্ছে কারখানা, হাসপাতাল, বিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রয়োজনে পাকা ভবন। নির্মাণ শ্রমিকের সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে। চা বাগানে কাজ করছে লাখ দুই শ্রমিক। শ্রমিক আছে, আন্দোলন নেই। কেন?

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান। কৃষি মানেই গ্রাম। শহরবাসীর সংখ্যা বাড়ছে। অনেক গ্রামও শহরের রূপ পাচ্ছে। তারপরও কৃষি কাজই ৪০ শতাংশের বেশি মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস হয়ে আছে। কৃষকের সমস্যা আছে- কৃষি মজুরের সমস্যা আছে। কিন্তু কৃষক ও ক্ষেতমজুরের আন্দোলন কোথায়? প্রতিবেশী ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে কৃষকদের আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। তারা ফসলের ন্যায্যমূল্য দাবি করছে। ব্যাংক ঋণের সুবিধা বাড়াতে বলছে। প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল বিজেপি ও কংগ্রেস কৃষকদের তুষ্ট করার জন্য সচেষ্ট রয়েছে। কিন্তু কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে কার্যত নেই কৃষি আন্দোলন। এ ক্ষেত্রে বরং গণমাধ্যম বেশি সোচ্চার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু নির্বাচন ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে— এমনটিই ঘোষণা করা হয়েছে। ২৮ বছরের বেশি নির্বাচন হয় না ডাকসু এবং অন্যান্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন টেলিভিশন ক্যামেরার ভিড়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রনেতাদের ডেকে সভা করছে। তাতে এমন অনেক ছাত্র সংগঠন আমন্ত্রিত, যাদের ২০টির মতো হল ছাত্র সংসদের সব পদে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষমতা নেই। এমনকি ডাকসুর ২৫ পদেও প্রার্থী দেওয়া নিদারুণ কষ্টের। ডাকসুর গঠনতন্ত্রে কিছু সংশোধন এসেছে। ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত যে কোনো ছাত্র বা ছাত্রী ভোটার ও প্রার্থী হতে পারবেন। সাধারণত ১৬-১৭ বছর বয়সে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীরা উত্তীর্ণ হয়। এ হিসাবে কেউ অনার্স শেষ বর্ষে ২২-২৩ বছরে এবং মাস্টার্স কোর্সে ২৩-২৪ বছর বয়সে অধ্যয়ন করে। ছাত্র সংসদ এসব নিয়মিত ছাত্রছাত্রীর জন্যই হওয়ার কথা। তাহলে কেন ভিপি-জিএস এবং অন্যান্য পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য বয়স বাড়ানো হবে— সঙ্গত প্রশ্ন। অনেকেই বলবেন, এটাও রেওয়াজ। যারা অপরের তরে জীবন-যৌবন উৎসর্গ করবেন, তাদের পক্ষে একই সঙ্গে নিত্যদিন ক্লাস করা ও মাঝেমধ্যে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। অতএব, যারা নির্দিষ্ট বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স সম্পন্ন করেছে, তাদের জন্য বছর পাঁচেক গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া যেতেই পারে।

১৯৬৯ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের নায়ক তোফায়েল আহমেদ ২৫ বছর বয়সে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার আগে ছিলেন তৎকালীন ইকবাল হলের ভিপি (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হল)। তারও আগে নির্বাচিত হয়েছিলেন বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্র সংসদে। স্বৈরশাসক আইয়ুব খানকে ক্ষমতাচ্যুত করায় তার ভূমিকা সর্বজনবিদিত। তোফায়েল আহমেদের আগের টার্মে ডাকসুর ভিপি হয়েছিলেন মাহফুজা খানম। বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হতেই তিনি ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। সে সময়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থবিদ্যা বিভাগের কৃতী ছাত্র। ডাকসুর ভিপি থাকা অবস্থাতেই এমএসসিতে প্রথম শ্রেণি পেয়েছিলেন।

ডাকসুর আরেক ভিপি আ স ম আবদুর রব। তিনি ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বটতলায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলেছিলেন। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে যে বাংলাদেশ সরকার শপথ গ্রহণ করে, তারা এ পতাকাকেই জাতীয় পতাকা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন। তিনি ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন ১৯৭০ সালে, বয়স যখন ২৫ বছর।

ষাটের দশকের শেষ দিকে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ ছিল জনপ্রিয় সংগঠন। তখনকার সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে নির্বাচিত হয়েছিল তাদের নেতারা। বাঙালির প্রাণের দাবি স্বায়ত্তশাসনের ৬ দফাকে জনপ্রিয় করার জন্য এ সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রাণান্ত পরিশ্রম করেছেন। ঊনসত্তরের ছাত্র গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি এবং একাত্তরে স্বাধীনতার সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য ছাত্র সমাজ ও দেশবাসীকে প্রস্তুত করে তোলায় ছাত্রলীগের অবদান অনন্যসাধারণ।

১৯৭২ সালে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তখন তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি, বয়স ২৩ বছর। ডাকসুর ভিপি থাকা অবস্থাতেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগ থেকে অনার্সে প্রথম শ্রেণি পেয়েছিলেন। সে সময়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ছিল জনপ্রিয় সংগঠন। রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা— সব বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদে এ সংগঠনের জয়জয়কার। ১৯৭২ সালে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মাহবুব জামান। বয়স ছিল ২২ বছর। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি-জিএস যথাক্রমে আবুল কাসেম ও মু. হিলালউদ্দিনও ছিলেন একই বয়সের।

আমরা কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের দিকেও তাকাতে পারি। তার জন্ম ১৯২০ সালে। শৈশবে চোখের কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ায় তিন-চার বছর শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে যায়। এ কারণে অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের সঙ্গে তিনি স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলন গড়ে তোলার সময় বয়স তার ২৮ বছর। তখন তিনি গ্রেফতার হয়ে যান। এর আগে তিনি পাকিস্তান আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নিয়েছেন। বয়স যখন ২৬ বছর, তখন অবিভক্ত বাংলার মুসলিম লীগ প্রাদেশিক কমিটির অন্যতম সম্পাদক হিসেবে তার নাম বিবেচনায় ছিল। ১৯৪৮ সালে তিনি নেপথ্যে থেকে পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্রলীগ পুনর্গঠনে প্রধান ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৬ সালে ৩৬ বছর বয়সে তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তখন এমপি-মন্ত্রীও ছিলেন। ১৯৬৬ সালে বাঙালির মুক্তি সনদ '৬ দফা' প্রদানের সময় বয়স ৪৬ বছর। ১৯৭১ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক তিনি, বাঙালিরা একাট্টা তার পেছনে। তিনি বঙ্গবন্ধু, জাতির পিতা। ৭ মার্চ তার অবিনাশী উচ্চারণ- এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। অথচ বয়স ৫১ বছর পূর্ণ হতেও ১০ দিন বাকি।

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন পাকিস্তানের শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। তখন এ ভূখণ্ডে হিন্দু প্রভাবিত কংগ্রেস গুরুত্ব হারিয়েছে। মুসলিম প্রভাবিত মুসলিম লীগকে বাঙালিরা প্রত্যাখ্যান করেছে। আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জাঁকিয়ে বসেছে। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে তরুণ আওয়ামী লীগ নেতারা বাঙালির অধিকারের দাবি সামনে আনার চেষ্টা করতেই নেমে এসেছে নিষ্ঠুর নির্যাতন। এ সময়েই এগিয়ে আসে ছাত্র সমাজ। তাদের নেতৃত্ব দেয় ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন। ছাত্র সংগঠনগুলো যখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, জনগণ তাদের ওপরে ভরসা রাখতে শুরু করেছে। তবে রাজনৈতিক দাবির পাশাপাশি শিক্ষার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবিও সামনে আনা হয়। আইয়ুব খান শিক্ষাকে পণ্য করতে চেয়েছিলেন। তার প্রণীত একাধিক শিক্ষা নীতিতে বলা হয়— শিক্ষা সবার জন্য নয়। যার অর্থ আছে, সেই কেবল ভর্তির যোগ্য হবে। এর বিরুদ্ধে ছাত্র সংগঠনগুলো রুখে দাঁড়ায়। ধনী-দরিদ্র, সবার জন্য শিক্ষার দাবি সামনে আনে তারা। এখন বাংলাদেশে পাঁচ কোটির বেশি ছাত্রছাত্রী। অর্থের অভাবে পড়তে পারছে না, এ সমস্যা ক্রমে কমে যাচ্ছে। সরকার বিদ্যালয়ের সব ছাত্রছাত্রীকে বিনামূল্যে বই দিচ্ছে। প্রায় এক কোটি ছাত্রছাত্রী সরকারের কাছ থেকে বৃত্তি পাচ্ছে। অতীতে ছাত্র সংগঠনগুলো এসব দাবিতে সোচ্চার হয়েছিল বলেই এখন তার সুফল মিলছে।

প্রায় তিন দশক ছাত্র সংগঠনের নির্বাচন নেই। কে দায়ী এ জন্য? কেউ এ জন্য সন্ত্রাসকে দায়ী করবেন। কেউবা বলবেন, রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্র সংগঠনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিচ্ছে না। ক্ষমতায় যে দল থাকে, তার ছাত্র সংগঠন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখলে নিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে— এ বাস্তবতাও আমাদের মনে রাখতে হবে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনাতেও ক্ষমতাসীন দলের একচেটিয়া কর্তৃত্ব। অথচ একই সঙ্গে এখন প্রবল তাগিদ— শিক্ষার মান বাড়াতেই হবে। অর্থনীতির অগ্রগতি যোগ্য-দক্ষ অনেক তরুণ-তরুণী চাইছে। এ বিষয়ে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ ভূমিকা রাখতে পারে। ছাত্র সংগঠন ভূমিকা রাখতে পারে। সত্তরের দশকের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি ছিলাম। আরও ছিলেন ছাত্রলীগ সভাপতি শেখ শহীদুল ইসলাম, ডাকসু সহসভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব জামান এবং ছাত্রলীগ নেতা ইসমত কাদির গামা। আমরা শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে বিভিন্ন প্রস্তাব রেখেছি। আবার একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার নিন্দা জানিয়ে ১৯৭৫ সালের ৪ নভেম্বর প্রস্তাব তুলে তা পাসও করিয়েছি।

ছাত্র সংসদের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্য থেকে নেতৃত্ব গড়ে উঠবে— এটা বলা হয়ে থাকে। সে নেতৃত্ব কিন্তু নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আসতে হবে। এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটা দীর্ঘস্থায়ী হবে না— এটাই কাম্য। আমরা ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে তাদের শিক্ষাগত ও বয়সের উপযোগী ভূমিকাই আশা করব। এর মধ্য থেকেই কেউ কেউ নিজেকে চিহ্নিত করতে পারবেন অনন্যসাধারণ হিসেবে। যেমনটি আমরা দেখেছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রে। ছাত্রছাত্রীদের সবাই ছাত্র সংগঠনে যুক্ত হয় না। ডিবেটিং সোসাইটি, সাংস্কৃতিক সংগঠন— এসবেও আগ্রহ থাকে। কেউ এ বয়সেই সমাজসেবার কাজেও যুক্ত হয়। কেউবা বেশি মনোযোগী হয় রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডে। কিন্তু ছাত্র সংসদ সবার জন্য। কেবল রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের জন্য নয়, বহু পথ-মত-ধারার অনুসারী ছাত্রছাত্রীদের জন্যও আমাদের স্পেস তৈরি করে দিতে হবে। আবারও বলছি, তারা যেন এ ভূমিকায় স্বাভাবিক শিক্ষা জীবনেই আসতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভোটার-প্রার্থী হওয়ার জন্য যেমন বয়স বাড়ানো হচ্ছে, তেমনি সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সও ৩৫ বছর করার দাবি উঠছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপি-গণফোরামের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে তো সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা তুলে দেওয়ার হাস্যকর প্রস্তাবও করা হয়েছিল। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ব্যাপক বেকারত্বই এ দাবির পেছনে কাজ করছে। যদি ২০-২৫ বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিংবা কোনো টেকনিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করে সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি পায় কিংবা নিজেই কোনো ধরনের উপার্জনমূলক উদ্যোগে যুক্ত হয়ে পড়ার পরিবেশ থাকে, তাহলে চাকরির বয়সসীমা ইস্যুটিই থাকবে না। আমাদের একটি বড় চ্যালেঞ্জও মনে রাখা চাই— উচ্চশিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর লাখ লাখ তরুণ-তরুণী বের হচ্ছে; কিন্তু আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি বলছে— কম লোক দিয়েই বেশি কাজ করানো সম্ভব।

পাঁচ কোটি ছাত্রছাত্রীর সামনে ইস্যুর অভাব নেই। শিক্ষার মান বাড়ানোর কথা বলেছি। পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত করার জন্য অনেক বিষয় তারা সামনে আনতে পারে। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নিজেদের গড়ে তোলার কথা বলবে। প্রিয় বাংলাদেশকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করার কথা বলবে। অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠন ও মুক্তবুদ্ধির প্রসারের কথা বলবে। এটা ছাত্র সংগঠনে থেকে করতে পারে। ছাত্র সংসদের কাঠামোতে করতে পারে। ডিবেটিং সোসাইটি, সাংস্কৃতিক সংগঠন কিংবা অন্য কোনো সংগঠনের ব্যানারে করতে পারে। কিন্তু মূল কথা হচ্ছে— ছাত্রছাত্রীদের যথাযথ অবদান রাখা। এ সুযোগ সৃষ্টির জন্য কিন্তু সরকার ও সব রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যুক্তদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।


লেখক: সাংবাদিক

মন্তব্য


অন্যান্য