রাজধানী

দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়েছে কৃষ্ণার পরিবার

বাস কোম্পানিকে উকিল নোটিশ

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়েছে কৃষ্ণার পরিবার

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর বাংলামোটরে বাসচাপায় বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায়ের পা হারানোর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে দুই কোটি টাকা চেয়েছে তার পরিবার।

গত রোববার এ-সংক্রান্ত একটি আইনি নোটিশ (উকিল নোটিশ) দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস কোম্পানির কাছে পাঠিয়েছেন তার স্বামী রাধে শ্যাম চৌধুরী। সোমবার তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কৃষ্ণা রায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) হিসাব বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক। গত ২৭ আগস্ট দুপুরে তিনি অফিস থেকে বের হয়ে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওই সময়ে ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্টের একটি যাত্রীবাহি বাস তার উপর উঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে তার বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা দুই দফায় অস্ত্রোপচার করে তার পায়ের উরু পর্যন্ত কেটে ফেলেন। বর্তমানে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

কৃষ্ণা রায়ের স্বামী রাধে শ্যাম চৌধুরী সমকালকে বলেন, তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বরাবর ডাকযোগে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। এতে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব ও ক্ষতিপূরণ না পেলে তিনি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

রাধে শ্যাম চৌধুরীর আইনজীবী ইমরান হোসেন বলেন, দুইভাবে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। কৃষ্ণা রায়ের পা হারানোর পর তার যে পারিবারিক দুর্ভোগ হয়েছে, সে জন্য এক কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। আর ব্যক্তিগতভাবে যে দুর্ভোগ হয়েছে, সে জন্য আরও এক কোটি টাকাসহ মোট দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।

এই আইনজীবী আরও বলেন, বাস কোম্পানি ছাড়াও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের আইজি, বিআরটিএর চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবরও আইনি নোটিশের কপি পাঠানো হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, ক্ষতিপূরণের এই টাকা সংগ্রহ করে ভুক্তভোগীকে দেওয়ার জন্য।

এদিকে ওই ঘটনার পরের দিনই হাতিরঝিল থানায় কৃষ্ণা রায়ের স্বামী বাসের মালিক, চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চালক মোরশেদকে গ্রেফতার করলে সে আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়। তবে গত ১২ দিনেও মালিক ও হেলপারকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক খায়রুল আলম জানান, মূল আসামি চালক মোরশেদ কারাগারে রয়েছে। অন্য দুই আসামিকে গ্রেফতারে তারা চেষ্টা করছেন।

মন্তব্য


অন্যান্য