রাজধানী

পুরান ঢাকায় ধসে পড়া ভবন থেকে এক মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৯ | আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৯

পুরান ঢাকায় ধসে পড়া ভবন থেকে এক মরদেহ উদ্ধার

ধসে পড়েছে ভবন- ফোকাস বাংলা

  সমকাল প্রতিবেদক

পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলী লেন এলাকার জরাজীর্ণ একটি দোতলা ভবন ধসে পড়েছে।

পরিত্যক্ত ভবনটিতে থাকতেন কলা ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম ও তার ছেলে শফিকুল ইসলাম। দুর্ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন তারা।

এরই মধ্যে সন্ধ্যায় একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ভবনটি থেকে। তবে নিহত ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়া দুইজনের একজন কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঠিক কখন ভবনটি ধসে পড়ে, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে খবর পাওয়ার পর সেখানে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। এদিকে দিনভর বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করা হলেও সন্ধ্যায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) দাবি করে, ভবন ধসের কোনো খবর তারা পায়নি।

কোতোয়ালি থানার ওসি সাহিদুর রহমান সমকালকে বলেন, 'ভবন ধসের খবর পেয়ে সেখানে যায় পুলিশ। সন্ধ্যায় একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। '

নিখোঁজ কলা ব্যবসায়ীর ভাই আরজ আলী বেপারী জানান, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বাজিতপুরে তাদের বাড়ি। তার ভাই জাহিদুল ইসলাম অনেক বছর ধরে ঢাকার সদরঘাট এলাকার ফুটপাতে কলার ব্যবসা করেন। অন্তত আট বছর আগে তিনি পরিত্যক্ত এই ভবনটির নিচতলায় থাকতে শুরু করেন। পাঁচ বছর আগে বড় ছেলে শফিকুলও (১৭) এসে যোগ দেয় তার সঙ্গে।

তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে শেষবার কথা হয় তার। তখন তিনি গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় আসছেন বলে জানান। এর পর বুধবার তার ভাইয়ের পরিচিত ব্যবসায়ীরা দেখেন, দুপুর ১২টা বাজলেও জাহিদুল বা শফিকুল দোকান বসাননি ফুটপাতে। তাদের মোবাইল ফোনে কল করেও বন্ধ পাওয়া যায়। এক পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা পাটুয়াটুলীর ৬ নম্বর লেনে গিয়ে ভবনটি বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখতে পান। এর পর তারা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি জানান।

ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাসেল শিকদার জানান, দুপুর ১টা ২৩ মিনিটে কল পেয়ে তাদের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে দেখা হয় ভেতরে কেউ আছে কি-না। একজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে।

বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ধসে পড়া ভবনটির কাছে পৌঁছানোর কোনো ভালো পথ নেই। একটি সরু গলি দিয়ে সেখানে যেতে হয়। আশেপাশে বহুতল ভবন রয়েছে। ধসে পড়া ভবনটি ঘিরে জন্মেছিল প্রচুর লতা-গুল্ম। অনেক আগে থেকেই ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে কলার কাঁদি উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলো মঙ্গলবার রাতে কিনে রেখেছিলেন বাবা-ছেলে। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভবন ধসের সময় ভেতরেই ছিলেন তারা।

৭ নম্বর পাটুয়াটুলী লেনের বাসিন্দা আবদুল লতিফ জানান, ভবনটি ধসে পড়ার কোনো শব্দ তারা পাননি। গভীর রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর এটি ধসে থাকতে পারে। সকালে উঠে তারা দেখেন, ভবনটির এই হাল।

স্থানীয়রা জানান, ভবনটির সর্বশেষ মালিক ছিলেন আয়নাল হোসেন। তিনি অনেক দিন আগে মারা গেছেন। তার পরিবারের কেউ এখানে থাকেন না বলে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। তবে পুলিশ বলছে, সেটি ছিল সরকারি ভবন।

এদিকে স্থানীয় প্রভাবশালী একজন ভবনটি তার দখলে দাবি করে বাবা-ছেলের কাছ থেকে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা ভাড়া আদায় করে আসছিলেন বলে জানা গেছে।

নিখোঁজ দু'জনের পারিবারিক সূত্র জানায়, ৬০ বছর বয়সী জাহিদুল ইসলামের স্ত্রীর নাম হালিমা বেগম। তাদের তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে শফিকুল বড়। বাবা-ছেলে ছাড়া পরিবারের অপর সদস্যরা গ্রামের বাড়িতেই থাকেন।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পুরান ঢাকা এলাকার (অঞ্চল-৭) অথরাইজড অফিসার নূর আলম সন্ধ্যায় জানান, ভবন ধসে পড়ার কোনো খবর তারা পাননি। তবে তিনি ইন্সপেক্টর পাঠিয়ে খোঁজ নেবেন। রাজউকের পরিচালক (পুরান ঢাকা এলাকা) শাহ আলম চৌধুরীও একই ধরনের কথা জানান।

মন্তব্য


অন্যান্য