রাজধানী

নিত্যপণ্যের বাজারে নজর রাখুন, ডিসিদের প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৯ | আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৯

নিত্যপণ্যের বাজারে নজর রাখুন, ডিসিদের প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি- ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে নজর রাখতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সাধারণ ভোক্তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা এবং ভেজাল খাবার যাতে বাজারে না থাকে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ারও কথা বলেছেন তিনি। জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিনে মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কর্ম অধিবেশনে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, কোরবানীর ঈদ সামনে রেখে জিনিসপত্রের দাম যেন না বাড়ে সে বিষয়ে নজর রাখতে ডিসিদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, এখন পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে। কোথাও হয়ত বিশেষ কারণ আছে। তবে ১৫ দিনের মধ্যে অবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। 

ভেজাল ও নকলের বিষয়ে সরকারের 'জিরো টলারেন্স': নকল এবং ভেজাল ধরতে ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি বলেছেন, নকল ও ভেজাল দেখলে ডিসিরা ধরবে, এটা সারা বছর চলবে। ভেজাল ও নকলের বিষয়ে সরকার 'জিরো টলারেন্স' নীতি নিয়েছে। ডিসি সম্মেলনের তৃতীয় দিনে মঙ্গলবার শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কর্ম-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী আরও বলেন, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা শিল্প কারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে স্থানান্তর করা হবে। সরকারের অনেক জায়গা আছে। কারণ, ব্যবসা তো আর বন্ধ করা যাবে না। কর্মসংস্থানের বিষয়টিও ভাবতে হচ্ছে। তবে কৃষি জমিতে কোনো শিল্প কারখানা করতে দেওয়া হবেনা। জেলা-উপজেলায় বিসিক শিল্পনগরী আছে। ফলে বিনিয়োগের জন্য নতুন জায়গার দরকার নেই।

পণ্যে পাটের মোড়ক আইন বাস্তবায়নে উপজেলা পর্যায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে : পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক আইন বাস্তবায়নে উপজেলা পর্যায়ে মাসে অন্তত দু'টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ব্যবস্থা করতে জেলা প্রশাসকদের পরামর্শ দিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দোস্তগীর গাজী। আইনটি যথাযথভাবে কার্যকর করতে আগামী মাসে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনার কথাও জানান তিনি। জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বৈঠক গতকাল মঙ্গলবার এই কথা বলেন মন্ত্রী। পাটকল শ্রমিকদের পাওনা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের জন্য সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে। তারপরও শ্রম অসন্তোষ কাজে লাগিয়ে কেউ যাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

শিশুশ্রম নিরসনে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চাইলেন শ্রমপ্রতিমন্ত্রী: ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চাইলেন শ্রমপ্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। জেলা প্রশাসক সম্মেলনে মঙ্গলবার শ্রম ও কর্মসংস্থান সম্পর্কিত কর্মঅধিবেশনে এই কথা বলেন তিনি। শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন প্রকল্পের ৪র্থ পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ১ লাখ শিশুকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঝুঁকিমুক্ত জীবনে ফিরিয়ে আনা হবে। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যকে (এসডিজি) সামনে রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে সব ধরনের শিশুশ্রম মুক্ত দেশ গড়তে সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সরকার ৩৮ ধরনের কাজকে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তৈরি পোশাক এবং চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে শিশুশ্রমমুক্ত করা হয়েছে।

মন্তব্য


অন্যান্য