রাজধানী

'আমাদের কেউ নেই বলে কি বিচার পাব না'

মহাখালীতে ঠিকাদার নাসির হত্যা

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

'আমাদের কেউ নেই বলে কি বিচার পাব না'

  বকুল আহমেদ

রাজধানীর মহাখালীর দক্ষিণপাড়ায় ঠিকাদার নাসির কাজীকে হত্যা করা হয় ১৫ মাস আগে। থানা পুলিশ, ডিবি হয়ে হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্বে এখন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার তদন্ত কয়েক হাত বদল হলেও খুনের নেপথ্য কাহিনী আজও অন্ধকারে। এতদিনেও হত্যারহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় হতাশ নাসিরের পরিবার।

নিহতের মেয়ে নার্গিস আক্তার নিপু সমকালকে জানান, মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা তাকে বলেছেন, হত্যার প্রমাণ না থাকায় কিছুই করতে পারছেন না। তদন্তের কোনো অগ্রগতি হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। নিপু বলেন, তার বাবা জীবিত থাকতেই প্রাণনাশের হুমকিতে ছিলেন। কারা তাকে হত্যা করতে পারে, সে বিষয়ে তিনি পরিবারের কাছে বলতেন। হুমকিদাতাদের নামধামও পুলিশকে জানানো হয়েছে।

নাসির মারা যাওয়ার পর পরিবারটি শুধু অভিভাবকহীনই হয়ে পড়েনি, চরম আর্থিক সংকটও গ্রাস করেছে তাদের। নিপুর মা গৃহিণী। তার একমাত্র ছোট ভাই এখন উত্তরায় নবম শ্রেণিতে পড়ে। সম্প্রতি একটি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেছেন নিপু। তার আয়েই এখন চলছে সংসার।

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নিপু বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা তার বাবার বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে তাদের কাছে নিয়ে যেতে বলেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'আমাকেই কেন তাদের নিয়ে যেতে হবে পুলিশের কাছে? মাস দেড়েক আগে তদন্ত কর্মকর্তা মামলার কাগজপত্র চেয়েছিলেন। আমি দিয়েছি। এরপর আর যোগাযোগ করিনি। আমরা গরিব মানুষ, সরকারি উঁচু মহলে কোনো লোকজন নেই। আমাদের কেউ নেই বলে কি বাবা হত্যার বিচার পাব না?'

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর পিবিআইর পরিদর্শক মোস্তফা কামাল সমকালকে বলেন, এটি একটি ক্লু-লেস (যোগসূত্রহীন) মামলা। অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। সাক্ষ্যও নিয়েছেন বেশ কয়েকজনের। তবে রহস্য উদ্ঘাটনে কোনো কিছুই পাচ্ছেন না।

নাসিরের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার মাদুয়াখালী। থাকতেন ঢাকায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান  ও ভবনের টাইলস ফিটিংয়ের ঠিকাদারি করতেন। মহাখালীর দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের টাইলস ফিটিংয়ের কাজ তদারকি করতে গিয়ে ২০১৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন তিনি। খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করা হয়। হত্যাকারীরা এতই কৌশলী ছিল যে, হত্যার আগে ওই এলাকার ২৬টি সিসি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। যে গলিতে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়, সেখানকার সিসি ক্যামেরার সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল।

হত্যার পরপরই নাসিরের মেয়ে নিপু বাদী হয়ে বনানী থানায় মামলা করেন। আসামি করা হয় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের। থানা পুলিশ তদন্তের পর কূলকিনারা না পেয়ে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করে। ডিবিতে হত্যার নেপথ্য কাহিনী ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে অভিযোগ তুলে মামলা স্থানান্তরের জন্য গত বছরের জুনে পুলিশ সদর দপ্তরে আবেদন করেন নিপু। পরে মামলাটি পিবিআইয়ে স্থানান্তর করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পিবিআইর আগে নাসির হত্যা মামলার তদন্ত করেছে বনানী থানা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের টিম। মামলার পরই তদন্ত শুরু করেন বনানী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সাইহান অলি উল্লাহ। তিনি সমকালকে জানান, হত্যার রহস্য বের করতে পারেননি তিনি। ফলে মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়।

ডিবির পরিদর্শক ফজলুল হক মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান। তিনি জানান, মামলাটির তদন্তে সময় পেয়েছিলেন এক মাস। এরপরই মামলা পিবিআইয়ে চলে যায়। সে সময়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানান তিনি।

মন্তব্য


অন্যান্য