রাজধানী

মুগদায় মেয়েকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৯

মুগদায় মেয়েকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা

  সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর মুগদা এলাকায় ভাড়া বাসায় সুখের সংসার চলছিল রোকসানা আক্তার রুবি ও মঞ্জুরুল হাসান রাসেল দম্পতির। একমাত্র সন্তান সাড়ে তিন বছরের রোজা ফারদিন এই দম্পতির আনন্দটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল কয়েকগুণ। কয়েক দিন আগে রাসেল হঠাৎ মারা যাওয়ার পর তাতে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। শেষ পর্যন্ত মা রোকসানা একমাত্র সন্তানকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। গত রোববার রাতে রোজা ফারদিনের লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে রোকসানাকে।

রাসেল মারা যাওয়ার পর মুগদার মানিকনগরের মিয়াজান গলির ৯৬ নম্বর বাসায় থাকতেন মা-মেয়ে। পুলিশ সোমবার ওই বাসা থেকে ঘুমের ১০ ট্যাবলেটের খালি খোসা উদ্ধার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন মা।

চিকিৎসাধীন রোকসানাও পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েকে হত্যার কথা জানিয়ে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টার কথা স্বীকার করেছেন। বলেছেন, দু'জনেই একসঙ্গে চলে যেতে চেয়েছিলেন।

এমন নৃশংসতার কারণ সম্পর্কে এই মা বলেছেন, গত ২৬ রোজায় হার্ট অ্যাটাকে তার স্বামীর মৃত্যু হয়। এরপর বাসা ভাড়া থেকে শুরু করে মেয়েকে লালন-পালনে অসহায় পয়ে পড়েন তিনি। অর্থনৈতিক সংকটে হতাশায় ভুগতে থাকেন। তার বা স্বামীর পরিবারের কেউ সহায়তার জন্যও এগিয়ে আসেনি। মেয়েকে নিয়ে তার বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেন- মেয়েকে নিয়েই তিনি দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবেন। তার স্বামী রাসেল একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অবশ্য পুলিশ তার এই বক্তব্য যাচাই করছে। মুগদা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা জানিয়েছেন, শিশুটিকে কাপ আইসক্রিমের সঙ্গে অন্তত ১০টি ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছিল। কিন্তু তার মা কম ট্যাবলেট খেয়েছেন। এ জন্য তিনি বেঁচে যান। দু'জনই মারা যাওয়ার চিন্তা করলেও ওই নারীর তো বেশি ট্যাবলেট খাওয়ার কথা ছিল। এসব বিষয়ে কিছুটা সন্দেহ রয়েছে। তিনি সুস্থ হলে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

প্রতিবেশীদের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, রোববার রাত ১০টার দিকে রোকসানার বাসায় তার মেয়ে কান্নাকাটি করে। এক পর্যায়ে তিনিও চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে ঘর থেকে বের হন। দু'জনের মুখ দিয়ে ফেনার মতো কিছু বের হচ্ছিল। রোকসানা কিছু লুকানোর মতো সন্দেহজনক আচরণ করেন। তখন স্থানীয় লোকজন দু'জনকেই মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয় শিশু রোজা ফারদিনকে।

রোজার চাচা সোহেল হাসান জানান, তাদের সঙ্গে তার ভাই-ভাবির তেমন একটা যোগাযোগ ছিল না। ভাই মারা যাওয়ার পর তারা গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে ঢাকায় এসেছিলেন। এরপর তার ভাবি ও ভাতিজির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। ভাতিজিকে মেরে ফেলার খবরে তিনি থানায় আসেন।

মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক ফজল মাহমুদ জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার দুপুরে শিশুটির মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে তার চাচা সোহেল হাসানের কাছে। ওই ঘটনায় বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন সোহেল। এতে একমাত্র আসামি করা হয়েছে নিহত রোজার মাকে।


মন্তব্য


অন্যান্য