রাজধানী

মর্মান্তিক

ঘরেই ডুবল শান্তা-মতিউরের '১৪ মাসের স্বপ্ন'

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঘরেই ডুবল শান্তা-মতিউরের '১৪ মাসের স্বপ্ন'

বাবার কোলে রাফি - সংগৃহীত

  সমকাল প্রতিবেদক

ছোট্ট মশিউর রহমান রাফি হামাগুড়ি দিতে শিখেছে কেবল। একটু একটু দাঁড়াতে পারলেও পুরোপুরি হাঁটতে শেখেনি। তাই হামাগুড়ি দিয়ে পুরো ঘর মাতিয়ে রাখে সে। কখনও খাটের নিচে, কখনও রান্নাঘরে, কখনও দরজা খোলা পেয়ে বাথরুমে চলে যায়। এই বয়সে হামাগুড়ি দিয়ে এমন দুরন্তপনা করাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু তা যে এমন প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়াবে, কে জানত? বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতোই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা।

বাথরুমে পানিভর্তি বালতিতে ডুবে ঝরে গেল অবুঝ শিশুটির প্রাণ। বিষাদের কালো ছায়া নেমে এসেছে হাসিখুশিভরা পরিবারে। ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাগলপ্রায় মা-বাবা ও স্বজনরা। যেন '১৪  মাসের স্বপ্ন' ডুবে গেল অথৈ জলে। সন্তানকে ঘিরে ওই দম্পতির একেকটি দিন ছিল একেকটি নতুন স্বপ্ন। সেই সন্তান হারিয়ে সেই স্বপ্ন রূপ নিল দুঃস্বপ্নের আখ্যানে।

এর একদিন আগেই রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসার সামনে মাথায় ইট পড়ে ১৬ দিনের এক শিশু মারা যায়। একদিনের মাথায় গতকাল শনিবার রাজধানীর ডেমরা থেকে এলো আরেকটি মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর।

সকালে মা রাজিয়া সুলতানা শান্তা যখন রান্নার কাজে ব্যস্ত, তখন হামাগুড়ি দিয়ে শিশু রাফি ঢুকে পড়ে বাথরুমে। মা টের পাওয়ার আগেই পানিভর্তি বালতির মধ্যে পড়ে নিস্তব্ধ হয়ে যায় তার দেহ। বালতিতে পড়ে পা দুটি উপরে আর মাথা পানির নিচে আটকে যায়। এই দৃশ্য দেখে হাউমাউ করে কেঁদে উঠে ছেলেকে পানি থেকে তোলেন শান্তা। বুকে নিয়ে সন্তানের মুখ থেকে শব্দ বের করানোর চেষ্টা অবুঝ মায়ের। কিন্তু না, কোনো সাড়াশব্দ নেই তার। বুকে জড়িয়ে ধরে মায়ের আর্তনাদ। ছুটে আসেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। শিশুটিকে দ্রুত নেওয়া হয় স্থানীয় একটি হাসপাতালে। পরে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তখন দুপুর দেড়টা। হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়ে দেন, এই ফুটফুটে শিশুটি আর বেঁচে নেই। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকের কাছ থেকে এই চরম দুঃসংবাদ শোনামাত্র বাবা মতিউর রহমান ছেলের মৃতদেহ জড়িয়ে ধরে আর্তনাদ করতে থাকেন। শিশুটির নিথর দেহ দেখে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে উপস্থিত কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

জানা যায়, মতিউর রহমানের বাসা রাজধানীর ডেমরার সারুলিয়ায়। তিনি জনশক্তি রফতানির ব্যবসার সঙ্গে সংশ্নিষ্ট। তার স্ত্রী শান্তা গৃহিণী। মতিউরের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের বয়স চার বছর।

পুত্র শোকে বিপর্যস্ত মতিউর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'আমার সব শেষ হয়ে গেল। পৃথিবীকে ভালো করে চেনার আগেই আমাদের ছেড়ে চলে গেল আমার বাবাটা।' তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা যেন হাসপাতালের সবাই হারিয়ে ফেলেছিলেন। ১৪ মাসের সন্তান হারানো বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা কি থাকে কারও!

শাহবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মৃত শিশুটির বাবার আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

মন্তব্য


অন্যান্য