রাজধানী

মিরপুরে মাথায় ইট পড়ে ১৬ দিনের শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৯

মিরপুরে মাথায় ইট পড়ে ১৬ দিনের শিশুর মৃত্যু

  সমকাল প্রতিবেদক

শীতের সকালে রোদ পোহাতে ১৬ দিন বয়সী ভাগ্নে আব্দুল্লাহ কোলে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়েছিল কিশোরী তামিমা সুলতানা। টিনশেড ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় হঠাৎ ওপর থেকে একটি ইটের টুকরো তার মাথায় পড়ে। তার মাথায় পড়ার পর তা নবজাতকটির মুখের ওপরও পড়ে। ইটের আঘাতে তামিমার মাথা ফেটে যায় আর আব্দুল্লাহ আহত হয়। 

তবে আঘাতের কারণে তামিমার হাত থেকে নিচে পড়ে যায় নবজাতক আব্দুল্লাহ। এতে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যায় সে। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়ার আহম্মেদ নগর এলাকায়।

আহত তামিমা সুলতানা জানায়, আহম্মেদ নগরের জোনাকী রোডের টিনশেড বাসায় তারা থাকে। তার ভগ্নিপতি কবির হোসেন পেশায় প্রাইভেটকার চালক। বোন লাইজু বেগম গৃহিণী। ১৫ দিন আগে মিরপুরের একটি হাসপাতালে তাদের দ্বিতীয় সন্তান আবদুল্লাহর জন্ম হয়। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তামিমা তার ঘুমন্ত ভাগ্নেকে কোলে নিয়ে রোদে দাঁড়িয়েছিল। ইটের টুকরোটি প্রথমে তার মাথায় পড়ে, এরপর তা গড়িয়ে পড়ে আবদুল্লাহর মুখে। একই সময়ে তার হাত ফসকে শিশুটি নিচে পড়ে যায়।

শিশুটির বাবা কবির হোসেন জানান, তামিমার চিৎকার শুনে সবাই এগিয়ে যায়। আবদুল্লাহকে উদ্ধার করে প্রথমে আগারগাঁওয়ের শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে দুপুর ১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

সরেজমিনে দেখা যায়, জোনাকী রোডে কবির হোসেনের টিনশেড বাসার পাশেই একটি তিন তলা ভবন। সেটির তৃতীয় তলায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকেন শফিকুর রহমান। 

তিনি জানান, সাড়ে তিন ও দুই বছর বয়সী দুটি মেয়ে রয়েছে তার। সকালে তিনি লক্ষ্য করেন, মেয়েরা ঘরে নেই। তাদের খোঁজে তিনি বাসার নিচে নেমে যান। সেখানেও শিশু দুটি ছিল না। তবে এ সময় শফিকুর ওপর থেকে ইট পড়ে দুজনের আহত হওয়ার খবর পান। এরপর তিনি তৃতীয় তলার ছাদে গিয়ে দুই মেয়েকে পান। তারা জানায়, দুই বোন খেলার সময় হঠাৎ করেই ইটের টুকরোটি নিচে পড়ে যায়।

এদিকে ছোট্ট আবদুল্লাহর মৃত্যুর খবরে ঢামেক হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্বজনরা। তাদের কান্না-আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ। সন্তান হারানোর শোকে লাইজু বেগম একটু পর পরই অচেতন হয়ে পড়ছিলেন। 

আর ভাগ্নের মৃত্যুর জন্য নিজেকে 'অপরাধী' ভাবছে তামিমা। তার ভাষ্য, সে ওখানে না দাঁড়ালে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হতো না আবদুল্লাহর।

নিহত শিশুটির স্বজনরা জানান, এ ঘটনায় তারা কোনো মামলা করতে চান না। কারণ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এ ঘটনা ঘটায়নি। 

মিরপুর থানার ওসি দাদন ফকির সমকালকে বলেন, এটি নিছক দুর্ঘটনা। পাশের ভবনের ছাদে দুই শিশু খেলার সময় ইটের টুকরোটি গড়িয়ে পড়ে। এতেই নিচে খালার কোলে থাকা শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় কোনো পক্ষই পুলিশের কাছে অভিযোগ করেনি। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

মন্তব্য


অন্যান্য