রাজধানী

১৭তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯

১৭তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু

  সমকাল প্রতিবেদক

নান্দনিক চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মননশীল দর্শক তৈরি করে আলোকিত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে শুরু হলো ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের আয়োজনে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এ উৎসব চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

উৎসবটির ১৭তম আসরে এশিয়ান প্রতিযোগিতা বিভাগ, রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগ, বাংলাদেশ প্যানারোমা, সিনেমা অফ দ্য ওয়ার্ল্ড, চিল্ডড্রেনস ফিল্ম, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস, শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম এবং উইমেন্স ফিল্ম বিভাগে ৫৮টি দেশের ২১৮টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এর মধ্যে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ১২২টি, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন চলচ্চিত্রের সংখ্যা ৯৬টি।

১৯৯২ সালে প্রথম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এদিন জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে ছিলো উৎসবের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সদ্য সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। 

বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য সচিব আবদুল মালেক। উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উৎসব কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ম হামিদ ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সাহিত্য, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত- এগুলো শুধু বিনোদনের জন্য নয়। এর বাইরেও অনেককিছু এর সঙ্গে যুক্ত। মানুষকে উচ্চতর মার্গে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। সে সঙ্গে রুচিকেও পরিশীলিত করে। চলচ্চিত্র একটি শক্তিশালী মাধ্যম। জাতি গঠনের ক্ষেত্রে তা কার্যকর ভূমিকা রাখে।

শাহরিয়ার আলম বলেন, চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সকল মানবিক অনুভূতি উঠে আসে। একটি ভালো চলচ্চিত্র একজন মানুষ ও সমাজকে বদলে দিতে পারে। মানুষের জন্য কাজ করতেও অনুপ্রাণিত করে।

উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হয় তুরস্ক-জর্ডানের যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র 'দ্য গেস্ট'। তুরস্কে আশ্রয় নেওয়া সিরীয় শরণার্থীদের দুঃখ-বিগ্রহ, ত্যাগ ও বঞ্চনার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে চলচ্চিত্রটির কাহিনিতে। 

১০ বছরের লিনা যুদ্ধে তার বাবা-মা ও পরিবার হারায়। সে তার ছোট বোন ও প্রতিবেশি মরিয়মকে নিয়ে অন্য শরণার্থীদের সঙ্গে তুরস্কে রওনা হয়। ইস্তাম্বুলে যাওয়ার পর তারা এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। পুরোপুরি অচেনা এক শহরে লিনার বেঁচে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা উঠে এসেছে এই চলচ্চিত্রে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন তুরস্কের নির্মাতা আন্দাজ হাজানেদারগলু।

রাজধানীর সাতটি স্থানে উৎসবের চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শিত হবে। সেগুলো হলো- জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন ও কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তন ও আঁলিয়াস ফ্রঁয়েজ মিলনায়তন এবং যমুনা ব্লকবাস্টার সিনেমা।

উৎসবের অংশ হিসেবে  শুক্রবার ও আগামী শনিবার আঁলিয়াস ফ্রঁয়েজ মিলনায়তনে চলচ্চিত্রে নারীর ভূমিকা নিয়ে 'পঞ্চম আন্তর্জাতিক উইমেন ফিল্ম মেকারস্‌ কনফারেন্স' অনুষ্ঠিত হবে। ১৪ জানুয়ারি প্রথমবারের অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নির্মাতাদের মিথস্ক্রিয়ামূলক দিনব্যাপী সেমিনার 'ওয়েস্ট মিটস ইস্ট'। 

১৩-১৪ জানুয়ারি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজনে এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচক ফেডারেশনের সহযোগিতায় 'এশিয়ান ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাসেম্বেলি' অনুষ্ঠিত হবে। 

মন্তব্য


অন্যান্য