রাজধানী

বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন

পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়ে উদ্যোগী হতে হবে: রাষ্ট্রপতি

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯

পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়ে উদ্যোগী হতে হবে: রাষ্ট্রপতি

২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বুধবার বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ- পিআইডি

  সমকাল প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে টিকে থাকতে হলে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এ জন্য দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন বাজার সৃষ্টি ও পণ্যের বহুমুখীকরণেও মনোযোগী হতে হবে। 

উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্যের মানোন্নয়ন, পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও আকর্ষণীয় করতে উদ্যোগী হতে হবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজস্ব ব্র্যান্ডে রফতানি করা সম্ভব হলে রফতানির পরিমাণ বাড়বে। একইসঙ্গে এ খাত থেকে পাওয়া সুবিধাও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

বুধবার ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব মফিজুল ইসলাম, এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য বক্তব্য দেন। পরে রাষ্ট্রপতি মেলা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

অনুষ্ঠানে ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। তখন স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য প্রবর্তিত অগ্রাধিকারমূলক বাজার প্রবেশাধিকারের সুবিধা থাকবে না। তাছাড়া বিভিন্ন অশুল্ক্ক বাধাও অতিক্রম করার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এরূপ পরিস্থিতিতে উৎপাদক ও রফতানিকারকদের তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সামর্থ্য ও সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি উন্নত ও টেকসই অর্থনীতি বিনির্মাণে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। রফতানি ঝুড়িতে অনেক পণ্য সংযোজিত হলেও এখনও তা প্রধান কয়েকটি পণ্যের ওপর নির্ভর করছে। এ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। অধিক মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে দেশজ কাঁচামালনির্ভর রফতানি পণ্য উৎপাদনে আরও মনোনিবেশ করতে হবে। এক্ষেত্রে পাটভিত্তিক বহুমুখী পণ্য, খাদ্যসহ কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, হিমায়িত চিংড়ি, আম ও আলু পণ্যের রফতানি বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

শ্রমঘন আইসিটি খাতকে শুধু দেশের উন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা না করে আইসিটি-সংশ্নিষ্ট সেবা খাতের রফতানি বাড়াতে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান রাষ্ট্রপ্রধান।

আবদুল হামিদ বলেন, নতুন নতুন উদ্ভাবনের ফলে ব্যবসায়ের ধরন ও প্রকৃতি দ্রুত পাল্টাচ্ছে। তাই ব্যবসায়ীদের নতুন নতুন ধারণা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। তুলনামূলক সুবিধা ও স্থানীয় সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই কর্মসংস্থান, উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়বে এবং দেশ এগিয়ে যাবে।

মাসব্যাপী এ মেলা আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। মেলায় প্রায় ৫৫০টি স্টল ও প্যাভিলিয়নে দেশি-বিদেশি পণ্য প্রদর্শন করা হয়েছে। উদ্বোধনের পরপরই মেলায় দর্শনার্থীর ভিড় জমে। এবার মেলায় প্রবেশের টিকিট ৩০ টাকা ও শিশুদের জন্য ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সরকার কাজ করছে। সব ক্ষেত্রে ব্যবসা এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করা হচ্ছে। বাণিজ্য মেলা ব্যবসা সম্প্রসারণের ইতিবাচক দিক। এ মেলার মাধ্যমে পণ্যের স্থানীয় বাজারের প্রসার ঘটছে। পাশাপাশি নতুন বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে রফতানি বাড়বে। বিশেষ করে রাশিয়ার বাজার ধরতে পারলে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, বছরব্যাপী পণ্য প্রদর্শনের জন্য ২০২০ সালে বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলের স্থায়ী প্রাঙ্গণে শুরু হবে।

বাণিজ্য সচিব বলেন, আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পণ্যের মানোন্নয়ন প্রয়োজন। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব ব্যবসা ও শিল্প গড়ে তুলতে হবে। মেলার মাধ্যমে ব্যবসার প্রসার হচ্ছে এবং দেশি পণ্যের ব্র্যান্ডিং হচ্ছে।

উদ্বোধন শেষে  এসময়  বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখেন রাষ্ট্রপতি -পিআইডি  

এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, বাণিজ্য মেলার একটি স্টলের বিপরীতে ২০টি আবেদন পড়ছে। ব্যবসায়ীদের চাহিদা মতো স্টল দেওয়া কষ্টসাধ্য হচ্ছে। মেলার স্থায়ী প্রাঙ্গণ চালু হলে আরও বেশি স্টল বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে। বিদেশে এরকম প্রদর্শনী কেন্দ্র ১০০ থেকে ২০০ একর জমি জুড়ে স্থাপন করা হয়। এ দেশে জমির স্বল্পতার কারণে তা সম্ভব না হলেও নূ্যনতম ৩০ একর জমিতে স্থাপনের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, রফতানি বাণিজ্য প্রসারে দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। নতুন রফতানি গন্তব্য রাশিয়ার বাজার ধরতে আরও জোর দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।

বিজয় ভট্টাচার্য বলেন, আগামী দিনের লক্ষ্য পণ্যের মানোন্নয়ন ও উৎপাদশীলতা বৃদ্ধি করা। সে লক্ষ্যে বিদেশি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাণিজ্য মেলায় অংশ নিচ্ছে দেশি কোম্পানি। এই প্রতিযোগিতায় দেশি পণ্যের মানোন্নয়ন হচ্ছে। মেলায় দেশি পণ্যের ব্র্যান্ডিং হওয়ায় বিদেশের বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিতের নির্দেশ হাইকোর্টের


আরও খবর

রাজধানী
দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিতের নির্দেশ হাইকোর্টের

বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

  রাশেদ মেহেদী

অনিয়মের অভিযোগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের জন্য সংশ্নিষ্ট সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা। আজ মঙ্গলবার এর দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। এই মেগা প্রকল্পের শুরুতেই অনিয়ম নিয়ে গত ২ মার্চ সমকালে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

জানা গেছে, গত ১৪ মার্চ বিচারপতি তারিক উল হাকিম এবং বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর বেঞ্চ একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিতের আদেশ দেন। দরপত্রে  সরকারের ক্রয়- সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কারিগরি ইউনিটের (সিপিটিইউ) নির্দেশনা পালন করা হয়নি বলে রিটে অভিযোগ করা হয়েছে। হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, সিপিটিইউর নির্দেশনা অনুযায়ী দরপত্রের বিধিবহির্ভূত শর্ত সংশোধন করে আইনসম্মত না করা পর্যন্ত এ দরপত্র প্রক্রিয়ার যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও এ দরপত্র প্রক্রিয়ায় সিপিটিইউর নির্দেশনা প্রতিপালন না করায় সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন আদালত।

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও এ প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। গত ১৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৮ শামীম আলম স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত নির্দেশ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে এ প্রকল্পের অনিয়ম-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০১৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, দরপত্র আহ্বানের পর বিশ্বের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবকাঠামো নির্মাণকারী শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো অদ্ভুত শর্তের কারণে দরপত্র কিনতেই পারেনি। পরে এ নিয়ে সিপিটিইউতে অভিযোগ জমা দেয় তুরস্কের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান টিএভি ও গ্যাপইনসাত। কাতারের দোহা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবী ও দুবাই, তুরস্কের ইস্তাম্বুল, সৌদি আরবের রিয়াদ এবং নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিশ্বের ২২টি বৃহৎ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। এ প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বিমানবন্দর অবকাঠামো নির্মাণে লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাডি গ্রুপের তালিকায় এক নম্বরে অবস্থান করছে। টিএভি-গ্যাপইনসাতের অভিযোগে বলা হয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে প্রথমে দরপত্র বিক্রিতেই রাজি হয়নি।

এ অভিযোগ পর্যালোচনা করে গত ১৮ অক্টোবর সিপিটিইউ থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয় বেবিচককে। চিঠিতে বলা হয়, কোনো পূর্ব শর্ত দিয়ে দরপত্র বিক্রি করা বিধিসম্মত নয়। একই সঙ্গে দরপত্রে কয়েকটি শর্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র নীতিমালা এবং সরকারি ক্রমবিধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এ কারণে এসব শর্ত সংশোধনের জন্য বলা হয়। সিপিটিইউ থেকে এ চিঠি পাওয়ার পর টিএভি-গ্যাপইনসাতের কাছে দরপত্র বিক্রি করে বেবিচক।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত ৩১ জানুয়ারি বেবিচকের কাছে আবারও একটি চিঠি পাঠায় সিপিটিইউ। উপপরিচালক মাহফুজার রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে সিপিটিইউয়ের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়, যে কোনো প্রকল্পের দরপত্রের শর্ত তৈরিতে সরকারি ক্রয়বিধি এবং প্রকল্পের ঋণদাতা সংস্থার নীতিমালা অনুসরণ করা হয়ে থাকে। বেবিচকের এ প্রকল্পের দরপত্রে এ ক্ষেত্রে স্পষ্ট ব্যত্যয় দেখা গেছে। সরকারি ক্রয়বিধি এবং দাতা সংস্থা জাইকার গাইডলাইন-বহির্ভূত শর্ত যুক্ত করার ফলে দরপত্রটি প্রতিযোগিতামূলক না হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

চিঠিতে বলা হয়, দরপত্রের শর্তে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার সনদের ক্ষেত্রে ২০০৪ সালের জানুয়ারি মাসের আগের আইএসও সনদ ১৪০০১ থাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সরকারি ক্রয়বিধি এবং দাতা সংস্থা জাইকার নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের শর্ত আরোপের সুযোগ নেই। দরপত্রের শর্তে কোন প্রতিষ্ঠানের কত বেশি হালনাগাদ সনদ আছে, সেটাই প্রযোজ্য হবে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বর্তমানে আইএসও সনদের আরও উন্নত স্তর স্থাপিত হয়েছে। আইসএসও সনদের স্তর ৪৫০০১ :২০১৮ পর্যন্ত এসেছে। কেন বেবিচকের দরপত্রে উন্নত স্তরের আইএসও সনদের পরিবর্তে ১৪ বছর আগের সনদ শর্ত হিসেবে প্রযোজ্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা বোধগম্য নয়।

দরপত্রের একটি শর্তে সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এর আগে জাইকার ঋণের প্রকল্পে এবং জি-৭ দেশে কাজের অভিজ্ঞতার শর্ত দেওয়া হয়েছে। সিপিটিইউর চিঠিতে জাইকার গাইডলাইনে এ ধরনের কোনো শর্তের কথা নেই উল্লেখ করে বলা হয়, কত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা আছে, কতটি দেশে আছে এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কতটা উন্নত সক্ষমতার প্রমাণ রয়েছে তা বিবেচনায় আসবে। বেবিচকের দরপত্রে এ বিষয়গুলো বিবেচনায় না এনে যোগ্যতার শর্তকে এমনভাবে সংকুচিত করা হয়েছে, যার ফলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিমানবন্দর অবকাঠামো নির্মাণ কোম্পানিগুলোর দরপত্রে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে এ প্রকল্প গ্রহণের পর থেকেই জাপানের একটি কোম্পানি এ কাজ পাওয়ার জন্য নানাভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এক সময় এ কোম্পানিটির বিমানবন্দর অবকাঠামো নির্মাণে খ্যাতি থাকলেও বর্তমানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেকখানি পিছিয়ে পড়েছে। এ কারণে শাহজালাল বিমানবন্দর বর্ধিতকরণের কাজটি তাদের জন্য বড় একটা সুযোগ। আর এ কোম্পানিকে এই কাজটি পাইয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবেই দরপত্রে কিছু অপ্রয়োজনীয় ও অদ্ভুত শর্ত যোগ করা হয়েছে। দরপত্রের এই শর্তগুলোকেই অনিয়ম হিসেবে বলা হয়েছে সিপিটিইউর পর্যবেক্ষণে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, এর আগে ২০১৫ সালের মে মাসে বিটিসিএলের একটি বড় প্রকল্পে অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর জাইকা প্রায় ২০০ কোটি টাকার ঋণ সহায়তা প্রত্যাহার করে নেয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

মুক্ত আসরের স্কুলভিত্তিক ‘বাংলাদেশকে জানো’ এবার ধামরাইয়ে


আরও খবর

রাজধানী

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নাচ পরিবেশন করেন। ছবি: সংগৃহীত

  অনলাইন ডেস্ক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সংগঠন ‘মুক্ত আসর’ ঢাকার ধামরাই উপজেলা পরিষদে আয়োজন করে ‘বাংলাদেশকে জানো’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের। 

বাংলাদেশকে জানো অনুষ্ঠানে কুইজভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা ও ‘আমার স্বপ্ন’ শিরোনামে রচনা প্রতিযোগিতার সেরা ২১ শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় বই ও সনদপত্র। 

রোববারের এই অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে ৩০ মিনিট কুইজভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ৯ জন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার হিসেবে বই ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। 

আয়োজনে আরও একটি অংশ ছিল আমার স্বপ্ন শিরোনামে রচনা প্রতিযোগিতা। সেখানেও সেরা তিন খুদে লেখককে দেওয়া হয় বই। অনুষ্ঠানে কুইজভিত্তিক লিখিত পরীক্ষায় ৩০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

মুক্ত আসরের সভাপতি আবু সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা এ জেড এম সাদেকুর রহমান খান, পদ্মা রহমান, ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল কালাম, শিক্ষক ও ভ্রমণকন্যা এলিজা বিনতে এলাহী, শিক্ষক সংগীতা আচার্যসহ অনেকে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নাচ, গান ও কবিতা আবৃত্তি করে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং মুক্ত আসরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৌশিক চাকমা, মিথিলা সিকদারসহ মুক্তবন্ধুরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

সাব-এডিটরস কাউন্সিলের বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প


আরও খবর

রাজধানী

  অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের (ডিএসইসি) উদ্যোগে সংগঠনের সদস্যদের জন্য কিডনি-ইউরোলজি ও নিউরোমেডিসিন বিষয়ক দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের প্রথম দিন সোমবার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। 

ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধীনস্ত অ্যাডভান্স সেন্টার অব কিডনি অ্যান্ড ইউরোলজির (আকু) সৌজন্যে সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল-এর হল রুমে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সংগঠনের বিপুল সংখ্যক সদস্য রক্তের নমুনা দেন।

ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি জাকির হোসেন ইমন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মুক্তাদির অনিক। এ সময় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সাবেক নেতারাও। মেডিকেল ক্যাম্পের সমন্বয় করেন কোষাধ্যক্ষ আবু কাউছার খোকন।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিজনেস ডেভেলপমেন্টের ম্যানেজার শাহ্ নাঈম হাবীব, ডেপুটি ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক, সি. এক্সিকিউটিভ শাহনুর আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

আগামী ২০ মার্চ রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট প্রদান এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎকরা কিডনি-ইউরোলজি ও নিউরোমেডিসিন বিষয়ক পরামর্শ দেবেন। পাশাপাশি কিডনি-ইউরোলজি ও নিউরোমেডিসিন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিচারপতি মো. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। উপস্থিত থাকবেন প্রফেসর ডা. সোহরাব হোসেন সৌরভ, ডা. কাজী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য, কিডনি-ইউরোলজি ও নিউরোমেডিসিন বিষয়ক কয়েকজন চিকিৎসক।