রাজধানী

বিএনপি আন্দোলনের নামে নাশকতা করলে শক্ত হাতে দমন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯

বিএনপি আন্দোলনের নামে নাশকতা করলে শক্ত হাতে দমন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল- ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম করা যে কোনো রাজনৈতিক দলের অধিকার। কর্মসূচি সফল করতে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি বিভিন্ন কৌশল নিতেই পারে। তবে আন্দোলনের নামে দলটি কোনো নাশকতার চেষ্টা করলে তা শক্ত হাতে দমন করা হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজের দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

একাদশ সংসদে এমপি নির্বাচিত হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে শপথ গ্রহণের পর মঙ্গলবার তিনি প্রথম দফতরে আসেন। দুই বিভাগের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপির আন্দোলন নিয়মতান্ত্রিক হতে হবে। জনসম্পৃক্ত নয় এমন আন্দোলন থেকে দলটির নেতাদের বিরত থাকতে হবে। দেশের মানুষ নাশকতা ও অগ্নিসংযোগ পছন্দ করে না। অতীতেও এমন ব্যর্থ আন্দোলন করে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে তারা।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল আরও বলেন, সরকারের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান উন্নয়নের ধারায় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তা না করতে পারলে এসব অর্জন হারিয়ে যাবে। যে কোনো মূল্যে সরকার জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের পরিকল্পনার সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি থাকবে সরকারের। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। যেকোনো মূল্যে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমাজ থেকে মাদক দূর করা হবে। না হলে দেশের তরুণ সমাজের মেধা ও স্বপ্ন হারিয়ে যাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল জঙ্গিবাদ দমন প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমন করা। আগেও জঙ্গি তৎপরতা সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এ পর্বেও সরকার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে। সন্ত্রাস প্রতিরোধেও আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি কাজ হবে।

 সচিবালয়ে মঙ্গলবার নিজ দফতরে এলে কর্মকর্তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে ফুলের তোড়া  দিয়ে স্বাগত জানান- সমকাল 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতিপূর্বে তিনি এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সফল হয়েছেন। কিছু কাজ চলমান রয়েছে। যেসব কাজ অসমাপ্ত রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করাই হবে তার অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী কামাল বলেন, এর আগেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি টিম হিসেবে কাজ করেছে। এতে সাফল্য এসেছে। এর ধারাবাহিকতা রাখা হবে। প্রধানমন্ত্রীর ইশতেহার বাস্তবায়নে ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় মন্ত্রণালয় কাজ করে যাবে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

শিবিরকর্মী থেকে দুর্ধর্ষ খুনি


আরও খবর

রাজধানী

ইউএসএআইডির কর্মকর্তা জুলহাজ ও তার বন্ধু তনয়ের ঘাতক জঙ্গি আসাদুল্লাহকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টঙ্গী থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

  সমকাল প্রতিবেদক

যশোরের নওয়াপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সক্রিয় কর্মী ছিল আসাদুল্লাহ। পরে ২০১৫ সালে সে যোগ দেয় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে, যার বর্তমান নাম আনসার আল ইসলাম। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি তাকে যশোর থেকে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার একটি বাসায় এনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে সে নিজেই হয়ে ওঠে সংগঠনটির সামরিক শাখার প্রশিক্ষক। 

২০১৬ সালে সে উত্তর বাড্ডার সাতারকুলে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। একই বছরে রাজধানীর কলাবাগানে চাঞ্চল্যকর জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব তনয়কে হত্যায় সরাসরি অংশ নেয় দুর্ধর্ষ এ খুনি। সেদিন গাজীপুরের টঙ্গী থেকে সে বাসে ঢাকায় এসে যোগ দিয়েছিল হত্যা মিশনে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে টঙ্গী থেকে গ্রেফতারের পর বুধবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় পুলিশ।

রাজধানীর কলাবাগানের লেকসার্কাস এলাকার বাড়িতে ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির কর্মকর্তা জুলহাজ ও তার বন্ধু তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ ঘটনায় জুলহাজের বড় ভাই মিনহাজ মান্নান কলাবাগান থানায় মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, চাঞ্চল্যকর জুলহাজ-তনয় হত্যার দায় স্বীকার করে আনসার আল ইসলাম। প্রথমে মামলাটি তদন্ত করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় সিটিটিসি। তদন্তে রহস্য উদ্ঘাটন হতে থাকে। বিভিন্ন পর্যায়ে এ হত্যাকাণ্ডে ১৩ জন সম্পৃক্ত ছিল বলে জানা যায়। তারা সবাই আনসার আল ইসলামের সদস্য। ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পাঁচজনকে শনাক্ত করা হয়। তবে দীর্ঘ তদন্ত ও গ্রেফতারকৃতদের কাছে পাওয়া তথ্যে নিশ্চিত হওয়া যায়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল মোট সাতজন। তাদের পাঁচজন 'কিলার গ্রুপ' (ঘাতক দল) ও দু'জন ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের (গোয়েন্দা দল) সদস্য।

কিলার গ্রুপের পাঁচ সদস্য ঘটনার দিন কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী পরিচয়ে পার্সেল দেওয়ার কথা বলে বাসার ভেতরে ঢোকে। এর মধ্যে আসাদুল্লাহসহ দু'জন গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা দারোয়ানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের দু'জন বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। 

এখন পর্যন্ত এ হত্যায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলো- কিলার গ্রুপের আসাদুল্লাহ ও আরাফাত এবং ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের জায়েদ ওরফে জুবায়ের ও সায়মন।

জুলহাজ ও তনয়ের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে সায়মন ও জায়েদ। আরাফাত সরাসরি দু'জনকে হত্যায় অংশ নেয়। তারা তিনজনই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞসাবাদে জানা যায়, আসাদুল্লাহ অনেকগুলো সাংগঠনিক নামে পরিচিত। সেগুলো হলো- ফকরুল ওরফে ফয়সাল ওরফে জাকির ওরফে সাদিক। সে আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার দাওরা প্রশিক্ষক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করত। সে ঢাকার বাড্ডা, আশকোনা ও গাজীপুরের বিভিন্ন আস্তানায়-মারকাজে বাসা ভাড়া নেওয়ার পদ্ধতি, নিরাপত্তার বিষয়, ডে-অ্যাম্বুশ (দিনে গোপনে ওঁৎ পাতা), সম্মানজনক মৃত্যু, চাপাতি চালানো, পিস্তল চালানো, টার্গেট ব্যক্তিকে হত্যায় এলাকায় রেকি করা এবং হত্যার সময় ও স্থান নির্ধারণের পদ্ধতি সম্পর্কে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। আসাদুল্লাহকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, আসাদুল্লাহর গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মদনপুর এলাকায়। তবে সে গাজীপুরের টঙ্গীর মরকুন কবরস্থান গেট এলাকায় থাকত। তার বাবা এমদাদুল হক চুয়াডাঙ্গার মাধবপুর ইসলামিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। তিনি স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর রুকন ছিলেন। আসাদুল্লাহ ২০০১ সালে মদনপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে পাস করে যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে মেকানিক্যাল বিষয়ে পড়া শুরু করে।

বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায় হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন শরীফুল ওরফে মুকুল রানার মাধ্যমে ২০১৫ সালের শেষদিকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে যোগ দেয় আসাদুল্লাহ। সংগঠনে তার নাম দেওয়া হয় ফয়সাল। পরের বছর জুনে খিলগাঁওয়ে 'বন্দুকযুদ্ধে' মুকুল রানা নিহত হয়। জুলহাজ-তনয় হত্যা মামলার চার্জশিট শিগগির দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই ৪ বছর: আসাদুল্লাহর বাবা এমদাদুল হক সমকালকে জানান, ২০১৪ সালের শেষের দিকে ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয়ে ছেলের সঙ্গে তার মতবিরোধ হয়। এরপর আসাদুল্লাহ বাড়ি ছেলে চলে যায়। তার সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। 

গত ৯ জানুয়ারি আসাদুল্লাহর ছোট ভাই আবুজর হোসাইন ঢাকায় আসেন। ওই রাতেই দুই ভাইকে টঙ্গীর বাসা থেকে আটক করে পুলিশ। আসাদুল্লাহকে মঙ্গলবার গ্রেফতার দেখানো হলেও আবুজরের খোঁজ মেলেনি।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীরের জানাজা অনুষ্ঠিত


আরও খবর

রাজধানী

আমানুল্লাহ কবির— ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে তার মরদেহ প্রেসক্লাবে আনা হলে তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী সাংবাদিকরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

দ্বিতীয় দফায় নামাজে জানাজা শেষে তাকে জামালপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি সাইফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন এক বিবৃতিতে বর্ষিয়ান সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীরের মৃত্যুতে গভীর শোক এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন। নেতৃবৃন্দ শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

আমানুল্লাহ কবীর মঙ্গলবার রাত ১টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও তিন ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি ও মহাসচিব আমানউল্লাহ কবির প্রায় সাড়ে চার দশকের সাংবাদিকতা জীবনে নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দি ইন্ডিপেডেন্ট, বার্তা সম্পাদক হিসিবে দ্য ডেইলি স্টার, প্রধান সম্পাদক হিসেবে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), সম্পাদক হিসেবে দৈনিক আমার দেশে দায়িত্ব পালন করেন।

সর্বশেষ তিনি অনলাইন সংবাদপত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এ জ্যেষ্ঠ সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

শাস্তির বদলে পদোন্নতি! লেক দূষণ রোধের ৫০ কোটি টাকা নয়ছয়


আরও খবর

রাজধানী
শাস্তির বদলে পদোন্নতি! লেক দূষণ রোধের ৫০ কোটি টাকা নয়ছয়

প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  অমিতোষ পাল

গুলশান-বারিধারা লেকের দূষণ রোধে ৫৪ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছিল ঢাকা ওয়াসা। উদ্দেশ্য ছিল, লেকের পাড়ের যেসব বাসাবাড়ির আউটলেটের মাধ্যমে মানবসৃষ্ট পয়ঃবর্জ্য লেকের ভেতরে পড়ে, সেগুলো বন্ধ করে পানি দূষণ রোধ করা। ঢাকা ওয়াসা ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি শেষ করলেও দেখা যায় কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আউটলেটগুলো আগের মতোই রয়ে গেছে। সেগুলো দিয়ে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি লেকের ভেতরে গিয়ে পড়ছে। কাজ না করে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ওই টাকা নয়ছয় করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটির রিপোর্টে এর প্রমাণ মিললে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তবে গত দুই বছরে ওয়াসা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাকে উচ্চতর পদে বসিয়েছে। এর মধ্যে ওই প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের দায়িত্বে থাকা অভিযুক্ত কর্মকর্তা আটজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে পেয়েছেন বিস্ময়কর পদোন্নতি।

সম্প্রতি সরেজমিন লেক পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, আউটলেটগুলো আগের মতোই বিদ্যমান। সেগুলো দিয়ে স্যুয়ারেজ বর্জ্য লেকে পড়ছে। গুলশান-২ নম্বরের ১০৩ নম্বর রোডের ১২ নম্বর হাউসের পেছনে দেখা যায়, বড় একটি পাইপ। সেটা দিয়ে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি লেকের ভেতরে পড়ছে। এতে দূষিত হচ্ছে পানি। একই চিত্র দেখা যায় ১০৪ নম্বর রোডের ৩৪ নম্বর বাড়ির পূর্বদিকে। সেখানেও পাইপ দিয়ে স্যুয়ারেজের পানি লেকে পড়ছে। ৯৬ নম্বর রোডের পূর্ব পাশেও একই অবস্থা। দূষণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তবে কিছু পাইপ দিয়ে বর্জ্য পড়তে দেখা যায়নি।

বারিধারার বাসিন্দা হাসিবুর রহমান জানান, লেকের সঙ্গে এ রকম অনেক আউটলেট আছে। এ কারণেই লেকের পানি দূষিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, গুলশান-বনানী লেকেও এ ধরনের ৫০টি আউটলেট ছিল। আনিসুল হক মেয়র থাকাকালে ৪৫টি বন্ধ করা হয়েছিল। আরও পাঁচটি আউটলেট থেকে গেছে। কিন্তু গুলশান-বারিধারা লেকে এ রকম আউটলেট আছে অসংখ্য।

রাজধানীর ভিআইপি ও কূটনৈতিক এলাকা গুলশান-বারিধারার বাসিন্দারা লেক দূষণের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিড়ম্বনায় রয়েছেন। এ অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে ২০১০ সালে ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে 'গুলশান-বারিধারা লেক দূষণমুক্তকরণ প্রকল্প' গ্রহণ করে ঢাকা ওয়াসা। ওয়াসা ২০১৫ সালের মধ্যে কাজ শেষ করে কাগজপত্র দাখিল করে। এ সময় জানানো হয়, ৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও ৫ কোটি টাকা কম ব্যয় হয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পরও এলাকাবাসীর কাছ থেকে লেক দূষণের অভিযোগ আসতে থাকে। এর পরই বিষয়টি আমলে নেয় দশম জাতীয় সংসদের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। কমিটির ১১তম বৈঠকের সুপারিশের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব অমিতাভ সরকারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, লেক দূষণ রোধে যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছিল তা সফল হয়েছে কি-না, সফল হয়ে থাকলে কী কারণে লেক পুনরায় দূষিত হচ্ছে এবং এ জন্য দায়ী কে, তা চিহ্নিত করে রিপোর্ট দেওয়া।

কমিটির সদস্যরা সরজমিন পরিদর্শন করে দেখতে পান, লেকপাড়ের বাসাবাড়ির বর্জ্য লেকে পড়ার আউটলেটগুলো বন্ধ করা হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, 'যে উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছিল, প্রকল্প বাস্তবায়নের পর তা সফল হয়নি। প্রকল্প এলাকা সরজমিন পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, এখনও গুলশান-বারিধারা লেকটি সরাসরি স্থানীয় জনগণের পয়ঃবর্জ্য ও মনুষ্যসৃষ্ট অন্যান্য বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে। স্বাভাবিক দৃষ্টিতেই দেখা যায়, লেকের পানির দূষণের মাত্রা গ্রহণযোগ্য সীমার অনেক ঊর্ধ্বে।'

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, 'পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, গুলশান-বারিধারা লেকের দূষণ রোধে ঢাকা ওয়াসা ৫০ কোটি টাকার যে প্রকল্প নিয়েছিল, সেটি কার্যকর পদক্ষেপ ছিল না। যে উদ্দেশ্য নিয়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, কোনোভাবেই সে উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি। তা ছাড়া এখনও অনেক আউটলেট দিয়ে পয়ঃবর্জ্য ও অন্যান্য মনুষ্যসৃষ্ট বর্জ্য সরাসরি গুলশান-বারিধারা লেকে এসে পড়ছে। এ ছাড়া সর্বউত্তরে ডিওএইচএস ক্যানেলের বারিধারা অংশে দুটি আউটলেটের মাধ্যমে প্রচুর বর্জ্য গুলশান-বারিধারা লেকে পড়ছে। যার মধ্যে পূর্ব পাশের আউটলেট থেকে খুব বেশি পরিমাণে বিষাক্ত ও দূষিত বর্জ্য এসে পড়ছে। যদিও ওয়াসার প্রতিনিধি দাবি করেন, গুলশান-বারিধারা লেক দক্ষিণে প্রবাহমান নদীর সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় এবং লেকের পানি প্রবাহমান থাকায় দূষণ তুলনামূলক কম। কিন্তু পরিদর্শন টিমের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, গুলশান-বারিধারা লেকে বর্তমানে পানির প্রবাহ নেই। লেকের পানি দূষিত হওয়ার বিষয়টি ওয়াসা গুরুত্ব দেয়নি। ঢাকা ওয়াসার প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাব স্পষ্টতই পরিলক্ষিত হয়। এ জন্য প্রকল্প প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্নিষ্টরা দায়ী মর্মে প্রতীয়মান হচ্ছে।' ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প নেওয়া হলে ঢাকা ওয়াসা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শও দেয় তদন্ত কমিটি।

নথিপত্রে দেখা যায়, প্রকল্প প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন ঢাকা ওয়াসার পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ বিভাগের গবেষণা কর্মকর্তা কাজী মো. ফারুক হোসেন, একই বিভাগের সহকারী প্রধান মো. আব্দুল কাদের, উপপ্রধান মো. শামসুল আলম ও ঢাকা ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. জিএএম শওকত হায়াত খান। তবে প্রকল্প অনুমোদনের পরপরই শওকত হায়াত খান অবসরে চলে যান। প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা ওয়াসার তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামানকে। প্রকল্পের পুরো খরচ তার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়।

এদিকে, ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদনটি স্থানীয় সরকার বিভাগে জমা দেয় কমিটি। এর মধ্যে তিন সদস্যের কমিটির মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব অমিতাভ সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. জাহিদ হোসেন ও ঢাকা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেন। তবে প্রতিবেদনের সঙ্গে নোট দিয়ে লেখা হয়, 'প্রতিবেদনে আতিকুর রহমান স্বাক্ষর করলেও তদন্ত প্রতিবেদনের সার্বিক মন্তব্যে দ্বিমত পোষণ করেছেন।'

সার্বিক মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়, 'লেকের পানি দূষণমুক্ত করণের লক্ষ্যে গৃহীত প্রকল্পটি দূষণ রোধে খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি। তদুপরি লেকে এখনও অনেকগুলো বর্জ্যপানির আউটলেট বিদ্যমান, যা অপসারণ বা বন্ধ করার দায়িত্ব ছিল ঢাকা ওয়াসার। এ ক্ষেত্রে ঢাকা ওয়াসা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। প্রকৃতপক্ষে প্রকল্পটি কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারেনি। এ কারণে তাদের ব্যর্থতার দায়িত্ব ডিপিপি ও আরডিপিপি প্রদানের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট সবার ওপর বর্তায়।'

২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ঢাকা ওয়াসাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ ফারুক-উজ-জামান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, 'এ জন্য দায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারীদেরকে চিহ্নিত করে বিভাগীয় মামলা দায়েরপূর্বক আগামী এক মাসের মধ্যে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।' কিন্তু এতদিনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি-না, সে প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে গেলে জনতথ্য কর্মকর্তার মাধ্যমে জানিয়ে দেন, এ বিষয়ে তিনি কথা বলতে রাজি নন। তবে ঢাকা ওয়াসার সচিব আ ন ম তরিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ওই ঘটনায় ওয়াসা কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে তার জানা নেই।

এ প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির প্রধান অমিতাভ সরকার সমকালকে বলেন, তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার পর তিনি আর কোনো খবর রাখেননি। তার দায়িত্ব ছিল রিপোর্ট দেওয়া। তিনি সেটাই করেছেন।

এদিকে মন্ত্রণালয় থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও প্রকল্প পরিচালক মো. আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে পরে তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। গত বছর তার চেয়ে জ্যেষ্ঠ আট কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থেকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী করা হয়। এ প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী আ. মান্নান বলেন, তদবির ও টাকার জোর আর সিবিএর কারণে এসব সম্ভব হয়েছে।

এ বিষয়ে আক্তারুজ্জামান সমকালকে বলেন, ওয়াসার যে কোনো বিষয়ে তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব জনতথ্য বিভাগের। কথা না বাড়িয়ে জনতথ্য বিভাগে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। জনতথ্য বিভাগে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, কারও ব্যক্তিগত অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে জনতথ্য বিভাগ কথা বলে না। সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাই বলবেন।