রাজধানী

ভূগর্ভস্থ লাইন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করবে: নসরুল হামিদ

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮

ভূগর্ভস্থ লাইন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করবে: নসরুল হামিদ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ- ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ভূগর্ভস্থ লাইন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে। সিস্টেম লস কমিয়ে রাষ্ট্র ও জনগণের উপকার করবে। 

ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যাহত হবে না। গ্রাহকের ভোগান্তি কমবে। শহরের সৌন্দর্য বাড়বে। বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ ভবনে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে রাজধানীর বিদ্যুতের ভূগর্ভস্থ লাইন স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার কোম্পানি এনার্জিটনের সঙ্গে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষের (ডিপিডিসি) চুক্তি হয়। চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন ডিপিডিসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হাসনাত চৌধুরী ও এনার্জিটনের প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার ওয়াহিদুল ইসলাম।

নসরুল হামিদ বলেন, সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবে। এখন মানসম্পন্ন ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার দাবি উঠছে। সেটাও সময়মতো হবে।

ডিপিডিসির পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শফিকউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান ও এনার্জিটনের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক রিচার্ড মারফি বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ডিপিডিসির অধীন রাজধানীর বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে ভূগর্ভস্থে স্থানান্তরের উদ্যোগ বাস্তবায়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে এনার্জিটন। 

এ কাজের চুক্তিমূল্য ২১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। কাজটি শেষ করতে এক বছর লাগবে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

অর্থ আদায়ের 'অদ্ভুত' খাত ভিকারুননিসায়


আরও খবর

রাজধানী
অর্থ আদায়ের 'অদ্ভুত' খাত ভিকারুননিসায়

নববর্ষ উৎসব ফি ৭৫ লাখ টাকা

প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাব্বির নেওয়াজ

"অদ্ভুত অদ্ভুত খাত চালু করে প্রতিনিয়ত অভিভাবকদের পকেট কাটছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ। চলতি বছর 'বাংলা নববর্ষ উৎসব ফি' চালু করে ছাত্রীপ্রতি ৩০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। এ হিসাবে বিদ্যালয়টির চারটি শাখার ২৫ হাজার ছাত্রীর কাছ থেকে এ বাবদ ৭৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। তবে যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, তাতে সবমিলিয়ে ৫ লাখ টাকাও খরচ হয়নি। বাকি ৭০ লাখ টাকাই ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়া হয়।"

সমকালের কাছে এভাবেই অভিযোগ করছিলেন ভিকারুননিসায় সপ্তম শ্রেণি পড়ূয়া এক ছাত্রীর আইনজীবী মা। অনুসন্ধানে তার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। একাধিক অভিভাবক মানি রিসিট সমকালকে দেখিয়েছেন।

নববর্ষ উৎসব ফি নামে কোনো খাতে অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা যায় কি-না- জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক সমকালকে বলেন, এ ধরনের কোনো নির্দেশনা সরকারিভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া হয়নি। তবে বাঙালির সার্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপনের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলা হয়। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকেই তো এ ব্যয় নির্বাহ করার কথা।

অরিত্রি অধিকারীর আত্মহনন ও ছাত্রীদের আন্দোলনের পর ফের আলোচনায় এসেছে রাজধানীর অভিজাত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন গেড়ে বসা অনিয়ম ও জঞ্জালের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন অভিভাবক ও ছাত্রীরা। তারা চান প্রতিষ্ঠানটি যেন নিয়মের মধ্যে চলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগে ভিকারুননিসায় নববর্ষ উৎসব ফি ছিল না। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদে চলতি বছর এ ফি ধার্য করা হয় এবং অভিভাবকদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে তা আদায়ও করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভিকারুননিসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার সমকালকে বলেন, তিনি এ বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে কথা বলতে পারছেন না।

অভিভাবকরা জানিয়েছেন নির্বিচারে তাদের পকেট টাকার কথা। তারা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সেশন ফি ৯ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেওয়ায় ভিকারুননিসা কর্তৃপক্ষ কৌশলে বছরে দুই দফায় মোট ১৮ হাজার টাকা আদায় করে। এক অভিভাবক জানান, ২০০৮ সালে যখন তার এক মেয়েকে ভর্তি করেছিলেন তখন স্কুলের বেতন ছিল (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি) ৩০০ টাকা। এক দশকে এখন তা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকা। আগে কোনো পরীক্ষার ফি নেওয়া হতো না। এখন ৮০০ টাকা করে বছরে দু'বার পরীক্ষার ফি দিতে হয় ছাত্রীদের। এভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে অভিভাবকদের কাছ থেকে।

এক অভিভাবক জানান, জানুয়ারি মাসে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির সময় সরকার নির্ধারিত ৮ হাজার টাকা এবং মাসের বেতন ১ হাজার ১০০ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারি-মার্চের বেতন ২ হাজার ২০০ টাকার সঙ্গে উন্নয়ন ফিসহ বিভিন্ন নামে অন্তত ২ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

কোচিং ও সেশন ফির নামে অভিভাবকদের কাছ থেকে গলাকাটা ফি আদায়, নিয়োগে অনিয়ম, প্রতিষ্ঠানের তহবিল তছরুপ, ভর্তি দুর্নীতি, কেনাকাটায় হরিলুট, নিম্নমানের সহায়ক বই শিক্ষার্থীদের গছিয়ে দিয়ে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে কমিশন গ্রহণসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

তবে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গোলাম আশরাফ দাবি করেছেন, তারা সব কাজ আইনের ভেতরে থেকেই করেছেন।

অবৈধ ভর্তি :শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি মাধ্যমিক শাখা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের নথিপত্র থেকে জানা গেছে, কেবল ২০১৮ সালের জানুয়ারিতেই টাকার বিনিময়ে ও তদবিরে কয়েকশ' শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে ভিকারুননিসায়। এ ক্ষেত্রে পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ একাধিক সদস্য মূল ভূমিকা রেখেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি তদন্ত করে। অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রতি শ্রেণিতে নির্ধারিত আসন সংখ্যার চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে ভিকারুননিসাকে পুরোপুরি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হচ্ছে।

গত ২৭ মে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বরাবর চিঠি পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রতিষ্ঠানটিতে নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে কেন অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে তার জবাব চেয়েছিল মন্ত্রণালয়।

গোলাম আশরাফ এ প্রসঙ্গে বলেন, ২০৯ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন সুপারিশের ভিত্তিতে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তাদের সুপারিশেও কিছু ভর্তি করা হয়েছে। তবে অভিভাবকরা বলছেন, বোনের কোটা, মুক্তিযোদ্ধার কোটা, বদলিসহ বিভিন্ন ইস্যু দেখিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছে আর্থিক লেনদেন।

পোশাক নিয়ে দুর্নীতি :ছাত্রীদের ইউনিফর্ম নিয়েও রয়েছে জমজমাট দুর্নীতি। অভিভাবকদের কাছ থেকে অধিক মূল্য আদায় করা হলেও সরবরাহ করা হচ্ছে নিম্নমানের কাপড়। নাফিয়া জাহান শিরিন নামে এক অভিভাবক বলেন, তার মেয়ে চর্মরোগে ভুগেছে বেশ কয়েকদিন। ডাক্তার জানিয়েছেন, তার স্কুল ড্রেস স্বাস্থ্যসম্মত নয়। সারাদিন নিম্নমানের ড্রেসে থাকার কারণে তার শরীরে ফোস্কা পড়ে গেছে। দিলশাদ জাহান নামে একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, 'স্কুলড্রেস এতই খারাপ মানের যে এটা পরলেই শরীর গরম হয়ে যায়। অস্বস্তি লাগে। অনেক বার ম্যাডামদের এটা বলেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। একই ড্রেস চলছে বছরের পর বছর।'

জানা গেছে, স্কুলটিতে ড্রেস সাপ্লাই দেন ইব্রাহিম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি। তার বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়। তিনি ১৩ বছর ধরে রাজধানীর নামি এই স্কুলটির চারটি শাখায় ড্রেস সাপ্লাই দেন।

শিক্ষার্থী প্রতি এক সেট ড্রেস বাবদ দুই হাজার টাকা নেওয়া হয়। তবে যে ড্রেস দেওয়া হয়, সেটি বাইরে থেকে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় কেনা যায়। সূত্র জানায়, স্কুলের চারটি শাখায় ২৫ হাজার ছাত্রীর কাছ থেকে ড্রেস বিক্রি বাবদ ইব্রাহিম মোল্লা বছরে পাঁচ কোটি টাকা আয় করেন। এসব ড্রেস বানাতে তার এক কোটি টাকাও খরচ হয় না।

ড্রেস সাপ্লাইয়ের জন্য দু'বছর পর পর টেন্ডার আহ্বান করা হয়। তা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে ১৩ বছর ধরে ইব্রাহিম মোল্লাই টেন্ডার পেয়ে থাকেন। অভিযোগ আছে, স্কুলের পরিচালনা পর্ষদকে ম্যানেজ করে তিনি টেন্ডার বাগিয়ে নেন।

স্কুলটির পরিচালনা পর্ষদের সাবেক এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, 'ইব্রাহিম মোল্লা নিজে চার-পাঁচজনকে দিয়ে টেন্ডার ড্রপ করান, যাতে ঘুরেফিরে তিনিই টেন্ডার পান। উৎকোচ নিয়ে এই কাজে সহযোগিতা করেন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।' এ বিষয়ে জানতে ইব্রাহিম মোল্লাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পরিচালনা পর্ষদের প্রধান গোলাম আশরাফের দাবি, পোশাকের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অধ্যক্ষবিহীন বহু বছর :খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধ্যক্ষ ছাড়াই ভিকারুননিসা চলছে প্রায় সাড়ে সাত বছর। ২০১১ সালের জুলাই থেকে তিনজন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করলেও তাদের কেউই ভারমুক্ত হতে পারেননি।

শিক্ষক পরিমল জয়ধরের ধর্ষণ কেলেঙ্কারির পর আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অধ্যক্ষের পদ ছাড়তে হয়েছিল হোসনে আরা বেগমকে। তার পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে এসে ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর অবসরে যান মঞ্জু আরা বেগম। পুনরায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ওপরই দায়িত্ব তুলে দেয় পরিচালনা পর্ষদ। ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবেই ২০১৭ সালের ৩ জুলাই অবসরে যান শিক্ষক সুফিয়া খাতুন। এরপর বর্তমান কমিটির আমলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পান নাজনীন ফেরদৌস। অরিত্রির মৃত্যুর পর আন্দোলনের মুখে তাকে বরখাস্ত করে বর্তমান কমিটি।

অবশ্য পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান সভাপতি গোলাম আশরাফ সমকালকে বলেন, তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগ দেবেন এবং এ জন্য শিগগির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সরকারকেই ক্ষমতায় আনার আহ্বান


আরও খবর

রাজধানী

   সমকাল প্রতিবেদক

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আবার যাতে দেশ শাসনের সুযোগ না পায় সে লক্ষ্যে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট কয়েকজন শিক্ষাবিদ। তারা বলেছেন, দেশের যা উন্নয়ন হয়েছে তা কেবল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সরকারের অধীনেই। আর স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি দেশ শাসনের সুযোগ পেলে কাঙ্খিত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত ‘যে মহান বিজয় এখনো সুসংহত হয়নি’ শীর্ষক আলোচনাসভায় বক্তারা এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু পরিষদ আয়োজিত আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ডা. এস. এ. মালেক।

আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ হোসেন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহম্মেদ, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার প্রমুখ। 

সভাপতির বক্তব্যে ডা. এস এ মালেক বলেন, স্বাধীনতা এখনো সুসংহত হয়নি। তার প্রমাণ এবারের নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির অংশগ্রহণ। এর প্রথম ও প্রধান কারণ আমাদের অসচেতনতা। যারা দেশের অর্থনীতি, রাজনীতিসহ সংবিধানকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল তাদের ভোট দেওয়া সচেতন জনগণের পক্ষে আর সম্ভব নয়। দেশের ভালো ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় আনার মাধ্যমে। নির্বাচনের আগে এই ১৮ দিনে আমাদের ১৮ বছরের চেয়েও বেশি কাজ করতে হবে নৌকার পক্ষে।

আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশ্বাসঘাতক ও বেঈমানের অভাব নেই। খুনী খোন্দকার মোশতাক গং বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠজন হওয়া সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন। আর ড. কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী হয়েও আজ যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতার শত্রু, বিএনপি-জামায়াতের সাথে জোট বেঁধে বাংলাদেশের মানুষের সাথে তামাশা করছেন। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি এই অশুভ শক্তির আঁতাত প্রত্যাখ্যান করবে এবং আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার দলকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ করে দেবেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন একমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই হওয়া সম্ভব। ইতোমধ্যে তিনি তার আন্তরিকতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও দূরদৃষ্টি দিয়ে তা প্রমাণও করেছেন। সুতরাং জাতি ও রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ যদি সত্যিই অগ্রসর জাতি-রাষ্ট্রগুলোর অন্তর্ভুক্ত হতে চায় তাহলে বর্তমান বাস্তবতায় নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কাউকেই বেছে নেওয়ার বিকল্প নেই।

অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, ড. কামাল হোসেন শেষ বয়সে এসে নিজেকে একেবারে শূন্যের কোটায় নামিয়েছেন। কারণ বিএনপি তার কোনো কথাই শোনেনি। নিবন্ধন হারানো জামায়াতকে ঠিকই তারা দলীয় প্রতীকে মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে একটি ভালো কাজ করেছেন। তা হলো, দেশের সব রাজনৈতিক দল সংলাপে এসেছে ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। নি বঙ্গবন্ধুর কাছের লোক হয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির পক্ষ নিয়েছেন। এটা ন্যাক্কারজনক।

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীরা বাঙালি ছিল না। পরবর্তীতে তারাই এদেশে ক্যান্টনমেন্ট কিংবা সামরিককেন্দ্রীক রাজনীতি পরিচালনা করেছে। এক সময় দেশের প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রীও ক্যান্টনমেন্ট কেন্দ্রীক হয়ে পড়েন। যেখান থেকে তারা রাজনীতিও পরিচালনা করতেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় অবদান, তিনি এই অপরাজনীতি থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছেন এবং ক্যান্টনমেন্ট থেকে তা বের করে এনেছেন।

পরের
খবর

বিবাহিত কিশোরীদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন


আরও খবর

রাজধানী

জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে ১৬ দিনের ক্যাম্পেইনে সেমিনার

বিবাহিত কিশোরীদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

  সমকাল প্রতিবেদক

১৬ দিন ব্যাপী জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে ইমেজ প্লাস প্রকল্প মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে বিবাহিত কিশোরীদের সহিংসতা বিষয়ে একটি সেমিনারের আয়োজন করে। এ বছর বিশেষ এ প্রচারণার উপপাদ্য- 'অরেঞ্জ দ্য ওয়ার্ল্ড #হিয়ার মি টু'। এরই অংশ হিসেবে বিবাহিত কিশোর ও কিশোরী তাদের বিবাহ পরবর্তী জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ডিজি কাজী রওশন আখতার। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেন, নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের এসআরএইচআর ও জেন্ডার বিষয়ক ফার্স্ট সেক্রেটারি ডক্টর অ্যানি ভেসজেন্স এবং মানবাধিকার কর্মী সালমা আলী। টেরে ডেস্ হোমস নেদারল্যান্ডস এর আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে ইমেজ প্লাস প্রকল্পের সহযোগী সংগঠন, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংগঠন ও সিভিল সোসাইটি নেটওর্য়াক অংশগ্রহণ করে।

কাজী রওশান আখতার বলেন, 'নারী-পুরুষের সমতা ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।'

বক্তরা নারীর প্রতি সহিংসতার পাশাপাশিবিবাহিত কিশোরীদের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন এবং সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য সম্পর্কে আলোকপাত করেন।

নেদারল্যাণ্ড দূতাবাসের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ইমেজ প্লাস প্রকল্পটি বিবাহিত কিশোরীদের ক্ষমতায়নে কাজ করছে নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধ জেলায়। প্রকল্পটি সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বে আছে তেরে দেস হোমস নেদারল্যাণ্ড, যোগাযোগ ও কৌশলগত সহযোগী রেড অরেঞ্জ মিডিয়া এণ্ড কমিউনিকেশনস্ এবং মাঠ পযায়ে বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে তেরে দেস হোমস ফাউন্ডেশন, এসকেএস ও পল্লীশ্রী।