রাজধানী

গ্যাস সঙ্কটে নাজেহাল নগরবাসী

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৮

গ্যাস সঙ্কটে নাজেহাল নগরবাসী

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

ছুটির দিনেও গ্যাস সঙ্কটে নাজেহাল নগরবাসী। রাজধানীর অধিকাংশ এলাকার বাসা-বাড়িতে দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস মিলছে না। জ্বলছে না চুলা। রাত জেগে রান্না করতে হচ্ছে। অনেকেই হোটেল থেকে খাবার কিনে প্রয়োজন মিটাচ্ছেন। 

সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে গাড়িগুলোকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন ধরেও গ্যাস মিলছে না। গ্যাস সঙ্কটে গত এক সপ্তাহ ধরে নগর জীবনের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি সিএনজি স্টেশনের সামনে গাড়ির দীর্ঘ সারি।

হাজীপাড়া সিএনজি স্টেশনে গ্যাস নিতে আসা রইছ মোল্লা জানান, তিনি সকাল ১১ টায় এসেছেন। এখন বেলা দুই টা। তিনঘণ্টা ধরে লাইনে। কখন গ্যাস নিতে পারবেন জানেন না।

মগবাজার মোড়ের দুটি সিএনজি স্টেশনেও একই দৃশ্য চোখে পড়ে। একটি ফিলিং স্টেশনে কর্মরত রফিক জানান, গ্যাসের চাপ থাকতে হয় কমপক্ষে ১৫ পিএসআই (প্রতি বর্গইঞ্চিতে গ্যাস চাপের ইউনিট)। সেই চাপ নেমে এসেছে পাঁচ পিএসআইর নিচে। চাপ কম থাকার কারণে অনেক সময় নিয়ে এক একটি গাড়িতে গ্যাস দিতে হচ্ছে। 

তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে এই অবস্থা। রাতে একটু বাড়লেও দিনের বেলা একেবারেই কম চাপ থাকে।

বাসা-বাড়িতেও গ্যাসের সঙ্কট চলছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর খিলক্ষেত, যাত্রাবাড়ী, এলিফ্যান্ট রোড, ইস্কাটন, মগবাজার, হাজারীবাগ, খিলক্ষেতখান, গ্রিনরোড, নিকুঞ্জ, মোহাম্মপুর, পুরাতন ঢাকা, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেলায় চুলায় গ্যাস থাকছে না বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। 

বনশ্রির বাসিন্দা ফেরদৌস আরেফিন জানান, শুক্রবার ছুটির দিন ছিল। তবুও সারা দিন গ্যাস ছিল না। হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হয়েছে।

কক্সবাজারের মহেশখালীর সমুদ্রে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এএই গ্যাস সঙ্কট চলছে। সাগরের গভীরে স্থাপিত পাইপলাইনের একটি ইমার্জেন্সি ভাল্ক্বে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। যা দিয়ে গ্যাস লিকেজ হচ্ছিল। গত শনিবার রাতে এই সমস্যা ধরা পড়ে। এরপর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়। এটি মেরামতের চেষ্টা চলছে। 

এলএনএনজি খাতের তত্বাবধানকারী রুপান্তরিত গ্যাস কোম্পানি আরপিজিসিএলের একজন কর্মকর্তা জানান, একটি সাহায্যকারী ডুবুরী জাহাজ ও প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ জনবলসহ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। তারা ত্রুটির স্থান সনাক্ত করেছেন। এটি উপকূল থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রপৃষ্ঠের ৪০ মিটার নিচে। তবে শুক্রবার সাগরে কেউ নামতে পারেনি। শনিবার ডুবুরি নামার চেষ্টা করবে।

মন্তব্য


অন্যান্য