রাজধানী

শ্যামাপূজা উদযাপিত

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৮

শ্যামাপূজা উদযাপিত

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

হিন্দু সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা  মঙ্গলবার সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়েছে। কালীপূজা নামে পরিচিত এ উৎসবের সঙ্গে একই দিন উদযাপিত হয়েছে দীপাবলি উৎসবও।

এদিন রাতে মণ্ডপে মণ্ডপে শ্যামা দেবীর পূজা আয়োজিত হয়। পাশাপাশি প্রসাদ বিতরণ, আরতি, ধর্মীয় সঙ্গীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকসজ্জা করা হয়। দীপাবলি উদযাপনের জন্য সন্ধ্যায় মন্দির, মণ্ডপ ও হিন্দুদের ঘরে ঘরে প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে কেন্দ্রীয় শ্যামাপূজা উদযাপিত হয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে সেখানে রাতে পূজা ছাড়াও সন্ধ্যায় দীপাবলি অনুষ্ঠানে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে সহস্র প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়। সহস্র প্রদীপ প্রজ্বালন উদ্বোধন করেন সাবেক সচিব অশোক মাধব রায়। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিশোর রঞ্জন মণ্ডল প্রমুখ।

রমনা কালীমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রমে শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উৎসবের উদ্বোধন করেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের। মন্দির কমিটির সভাপতি উৎপল সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুকুল বোস, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার, মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সজীব বিশ্বাস প্রমুখ।

সবুজবাগের বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশানে শ্যামাপূজার তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা গতকাল শুরু হয়েছে। মধ্যরাতে পূজা, পাঠাবলি, অঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ বিতরণ ছাড়াও সন্ধ্যা ৬টা ১ মিনিটে মন্দিরের গঙ্গাসাগর দিঘির চারপাশে সহস্রাধিক প্রদীপ প্রজ্বালন, আলোকসজ্জা, ৭টা ১ মিনিটে আতশবাজি ও বেঙ্গল লাইটস্‌ প্রদর্শনী এবং রাত ৮টা ৩১ মিনিটে নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করা হয়। এ নাট্যোৎসবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ছয়টি নাটক প্রদর্শন করা হবে। বৃহস্পতিবার শেষ দিনে সন্ধ্যা ৭টা ৩১ মিনিটে সন্ধ্যাপূজা আয়োজিত হবে।

এ ছাড়া রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ মণ্ডপ, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, বনগ্রাম রোডের রাধাগোবিন্দ জিও ঠাকুর মন্দির, জয়কালী মন্দির রোডের রামসীতা মন্দির, রায়েরবাজার শেরেবাংলা রোড কালীমন্দির, পোস্তগোলা শ্মশান, লালবাগ শ্মশান, ঠাঁটারীবাজার, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, ফরাশগঞ্জ, লক্ষ্মীবাজার, বাংলাবাজার, সূত্রাপুর, দয়াগঞ্জ, শ্যামবাজার, কোতোয়ালি, উত্তর মৈশুণ্ডী, দক্ষিণ মৈশুণ্ডী, নারিন্দা, যোগীনগর, নবাবপুর, রাজারবাগ, বাড্ডা, পান্নিটোলা, মতিঝিল, রমনা, গুলশান, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, শ্যামপুরসহ বিভিন্ন স্থানে শ্যামাপূজা উদযাপিত হয়েছে।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

অসৎ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ ভূমিমন্ত্রীর


আরও খবর

রাজধানী

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ- ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

অসৎ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়ে সৎ, নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির সভায় মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্ট বিভাগের প্রতি ওই নির্দেশ দেওয়া হয়।

ভূমিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই সভায় মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মাক্‌ছুদুর রহমান পাটওয়ারী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান, ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ভূমিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের সাংঘাতিক দুর্নাম এখনও রয়ে গেছে। অসৎ কর্মকর্তাদের সরিয়ে সৎ, নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে হবে। ভূমি মন্ত্রণালয় কোনো ধরনের দুর্নামের ভাগিদার হবে না। এই মন্ত্রণালয়ের কাজ একটিই সেটি হলো, জনগণের সেবা নিশ্চিত করা।

সভায় নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবন, ছাত্রাবাস, ছাত্রীনিবাসসহ অন্যান্য স্থাপনা, চট্টগ্রামের পাহাড়তলী মৌজায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক ক্যাম্পাস ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

১৯ জানুয়ারি ঢাকার সড়ক ব্যবস্থাপনা যেমন হবে


আরও খবর

রাজধানী

  সমকাল প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় উদযাপনে আগামী শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামী লীগের ‘বিজয় উৎসব’। ওই দিন ঢাকার সড়ক ব্যবস্থাপনা কেমন হবে, তা জানিয়ে বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বিজ্ঞপ্তিতে অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার পথ, যানবাহন পার্কিং, ওইদিন নগরের বন্ধ ও খোলা সড়কের বিষয়ে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে জানানো হয়, শনিবার বেলা ১১টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ শুরু হবে। তাই ওই দিন সবাইকে অনুষ্ঠানস্থল ও এর আশপাশের এলাকা দিয়ে ভারী বা হালকা যানবাহনসহ যাতায়াত না করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শনিবার গাবতলী, মিরপুর রোড হয়ে আসা ব্যক্তিরা সাইয়েল্যাব-নিউমার্কেট হয়ে নীলক্ষেতে নেমে হেঁটে টিএসসি হয়ে বিভিন্ন গেট দিয়ে উদ্যানে ঢুকবেন। তাদের বহনকারী বাসগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বর ও নীলক্ষেত থেকে পলাশী পর্যন্ত রাস্তার উভয় পার্শ্বে এক লাইনে পার্কিং করবেন।

উত্তরা থেকে এয়ারপোর্ট রোড হয়ে মহাখালী-মগবাজার-কাকরাইল চার্চ-রাজমণি ক্রসিং-নাইটিঙ্গেল-পল্টন মোড়-জিরো পয়েন্ট বা খিলক্ষেত ফ্লাইওভার-বাড্ডা-গুলশান-রামপুরা রোড-মৌচাক ফ্লাইওভার-মালিবাগ-শান্তিনগর-রাজমণি ক্রসিং-নাইটিঙ্গেল হয়ে পল্টন মোড়/জিরো পয়েন্ট হয়ে আগত ব্যক্তিরা পল্টন মোড়/জিরো পয়েন্টে নেমে হেঁটে দোয়েল চত্বর হয়ে উদ্যানে যাবেন। তাদের বহনকারী বাসগুলো মতিঝিল এলাকায় পার্কিং করবেন। এসব এলাকা থেকে আগতদের গাড়িগুলোর পার্কিং স্থান মতিঝিল বা গুলিস্থানে সংকুলান না হলে প্রয়োজনে হাতিরঝিল এলাকায় পার্কিং করতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

এতে আরও বলা হয়, পূর্বাঞ্চল থেকে যাত্রাবাড়ী হয়ে এবং দক্ষিণাঞ্চল থেকে পোস্তগোলা হয়ে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে আসা ব্যক্তিরা গুলিস্থানে নেমে হেঁটে জিরো পয়েন্ট-দোয়েল চত্বর হয়ে অনুষ্ঠানস্থলে যাবেন। এ পথ দিয়ে আসা বাসগুলো মতিঝিল বা গুলিস্থান এলাকায় পার্কিং করা যাবে। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে চানখাঁরপুল হয়ে এলে চানখাঁরপুল নেমে হেঁটে দোয়েল চত্বর হয়ে উদ্যানের বিভিন্ন গেট দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে তারা বাসগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়াম মাঠে পার্কিং করবেন।

বাবুবাজার ব্রিজ হয়ে আগত ব্যক্তিদের গোলাপশাহ মাজারে নেমে হেঁটে হাইকোর্ট-দোয়েল চত্বর হয়ে উদ্যানের বিভিন্ন গেট দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকতে এবং তাদের বহনকারী বাসগুলো গুলিস্থান এলাকায় পার্কিং করতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

এতে আরও বলা হয়, শাহবাগ থেকে মৎস ভবন পর্যন্ত সড়ক সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারদিকের রাস্তায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রীসহ সম্মানিত ব্যক্তিরা যাতায়াত করবেন। তাই ওই দিন ভোর থেকে অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশের বিভিন্ন ইন্টারসেকশন- যেমন: বাংলামোটর, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, শাহবাগ, কাঁটাবন, নীলক্ষেত, পলাশী, বকশীবাজার, চানখাঁরপুল, গোলাপ শাহ মাজার, জিরো পয়েন্ট, পল্টন, কাকরাইল চার্চ, অফিসার্স ক্লাব, মিন্টো রোড ক্রসিংগুলো থেকে গাড়ি ডাইভারশনের প্রয়োজন পড়তে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে অনুষ্ঠানস্থলে আসা ব্যক্তিদের কোনো ধরনের হ্যান্ডব্যাগ, ট্রলি ব্যাগ, দাহ্য পদার্থ বা ধারালো কোনো বস্তু বহন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

আ'লীগ প্রস্তুত, বিএনপির সিদ্ধান্ত তফসিলের পর


আরও খবর

রাজধানী

ঢাকা উত্তর সিটিতে নির্বাচনের বাধা কাটল

আ'লীগ প্রস্তুত, বিএনপির সিদ্ধান্ত তফসিলের পর

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সমকাল প্রতিবেদক

অবশেষে আইনি বাধা কাটল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং উত্তর ও দক্ষিণ সিটির সম্প্রসারিত ৩৬টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর নির্বাচন ঘিরে। এ-সংক্রান্ত জারি করা রুল হাইকোর্ট থেকে খারিজ হওয়ায় দীর্ঘ এক বছর আটকে থাকার পর এ নির্বাচনের পথ খুলেছে। এখন নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নতুন করে তফসিল ঘোষণা করতে হবে।

এদিকে নতুন করে নির্বাচনের সম্ভাবনায় আওয়ামী লীগে স্বস্তির ভাব দেখা দিয়েছে। এ নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকরা। বিএনপি এ নিয়ে ইসির ভূমিকা ও কার্যক্রম দেখে সিদ্ধান্ত নেবে। তফসিল ঘোষণার পর দলীয় ফোরামে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।

গতকাল বুধবার বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং সম্প্রসারিত অংশের কাউন্সিলর নির্বাচন-সংক্রান্ত রুল খারিজ করে দেন। মামলার সংশ্নিষ্ট আইনজীবী আদালতে না আসায় হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আফিফা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, রিটকারীদের আইনজীবী আদালতে উপস্থিত  ছিলেন না। আদালত তাই রুল খারিজ করে দিয়েছেন। তবে বাদীপক্ষ চাইলে আবার রুল শুনানির সুযোগ আছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মইনুল ইসলামও আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাজী মাইনুল হাসান সাংবাদিকদের জানান, হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে নির্বাচন হতে আইনগত কোনো বাধা এখন নেই। তবে বাদীপক্ষ চাইলে রুলটি আবার পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করতে পারেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহবুব হোসেন সমকালকে বলেছেন, উত্তর সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনের বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের এখন কিছু করণীয় নেই। এ পদটি শূন্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসিকে নির্বাচনের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী ইসি তফসিল ঘোষণা করে। এখন যদি আইনি জটিলতা না থাকে, তাহলে ইসিই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আদালতের নতুন আদেশের বিষয়টি তার জানা নেই। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয়ে থাকলে শিগগিরই নির্বাচনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগের তফসিলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও নতুন তফসিলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের উপনির্বাচন ও সম্প্রসারিত অংশের কাউন্সিলর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, মার্চে উপজেলা নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। আর উপজেলা নির্বাচনের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা উত্তর সিটির ভোট হতে পারে। এ বিষয়ে কমিশন সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ডিএনসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন, আদালত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন নির্বাচন করার। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বিশেষ করে নতুন যে ওয়ার্ডগুলো ডিএনসিসিতে যুক্ত হয়েছে, সেগুলোর সীমানা চূড়ান্ত হয়নি। ভোটাররা কে কোন ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন- সেটি নিয়ে একধরনের জটিলতা রয়েছে। ওয়ার্ডভিত্তিক ভোটার তালিকাও নেই। এ ধরনের জটিলতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে।

২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক মারা গেলে ওই পদটি শূন্য হয়। পরে মেয়র পদে উপনির্বাচনসহ দুই সিটিতে নতুন যুক্ত হওয়া ৩৬টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করা হয়। ওই তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন রাজধানীর উপকণ্ঠের ভাটারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ও বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম।

এই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৭ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ছয় মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিত করেন। পরে স্থগিতাদেশের মেয়াদ কয়েকবার বাড়ানো হয়। গতকাল এ-সংক্রান্ত রুল শুনানির জন্য সংশ্নিষ্ট বেঞ্চে আসে। কিন্তু রিটকারী বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কেউ আদালতে না থাকায় আদালত রুল খারিজ করে দেন।

আওয়ামী লীগ প্রস্তুত : ডিএনসিসির মেয়র পদে উপনির্বাচন ও সম্প্রসারিত অংশের কাউন্সিলর নির্বাচন স্থগিতের আগেই এ-সংক্রান্ত সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল আওয়ামী লীগ। ওই সময়ই মেয়র পদে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলামকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করে রেখেছিল দলটি। দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী দু'জন নারীসহ ১৮ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই শেষে আতিকুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটও সমর্থন দিয়ে রেখেছে তাকে।

একইসঙ্গে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবগঠিত ৩৬টি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর এবং ১২টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে দলসমর্থিত প্রার্থীদের তালিকাও সে সময় চূড়ান্ত করা হয়েছিল। এখন নতুন করে তফসিল হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে একযোগে মাঠে নামিয়ে দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেছেন, নতুন করে খুব বেশি প্রস্তুতি নেওয়ারও কিছু নেই। এখন দেখার বিষয় ইসি থেকে কবে নাগাদ তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীরা সবাই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমে পড়বেন।

তারা বলছেন, বিশেষ করে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের উপনির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর আগের মূল নির্বাচন ভিন্ন প্রতীকে হলেও এ-সংক্রান্ত নতুন আইনের কারণে উপনির্বাচন দলীয় প্রতীকে করার সিদ্ধান্ত জানায় ইসি। ফলে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এখন নৌকা প্রতীকে লড়বেন। এছাড়া এরই মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা আরও দ্বিগুণ উৎসাহে এ নির্বাচনে মাঠে নামবেন বলে মনে করছেন তারা।

জানতে চাইলে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেছেন, আগে থেকে প্রস্তুতি থাকায় এ নির্বাচনে নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হবে না। নির্বাচনের তফসিল হলে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম সমকালকে বলেছেন, আদালত যখন যে রায় দেন তা সাধারণ মানুষ হিসেবে মাথা পেতে নিতে চান তিনি। আদালত বলেছেন, ডিএনসিসি মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠানে আর কোনো বাধা নেই। ফলে নির্বাচন কমিশন এখন দ্রুত নির্বাচনের বন্দোবস্ত করবেন, সবার মতো তিনিও সেই আশা করছেন। কমিশন তারিখ ঘোষণা করলেই প্রচারে নামার কথা জানিয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন করার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি রয়েছে তার।

এখনই সিদ্ধান্ত নেবে না বিএনপি :এই নির্বাচন নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বিএনপি। উচ্চ আদালতের রায়ের পর নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও কার্যক্রম দেখে দলীয় ফোরাম এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে দলের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন। এর আগে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতেও রাজি নন তারা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব প্রশ্ন রাখেন, এই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারবে তো? জনগণ যদি ভোট দিতেই না পারে সেই নির্বাচনের প্রয়োজনটা কি? নির্বাচনে অংশ নেওয়া, না নেওয়ার বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে বিএনপির বেশিরভাগ নেতা সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে এ নির্বাচন কমিশন ও সরকারের অধীনে অন্য কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে। একাধিক নেতার বক্তব্য হচ্ছে, বিগত দিনে আন্দোলনের কৌশল হিসেবে তারা স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

সেখানে তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। এর সঙ্গে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের বাস্তবতা মিলিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াতেই উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন তারা। দলের নেতাকর্মীরাও মনে করেন 'নিয়ন্ত্রিত' নির্বাচনে গিয়ে মামলা-হামলার সংখ্যা আর বাড়িয়ে লাভ নেই।

বিগত দিনে এই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে এই সিটির উপনির্বাচনের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর কেন তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, আর কেনই বা আবার শুরু হলো?

সংশ্লিষ্ট খবর