রাজধানী

বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায়-

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায়-

  সমকাল প্রতিবেদক

বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বখাটেদের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল ভাই শেখ ইসলাম পাভেলের (২২)। গত শনিবার রাতে রাজধানীর শ্যামপুরের জুরাইনে ছুরিকাঘাতের এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই পাভেলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জুরাইন এলাকার বখাটে তুহীন, মাসুদ, শাহীন, ইরফানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে নিহতের পরিবার। তবে গতকাল সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তদের কেউ গ্রেফতার হয়নি। তাদের ধরতে শনিবার রাত থেকেই অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন শ্যামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান।

তিনি সমকালকে বলেন, জুরাইনের মাজার গেট এলাকার তুহীন বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে পাভেলের বোনকে উত্ত্যক্ত করত। তবে উত্ত্যক্তের বিষয়টি জানিয়ে পাভেলের পরিবার আগে কখনও থানায় অভিযোগ করেনি। শনিবার রাতে ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর তারা পুলিশকে জানান।

জানা যায়, পাভেলের বাবার নাম মনির হোসেন। বাসা জুরাইনের মাজার গেট এলাকায়। গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুরে। পাভেল স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আনুমানিক ছয় মাস আগে বিয়ে করেন। তারা দুই ভাইবোন। তার ছোট বোন লক্ষ্মীবাজারের মহানগর মহিলা কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ওই বোনকে দীর্ঘদিন ধরে মাজার গেট এলাকায় বন্ধুদের নিয়ে উত্ত্যক্ত করত তুহীন। তাদের বয়স ১৫ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। তারা পাভেলের জুনিয়র বন্ধু- এক সময় তারা একসঙ্গে চলাফেরা করত। বছরখানেক আগে বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তুহীনের সঙ্গে পাভেলের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সে সময় স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়। এর পরও তুহীন পাভেলের বোনের পিছু ছাড়েনি।

পাভেলের স্ত্রী মারিয়া বলেন, তার ননদ বাইরে বের হলেই তুহীন ও তার বন্ধুরা অশ্নীল কথাবার্তা বলত। কলেজ যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করত। সন্ধ্যার পর তার ননদ কখনও বাসার ছাদে উঠলে টর্চ লাইটের আলো মারত তার গায়ে। ঘরের জানালার পাশে এসেও তারা অশালীন কথাবার্তা বলত। অনেক চেষ্টা করেও তাদের থামানো যায়নি।

পাভেলের বন্ধু বিল্লাল হোসেন জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে মাজার গেটের বাঁশপট্টি এলাকায় পাভেল, তার স্ত্রী মারিয়া ও তিনি দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় তুহীনের সঙ্গে দেখা হয়। পাভেল তার বোনকে উত্ত্যক্ত করার কারণ জানতে চান তুহীনের কাছে। এক পর্যায়ে তুহীনের গালে থাপ্পড় মারেন তিনি। পরে তুহীন সেখান থেকে চলে যায়। ১০-১৫ মিনিট পর তুহীন, মাসুদ, শাহীন, ইরফানসহ ৫-৬ জন এসে পাভেলকে ঘিরে ধরে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। এ সময় পাভেলের স্ত্রী মারিয়া ঠেকাতে গেলে তাকে লাথি মেরে ফেলে দেয় বখাটেরা। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তুহীনরা পালিয়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় পাভেলকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

গতকাল দুপুরে জুরাইনের মাজার গেটে পাভেলের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা পারভীন আক্তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, 'এক বছর আগে থেকে আমার মেয়েকে বিরক্ত করে তুহীনরা। অনেকবার নিষেধ করেও শোনেনি তারা। শেষ পর্যন্ত আমার ছেলেকে খুন করল। ওদের বিচার চাই, ফাঁসি চাই।'

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মারিয়া বলেন, আমার সামনেই আমার স্বামীকে ছুরিকাঘাত করল ওরা। আমি বাঁচাতে পারলাম না। আমাকে স্বামীহারা করেছে ওরা। ওদের ফাঁসি চাই।'

পাভেলের বন্ধু বিল্লাল হোসেন বলেন, বোনকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ওকে প্রাণ দিতে হলো। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাভেলের লাশের ময়নাতদন্ত হয়। বিকেলে সেখান থেকে লাশ নেওয়া হয় জুরাইনের মাজার গেটের বাসায়। সেখান থেকে সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর উদ্দেশে লাশ নিয়ে রওনা হন পরিবারের সদস্যরা।

পুলিশ জানায়, গতকাল নিহতের বাবা মনির হোসেন বাদী হয়ে তুহীন, মাসুদ, শাহীন, ইরফানসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে শ্যামপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

মন্তব্য


অন্যান্য