রাজধানী

মস্তিস্কে অস্ত্রোপচারে জিন্নাত আলীকে কাউন্সিলিং করা হচ্ছে

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৮

মস্তিস্কে অস্ত্রোপচারে জিন্নাত আলীকে কাউন্সিলিং করা হচ্ছে

জিন্নাত আলী- ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমএমইউ) চিকিৎসাধীন নানা শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত জিন্নাত আলীর মস্তিস্কে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।

৮ ফিট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা মানব জিন্নাত আলী কিছুতেই অস্ত্রোপচারে রাজি হচ্ছেন না। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, অস্ত্রোপচারে রাজি করানোর জন্য তাকে কাউন্সিলিং করা হচ্ছে। জিন্নাত রাজি হলে আগামী সপ্তাহেই তার মস্তিস্কে অস্ত্রোপচার করা হবে।

আলোচিত এই দীর্ঘকায় মানবের চিকিৎসার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন।

রোববার জিন্নাত আলীর শারীরিক অবস্থা জানাতে বিএসএমএমইউতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ূয়া এসব তথ্য তুলে ধরেন।

উপাচার্য বলেন, প্রায় চার বছর আগে জিন্নাত বিএসএমএসইউ'র এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. ফরিদ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তখন তার মস্তিস্কে এক ধরনের টিউমার পাওয়া যায়। ওই সময় তাকে অন্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচারে অসম্মতি জানিয়ে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, চলতি বছরের ২২ অক্টোবর জিন্নাত আলী আবারও বিএসএমএমইউতে ভর্তি হন। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার ডায়াবেটিস, ডিসলিপিডিমিয়া, অস্টিওআর্থাইটিস এভিং সেলুলেটিস অব রাইট লেগ শনাক্ত করা হয়। তার মূল সমস্যা হলো- অ্যাক্রোজাইজেন্টিজম যা মস্তিস্কে পিটিওটারি টিউমার। চিকিৎসকরা সবাই তার অস্ত্রোপচারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে তিনি অস্ত্রোপচারে সম্মতি দিচ্ছেন না। এজন্য তাকে কাউন্সিলিং করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএমইউ'র এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের অধ্যাডক ডা. ফরিদউদ্দিন বলেন, জিন্নাত আলী এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে ভর্তি থাকলেও তার মূল চিকিৎসা সার্জারি। এজন্য তাকে নিউরো সার্জারি বিভাগে স্থানান্তর করব।

নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এটিএম মোশাররফ হোসেন বলের, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার দূর করা-এই রোগের মূল চিকিসৎসা। তার পূর্ণ চিকিৎসা দেশেই করা সম্ভব হবে। জিন্নাতের চিকিৎসায় সব বিভাগ একসঙ্গে কাজ করছে।

কক্সাবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়ার বড়বিল গ্রামের বাসিন্দা জিন্নাত আলী। ১২ বছর বয়স থেকেই তার শারীরিক উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকে। এরপর প্রতিবছর দুই থেকে তিন ইঞ্চি করে তার আকৃতি বাড়তে থাকে।

মন্তব্য


অন্যান্য