রাজধানী

নদী সুরক্ষা ক্লাবের যাত্রা

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৮

নদী সুরক্ষা ক্লাবের যাত্রা

  সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে যাত্রা করেছে নদী সুরক্ষা ক্লাব। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, তরুণরা এগিয়ে এলেই দেশের নদ-নদী রক্ষা পাবে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের মতো তরুণরা জেগে উঠলে বাংলাদেশের নদ-নদী আবার জেগে উঠবে। 

রিভারাইন পিপল এবং স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের যৌথ উদ্যোগে রিভার কনজারভেশন ক্লাবের (আরসিসি) আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয় অনুষ্ঠানে।

রিভারাইন পিপলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর আগে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে (আইইউবি) গঠিত হয়েছে আরসিসি। তরুণদের মধ্যে নদী রক্ষায় অঙ্গীকার ও সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে আরও কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাব গঠন প্রক্রিয়া চলছে।

রোববার সকালে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ধানমণ্ডি ক্যাম্পাসে ক্লাবের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য ড. কে মওদুদ এলাহী। 

বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সদস্য শারমীন মুরশিদ, রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন ও পরিচালক মোহাম্মদ এজাজ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. গুলশান আরা লতিফা, ড. মাহমুদা পারভীন, মাহমুদা ইসলাম ও মো. শাহাদাত হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কে মওদুদ এলাহী বলেন, প্রত্যেক নদীর শৈশব, তারুণ্য ও বার্ধক্য রয়েছে। প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় নদী মরে যেতে পারে। কিন্তু দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নদীর বার্ধক্য এমনকি মৃত্যু ত্বরান্বিত করতে পারে। তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে নদীকে জানা ও বোঝার জন্য এবং মানবসৃষ্ট কারণে বার্ধক্যে পৌঁছা নদীকে রক্ষা করতে হবে।

শারমীন মুরশিদ বলেন, নদী বাঁচানোর অর্থ হচ্ছে নিজেকে বাঁচানো। কারণ নদী না বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে না। তিনি বলেন, আগে শিশুরা বেড়ে উঠত চমৎকার নদীর স্মৃতি নিয়ে। এখন বেড়ে উঠছে দুর্গন্ধময় নদীর বিরূপ স্মৃতি নিয়ে।

শেখ রোকন বলেন, তরুণরা ভাষা আন্দোলন করেছে, মুক্তিযুদ্ধ করেছে, নদী রক্ষার আন্দোলনও তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু এই আন্দোলন স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনের মতো কঠিন নয়। ব্যক্তিগতভাবে একটি প্রিয় নদী নির্দিষ্ট করতে পারলেই নদী রক্ষার কাজ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

মোহাম্মদ এজাজ বলেন, নদী রক্ষার আন্দোলন নাগরিকদের নৈতিকতার বিষয়। নদী রক্ষায় নিয়োজিতরা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এটাকে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বর্ণনা করতে পারবে।

পরে ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাহমুদা পারভীন ও শাহাদাত হোসেনকে উপদেষ্টা এবং মারজিয়াত রহমানকে আহ্বায়ক, মোহাম্মদ মেহেদী আকতারকে যুগ্ম আহ্বায়ক, আসিফ আওয়ালকে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। সদস্যরা হলেন- তোফায়েল আহমেদ, নাইমুর রশিদ, আসমা আলম আঁখি, মেনসোয়া ম্রো, হারিজুল ইসলাম, মনজুরুল ইসলাম, নুরাদিন দহির সালাহ ও আল ইমরান।

মন্তব্য


অন্যান্য