বরিশাল

১১ স্কুলছাত্রীর চুল কেটে দিলেন প্রধান শিক্ষিকা

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

১১ স্কুলছাত্রীর চুল কেটে দিলেন প্রধান শিক্ষিকা

এভাবেই ছাত্রীদের চুল কেটে দেন প্রধান শিক্ষিকা

  শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ১১ জন ছাত্রীর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চুল কেটে দেওয়া ওই ১১ ছাত্রীর সবাই পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকার নাম কাবেরী গোপ। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার ডিএম খালী ইউনিয়নের ২৯ নম্বর উকিলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে সোমবার অভিযোগের তদন্তে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মশিউল আজ মহিরক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ভুক্তভোগী ভূক্তভোগী এক ছাত্রী বলে, 'আমার চুল অনেক বড় ছিল। আমি কাটতে বার বার নিষেধ করেছি।কিন্তু ম্যাডাম দপ্তরিকে কাটতে বলায় দপ্তরি জোর করে আমার চুল কেটে দিয়েছে। আমি অনেক কান্নাকাটি করেছি। এরপর আমি লজ্জায় আর স্কুলে যায়নি।'

ভুক্তভোগী আরও কয়েকজন ছাত্রী জানায়, ‌ঘটনার দিন দুপুর ১২টার আগে বিদ্যালয়ে এসে তারা খেলাধুলা করছিল। খেলাধুলা করতে গিয়ে তখন তাদের চুল এলোমেলো হয়ে যায়। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তাদের ডেকে শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে গিয়ে বিদ্যালয়ের দপ্তরিকে দিয়ে চুল কেটে দেন। এতে ছাত্রীরা কান্নাকাটি শুরু করে। আশপাশ থেকে অভিভাবকরা এগিয়ে প্রধান শিক্ষক কাউকে বিদ্যালয়ে ঢুকতে দেয়নি।

ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর বাবা খোকন হাওলাদার বলেন, 'আমি প্রধান শিক্ষিকার কাছে ছাত্রীদের চুল কাটার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি সঠিক কোনো জবাব দেননি। বরং আমার সঙ্গে অনেক খারাপ আচরণ করেছেন। তিনি আমাকে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি আত্মসম্মানের ভয়ে সেখান থেকে চলে আসি।'

ওই অভিভাবক আরও বলেন, 'আমার মেয়েকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছি। সে কোনো অপরাধ করলে তার শাসন করার অধিকার শিক্ষিকার রয়েছে। তাই বলে বিনা অপরাধে আমার মেয়ের চুল কেটে দেবে, তা আমি কোনোভাবেই মানতে পারছি না। আমি ওই শিক্ষিকার বিচার চাই।'

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি-কাম-নৈশ প্রহরী জুমান বলেন, 'আমাকে প্রধান শিক্ষিকা চুল কাটতে বলেছেন।আমি বিদ্যালয়ে থাকা কাচি দিয়ে চুল কেটেছি।'

ছাত্রীদের চুল কাটার অভিযোগ স্বীকার করে প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী গোপ বলেন, 'ছাত্রীরা এলোমেলো চুল নিয়ে স্কুলে আসে। এর আগেও আমি তাদের চুল বেঁধে স্কুলে আসতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা চুল বেঁধে আসেনি। তাই আমি ওদের চুল স্কুলের দপ্তরিকে দিয়ে কেটে দিয়েছি।'

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাহাবুর রহমান শেখ বলেন, আমি বিষয়টি জানার সাথে সাথে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিনে গিয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি দুঃখজনক। প্রধান শিক্ষক জোরপূর্বক ছাত্রীদের চুল কাটতে পারেন না। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছি। প্রতিবেদন হাতে পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য


অন্যান্য