বরিশাল

মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৯

মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

  বরিশাল ব্যুরো

বরিশালের বাকেরগঞ্জে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুই যুবককে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার চরামদ্দি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল গাজীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী দুই যুবক হলেন- চরামদ্দি ইউনিয়নের সটিখোলা গ্রামের মোহন হাওলাদার ও রনি হাওলাদার। তারা মামাতো ফুফাতো ভাই। মোহন টাইলস মিস্ত্রি ও রনি মাইক্রোবাস চালক।

মোহন ও রনি অভিযোগ করেন, গত সোমবার তারা বরিশাল নগরীর বিআরটিএ অফিসে কাজ শেষে সকাল ১১টার দিকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে চরামদ্দির বোর্ড স্কুল এলাকায় এএসআই সাইফুল গাজী তাদের থামিয়ে দেহ তল্লাশি করেন। তবে তাদের কাছে অবৈধ কিছুই ছিল না।

মোহন বলেন, তল্লাশির সময় পুলিশ তার গায়ের জ্যাকেট খুলে মোটরসাইকেলের ওপর রাখেন। কিছুক্ষণ পর একজন কনস্টেবল জ্যাকেটের পকেটে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে একটি গাঁজার পুঁটলি বের করে সেটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেন। তারা প্রতিবাদ করলে এএসআই সাইফুল গাজী তাকে চড়থাপ্পড়ের পাশাপাশি সঙ্গে থাকা হকিস্টিক দিয়ে পেটান। পরে জোর করে তাদের স্বীকারোক্তির ভিডিও ধারণ করে পুলিশ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাদের দু'জনকে আটক করে পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়ার পর স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা না দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানোর জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। 

রনির ভাই মালদ্বীপ প্রবাসী কাওছার হাওলাদার বলেন, তিনি ক্যাম্পে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা দিলে দুইজনকে বাকেরগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়।

মোহনের ভাই সুমন হাওলাদার বলেন, তিনি থানায় গিয়ে এএসআই সাইফুলের উপস্থিতিতে এক কনস্টেবলকে আরও ২০ হাজার টাকা দেন।

তারা আরও জানান, টাকা দেওয়ার পর রনি ও মোহনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানো হয়। বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির তাদের ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। সেই টাকা শোধ করে তারা মুক্ত হন।

তবে এএসআই সাইফুল গাজী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'এলাকাটি আগে মাদকের আস্তানা ছিল। আমি চরামদ্দি ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর অবস্থা কিছুটা ভালো হয়েছে। তাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।'

মামলা না দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি শুধু আসামি ধরতে পারেন। মামলা দেওয়া না দেওয়ার বিষয়টি থানার ওসির আওতায় রয়েছে।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি মাসুদুজ্জামান বলেন, এএসআই সাইফুল দুই যুবককে মাদক বহনের অভিযোগে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানো হয়। তবে এই যুবকরা থানায় কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতে এসব অভিযোগ করেনি। তারা অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

চাঁদপুর সুহৃদ সমাবেশের সভাপতি পীযূষ কান্তির স্মরণসভা অনুষ্ঠিত


আরও খবর

বরিশাল

প্রয়াত পীযূষ কান্তি রায় চৌধুরীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি -সমকাল

  চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুরে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় দৈনিক সমকাল সুহৃদ সমাবেশের সাবেক সভাপতি প্রয়াত পীযূষ কান্তি রায় চৌধুরীর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শুক্রবার বিকালে চাঁদপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি। 

তিনি প্রয়াত পীযূষ কান্তি রায় চৌধুরীর বিভিন্ন গুণাবলী তুলে ধরে বলেন, পীযূষ কান্তির রায় চৌধুরী সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আজকের এই উপস্থিতি তার প্রমাণ করে। এই গীতিকার গায়ক ও সুহৃদ সংগঠক ব্যক্তিত্বের মাঝে যে গুণাবলি ছিলো তা যেনো ভবিষ্যতে স্মরণ করা হয়। আমরা তার স্বর্গীয় আত্মার শান্তি কামনা করছি। পাশাপাশি আমরা তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। 

পীযূষ কান্তি রায় চৌধুরীকে স্মরণ করে এই স্মরণসভা আোজনের জন্য সমকাল সুহৃদ পরিবারের প্রতি ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে যুগে যুগে সমাজ সংস্কারে গুণিজনরা জন্মগ্রহণ করেন। এই গুনিজণদের স্মরণ করা এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা থাকা আমাদের সকালের প্রয়োজন। এ সময় তার স্ত্রী মীরা রায় চৌধুরীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি একজন ভালো মানুষের সার্নিধ্য পেয়েছেন। আপনি তাকে নিয়ে গর্ব করতে পারেন। আমরাও তাকে নিয়ে গর্ব করি। 

চাঁদপুর সমকাল সুহৃদের নবনির্বাচিত জেলা সভাপতি ডা. পীযূষ কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এএসএম দেলওয়ার হোসেন, চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির মহা পরিচালক কাজী শাহাদাত, জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তা আবু সালেহ মোহাম্মদ আব্দুল্লা, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি শহীদ পাটোয়ারী, সাবেক সভাপতি শরীফ চৌধুরী, লেখক প্রকৌ. মো. দেলোয়ার হোসেন, দৈনিক সমকাল পত্রিকার চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, জেলা সমকাল সুহৃদের সহসভাপতি মোহাম্মদ আবু সায়েম, সাধারণ সম্পাদক মো. খায়রুল আহছান সুফিয়ান, প্রয়াত পিযূষ কান্তি রায় চৌধুরীর স্ত্রী মীরা রায় চৌধুরী প্রমুখ।

স্বরলিপি নাট্যদলের সভাপতি এমআর ইসলাম বাবুর পরিচালনায় স্বরণসভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মঈনুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান, জেলা হিন্দু,বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাড. বিনয় ভূষণ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রনজিত রায় চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদের সহসভাপতি কেএম মাসুদ মুক্তা পীযূষ প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

শতভাগ স্বচ্ছতায় সারা দেশে শিক্ষক নিয়োগ হবে: শিক্ষামন্ত্রী


আরও খবর

বরিশাল

হাইমচর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা বরেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি -সমকাল

  চাঁদপুর প্রতিনিধি

শতভাগ স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে সারা দেশে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়ে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সব কাজ হয় স্বচ্ছতার ভিত্তিতে। কাজেই শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিও সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হবে।

শুক্রবার চাঁদপুরের হাইমচর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, গত ১০ বছরে আমাদের শিক্ষাখাতে যে যুগান্তকারী পরিবর্তন সূচিত হয়েছে, যে অসামান্য অর্জনগুলো শিক্ষাখাতে আমরা পেয়েছি সেগুলোর পরও কোথাও কোথাও এখনো কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। এগুলো সমাধানের কাজ চলছে। 

আগামী যাতে দেশের কোথাও কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক স্বল্পতা না থাকে সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন দীপু মনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী, প্রাক্তন ছাত্র সুনিল কৃষ্ণ মাঝি, চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মঈনুল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান প্রমুখ।

পরের
খবর

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার: পাচারের সময় ৪০ বস্তা গম জব্দ


আরও খবর

বরিশাল

কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটক থেকে পাচারের সময় শনিবার ৪০ বস্তা গম জব্দ করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ- সমকাল

  বরিশাল ব্যুরো

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গম পাচারের সময়  শনিবার ৪০ বস্তা গম আটক করেছে পুলিশ। এ সময় ছবি তুলতে গেলে কারারক্ষীরা এক ফটোসাংবাদিককে বেধড়ক মারধর করে। 

কারাগার থেকে গম পাচারের খবর পেয়ে দুপুর ২টা থেকে কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাইনুল হোসেন। তিনি কারাগার থেকে বের হওয়া দুটি ভ্যানে মোট ৪০ বস্তা গম আটক করে থানায় নিয়ে যান।

এসআই মাইনুল সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ৪০ বস্তা গম আটক করেছেন। তবে কারাগার থেকে কিসের গম বাইরে নেওয়া হচ্ছিল তা যাচাই চলছে।

কারাগারের সিনিয়র তত্ত্বাবধায়ক প্রশান্ত কুমার বণিক পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কারারক্ষীদের রেশন দেওয়ার পর কিছু বাড়তি গম ছিল, ওই গম তারা বিধি অনুযায়ী বাইরের দোকানে বিক্রি করে দিয়েছেন।

এদিকে কারারক্ষীদের হাতে নির্যাতনের শিকার ফটোসাংবাদিক শামীম আহম্মেদ যুগান্তরের বরিশাল ব্যুরোতে কর্মরত। 

এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন সড়ক থেকে শামীমকে ধরে নিয়ে কারাগারের ভেতরে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনার পর বরিশালে কর্মরত সব সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানালে তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র তত্ত্বাবধায়ক প্রশান্ত কুমার বণিক জানান, সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগে তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ কারারক্ষীকে চিহ্নিত করে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন আবু বক্কর সিদ্দিক, উজ্জ্বল, সাইদ, আবুল খায়ের ও কাওসার।

উপ-মহাপরিদর্শক (প্রিজন) তৌহিদুল ইসলাম জানান, পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের ও বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কারা কর্তৃপক্ষ।

নির্যাতিত সাংবাদিক শামীম আহম্মেদ জানান, কারাগার থেকে গম পাচার করা হচ্ছে এ খবর পেয়ে তিনি কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটক সংলগ্ন সড়কে যান। এমন সময় গমের বস্তাভর্তি একটি ভ্যান কারাগার থেকে বের হচ্ছিল। 

তিনি ভ্যানের ছবি তোলার সময় কারাগারের ভেতর থেকে কয়েকজন কারারক্ষী এসে তাকে জাপটে ধরে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। তাকে টেনেহিঁচড়ে কারগারের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে কয়েকজন কারারক্ষী বুট দিয়ে একের পর এক তাকে আঘাত করে। নির্যাতিত শামীম এ ঘটনার ন্যায়বিচার চান।

ফটোসাংবাদিক আহম্মেদকে নির্যাতনের খবর পেয়ে বরিশালে কর্মরত সকল সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হন। তাদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিক কারারক্ষীদের সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তের কথা জানান কারা কর্তৃপক্ষ।