ব্যাংক-বীমা

বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈঠক

ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের শাস্তি চান ব্যাংকের এমডিরা

প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের শাস্তি চান ব্যাংকের এমডিরা

  সমকাল প্রতিবেদক

ব্যাংক খাতে বর্তমানে সাড়ে ১১ শতাংশ খেলাপি ঋণকে উচ্চ মাত্রার উল্লেখ করে তা কমাতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ব্যাংকাররা বলেছেন, তারাও চান খেলাপি ঋণ কমাতে। তবে ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। দৃষ্টান্তমূলক কিছু শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার হবে। বুধবার অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় এমন আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অধিকাংশ ব্যাংকের এমডি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে খেলাপি ঋণ কমানো ছাড়াও ব্যাংক খাত ও অর্থনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। ব্যাংকাররা বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণের সুদহারে ৬ শতাংশের সীমা বাড়ানো এবং ডলার দরে সীমা আরোপ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার দাবি জানালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাতে সায় দেয়নি।

সভায় ব্যাংকারেরা জানান, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের থেকে ঋণ আদায়ের উদ্যোগ নিলেই তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। বছরের পর বছর কোনো টাকা পরিশোধ করছেন না, অথচ তাদের খেলাপি হিসেবে দেখানো যাচ্ছে না। এবারের নির্বাচনেও বড় বড় ঋণখেলাপি ব্যাংকের টাকা পরিশোধ না করেও পার পেয়ে গেছেন। পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনি সংস্কার দরকার। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের দৃষ্টান্তমূলক কিছু শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে অন্যরা সতর্ক হবে। আইনি সংস্কারের জন্য আইন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহায়তা করবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

বৈঠক শেষে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ১১ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ অনেক উচ্চমাত্রার। খেলাপি ঋণ কমাতে আদায় জোরদারের পাশাপাশি প্রকৃত সমস্যার কারণে কেউ খেলাপি হলে প্রয়োজনে পুনঃতফসিল করতে বলা হয়েছে। 

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোও চায় খেলাপি ঋণ কমাতে। এজন্য ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের আইনের আওতায় আনতে শক্ত আইনি ব্যবস্থা দরকার। দৃষ্টান্তমূলক কিছু শাস্তি হলে সহজে খেলাপি ঋণ আদায় হবে। আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে আইন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, সামগ্রিকভাবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন ঘাটতি নেই। যেসব ব্যাংকের ঘাটতি রয়েছে, শিগগিরই তাদের অনেকে মেটাতে পারবে। এরপরও যেসব ব্যাংকের সমস্যা থাকবে, তা কীভাবে মেটানো যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেখবে।

তিনি জানান, নগদ লেনদেন কমাতে কার্ডভিত্তিক লেনদেন বাড়ানোর ওপর বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্ব আরোপ করেছে। ব্যাংকের জামানতি সম্পত্তির ডাটাবেজ করার উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, তবে নির্বাচনের আগে ঋণ বিতরণ ও নগদ অর্থের প্রবাহ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বেসরকারি খাতে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদে বিদেশি ঋণ নেওয়া যায়। আগে যখন লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফার রেট (লাইবর) দশমিক ৬৭ শতাংশ ছিল, তখনও বিদেশি ঋণের সুদহারে সর্বোচ্চ সীমা ছিল ৬ শতাংশ। ব্যাংকগুলো ওই সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, বৈদেশিক ঋণের সুদহার যেহেতু বাড়ছে, এখন স্থানীয় মুদ্রার ঋণ বিতরণে জোর দিতে হবে। ব্যাংকাররা বলেছেন, স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ যথেষ্ট নয়। বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ লাগবেই। তিনি জানান, রফতানি ও রেমিট্যান্সে ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপ কমে আসছে। এখন বৈদেশিক মুদ্রার দরে সীমা আরোপের ক্ষেত্রে সরাসরি দর নির্ধারণ না করে শতাংশ বিবেচনায় সীমা আরোপ করা যায় কি-না, তার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা হয়েছে। মোট ঋণের যা ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এই খেলাপি ঋণের মধ্যে তিন মাসে বেড়েছে ১০ হাজার ৩০ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের নয় মাসে বেড়েছে ২৫ হাজার ৬৭ কোটি টাকা। ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের মধ্যে শুধু রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে রয়েছে ৪৮ হাজার ৮০ কোটি টাকা। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকে রয়েছে পাঁচ হাজার ২৪১ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ৪৩ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা ও বিদেশি ব্যাংকে রয়েছে দুই হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা।

মন্তব্য


অন্যান্য