ব্যাংক-বীমা

জনতা ব্যাংকের দুই পরিচালক প্রত্যাহার

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

জনতা ব্যাংকের দুই পরিচালক প্রত্যাহার

  ওবায়দুল্লাহ রনি

জালিয়াতি করে ক্রিসেন্ট গ্রুপ ও এননটেক্সকে প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে জনতা ব্যাংকের দুই পরিচালককে সরিয়ে দিল সরকার। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই সম্প্রতি তাদের প্রত্যাহার করা হলো। তারা হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুল হক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মানিক চন্দ্র দে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরামর্শে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, দুই পরিচালককে প্রত্যাহার বিষয়ে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বরাবর বুধবার চিঠি দেয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ওই দিন জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার দুই পরিচালককে প্রত্যাহার বিষয়ে অনাপত্তি চেয়ে ব্যাংকের পক্ষ থেকে চিঠি এলে তাতে সায় দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর গতকাল জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে এ দু'জনের নাম সরিয়ে ফেলা হয়। জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৩ পরিচালক পদের মধ্যে বর্তমানে আটজন পরিচালক আছেন। শূন্য হলো পাঁচটি পদ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, জনতা ব্যাংকের দুই পরিচালককে সরকার প্রত্যাহার করেছে। তাতে বাংলাদেশ ব্যাংক অনাপত্তি দিয়েছে।

বাদ দেওয়া দুই পরিচালকের মধ্যে মো. আবদুল হক তিন বছর মেয়াদে জনতা ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন গত বছরের ১১ জুলাই। ২০২০ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত তার মেয়াদ ছিল। আরেক পরিচালক মানিক চন্দ্র দে ২০১৫ সালের ৩০ জুন তিন বছর মেয়াদে পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। আগামী ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত তার মেয়াদ ছিল। জনতা ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহা এবং সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মো. ওয়াহিদ-উজ-জামানের মধ্যবর্তী সময়ে মানিক চন্দ্র দে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। আইটি খাতের দোহাটেক নিউ মিডিয়ার চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে গত ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন বছর জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব শেখ মো. ওয়াহিদ-উজ-জামান।

ঋণ জালিয়াতির কারণে এখন ব্যাংক খাতে আলোচিত জনতা ব্যাংক। বিভিন্ন পক্ষের যোগসাজশে ক্রিসেন্ট গ্রুপ ও এননটেক্স নামের দুই প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার ঋণ দিয়ে আটকে গেছে ব্যাংকটি। এসব ঋণ আদায় না হওয়ায় ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে নয় হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির নিট লোকসান হয়েছে এক হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। জুন শেষে মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে দুই হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। ক্রিসেন্ট গ্রুপের এক হাজার ৫৭১ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি ধরে জুনের হিসাব প্রকাশিত হয়। তবে এরই মধ্যে ক্রিসেন্ট গ্রুপের পাঁচ প্রতিষ্ঠানের তিন হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য নিলাম ডেকেছে জনতা ব্যাংক। এননটেক্সকে দেওয়া সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ঋণের একটি অংশও খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। ফলে সেপ্টেম্বরের হিসাব চূড়ান্ত হলে জনতার মোট খেলাপি ঋণ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকায় ঠেকবে বলে সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন। 


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ব্যাংক থেকে টাকা তোলার হিড়িক


আরও খবর

ব্যাংক-বীমা
ব্যাংক থেকে টাকা তোলার হিড়িক

প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ওবায়দুল্লাহ রনি

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় ব্যাংক থেকে টাকা তোলার হিড়িক পড়েছে। চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে অধিকাংশ ব্যাংক। নগদ টাকার চাহিদা মেটাতে এক ব্যাংক আরেক ব্যাংক থেকে কলমানিতে প্রচুর ধার নিচ্ছে। এতেও চাহিদা না মেটায় ব্যাংকগুলো ধরনা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও কলমানি থেকে দৈনিক গড়ে প্রায় আট হাজার কোটি টাকা ধার করেছে বিভিন্ন ব্যাংক। নগদ টাকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কলমানির সুদহারও বেড়েছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, নির্বাচনের আগে সাধারণত প্রচুর কালো টাকার ছড়াছড়ি হয়। কালো টাকা ছড়ানোর প্রস্তুতির অভিযোগে গত মঙ্গলবার নগদ আট কোটি টাকা ও ১০ কোটি টাকার চেকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। নির্বাচন কমিশন থেকে একজন প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ২৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও অনেক প্রার্থী তার চেয়ে বেশি খরচ করেন। অনেক প্রার্থী কোটি কোটি টাকা খরচ করেন। এতে করে মানি লন্ডারিংয়ের আশঙ্কা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবার আগেভাগেই ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে। গত সপ্তাহে বিএফআইইউ থেকে সব ব্যাংকে চিঠি দিয়ে নগদ টাকার প্রবাহ নিয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আন্তঃব্যাংকে টাকা না পেলে ব্যাংকগুলো সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আসে। চাহিদা বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বল্প মেয়াদে টাকা দেয়। এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে কোনো অসঙ্গতিপূর্ণ লেনদেন যেন না হয়, সে জন্য ব্যাংকগুলোকে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছে।

ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি আনিস এ. খান সমকালকে বলেন, নির্বাচন ও ঈদের আগে সব সময়ই ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলন বাড়ে। এ জন্য ব্যাংকগুলো আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। তিনি বলেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে যেন অবৈধ লেনদেন না হয়, তার জন্য ব্যাংকগুলো সতর্ক রয়েছে।

ব্যাংকাররা জানান, ব্যাংকগুলো আন্তঃসমন্বয়ের মাধ্যমে এক শাখা থেকে আরেক শাখায় নগদ টাকা পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছিল। এতে চাহিদা না মেটায় আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার (কলমানিতে) ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রতিদিনই বড় অঙ্কের ধার নিচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধার নেওয়ার ঘটনা ঘটে গত ১৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার। ওই দিন কলমানি থেকে কয়েকটি ব্যাংক আট হাজার ৫১৫ কোটি টাকা নেয়। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেয় এক হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। প্রায় প্রতিদিনই এভাবে কমবেশি ধার নেওয়ায় কলমানির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। গতকাল সাড়ে ৪ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ সুদে কলমানিতে লেনদেন হয়েছে। গত ১৭ ডিসেম্বর লেনদেন হয়েছিল এক দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ সুদে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা ৫ শতাংশ নির্ধারণ করে না দিলে সুদহার আরও বাড়ত বলে সংশ্নিষ্টদের ধারণা।

ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা টাকা খরচ করেন। প্রার্থীর পক্ষেও অনেকে টাকা তোলেন। এতে করে গত কয়েকদিনে ব্যাংকগুলো থেকে টাকা উত্তোলনের প্রবণতা বেড়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২৪ ডিসেম্বর সোমবার আন্তঃব্যাংকে কলমানিতে ৫ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা লেনদেন হয়। এর আগে ১৭ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ কর্মদিবসে কয়েকটি ব্যাংক নিয়েছে ৪০ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। প্রতিদিন গড়ে ৬ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকার ধার নিয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দুপুর পর্যন্ত কয়েকটি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৪০০ কোটি টাকা ধার নিয়েছে। আর গত ১৭ ডিসেম্বর থেকে ৬ কর্মদিবসে নিয়েছে পাঁচ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা। রেপো, বিশেষ রেপো এবং তারল্য সহায়তা হিসেবে এসব অর্থ নেয় ব্যাংকগুলো। ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন ধরনের সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে ৬ থেকে ৯ শতাংশ সুদে এসব অর্থ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বেসরকারি অন্য একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমকালকে বলেন, নির্বাচনের পাশাপাশি এবার বছরের শেষ চার দিন ব্যাংক লেনদেন বন্ধ থাকায় অনেকেই টাকা তুলে ঘরে রাখতে পারেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যে বিপুল অঙ্কের অর্থ তুলে নেওয়ায় কিছুটা চাপ পড়েছে ব্যাংকগুলোতে। চাপ সামলাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও কলমানিতে ধরনা দিতে হচ্ছে। তবে নির্বাচন শেষে ধীরে ধীরে এসব টাকা আবার ব্যাংকে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের শাস্তি চান ব্যাংকের এমডিরা


আরও খবর

ব্যাংক-বীমা

বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈঠক

ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের শাস্তি চান ব্যাংকের এমডিরা

প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

  সমকাল প্রতিবেদক

ব্যাংক খাতে বর্তমানে সাড়ে ১১ শতাংশ খেলাপি ঋণকে উচ্চ মাত্রার উল্লেখ করে তা কমাতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ব্যাংকাররা বলেছেন, তারাও চান খেলাপি ঋণ কমাতে। তবে ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। দৃষ্টান্তমূলক কিছু শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার হবে। বুধবার অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় এমন আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অধিকাংশ ব্যাংকের এমডি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে খেলাপি ঋণ কমানো ছাড়াও ব্যাংক খাত ও অর্থনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। ব্যাংকাররা বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণের সুদহারে ৬ শতাংশের সীমা বাড়ানো এবং ডলার দরে সীমা আরোপ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার দাবি জানালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাতে সায় দেয়নি।

সভায় ব্যাংকারেরা জানান, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের থেকে ঋণ আদায়ের উদ্যোগ নিলেই তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। বছরের পর বছর কোনো টাকা পরিশোধ করছেন না, অথচ তাদের খেলাপি হিসেবে দেখানো যাচ্ছে না। এবারের নির্বাচনেও বড় বড় ঋণখেলাপি ব্যাংকের টাকা পরিশোধ না করেও পার পেয়ে গেছেন। পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনি সংস্কার দরকার। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের দৃষ্টান্তমূলক কিছু শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে অন্যরা সতর্ক হবে। আইনি সংস্কারের জন্য আইন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহায়তা করবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

বৈঠক শেষে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ১১ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ অনেক উচ্চমাত্রার। খেলাপি ঋণ কমাতে আদায় জোরদারের পাশাপাশি প্রকৃত সমস্যার কারণে কেউ খেলাপি হলে প্রয়োজনে পুনঃতফসিল করতে বলা হয়েছে। 

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোও চায় খেলাপি ঋণ কমাতে। এজন্য ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের আইনের আওতায় আনতে শক্ত আইনি ব্যবস্থা দরকার। দৃষ্টান্তমূলক কিছু শাস্তি হলে সহজে খেলাপি ঋণ আদায় হবে। আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে আইন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, সামগ্রিকভাবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন ঘাটতি নেই। যেসব ব্যাংকের ঘাটতি রয়েছে, শিগগিরই তাদের অনেকে মেটাতে পারবে। এরপরও যেসব ব্যাংকের সমস্যা থাকবে, তা কীভাবে মেটানো যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেখবে।

তিনি জানান, নগদ লেনদেন কমাতে কার্ডভিত্তিক লেনদেন বাড়ানোর ওপর বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্ব আরোপ করেছে। ব্যাংকের জামানতি সম্পত্তির ডাটাবেজ করার উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, তবে নির্বাচনের আগে ঋণ বিতরণ ও নগদ অর্থের প্রবাহ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বেসরকারি খাতে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদে বিদেশি ঋণ নেওয়া যায়। আগে যখন লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফার রেট (লাইবর) দশমিক ৬৭ শতাংশ ছিল, তখনও বিদেশি ঋণের সুদহারে সর্বোচ্চ সীমা ছিল ৬ শতাংশ। ব্যাংকগুলো ওই সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, বৈদেশিক ঋণের সুদহার যেহেতু বাড়ছে, এখন স্থানীয় মুদ্রার ঋণ বিতরণে জোর দিতে হবে। ব্যাংকাররা বলেছেন, স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ যথেষ্ট নয়। বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ লাগবেই। তিনি জানান, রফতানি ও রেমিট্যান্সে ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপ কমে আসছে। এখন বৈদেশিক মুদ্রার দরে সীমা আরোপের ক্ষেত্রে সরাসরি দর নির্ধারণ না করে শতাংশ বিবেচনায় সীমা আরোপ করা যায় কি-না, তার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা হয়েছে। মোট ঋণের যা ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এই খেলাপি ঋণের মধ্যে তিন মাসে বেড়েছে ১০ হাজার ৩০ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের নয় মাসে বেড়েছে ২৫ হাজার ৬৭ কোটি টাকা। ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের মধ্যে শুধু রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে রয়েছে ৪৮ হাজার ৮০ কোটি টাকা। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকে রয়েছে পাঁচ হাজার ২৪১ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ৪৩ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা ও বিদেশি ব্যাংকে রয়েছে দুই হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা।

পরের
খবর

এবার ব্যাংক ক্লোজিং ২৭ ডিসেম্বর


আরও খবর

ব্যাংক-বীমা

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

নির্বাচনের কারণে এবার ব্যাংকের বার্ষিক হিসাব ক্লোজিং হবে ২৭ ডিসেম্বর। তবে যথারীতি ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংক হলিডে পালিত হবে।

ব্যাংক হলিডের দিন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সব শাখা খোলা থাকলেও ওই দিন লেনদেন হয় না। ফলে সাপ্তাহিক ছুটি, ভোট ও ব্যাংক হলিডের কারণে ২৮ ডিসেম্বর থেকে টানা চারদিন স্বাভাবি ব্যাংকিং লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

তবে এ সময়ের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথ থেকে লেনদেন করা যাবে।

ব্যাংক ক্লোজিং বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মঙ্গলবার একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সকল তফসিলি ব্যাংকের চলতি বছরের বার্ষিক হিসাব ক্লোজিং আগামী ২৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করা হলো। ৩১ ডিসেম্বর যথারীতি ব্যাংক হলিডে অপরিবর্তিত থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ২৭ ডিসেম্বরের পরের দু'দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহীক ছুটি। আর ৩০ ডিসেম্বর রোববার নির্বাচনের কারণে ব্যাংক বন্ধ থাকবে। যে কারণে ব্যাংক ক্লোজিং ২৭ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এটিএম বুথ, অনলাইন ব্যাংকিংয়ে লেনদেন করা যাবে। ফলে গ্রাহকদের কোনো সমস্যা হবে না।


সংশ্লিষ্ট খবর