ব্যাংক-বীমা

সবচেয়ে বেশি এগোবে বাংলাদেশের অর্থনীতি

এইচএসবিসির চোখে ২০৩০ সালের বিশ্ব

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

সবচেয়ে বেশি এগোবে বাংলাদেশের অর্থনীতি

  শেখ আবদুল্লাহ

বাংলাদেশের অর্থনীতির অনেক বড় সম্ভাবনা দেখছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন-এইচএসবিসি। প্রতিষ্ঠানটির এক প্রতিবেদনে বিশ্বে ২০৩০ সাল নাগাদ যেসব দেশের অর্থনীতির আকার দ্রুত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে সেই তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে সবার ওপরে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে 'বিগেস্ট রাইজার্স বা সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ' হিসেবে অভিহিত করেছে এইচএসবিসি গ্লোবাল রিসার্চ।

এইচএসবিসি বলেছে, বিশ্বের উন্নত, উন্নয়নশীল ও উদীয়মান ৭৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি সবচেয়ে বেশি হারে বাড়বে। জিডিপির আকার বিবেচনায় বর্তমানে বিশ্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৪২তম। ২০৩০ সালে ১৬ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ উঠে আসবে ২৬তম অবস্থানে। এখন এগিয়ে থাকা ফিলিপাইন, পাকিস্তান, মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশকে ২০৩০ সালে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পরবর্তী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হারে। তার পরের পাঁচ বছর অর্থাৎ ২০২৩ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি হবে ৭ শতাংশ হারে। সব মিলিয়ে আগামী এক যুগে বাংলাদেশে গড়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হবে। বাংলাদেশের মতো এত বেশি হারে প্রবৃদ্ধি আর কোনো দেশের হবে না।

সম্প্রতি প্রকাশিত '২০৩০ সালের বিশ্ব :৭৫টি দেশের জন্য এইচএসবিসির প্রক্ষেপণ' নামে ওই প্রতিবেদনে দেশগুলোর জনশক্তির আকার, মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় নেওয়া পদক্ষেপ, রাজনীতি, বাজার উন্মুক্তকরণ ও প্রযুক্তির ব্যবহারকে কোন দেশ কতটা প্রাধান্য দিয়েছে তা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিবর্তনগুলোকেও গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এরসঙ্গে দেশগুলোর মাথাপিছু জিডিপি, কর্মক্ষম জনশক্তি, মোবাইল ফোন ব্যবহার, স্কুলে অন্তর্ভুক্তি, মানব উন্নয়ন সূচক, রাজনৈতিক অধিকার ও বাণিজ্য উদারীকরণ পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে চলতি মূল্যে বাংলাদেশের জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা বা ২৭০ বিলিয়ন ডলার। ওই অর্থবছরে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে সরকার ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এইচএসবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১২ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৬ ধাপ এগিয়ে ২৬তম অবস্থানে আসবে। ফিলিপাইন ১১ ধাপ এগিয়ে বর্তমানের ৩৮তম অবস্থান থেকে ২৭তম অবস্থানে উঠে আসবে। পাকিস্তান ১০ ধাপ এগিয়ে ৪০ থেকে ৩০-এ উঠবে। ভিয়েতনাম ৮ ধাপ এগিয়ে ৪৭ থেকে চলে আসবে ৩৯-এ। আর মালয়েশিয়া ৫ ধাপ এগিয়ে ৩৪ থেকে-২৯-এ উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ অর্থনীতিতেও আসবে পরিবর্তন। ২০৩০ সালে বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীন শীর্ষে উঠে আসবে। শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয়তে নামবে। সপ্তম অবস্থান থেকে তৃতীয় অবস্থানে চলে আসবে ভারত। তৃতীয় থেকে চতুর্থ অবস্থানে চলে যাবে জাপান। জার্মানি চতুর্থ অবস্থান থেকে পঞ্চম স্থানে গিয়ে দাঁড়াবে।

এইচএসবিসির এই পূর্বাভাসকে যথাযথ বলে মনে করেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম। বাংলাদেশ সরকার যে যথাযথ পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তা এই প্রতিবেদনের তথ্যে প্রতীয়মান হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। শামসুল আলম সমকালকে বলেন, সরকার ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হওয়া এবং ২০৩০ সালের মধ্যে অতি দারিদ্র্য শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। সেভাবেই পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও প্রেক্ষিত পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। এইচএসবিসিসহ অন্যান্য বৈশ্বিক সংস্থা বাংলাদেশের যে সম্ভাবনার কথা বলছে সেগুলো সরকারের লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তিনি বলেন, এই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য জ্বালানি, যোগাযোগ, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন এ বিষয়ে সমকালকে বলেন, বিভিন্ন কারণেই বাংলাদেশের সম্ভাবনা রয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভৌগোলিক অবস্থান। ভৌগোলিক দিক থেকে বাংলাদেশ অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। চীন, ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশের পাশে। এ ছাড়া বিশ্বের ৬০ ভাগ ভোক্তার বিশাল বাজার রয়েছে বাংলাদেশের চারপাশে। এই বাজার যেসব বিনিয়োগকারী ধরতে চান তাদের কাছে কৌশলগত বিবেচনায় বাংলাদেশ অনেক আকর্ষণীয়। পাশাপাশি বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা অংশীদারি করতে পারে বাংলাদেশে সেই ধরনের দক্ষ উদ্যোক্তা গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া সাগর পথে যোগাযোগ, ব্যাপক কর্মক্ষম জনশক্তি বাংলাদেশের সম্ভাবনা। তবে এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ব্যবসা করার নিয়ম-কানুন, বন্দর, যোগাযোগ, জ্বালানি, নগরায়ণ, শিক্ষার মানে যে অগ্রগতি আনা দরকার সেগুলো সময়মত করতে হবে। তাহলেই এইচএসবিসির এই পূর্বাভাস বাস্তবে রূপ নেবে।

সম্ভাবনার পাশাপাশি এইচএসবিসির গবেষণায় বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও উঠে এসেছে। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক ঘটনা সম্পৃক্ত। তবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা। এ ছাড়া বৈষম্যকেও একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

মানুষ এখন ব্যাংকে আসতে ভয় পায়: অর্থমন্ত্রী


আরও খবর

ব্যাংক-বীমা

বৃহস্পতিবার অগ্রণী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল— পিআইডি

  সমকাল প্রতিবেদক

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, অনাকাঙ্খিত হলেও এটা ঠিক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কিছুটা বিপদে আছে। এক সময় ব্যাংক ছিল সবার প্রিয় জায়গা। আর মানুষ এখন ব্যাংকে আসতে ভয় পায়।

বৃহস্পতিবার অগ্রণী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিরি এসব কথা বলেন। ব্যাংক খাতের পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন বলেও এ সময় উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত সম্মেলনে ব্যাংকের বিভিন্ন সূচক তুলে ধরা হয়। এবার অগ্রণী ব্যাংক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালসহ মোট ১৬ জনকে সম্মাননা দেওয়ার জন্য মনোনীত করে। বৃহস্পতিবারের সম্মেলনে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে পরবর্তী সময়ে সম্মাননা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়। বাকিদের অধিকাংশ নিজ বা তার প্রতিনিধি উপস্থিত হয়ে সম্মাননা গ্রহণ করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর অনেকে তাকে বলেছেন এ মন্ত্রণালয় চালানো অনেক কঠিন। তবে তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। এখানে এসেছেন বিখ্যাত ব্যাংকিং খাত গড়ে তুলতে। আর এজন্য খেলাপি ঋণ আর বাড়তে দেওয়া যাবে না। খেলাপি ঋণ না বাড়লে এমনিতেই সুদহার এক অঙ্কের অনেক নিচে নেমে আসবে। তখন আর সুদহার নিয়ে কথা বলতে হবে না। তবে স্বল্প মেয়াদি আমানত নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ দেওয়ার এ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এটা চলতে পারে না। এরকম হলে মানুষ কীভাবে টাকা ফেরত দেবে। আর এজন্য বন্ড মার্কেট বিকশিত করা হবে। বন্ড মার্কেট থেকে দীর্ঘ মেয়াদে টাকা তোলা গেলে আর সমস্যা থাকবে না।

তিনি বলেন, দেশে একটা অদ্ভুত প্রথা চলে আসছে। যারা কর দেন তারা শুধু দিয়েই যাচ্ছেন। এটা হতে পারে না। এসব বিবেচনায় নিয়ে এবারের বাজেটে কর কমানো হবে। করের অনেকগুলো স্তরের মাধ্যমে যারা বেশি কর দেন তাদের হার কমানো হবে। আর যারা একেবারে কর দেন না তাদের আওতায় আনা হবে।

মুস্তফা কামাল বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থায়ী কোনো সমাধান না। প্রত্যেক পরিবার থেকে অন্তত একজনকে কর্মের সন্ধান দেওয়া হবে। সেটা সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দিয়ে কিংবা, মুদি দোকান বা অন্য কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত করে করা হবে। বেকার সমস্যা থেকে মানুষকে মুক্ত করার লক্ষ্যেই এটা করা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের ৯৫ শতাংশই মন্দামানে শ্রেণিকৃত। এসব ঋণ আদায় জোরদার করতে হবে। এ জন্য শুধু মামলার ওপর ভরসা না করে বিকল্প উপায়ে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করতে হবে।

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা উচ্চ আদালতে রিট নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা। এজন্য আলাদা বেঞ্চ গঠন এবং রিটের সঙ্গে ডাউন পেমেন্টের শর্ত জুড়ে দেওয়া গেলে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হবে।

তিনি বলেন, ব্যাংক খাত এখন স্বল্প সুদে আমানত নিয়ে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে বিতরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংকুলান করার চ্যালেঞ্জে পড়েছে। অগ্রণী ব্যাংক তার ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এক্ষেত্রে উন্নয়নের চেষ্টা করছে। আদায় বৃদ্ধি এবং যাচাই-বাছাই করে নতুন ঋণ বিতরণের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ ২০ শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, এক বছরে ব্যাংকটির আমানত ১৮ শতাংশ বেড়ে ৬২ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা হয়েছে। ঋণে ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়ে ৩৯ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা হয়েছে। রফতানিতে ১৭ শতাংশ এবং রেমিট্যান্সে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এতে করে গতবছর ব্যাংকটি ৯৫৭ কোটি টাকার পরিচালন মুনাফা করেছে।

গুণী গ্রাহক সম্মাননা পেলেন যারা: সম্মেলন থেকে গুণী গ্রাহক হিসেবে মনোনীতদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন। সম্মাননা পাওয়ার তালিকায় আরও আছেন পিএইচপি গ্রুপের সুফি মিজানুর রহমান, ইস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (করপোরেট ফাইন্যান্স) উজমা চৌধুরী, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, এ্যাপেক্স গ্রুপের মনজুর এলাহী, সিটি গ্রুপের ফজলুর রহমান, নিটল নিলয় গ্রুপের আবদুল মাতলুব আহমাদ, নর্থইস্ট পাওয়ারের খুরশিদ আলম, নোমান গ্রুপের নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের আইয়ুব হোসেন, বিএসআরএমের আলী হোসেন, প্রাইম গ্রুপের আব্দুল আউয়াল, এসএমই উদ্যোক্তা নুরুন্নাহার বেগম ও সাধারণ গ্রাহক মোহাম্মদ শাহজাহান।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

মিগার ভাইস প্রেসিডেন্ট ঢাকায়


আরও খবর

ব্যাংক-বীমা

  অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মাল্টিল্যাটারাল ইনভেস্টমেন্ট গ্যারান্টি এজেন্সির (মিগা) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস বিজয় লাইয়ার ঢাকায় পৌঁছেছেন।

বুধবার প্রতিষ্ঠানটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানিয়ে বলা হয়, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকায় ঢাকায় অবস্থান করবেন তিনি।

ঢাকায় সফরের এ সময়ের মধ্যে এস বিজয় সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক সম্পর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন।



পরের
খবর

২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে ব্যাংক বন্ধ


আরও খবর

ব্যাংক-বীমা

  সমকাল প্রতিবেদক

ভোট উপলক্ষে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ব্যাংক বন্ধ থাকবে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে ভোট গ্রহণ এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সম্প্রসারিত অংশে কাউন্সিলর পদে ভোট দান ও গ্রহণের সুবিধার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ঢাকার বাইরে ওই দিন যেসব পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সংশ্নিষ্ট এলাকারও ব্যাংক বন্ধ রাখতে হবে। এর বাইরে সব এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক খোলা থাকবে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সংশ্নিষ্টরা জানান, এ সিদ্ধান্তের ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, মতিঝিল ও সদরঘাট অফিস, বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি বন্ধ থাকবে। আর রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ছাড়া সব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও ঢাকা সিটিতে অবস্থিত সকল শাখা বন্ধ রাখতে হবে।

দেশে কার্যরত ৫৮টি ব্যাংকের মধ্যে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ছাড়া সব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থিত। এছাড়া ওই দিন নির্বাচনের কারণে বরগুনার আমতলী, ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ ও পটুয়াখালী পৌরসভা এলাকায় ব্যাংক বন্ধ রাখতে হবে।

এর বাইরে দিনাজপুরের বিরলের তিনটি ইউনিয়ন, চট্রগ্রামের ফটিকছড়ির দু'টি, ময়মনসিংহের নান্দাইলের দু'টি, ফরিদপুরের চাঁদপুর ও মধুখালীর নওয়াপাড়া, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের কাচিকাটা, কুমিল্লার বরুড়ার গালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ভোট উপলক্ষে ব্যাংক শাখা বন্ধ রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয় বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্রগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর, বগুড়া ও ময়মনসিংহ অফিস খোলা থাকবে।

এছাড়া উল্লেখিত পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের বাইরের সব ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শাখা খোলা রাখতে হবে। অবিলম্বে এ নির্দেশনা কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর