বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানাল যুক্তরাজ্য

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানাল যুক্তরাজ্য

ফাইল ছবি

  কূটনৈতিক প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। এ সংকটের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে ব্রিটেন প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন। 

সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে আরও ৮৭ মিলিয়ন পাউন্ড বা প্রায় ৯৭২ কোটি টাকা অর্থ সহায়তার ঘোষণা দেন বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের দাতা সংস্থা ইউকেএইডের প্রধান জুডিথ হারবার্টসন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, আন্তর্জাতিক সংকট। এ সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টার সঙ্গে আছে। পাশাপাশি তার দেশ নিজের উদ্যোগেও সংকট নিরসনে তৎপরতা চালাচ্ছে। 

তিনি আশা করেন, কিছুটা সময় লাগলেও অবশ্যই এ সংকটের শান্তিপূর্ণ এবং স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত হবে।

এ সংকট সমাধানে চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, তার বিবেচনায় বেইজিং সক্রিয় ভূমিকা রাখলে সংকটের দ্রুত সমাধান সহজ হবে। নিউইয়র্কে চীনের মধ্যস্থতায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বৈঠক থেকে সংকট সমাধানে কার্যকর উপায় বের হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট এখন বাংলাদেশের জন্য বড় বোঝা এবং এ কারণে রোহিঙ্গাদের বড় আয়তনের ও অর্থনৈতিকভাবে ধনী দেশে স্থানান্তর করার উদ্যেগ নেওয়া যায় কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিষয় একক কোনো দেশের ওপর নির্ভর করে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবেই উদ্যোগ নিতে হবে। তবে সংকটের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধান হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের নিজের দেশ মিয়ানমারে মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করা। যুক্তরাজ্য এ লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য মিয়ানমারে 'সেফ জোন' প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্যোগ নিলে তার সঙ্গে থাকবে যুক্তরাজ্য। তবে অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, এ ধরনের উদ্যোগ জটিল ও সময়সাপেক্ষ।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওদের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, সেখানে এনজিওগুলো জরুরি মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে। তাদের ভূমিকা ক্যাম্পে অবস্থানরতদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাসহ মানবিক চাহিদা পূরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে ইউকেএইড, বাংলাদেশের প্রধান বলেন, নতুন ৮৭ মিলিয়ন পাউন্ডসহ ২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় প্রায় ২২৬ মিলিয়ন পাউন্ড (২৩৮২ কোটি টাকা) সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এবারের অর্থ রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কপবাজারের স্থানীয় জনগণের জীবন স্থিতিশীল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্য সরকারের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক সেক্রেটারি অলক শর্মার লিখিত বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে থাকা জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। এই অতিরিক্ত অনুদান সেসব নারী ও কন্যাশিশুর প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও মানব পাচার থেকে রক্ষা পাওয়াদের জন্য নতুন জরুরি আশ্রয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হবে।

মন্তব্য


অন্যান্য