বাংলাদেশ

ত্রাণের অপেক্ষায় পানিবন্দি মানুষ

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

ত্রাণের অপেক্ষায় পানিবন্দি মানুষ

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের পবনতাইড় গ্রামে ভেলায় করে গরু নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাচ্ছে এক পরিবার -উজ্জল চক্রবর্ত্তী

  সমকাল প্রতিবেদক

উজানের ঢল ও ভারি বর্ষণে পদ্মা-যমুনা অববাহিকায় পানি বাড়ছে। ফলে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের অধিকাংশ স্থানে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। বিপদসীমার ওপরে বইছে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, গঙ্গা, পদ্মা, তিস্তা, ঘাঘট, সাঙ্গুসহ ১৩ নদীর পানি। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ত্রাণের অপেক্ষায় পানিবন্দি লাখো মানুষ। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব।

সাঙ্গু নদীর পানি বাড়ায় বান্দরবানে বন্যার আরও অবনতি হয়েছে। প্রধান সড়ক ডুবে থাকায় টানা ষষ্ঠ দিনের মতো বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। মৌলভীবাজারে কুশিয়ারা ও মনু নদীর পানি বেড়ে বন্যার আরও অবনতি হয়েছে। সুনামগঞ্জে পানি কিছুটা কমলেও এখনও বিপদসীমার ওপরে বইছে সুরমা। জেলার তিন শতাধিক স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গতকাল সোমবার ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ১০৫ সেন্টিমিটার এবং ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে। লালমনিরহাট, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূইয়া বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল তৎসংলগ্ন ভারতের আসাম ও মেঘালয় এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল সংলগ্ন বিহার ও নেপালে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ধলেশ্বরী নদীর পানি এলাশিন পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করবে।

যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করবে। এতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হবে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে।

গতকাল শনিবার পাউবোর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, তাদের ৯৩টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৬৮টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমায় পৌঁছে যাচ্ছে। আর ২২টি পয়েন্টে পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে। ২৬টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। অপরিবর্তিত আছে তিনটি পয়েন্টে।

স্কুল-কলেজে আশ্রয়কেন্দ্র খোলার নির্দেশ :বন্যাকবলিত সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ সার্বক্ষণিক খোলা রেখে সেগুলোতে বন্যার্তদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর।

গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) শাহেদুল খবির চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত আদেশ জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, 'দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোর সব সরকারি- বেসরকারি স্কুল-কলেজ খোলা রেখে বন্যার্তদের দেখভাল করতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক অবস্থান করে সংশ্নিষ্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন।'

বাসদ : বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান এক বিবৃতিতে বলেছেন, বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে বানভাসী মানুষের জীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হলেও তাদের মাঝে পর্যাপ্ত খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাচ্ছে না। বানভাসী মানুষের সহায়তায় পর্যাপ্ত খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

মন্তব্য


অন্যান্য