বাংলাদেশ

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর কাছেই মিথ্যা তথ্য দিলো ডিপিডিসির কল সেন্টার

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৯

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর কাছেই মিথ্যা তথ্য দিলো ডিপিডিসির কল সেন্টার

ডিপিডিসির কল সেন্টার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ— পিআইডি

  সমকাল প্রতিবেদক

গ্রাহককে মানসম্মত সেবা দিতে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ( ডিপিডিসি) একটি কল সেন্টার চালু করেছে, যার নম্বর ১৬১১৬। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে কলসেন্টারের সেবার মান নিয়ে। খোদ বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদকেই কল সেন্টার থেকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ গ্রাহকরা আসলেই কতটুকু সেবা পাবে, প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে এতেও।

বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ ভবনে কল সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী নিজের প্রতারিত হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এমনকি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও ফোন করে বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়েন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নসরুল হামিদ বলেন, 'গত মঙ্গলবার সচিবালয়ের নিজ কক্ষ থেকে ডিপিডিসির নতুন কল সেন্টারে ফোন দেই। আব্দুল জলিল তালুকদার নামে একজন ফোনটি ধরেন। শুরুতে আমার কাছে গ্রাহক নম্বর ও এলাকার কোড জানতে চান অপারেটর। আমি বলি, এসব আমার মনে নেই। তারপর বলি, ফতুল্লা পোস্ট অফিসের গলিতে বিদ্যুৎ নেই। সঙ্গে সঙ্গেই কল সেন্টার থেকে জানানো হয়, ফতুল্লার কমপ্লেইন সুপারভাইজার মোবারক হোসেন জানিয়েছেন, সেখানে তার ছিঁড়ে গিয়েছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই বিদ্যুৎ চলে আসবে। এরপর আমি ফতুল্লার ডিপিডিসি অভিযোগ কেন্দ্রে ফোন করে জানতে পারি সেখান মোবারক হোসেন নামের কেউ কাজ করেন না। আরও জানানো হয়, ফতুল্লায় তার ছেঁড়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।'

নসরুল হামিদ আরও বলেন, 'বুধবার আমার একান্ত কর্মকর্তা (পিএস) সচিবালয় থেকে আবার ডিপিডিসির কল সেন্টারে ফোন দেন। ফোন দেওয়ার সময় পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। আমার পিএস কল সেন্টারের প্রতিনিধিকে বলেন, তিনি চকবাজার থেকে বলছেন, সেখানে বিদ্যুৎ নেই। তখন কল সেন্টার থেকে বলা হয়, সেখানে গ্রিড মাত্র ফেল করেছে। কিছু সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ চলে আসবে।'

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'খোঁজ নিয়ে জেনেছি তখন চকবাজারে বিদ্যুৎ ছিল।'

এমনকি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভিডিও কনফারেন্সেও একই ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন নসরুল হামিদ। ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভিডিও কনফারেন্সে কল সেন্টারে ফোন দিয়ে তা প্রতিমন্ত্রীকে ধরিয়ে দেন। এ সময় খুশবু নামের একজন কলসেন্টার প্রতিনিধি ফোন ধরলে প্রতিমন্ত্রী তাকে বলেন, শাহবাগে বিদ্যুৎ নেই। কল সেন্টার থেকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়। এরপর অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই ভিডিওতে খুশবুকে অকারণে সময় ব্যয় করতে দেখেন। কিছুক্ষণ পর খুশব প্রতিমন্ত্রীকে জানান, তিনি কলটি সংশ্লিষ্ট এলাকায় হস্তান্তর করছেন। সেখানে কথা বলতে পারেন। এর দুই তিন সেকেন্ড পরেই খুশবু প্রতিমন্ত্রীকে বলেন, শাহবাগে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। এরপর নসরুল হামিদ কলটি কেটে দিয়ে উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, 'এই হচ্ছে কল সেন্টারের অবস্থা!' এ সময় হলরুমে হাসির রোল পড়ে যায়। প্রতিমন্ত্রীও বিদ্রুপের হাসি দিয়ে বিদায় নেন।

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতেই নসরুল হামিদ বলেন, 'কলসেন্টারে ফোন করলে গ্রাহক নম্বর ও এলাকার কোড জানতে চাওয়া হয়। এটা ক'জনে মনে রাখতে পারে?'

প্রতিমন্ত্রী ডিপিডিসির কমকর্তা কর্মচারীদের প্রশ্ন করেন তারা সকলে বিদ্যুৎ গ্রাহক কি না? সবাই হাত তুলে হ্যাঁ সূচক জবাব দেন। এরপর তিনি তাদের কাছে গ্রাহক নম্বর আর এলাকার কোড জানতে চান। এ সময় একজনও তা বলতে পারেনি। তখন প্রতিমন্ত্রী কলসেন্টারকে আরো গ্রাহকবান্ধব করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, 'এটি পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কিছু ভুল ত্রুটি থাকবেই। নিরুৎসাহিত করছি না। তবে স্মার্ট সেবা দিতে স্মার্ট জনবল দরকার।' এ সময় তিনি সব বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিকে কল সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নিতে বলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এখন থেকে ১৬১১৬ নম্বরে কল করলেই গ্রাহকেরা নানান ধরনের বিদ্যুৎ সেবা পাবেন। তারা এই নম্বরে কল করে অভিযোগ করার পাশাপাশি নতুন সংযোগ, বৈদ্যুতিক ত্রুটি, ভোল্টেজ আপ-ডাউন, পেমেন্ট সংক্রান্ত জটিলতা, মিটার সংক্রান্ত সমস্যা, প্রি-পেইড মিটার রিচার্জ জটিলতার বিষয়ে জানতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন ডিপিডিসির পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ শফিকউল্লাহ, পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ, ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান প্রমুখ।

মন্তব্য


অন্যান্য