বাংলাদেশ

জামিন পেয়ে গেল প্রশ্ন ফাঁসের চার আসামি

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

জামিন পেয়ে গেল প্রশ্ন ফাঁসের চার আসামি

  সাহাদাত হোসেন পরশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছে কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ চক্রের বিরুদ্ধে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় মামলা হওয়া ছাড়াও মানি লন্ডারিং আইনেও উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেছিল সিআইডি। জামিন অযোগ্য ওই মামলার চার গুরুত্বপূর্ণ আসামি জামিন পেয়েছেন। তারা হলেন- হাফিজুর রহমান, মো. ইব্রাহীম, মোস্তফা কামাল ও আইয়ুব আলী বাঁধন। গত বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত থেকে তারা জামিন পান।

উত্তরা পশ্চিম থানার জিআরও শওকত আকবর গতকাল সমকালকে বলেন, মানি লন্ডারিং আইনে দায়ের করা মামলায় হাফিজুর, ইব্রাহীমসহ চারজন জামিন পেয়েছেন।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিযুক্তের অতীত কর্মকাণ্ড ও এফআইআরে কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে দেখা দরকার। যদি অভিযোগ গুরুতর ও অতীত রেকর্ড খারাপ হয় তাহলে জামিন দেওয়া উচিত নয়। তবে পুলিশ মামলার তদন্ত করে অভিযোগ দাখিলে বিলম্ব করলে জামিন পাওয়ার শক্ত গ্রাউন্ড তৈরি হয়।

এ ব্যাপারে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, প্রশ্ন ফাঁসকারী যে চক্রের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হয়েছে তারা কেউ দৃশ্যমান আয়ের উৎস দেখাতে পারেনি। কিন্তু নামে-বেনামে তাদের কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। যে ধারায় এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে সেটি জামিন অযোগ্য। মামলায় কোনো ধরনের ফাঁকফোকর নেই।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি ও পাবলিক পরীক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে যারা প্রশ্ন ফাঁস করে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন তাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে উত্তরা পশ্চিম থানায় চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে সিআইডি। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের যে ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে সেটাকে জামিন অযোগ্য মামলা বলছেন তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় মানি লন্ডারিং আইনে দায়ের করা মামলার এক নম্বর আসামি হলেন হাফিজুর রহমান। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বারঘরিয়ায়। তার হিসাব বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১০ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন তিনি। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে উত্তরপত্র সরবরাহ করে এ সম্পদ অর্জন করেন হাফিজুর। এক সময় তিনি একটি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। পরে তাকে ওই ব্যাংক থেকে বরখাস্ত করা হয়।

ওই মামলার দুই নম্বর আসামি ইব্রাহীমের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের জালালাবাদে। তার হিসাব বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ৩ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি টাকা অর্জন করেন তিনি। অবৈধ আয়ের অর্থ দিয়ে ইব্রাহীম একটি হোন্ডা ভেজেল গাড়ি কেনেন। যার নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৫-২৬৮৫। খুলনার মুজগুন্নী ও নড়াইলে জমি কিনে বাড়ি তৈরি করেন তিনি।

মামলার চার নম্বর আসামি মোস্তফা কামালের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার শলী বাজারে। প্রশ্ন ফাঁস চক্রে জড়িয়ে প্রায় কোটি টাকা অর্জন করেন তিনি। এরই মধ্যে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি স্বীকার করেছেন, ২০১৫-১৭ সালে বিভিন্ন ব্যাংক, সরকারি চাকরি এবং ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ক' ও 'ঘ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন সংগ্রহের পর প্রশ্নপত্রের উত্তর তৈরি করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মাধ্যমে বিতরণ করে অর্থ উপার্জন করেছেন তিনি।

৫ নম্বর আসামি আইয়ুব আলী বাঁধনের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ধর্মপুরে। প্রশ্ন ফাঁস চক্রে জড়িয়ে ৭০ লাখ টাকা অর্জন করেন তিনি। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ক' ও 'ঘ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ও ২০১৭ সালে আরও কয়েকটি ব্যাংকসহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি করে প্রশ্ন সংগ্রহের পর তা পরীক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করেন তিনি।

সিআইডি বলছে, জড়িতরা পরস্পর যোগসাজশে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে অর্থ উপার্জন করেন। তারা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ৪(২) ধারায় অপরাধ করেছেন। জামিনপ্রাপ্ত চারজন ছাড়া এ মামলার অপর চার আসামি হলেন- রিমন হোসেন, তাজুল ওরফে মুকুল, রাকিবুল হাসান এছামী ও অলিপ কুমার বিশ্বাস।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, প্রশ্ন ফাঁস করে এ চক্রের অনেকে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। ইব্রাহীম, হাফিজ, মোস্তফা, তাজুল ও বাঁধন সব নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির হোতা। সব মিলিয়ে তাদের ২০ কোটি টাকার সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা হাফিজের ব্যাংক হিসাব থেকে ১০ কোটি টাকার 'অস্বাভাবিক' লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৬ জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। এই চক্রের সদস্যদের মধ্যে ছাত্র, শিক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আছেন। তাদের কাছ থেকে প্রশ্ন পেয়ে পরীক্ষা দিয়ে যারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে এ ধরনের শতাধিক শিক্ষার্থীর নাম এসেছে।

যারা অভিযুক্ত :সিআইডি বলছে, এখন পর্যন্ত তদন্তে প্রশ্ন ফাঁসের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেকের নাম উঠে এসেছে।

ছাপাখানা থেকে প্রশ্ন ফাঁস সিন্ডিকেটের মাস্টারমাইন্ড নাটোরের সাবেক ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান এছামী। তার সহযোগী খান বাহাদুর, সাইফুল ইসলাম, সজীব ইসলাম, বনি ইসরাইল, আশরাফুল ইসলাম আরিফ, মারুফ হাসান। ডিজিটাল ডিভাইস জালিয়াত চক্রের হোতা ছয়জন। তারা হলেন- বিকেএসপির বরখাস্ত হওয়া ক্রীড়া কর্মকর্তা অলিপ কুমার বিশ্বাস, ৩৮তম বিসিএসে নন-ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত ইব্রাহীম মোল্যা, হাফিজুর রহমান হাফিজ, মাসুদুর রহমান তাজুল, বিএডিসির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল ও আইয়ুব আলী বাঁধন। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রে আরও যারা রয়েছেন তারা হলেন- মহীউদ্দিন রানা, আবদুল্লাহ আল মামুন, ইশরাক হোসেন রাফি, ফারজাদ সোবহান নাফি, আনিন চৌধুরী, নাভিদ আনজুম তনয়, এনামুল হক আকাশ, নাহিদ ইফতেখার, রিফাত হোসেন, বায়েজিদ, ফারদিন আহম্মেদ সাব্বির, তানভি আহম্মেদ, প্রসেনজিৎ দাস, আজিজুল হাকিম, তানভির হাসনাইন, সুজাউর রহমান, রাফসান করিম, আখিনুর রহমান অনিক, কদমতলীর ধনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাহাত ইসলাম, জাহিদ হোসেন, হাজারীবাগ শেখ রাসেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আবির ইসলাম নোমান, সুজন, তিতুমীর সরকারি কলেজের অনার্সের ছাত্র আল আমিন, সুফল রায় ওরফে শাওন, সাইদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ ও শেরপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

বিচারপতির স্ত্রীর কাছে ঘুষ চাওয়া এএসআইয়ের কারাদণ্ড


আরও খবর

বাংলাদেশ

  আদালত প্রতিবেদক

মিথ্যা পরিচয় দিয়ে এক বিচারপতির স্ত্রীর কাছে তার দুই সন্তানের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের (তথ্য যাচাই) জন্য ঘুষ দাবি করা পুলিশের এএসআই (বরখাস্ত) মো. সাদিকুল ইসলামকে পৃথক দুই ধারায় দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান বৃহস্পতিবার আসামির উপস্থিতিতে এ আদেশ দেন। বিচারক আসামিকে দণ্ডবিধির ৪১৯ ধারায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং দুদক আইনের ৫ (২) ধারায় আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

সাদিকুল ইসলাম ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গি থানার চড়োল গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি পুলিশের বিশেষ শাখায় কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা ইস্যু করে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের দুই সন্তানের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের জন্য তার বাসায় যান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। তবে আসল নাম ও পদবি গোপন করে নিজেকে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুস সালাম বলে পরিচয় দেন। সেদিন বিচারপতির স্ত্রী ডা. সাবরিনা মোনাজিলিনের কাছে তার দুই সন্তানের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের জন্য ২ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন তিনি। বিচারপতির স্ত্রী তখন যাতায়াত খরচ বাবদ তাকে ৫০০ টাকা বকশিশ দিতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ২ হাজার টাকা না দিলে হবে না।

পরে এ ঘটনায় একই বছরের ৩১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক রাহিলা খাতুন ২০১৭ সালের ৪ মে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলা চলাকালে বিভিন্ন সময়ে চারজন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

উন্নয়ন করতে গিয়ে মানুষের ক্ষতি যেন না হয়: প্রধানমন্ত্রী


আরও খবর

বাংলাদেশ

ছবি: ফোকাস বাংলা

  সমকাল প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নয়নটা যেন মানুষের জন্য হয়। উন্নয়ন করতে গিয়ে মানুষের ক্ষতি যেন না হয়। অনেক সময় দেখা যায়, প্রকল্প করতে গিয়ে মানুষের জমি অধিগ্রহণ করতে হয়। তারা যেন সময়মতো জমির যথাযথ মূল্য পান, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার মহেশখালী-মাতারবাড়ি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম প্রকল্পের উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের বিষয়বস্তু সাংবাদিকদের জানান প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহেশখালী-মাতারবাড়ি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম হলে পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একটা সময়ে কক্সবাজারে কিছুই ছিল না। পুরো কক্সবাজারে লবণ ও পান চাষ হত। ক্রমান্বয়ে উদ্যোগ নিয়ে কক্সবাজারকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

কক্সবাজারের জনগণের মতামত নিয়ে এ উন্নয়ন কাজ চলছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কক্সবাজারের বিরাট সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। এই অঞ্চলকে পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেখানে ঢাকা থেকে সরাসরি ট্রেন চালু হবে। বিমানবন্দরেরও উন্নয়ন করা হচ্ছে।

কক্সবাজারে ঠাঁই নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পন হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে সফল হতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাওয়ার হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব, প্রকল্পের জাপানি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীকে ঘিরে বড় ধরনের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। জাপানের সহায়তায় মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া হচ্ছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

সকালেই সড়কে ঝরল ৩ শিক্ষার্থীসহ ৪ প্রাণ


আরও খবর

বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার সকালে কামারখন্দে কাভার্ডভ্যান চাপায় এক কলেজছাত্র নিহতের ঘটনায় ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ছবি: সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক, খুলনা ব্যুরো, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার সকালেই সড়কে ঝরল তিন শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষকের প্রাণ। এর মধ্যে রাজধানীর কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় লরিচাপায় আব্দুর রাজ্জাক নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষক এবং খুলনার রূপসায় ইটবোঝাই ট্রলির চাপায় প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আঁখি মনি (৭) নিহত হয়েছে। এছাড়া সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ও নরসিংদীতে কাভার্ডভ্যান চাপায় হৃদয় (১৭) নামের এক কলেজছাত্র ও রাব্বি মিয়া নামের এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। 

কল্যাণপুর: বৃহস্পতিবার (২১) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর কল্যাণপুরে রাস্তা পার হওয়ার সময় লরিচাপায় প্রাণ হারান মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক। তার বাড়ি মেহেরপুর সদর এলাকায়। তিনি একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন বলে জানা গেছে। 

মিরপুর থানার এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, ভোরে কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন রাজ্জাক। এ সময় একটি তেলবাহী লরি তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

খুলনা: বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে রূপসা উপজেলার আনন্দনগর গ্রামে স্কুলের পাশের দোকানে খাবার কিনতে যাওয়ার সময় ট্রলিচাপায় নিহত হয় আঁখি মনি। এ ঘটনায় পুলিশ ট্রলিচালক মিলন শেখকে গ্রেফতার করেছে। আঁখি আনন্দনগর গ্রামের আকবর আলী সরদারের মেয়ে।

রূপসা থানা পুলিশের ওসি মোল্লা জাকির হোসেন জানান,  প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আঁখি স্কুল থেকে পাশের দোকানে খাবার কিনতে যাওয়ার সময় ট্রলিটি তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করেছে।

সিরাজগঞ্জ: বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যান কলেজছাত্র হৃদয়সহ তিন পথচারীকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই হৃদয়ের মৃত্যু হয়। 

হৃদয় বাজার ভদ্রঘাট গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে ও ধুকুরিয়া কারিগরি কলেজের ছাত্র। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা কাভার্ডভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন গিয়ে দেড় ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কামারখন্দ থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ৭টার সিরাজগঞ্জ-নলকা সড়কে কেমিক্যালবাহী একটি কার্ভাডভ্যান তিন পথচারীকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই হৃদয়ের মৃত্যু হয়। এরপরই বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কাভার্ডভ্যানটি আটক করে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সিরাজগঞ্জ-নলকা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে বিক্ষুদ্ধ জনতাকে বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে নিলে সকাল ৯টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। 

সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল হামিদ জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাভার্ডভ্যানটির আগুন নেভায়। 

নরসিংদী: সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর বারৈচা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কাভার্ডভ্যান চাপায় রাব্বি মিয়া নিহত ও তার এক বন্ধু আহত হয়। রাব্বি বেলাব উপজেলার হোসেন নগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ও হোসেন নগর গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে।

বেলাব থানার ওসি ফখরুদ্দিন ভূইঁয়া স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, রাব্বি মিয়া ও তার এক সহপাঠী সাইকেলে করে মহাসড়ক পার হচ্ছিলো। এ সময় ভৈরব থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যান তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই রাব্বির মৃত্যু হয়। আহতাবস্থায় তার সহপাঠীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সে আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। কাভার্ডভ্যানটি আটক করেছে হাইওয়ে পুলিশ।


সংশ্লিষ্ট খবর