বাংলাদেশ

 জনতা ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি

ক্রিসেন্ট গ্রুপের কাদেরসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ক্রিসেন্ট গ্রুপের কাদেরসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

  সমকাল প্রতিবেদক

জালিয়াতি করে জনতা ব্যাংকের ১ হাজার ৭৪৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ক্রিসেন্ট গ্রুপের কর্ণধার এমএ কাদেরসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান রোববার রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলাগুলো করেন। মামলার ২২ আসামির মধ্যে ক্রিসেন্ট গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক সাত জন ও জনতা ব্যাংকের ১৫ কর্মকর্তা রয়েছেন।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা, জাল কাগজপত্র তৈরি করে জালিয়াতি, পরস্পর যোগসাজশ, প্রতারণায় সহায়তা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ক্রিসেন্ট গ্রুপভুক্ত পাঁচটি কোম্পানিই ওই পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত।

মামলার আসামি ক্রিসেন্ট গ্রুপের সাত মালিক হলেন- ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টসের চেয়ারম্যান এমএ কাদের, পরিচালক সুলতানা বেগম, রেজিয়া বেগম, রূপালী কম্পোজিট লেদার ওয়্যারের পরিচালক সামিয়া কাদের নদী, রিমেপ ফুটওয়্যার লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিটুন জাহান মীরা এবং লেসকো লিমিটেডের পরিচালক হারুন-অর-রশীদ।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে আসামি করা হয়েছে ১৫ জনকে। তারা হলেন- জনতা ব্যাংকের নোট প্রস্তুতকারী এসও আব্দুল্লাহ আল মামুন, পরীক্ষণকারী এসও মো. মনিরুজ্জামান, সুপারিশকারী এসও মে. সাইদুজ্জামান, পিও মোহাম্মদ রুহুল আমীন, এসপিও (এপপোর্ট) ও অফিসার ইনচার্জ মাগরেব আলী, এসপিও ও ব্যবস্থাপক (ফরেন এপচেঞ্জ) খায়রুল আমিন, এজিএম আতাউর রহমান সরকার, ঋণ অনুমোদনকারী ডিজিএম রেজাউল করিম (বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের ডিএমডি), শাখা প্রধান ডিজিএম মুহাম্মদ ইকবাল, ডিজিএম একেএম আসুদুজ্জামান, ডিজিএম কাজী রইস উদ্দিন আহমেদ, জিএম জাকির হোসেন (বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের ডিএমডি) জিএম ফখরুল আলম (বর্তমানে কৃষি ব্যাংকের ডিএমডি), প্রধান কার্যালয়ের এসপিও বাহারুল আলম এবং ব্যাংকের এজিএম এসএম শরীফুল ইসলাম।

দুদক সূত্র জানায়, ওই পাঁচ মামলায় আসামির সংখ্যা ৮৩ জন হলেও এ ক্ষেত্রে ব্যক্তির সংখ্যা ২২ জন। অনিয়ম, দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে একই ব্যক্তিকে একাধিক মামলায় আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে ক্রিসেন্ট লেদারের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি ৬৯ লাখ ৪৪ হাজার ৮৯৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। ক্রিসেন্ট ট্যানারির বিরুদ্ধে ৬৮ কোটি ৩৪ লাখ ৯৫ হাজার ১২০ টাকা, লেসকো লিমিটেডের ৭৪ কোটি ৩৮ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৯ টাকা, রূপালী কম্পোজিট লেদারের ৪৫৪ কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৩৮৪ টাকা এবং রিমেপ ফুটওয়্যারের বিরুদ্ধে ৬৪৮ কোটি ১২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, রপ্তানি বিল কেনার ক্ষেত্রে প্রথম লেনদেনের আগে প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। এ ছাড়া বিক্রয় চুক্তির সঠিকতা নিশ্চিত হওয়া, তিন মাস অন্তর ক্রেতার ক্রেডিট রিপোর্ট সংগ্রহসহ কয়েকটি শর্ত পালন করতে হয়। কিন্তু জনতা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখায় এসব নির্দেশনা পালন করা হয়নি।

এর আগে ৯১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে ক্রিসেন্ট গ্রুপের এমএ কাদেরসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আলাদা তিনটি মামলা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। গত ৩০ জানুয়ারি মানিলন্ডারিং আইনে মামলাগুলো দায়ের করা হয়। ওই দিনই কাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

মন্তব্য


অন্যান্য