বাংলাদেশ

সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিতরণ ১৫ জানুয়ারি

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিতরণ ১৫ জানুয়ারি

  সমকাল প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। আগামী ১৫ জানুয়ারি দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে মনোনয়ন ফরম বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।

ওইদিন সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। শনিবার দলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ২৫৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। সে হিসাবে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে ৪৩টি পাবে ক্ষমতাসীন দলটি। 

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন-২০০৪ অনুযায়ী, প্রায় প্রতি ছয়টি আসনের জন্য একটি দল ও জোট একজন করে সংরক্ষিত নারী এমপি পাবে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

নাজমুল হুদার জামিন


আরও খবর

বাংলাদেশ
নাজমুল হুদার জামিন

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০১৯

নাজমুল হুদা -ফাইল ছবি

   সমকাল প্রতিবেদক

ঘুষ গ্রহণের মামলায় চার বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি পেয়েছেন মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। একই সঙ্গে আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে।

হাইকোর্টের দেওয়া সাজার রায়ের বিরুদ্ধে নাজমুল হুদার করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করে সোমবার এই আদেশ দেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে নাজমুল হুদার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ, মনসুরুল হক চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট সিগমা হুদা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

পরে খুরশীদ আলম খান জানান, তার (নাজমুল হুদা) লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেছেন। একইসঙ্গে জামিনও দিয়েছেন। এখন তার এ আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি জামিনে থাকবেন। আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে কারাগারে থাকা নাজমুল হুদার কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

ঘুষ গ্রহণের মামলায় ৬ জানুয়ারি ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন নাজমুল হুদা। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক এইচ এম রুহুল ইমরান। এরপর কারাগারে থেকেই তিনি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে লিভ টু আপিল আবেদন করেন।

নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২১ মার্চ দুদকের উপ-পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম ধানমণ্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এই মামলায় নাজমুল হুদাকে সাত বছরের সাজা দিয়েছিলেন নিম্ন আদালত। ২০১৭ সালে তার সাজা কমিয়ে চার বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট।

বিচারিক আদালত যেদিন রায় গ্রহণ করবেন, সেদিন থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে নাজমুল হুদাকে আত্মসমর্পণের কথা বলা হয়েছে। গত বছরের ১৮ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৬৭ পৃষ্ঠার রায়টি প্রকাশ পায়। রায় অনুসারে গত ৬ জানুয়ারি আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

এমসি কলেজ ছাত্র সংসদ ভবনই বেদখলে


আরও খবর

বাংলাদেশ

কলেজে জাগুক প্রাণ

এমসি কলেজ ছাত্র সংসদ ভবনই বেদখলে

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চয়ন চৌধুরী, সিলেট

প্রায় তিন দশক পর দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু নির্বাচনের তোড়জোড়। এ হাওয়া লেগেছে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও। ঐতিহ্যবাহী এবং নামি কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরাও এখন নির্বাচনের দাবিতে সরব। তারা চান, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সব স্থবিরতা কাটিয়ে ক্যাম্পাসে জাগবে প্রাণ

১৯৯১ সাল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তখন সরকার গঠন করেছে বিএনপি। অন্যদিকে সিলেটের প্রাচীনতম এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ও গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী মুরারীচাঁদ কলেজ (এমসি কলেজ) ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে আওয়ামী লীগ ও জাসদ সমর্থিত ছাত্রলীগের নেতৃত্বাধীন সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য। কিন্তু ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে শুরু করল কলেজের পরিবেশ। এ পরিস্থিতিতে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাত এড়াতে কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করল। তার পর দীর্ঘ ২৭ বছরে আর নির্বাচন হয়নি ঐতিহ্যবাহী এ কলেজটিতে। ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ হয়ে  যাওয়ার কয়েক বছর পর থেকে এর কার্যালয়ও ব্যবহূত হতে শুরু করেছে ভিন্ন কাজে। অবশ্য কার্যালয়ের দ্বিতল ভবনটির সামনে ছাত্র সংসদের সাইনবোর্ডটি আজও ঝুলছে। তবে ভেতরে চলছে ইংরেজি বিভাগের অফিস ও সেমিনার কক্ষের কাজ। তিন বছর আগে ভবন সংকটের অজুহাতে ছাত্র সংসদ কার্যালয় ভবনে স্থাপন করা হয় ইংরেজি বিভাগের অফিস ও সেমিনার কক্ষ। এক দশক আগে ছাত্র সংসদের ওপরতলায় বিদেশি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এই বেদখল পর্বের শুরু।

ছাত্র সংসদ কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও মহাবিদ্যালয়টির ১৪ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রতি বছর ছাত্র সংসদের জন্য নির্ধারিত ফি ঠিকই দিতে হচ্ছে। এক সময় এই ফি ছিল ১০ টাকা। কয়েক বছর ধরে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২৫ টাকা। গত আড়াই দশকে এ খাতে জমা হওয়া টাকা কোন কাজে লাগছে, ছাত্র সংসদ কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও ফি বাড়ানোর কারণ কী- এসব নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অবশ্য কলেজের অধ্যক্ষ নিতাই চন্দ্র চন্দ জানাচ্ছেন, ছাত্র সংসদের ফি বাবদ নেওয়া টাকা নির্ধারিত খাতেই জমা রয়েছে।

রাজা গিরীশ চন্দ্র রায় ১৮৯২ সালে নগরীর টিলাগড় ও বালুচর এলাকায় ১২৪ একর জমিতে প্রমাতামহ মুরারীচাঁদের নামে এ মহাবিদ্যালয় স্থাপন করেন। তখন এটি ছিল অখণ্ড ভারতের আসামের প্রথম কলেজ। ১৯৩২ সালে এ কলেজে ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্র তৈরি করে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। কাল পরিক্রমায় এ কলেজের অনেক শিক্ষার্থীই জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে উঠেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত আবদুস সামাদ আজাদ, সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী প্রয়াত সাইফুর রহমান, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। অথচ দীর্ঘ আড়াই দশকের বেশি সময় ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ থাকায় রুদ্ধ হয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী এ কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব গঠন ও গণতান্ত্রিক চর্চার প্রক্রিয়া।

সরেজমিন এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, লাইব্রেরি ও শহীদ মিনারের মধ্যে ছাত্র সংসদ ভবনে চলছে বিদেশি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ইংরেজি বিভাগের অফিস ও সেমিনার কক্ষের কার্যক্রম। ইংরেজি বিভাগের অফিস সহকারী অরবিন্দ তালুকদার সমকালকে জানান, কলেজটির ইংরেজি বিভাগের নিজস্ব ভবন নেই। শ্রেণিকক্ষেরও সংকট রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ২০১৫ সাল থেকে ছাত্র সংসদ ভবনে বিভাগের অফিস ও সেমিনার কক্ষ নিয়ে আসা হয়। তিনি জানান, তারা আসার আগে থেকেই এখানে বিদেশি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কার্যক্রম চলছিল।

সম্প্রতি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি উঠতে শুরু করেছে। এ প্রসঙ্গে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের এমসি কলেজ শাখার আহ্বায়ক সাদিয়া নওশীন তাসমিন সমকালকে বলেন, কলেজে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুনিশ্চিত করতে কার্যকর ছাত্র সংসদ প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের অগণতান্ত্রিক হস্তক্ষেপে অন্যদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ছাত্র সংসদ গঠিত হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরে আসবে। তিনি বলেন, সংসদ ভবন বেদখল হয়ে গেছে। অথচ প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংসদ ফি নেওয়া হচ্ছে। এর তহবিলে কত টাকা জমা হয়েছে, তা কোনো কাজে ব্যবহূত হচ্ছে কি-না- এসবের স্বচ্ছ জবাবদিহি প্রয়োজন।

ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বাম ঘরানার দলগুলো কিছুটা সরব হলেও এ কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য মেলেনি। তবে বিভিন্ন ফোরামে বিভিন্ন সময়ে এ নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে দাবি তুলছেন ছাত্রলীগের নেতারা। ২০০৩ সালে তাজিম উদ্দিনকে সভাপতি ও সাইফুল ইসলাম টিপুকে সাধারণ সম্পাদক করে কলেজ ছাত্রলীগের সর্বশেষ কমিটি হয়েছিল। ২০১০ সালের ১৩ জুলাই ছাত্রলীগ কর্মী উদয়ন সিংহ পলাশ হত্যার পর এ কমিটি বাতিল করা হয়।

এমসি কলেজে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একটি আংশিক কমিটি রয়েছে। এ কমিটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কলেজ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ নেই। তার পরও শিক্ষা ও গণতন্ত্র চর্চার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে তারা চান ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেওয়া হোক।

সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক স্কুলছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও মুরারীচাঁদ কলেজের ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হোসাইন আহমদ সমকালকে বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারব না। তার পরও চাই নির্বাচন হোক। কারণ নতুন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, প্রাচীন এ কলেজে যেমন অনেক সংকট রয়েছে, তেমনি সম্ভাবনাও রয়েছে। ছাত্রলীগ বরাবরই সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবিতে সরব। তার পরও বলব, ছাত্র সংসদ থাকলে ভালো হতো।

কলেজের ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেওয়া হোক- এটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি। ক্যাম্পাসে লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে ছাত্র সংসদের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ নির্বাচন হলে কলেজে প্রাণ ফিরে আসবে।

এমসি কলেজ ছাত্রদলের তিন সদস্যের কমিটির প্রথম সদস্য রুবেল ইসলাম সমকালকে বলেন, ছাত্রলীগের দৌরাত্ম্যে কলেজ ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের পরিবেশ নেই। পরীক্ষা থাকলেও ছাত্রদলের কেউ ক্যাম্পাসে যেতে পারে না। গেলেই হামলা-মারধর করা হয়। নির্বাচনের পরিবেশ ও প্রক্রিয়া নিয়ে শঙ্কা থাকার পরও ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া আদায়ের স্বার্থে ছাত্র সংসদ চায় বলে মন্তব্য করেন রুবেল। ছাত্র ইউনিয়নের কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার আহমদ বলেন, সবার প্রত্যাশা ছাত্র সংসদ নির্বাচন।

ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবির সঙ্গে কর্তৃপক্ষ একমত- এ কথা জানিয়ে এমসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নিতাই চন্দ্র চন্দ দাবি করেন, এক বছর আগেই বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের এ নির্বাচন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অবশ্য এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক হয়নি, তবে বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা হয়েছে। এখন যেহেতু ডাকসু নির্বাচনের কথা হচ্ছে; আশা করি, এমসি কলেজেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে। ছাত্র সংসদ ভবনে অন্য বিভাগের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলে বসার জন্য সুবিধামতো কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

দাবি আদায়ে পিছিয়ে ইডেনের শিক্ষার্থীরা


আরও খবর

বাংলাদেশ

কলেজে জাগুক প্রাণ

দাবি আদায়ে পিছিয়ে ইডেনের শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাজিদা ইসলাম পারুল

প্রায় তিন দশক পর দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু নির্বাচনের তোড়জোড়। এ হাওয়া লেগেছে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও। ঐতিহ্যবাহী এবং নামি কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরাও এখন নির্বাচনের দাবিতে সরব। তারা চান, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সব স্থবিরতা কাটিয়ে ক্যাম্পাসে জাগবে প্রাণ

প্রসঙ্গত, আশির দশক ও নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রমৈত্রীসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন। পরবর্তী সময়ে ছাত্রশিবিরের অব্যাহত সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তাদের মধ্যে ঐক্য গড়ে ওঠে। ওই সময় শিবিরের হাতে এককভাবে ছাত্রদলের নেতাকর্মী বেশি খুন হয়েছেন। আবার একইভাবে আট বছরব্যাপী আন্দোলনে স্বৈরাচার এরশাদের হাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই বেশি জীবন দিয়েছেন। ১৯৮৮ সালের ২৪ মার্চ চট্টগ্রামে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মিছিলে গুলি চালিয়ে একদিনে ২৪ জনকে হত্যা করা হয়েছিল। সে সময় ছাত্র সংগঠনগুলো আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর ইসলামী ছাত্রশিবির ছাড়া আন্দোলনকারী সবক'টি ছাত্র সংগঠন মিলে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য গড়ে তোলার পরই এরশাদবিরোধী আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়।
সাবেক ছাত্রনেতাদের মতে, ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রচর্চার সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করতে হলে ডাকসুসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদের নির্বাচন দেওয়া জরুরি। কারণ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিবিদ, নেতা তৈরি হয়। অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ না থাকলে এই দীর্ঘ বছরে অনেক নেতা তৈরি হতো।

তবে ইডেন মহিলা কলেজ শাখার আহ্বায়ক তাছলিমা আক্তার আশা প্রকাশ করে বলেন, 'আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুনভাবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন শুরু হবে। সেই প্রক্রিয়ার কথা শুনছি। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ছাত্র সংসদ নির্বাচন জরুরি।'

বর্তমান ছাত্ররাজনীতি নিয়ে ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও বর্তমান বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের যুগ্ম সম্পাদক জেদ্দা পারভীন খান রিমি বলেন, 'বর্তমানে ছাত্ররাজনীতি আর আগের মতো নেই। আমরা সে সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরতাম। তা সমাধানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতাম। মূলত ছাত্ররাজনীতি থেকেই রাজনীতিবিদ তৈরি হয়।'

ছাত্ররাজনীতির শুরুর দিকের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'আমাদের ছাত্ররাজনীতির সময়কালকে বলা হয় স্বর্ণযুগ। ছাত্ররাজনীতি বলতে যা বোঝায়, তার প্রকৃত স্বাদ উপভোগ করেছি আমরা। সে সময় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজে রাজনীতি ছিল। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন আশি ও নব্বই দশকের ছাত্ররাজনীতিও টিকে থাকবে।

ইডেন মহিলা কলেজের সর্বশেষ ভিপি ছিলেন হেলেন জেরিন খান। সাবেক এই ছাত্রনেত্রী জানান, ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন তিনি। নব্বইয়ের দশকে তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্ররাজনীতির অংশ হিসেবে তিনিও সম্পৃক্ত ছিলেন। দীর্ঘ ছাত্ররাজনীতির পরেই জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।

এদিকে, ছাত্র সংসদ না থাকায় প্রশাসন শিক্ষার্থী-সংশ্নিষ্ট সব বিষয়ে নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেয় বলে অভিযোগ করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ইডেন কলেজ শাখার সভাপতি নবীনা আখতার। তিনি বলেন, 'কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন বোধ করে না। তাই ছাত্র সংসদের কোনো বিকল্প নেই।' দীর্ঘদিন ধরে ইডেনে নির্বাচন না হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'শাসকগোষ্ঠী কখনও চায় না নির্বাচন হোক। কারণ এতে শিক্ষার্থীদের কথা বলার জায়গা তৈরি হয়। প্রশাসন একমুখী সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।' নির্বাচনের জন্য ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্নেষকদের মতে, প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর মধ্যে রাজনীতির বীজ বপন হয় ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে। ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় রাজনীতিবিদ তৈরি থেকে বিরত রাখা হচ্ছে যোগ্য ছাত্রনেতাদের। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগামীতে দেশ গড়ার জন্য যোগ্য নেতৃত্ব গঠন করতে ছাত্র সংসদের বিকল্প নেই। অথচ নব্বইয়ের কিংবা তার আগের ছাত্র আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাদের বেশিরভাগই ছিলেন বিভিন্ন ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি। সামরিক স্বৈরাচারের আমলে ডাকসুসহ দেশের ছাত্র সংগঠনগুলোর নির্বাচন হলেও নব্বই-পরবর্তী গণতান্ত্রিক আমলে সেই পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত ২৮ বছরে কোথাও কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয়নি।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে নব্বইয়ের স্বৈরশাসকবিরোধী আন্দোলনে অবদান রাখা ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রয়েছে ২৮ বছর। অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে না। অথচ ষাট ও আশির দশকের আন্দোলনে মূল ভূমিকা ছিল ইডেন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের। ওই সময় ছাত্র সংগঠনগুলো যখনই ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, আন্দোলন গতি পেয়েছে। একক কোনো সংগঠন চেষ্টা করেও আন্দোলনে ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারেনি। দীর্ঘ বছর এই নির্বাচন না হওয়ায় অধিকার আদায়ে পিছিয়ে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। রাতের আঁধারেই ছাত্র সংগঠনের নেতাদের মত উপেক্ষা করে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন আইন প্রণয়ন এবং তা প্রয়োগ করছে। যেসব আইন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের অধিকারবিরোধী।


সংশ্লিষ্ট খবর