বাংলাদেশ

অগ্রাধিকার খাত ৫ নারী উন্নয়ন

সম্পদে নারীর সমান অধিকার চাই

বিশেষ সাক্ষাৎকার : রোকেয়া কবীর

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পদে নারীর সমান অধিকার চাই

  নাহিদ তন্ময়

নারীর ক্ষমতায়ন, সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক পরিকল্পনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তবে তার ক্ষমতায়নের প্রথম ও প্রধান শর্ত, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। আর এ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই সম্পদে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সমকালের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত নারীর অধিকার আদায় আন্দোলনে সক্রিয় নারীনেত্রী রোকেয়া কবীর এ কথা বলেছেন।

তিনি বলেছেন, সমাজ, পরিবার, রাষ্ট্র সবক্ষেত্রে সমানভাবে ক্ষমতায়িত হলে নারীর প্রতি সহিংসতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। সরকার নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে আইন প্রণয়নসহ অনেক ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করছে। তারপরও প্রশ্ন উঠছে, এসব পদক্ষেপ নারীর ক্ষমতায়ন বা উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখছে। কারণ পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্র কোনোখানেই বৈষম্য নারীর পিছু ছাড়ছে না।

নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক, মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবীর বলেন, বর্তমানে নারীর ক্ষমতায়নকে সামাজিক উন্নয়নের সূচক হিসেবে ধরা হয়। স্বীকার করতেই হয় আওয়ামী লীগ সরকার নারীর ক্ষমতায়নে-উন্নয়নে রেকর্ড পরিমাণ কাজ করেছে। এই সরকার নারীবান্ধব সরকার। মোটাদাগে বললে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মক্ষেত্র সর্বত্রই নারীর অগ্রসর দৃশ্যমান। তবে সরকার বা বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য বিশ্নেষণ করলেই এ-ও দেখা যায়, সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় নারীর অংশগ্রহণ নেই। আসলে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকার জরুরি। চলমান কাজের ধারার কিছু পরিবর্তন জরুরি। আর বৈষম্য নিরসন করে ক্ষমতায়ন ঘটানোর সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হলো, সম্পদে নারীর সমান অধিকার। রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকলে সরকারের পক্ষে এ ধরনের কাজ করা অনেকটাই সহজ হয়। আর বৈষম্যের বীজ রোপণ হয় পরিবার থেকে- সম্পদে সমান অধিকার না থাকার কারণে। দেশের পারিবারিক আইনগুলোতে এখনও সম্পত্তির উত্তরাধিকার, বিয়ে, বিয়ে বিচ্ছেদ, সন্তানের অভিভাবকত্ব- সব ক্ষেত্রেই নারীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।

রোকেয়া কবীর বলেন, পারিবারিক আইন এখনও ধর্মভিত্তিক রয়ে গেছে- এটা বৈষম্যমূলক। এ ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলেরই দায়বদ্ধতা রয়েছে। তবে তারপরও বলি, এ নিয়ে আমার মধ্যে হতাশা নেই। নিশ্চয়ই সব ধরনের বৈষম্যের নিরসন হবে, নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত হবে। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সেই আন্দোলনের সময় থেকে শুরু বর্তমান সময় পর্যন্ত বিশ্নেষণ করলে এ বিশ্বাস আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সংস্থার জরিপের উদাহরণ দিয়ে রোকেয়া কবীর জানান, কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও শীর্ষপদে নারীর উপস্থিতি কম। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ যেমন বেশি, বঞ্চনাও প্রচুর। কর্মক্ষেত্রে শীর্ষপদে নারী নিয়োগের হার সর্বোচ্চ ছয় থেকে সাত শতাংশ। সিদ্ধান্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে। মূলত গার্মেন্ট সেক্টরেই নারীর অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি। এর অন্যতম কারণ পুরুষের তুলনায় নারীকে কম বেতনে নিয়োগ করা যায়। যেখানে বেতন কম, সেখানেই নারী শ্রমিক বেশি। এটা নারী পুরুষের দৃশ্যমান একটি বৈষম্য। শহরের তুলনায় গ্রামের নারীরা ভয়ঙ্করভাবে এ বৈষম্যর শিকার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হলো, নারী পুরুষের বৈষম্য কমিয়ে আনা। এ চেতনাকে ধারণ করে এ বৈষম্য কমিয়ে আনতে হবে। এ জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।

নারীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় মৌলবাদ ভয়ঙ্করভাবে কাজ করছে জানিয়ে রোকেয়া কবীর বলেন, ওয়াজ-মাহফিল এমনকি মসজিদের খুতবায়ও এক শ্রেণির ধর্মান্ধ নারীর বিরুদ্ধে নানা কথা বলে আর উপস্থিত পুরুষরাও খুব মনোযোগ দিয়ে এসব বক্তব্য শোনে। নারীর বিরুদ্ধে ওয়াজ মাহফিলে যেভাবে কথা বলা হয়, তা যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে বলা হতো, তবে পুরুষ সমাজ মুহূর্তেই সে আয়োজন বন্ধ করে দিত। মূলত পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার কারণেই নানা ফরমেটে একটি গোষ্ঠী নারীর বিরুদ্ধে কথা বলছে। এ গোষ্ঠী ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীকে সব কাজে ব্যবহার করে। তারাই আবার ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীকে সম্পদের সমানাধিকার থেকে বঞ্চিত করে, নির্যাতন করে। এ অবস্থা পাল্টাতে পাঠ্যপুস্তকে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয়, এমন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মানসিকতার পরিবর্তনের জন্য সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ব্যাপকহারে বাড়াতে হবে।

নারীর জন্য কোটা সংরক্ষণ সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রোকেয়া কবীর বলেন, দেশে নারীর এই দৃশ্যমান অগ্রগতির পেছনে কোটা একটি বড় ভূমিকা রেখেছে। সামাজিক-পারিবারিক অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে নারীরা পড়াশোনা করেন। সভা-সেমিনারে ও সামাজিক ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণেও রয়েছে নানা বাধা। তাই চাকরিতে নারীর জন্য কোটা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের শর্তের বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, ২০২০ সালের মধ্যে সব ধরনের রাজনৈতিক কমিটিতে ৩৩ শতাংশ পদে নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। নারী অধিকার আদায়ে আন্দোলনরত সংগঠনগুলোও দীর্ঘদিন ধরে এ দাবি জানিয়ে আসছে। এ প্রসঙ্গে রোকেয়া কবীর জানান, শুধু দাবি নয়- রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এ নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। এমনকি নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। কথায় ও আলোচনায় এ নিয়ে সব পক্ষ ইতিবাচক থাকলেও বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। তিনি জানান, অন্য দলগুলোর তুলনায় আওয়ামী লীগের কমিটিতে নারীর উপস্থিতি বেশি। প্রায় ২০ শতাংশের কাছাকাছি; কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ এবং মন্ত্রিসভা তাদের হতাশ করেছে। আওয়ামী লীগের মতো একটি বড় দল সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মাত্র ১৯ জন নারীকে মনোনয়ন দিয়েছিল। আর দলটির গঠন করা সরকারের মন্ত্রিসভায় মাত্র ৩ জন নারী। এটাকে হতাশাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাই এ জন্য দায়ী।

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ সম্পর্কে জানতে চাইলে এ আইনভুক্ত বিশেষ বিধানের ব্যাপারে ঘোর আপত্তি তোলেন দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এ নারী নেত্রী। তিনি বলেন, নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তার সময়েই মেয়েদের বিয়ের বয়স ২২ বছর হওয়া উচিত বলে মনে করেছিলেন। অথচ এত বছর পরও মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ নির্ধারণ করে তার ভেতর আবার বিশেষ বিধান জুড়ে দেওয়া হয়। পারিপার্শ্বিকতা বিশ্নেষণ করলে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, পরিবারে নারী হওয়ার কারণেই তাদের নির্যাতিত হতে হয়।

রোকেয়া কবীর বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে অন্তত ১৫টি আইন-বিধি রয়েছে। তারপরও সহিংসতা বন্ধ হচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ আইনের কঠোর প্রয়োগ নেই। তা ছাড়া সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনও জরুরি। তিনি বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭৫ সালের পর যখন বিভিন্ন দেশে যেতাম সেখানকার মানুষ প্রশ্ন করত, তোমরা কেমন জাতি- নিজেদের নেতাকে নিজেরাই হত্যা কর? তখন লজ্জায় কথা বলতে পারতাম না। আর এখন সবাই প্রশ্ন করে, যে দেশে প্রধানমন্ত্রী নারী, স্পিকার নারী, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা নারী, সে দেশে এত নারী নির্যাতন হয় কীভাবে। এ প্রশ্নেও লজ্জিত হই।

জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা, ১৯৯৭-এর কিছু জায়গায় পরিবর্তন করে ২০১১ সালে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা পুনর্গঠন করা হয়। রোকেয়া কবীর বলেন, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা ১৯৯৭ সবার প্রশংসা পেয়েছিল। এ নীতিমালায় সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে এতে কিছু পরিবর্তন এনে পুনর্গঠন করা হয়েছিল। অথচ দীর্ঘ আট বছরে সেই নীতিমালারও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ঘটেনি। এর একটি অন্যতম কারণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের তুলনায় অপেক্ষাকৃত দুর্বল। এ কারণেই আমরা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় করার দাবি জানিয়ে আসছি।

সদ্য গঠিত সরকারের কাছে কোনো প্রত্যাশা রয়েছে কি-না, তা জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবীর বলেন, নিশ্চয়ই আছে। দীর্ঘদিনের এমন চাওয়ার মধ্যে রয়েছে উত্তরাধিকারে নারীদের সমান অধিকার দেওয়া হোক। সেই সঙ্গে নারী উন্নয়ন নীতি ২০০৩-০৪-এ সমানাধিকারের যে বিষয়গুলো অপসারণ করা হয়েছে, সেগুলো আবার যোগ করা হোক। নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে পূর্ণ মন্ত্রণালয় ঘোষণা করার পাশাপাশি বাজেটে একটা সুর্নিদিষ্ট অংশ নারীর জন্য বরাদ্দ করা হোক। একটি জাতীয় নারী কমিশন গঠনের দাবিও রয়েছে তার- যেটি নারীর প্রতি যে কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আইন, নীতি এবং কার্যক্রম রাষ্ট্র কিংবা অন্য যেই করুক না কেন- তাদের মনিটর করবে। তিনি বলেন, এ দেশের বিচার ব্যবস্থা, পুলিশি ব্যবস্থা বা নির্যাতনের বিষয়গুলো যারা দেখেন, তারা সবাই কমবেশি পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার। তারা মনে করেন না, নারীর প্রতি সহিংসতা সাংঘাতিক ব্যাপার। এমনকি বিভিন্ন মামলার আইনজীবীদের অনেকেরই দৃষ্টিভঙ্গি এমন। নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার জন্য একটা কমিশন থাকলে তারা এসব ইস্যু সামনে আনতে পারবে।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

বিচারপতির স্ত্রীর কাছে ঘুষ চাওয়া এএসআইয়ের কারাদণ্ড


আরও খবর

বাংলাদেশ

  আদালত প্রতিবেদক

মিথ্যা পরিচয় দিয়ে এক বিচারপতির স্ত্রীর কাছে তার দুই সন্তানের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের (তথ্য যাচাই) জন্য ঘুষ দাবি করা পুলিশের এএসআই (বরখাস্ত) মো. সাদিকুল ইসলামকে পৃথক দুই ধারায় দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান বৃহস্পতিবার আসামির উপস্থিতিতে এ আদেশ দেন। বিচারক আসামিকে দণ্ডবিধির ৪১৯ ধারায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং দুদক আইনের ৫ (২) ধারায় আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

সাদিকুল ইসলাম ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গি থানার চড়োল গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি পুলিশের বিশেষ শাখায় কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা ইস্যু করে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের দুই সন্তানের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের জন্য তার বাসায় যান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। তবে আসল নাম ও পদবি গোপন করে নিজেকে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুস সালাম বলে পরিচয় দেন। সেদিন বিচারপতির স্ত্রী ডা. সাবরিনা মোনাজিলিনের কাছে তার দুই সন্তানের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের জন্য ২ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন তিনি। বিচারপতির স্ত্রী তখন যাতায়াত খরচ বাবদ তাকে ৫০০ টাকা বকশিশ দিতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ২ হাজার টাকা না দিলে হবে না।

পরে এ ঘটনায় একই বছরের ৩১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক রাহিলা খাতুন ২০১৭ সালের ৪ মে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলা চলাকালে বিভিন্ন সময়ে চারজন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

উন্নয়ন করতে গিয়ে মানুষের ক্ষতি যেন না হয়: প্রধানমন্ত্রী


আরও খবর

বাংলাদেশ

ছবি: ফোকাস বাংলা

  সমকাল প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নয়নটা যেন মানুষের জন্য হয়। উন্নয়ন করতে গিয়ে মানুষের ক্ষতি যেন না হয়। অনেক সময় দেখা যায়, প্রকল্প করতে গিয়ে মানুষের জমি অধিগ্রহণ করতে হয়। তারা যেন সময়মতো জমির যথাযথ মূল্য পান, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার মহেশখালী-মাতারবাড়ি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম প্রকল্পের উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের বিষয়বস্তু সাংবাদিকদের জানান প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহেশখালী-মাতারবাড়ি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম হলে পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একটা সময়ে কক্সবাজারে কিছুই ছিল না। পুরো কক্সবাজারে লবণ ও পান চাষ হত। ক্রমান্বয়ে উদ্যোগ নিয়ে কক্সবাজারকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

কক্সবাজারের জনগণের মতামত নিয়ে এ উন্নয়ন কাজ চলছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কক্সবাজারের বিরাট সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। এই অঞ্চলকে পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেখানে ঢাকা থেকে সরাসরি ট্রেন চালু হবে। বিমানবন্দরেরও উন্নয়ন করা হচ্ছে।

কক্সবাজারে ঠাঁই নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পন হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে সফল হতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাওয়ার হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব, প্রকল্পের জাপানি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীকে ঘিরে বড় ধরনের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। জাপানের সহায়তায় মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া হচ্ছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

সকালেই সড়কে ঝরল ৩ শিক্ষার্থীসহ ৪ প্রাণ


আরও খবর

বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার সকালে কামারখন্দে কাভার্ডভ্যান চাপায় এক কলেজছাত্র নিহতের ঘটনায় ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ছবি: সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক, খুলনা ব্যুরো, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার সকালেই সড়কে ঝরল তিন শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষকের প্রাণ। এর মধ্যে রাজধানীর কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় লরিচাপায় আব্দুর রাজ্জাক নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষক এবং খুলনার রূপসায় ইটবোঝাই ট্রলির চাপায় প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আঁখি মনি (৭) নিহত হয়েছে। এছাড়া সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ও নরসিংদীতে কাভার্ডভ্যান চাপায় হৃদয় (১৭) নামের এক কলেজছাত্র ও রাব্বি মিয়া নামের এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। 

কল্যাণপুর: বৃহস্পতিবার (২১) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর কল্যাণপুরে রাস্তা পার হওয়ার সময় লরিচাপায় প্রাণ হারান মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক। তার বাড়ি মেহেরপুর সদর এলাকায়। তিনি একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন বলে জানা গেছে। 

মিরপুর থানার এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, ভোরে কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন রাজ্জাক। এ সময় একটি তেলবাহী লরি তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

খুলনা: বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে রূপসা উপজেলার আনন্দনগর গ্রামে স্কুলের পাশের দোকানে খাবার কিনতে যাওয়ার সময় ট্রলিচাপায় নিহত হয় আঁখি মনি। এ ঘটনায় পুলিশ ট্রলিচালক মিলন শেখকে গ্রেফতার করেছে। আঁখি আনন্দনগর গ্রামের আকবর আলী সরদারের মেয়ে।

রূপসা থানা পুলিশের ওসি মোল্লা জাকির হোসেন জানান,  প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আঁখি স্কুল থেকে পাশের দোকানে খাবার কিনতে যাওয়ার সময় ট্রলিটি তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করেছে।

সিরাজগঞ্জ: বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যান কলেজছাত্র হৃদয়সহ তিন পথচারীকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই হৃদয়ের মৃত্যু হয়। 

হৃদয় বাজার ভদ্রঘাট গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে ও ধুকুরিয়া কারিগরি কলেজের ছাত্র। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা কাভার্ডভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন গিয়ে দেড় ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কামারখন্দ থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ৭টার সিরাজগঞ্জ-নলকা সড়কে কেমিক্যালবাহী একটি কার্ভাডভ্যান তিন পথচারীকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই হৃদয়ের মৃত্যু হয়। এরপরই বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কাভার্ডভ্যানটি আটক করে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সিরাজগঞ্জ-নলকা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে বিক্ষুদ্ধ জনতাকে বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে নিলে সকাল ৯টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। 

সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল হামিদ জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাভার্ডভ্যানটির আগুন নেভায়। 

নরসিংদী: সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর বারৈচা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কাভার্ডভ্যান চাপায় রাব্বি মিয়া নিহত ও তার এক বন্ধু আহত হয়। রাব্বি বেলাব উপজেলার হোসেন নগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ও হোসেন নগর গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে।

বেলাব থানার ওসি ফখরুদ্দিন ভূইঁয়া স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, রাব্বি মিয়া ও তার এক সহপাঠী সাইকেলে করে মহাসড়ক পার হচ্ছিলো। এ সময় ভৈরব থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যান তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই রাব্বির মৃত্যু হয়। আহতাবস্থায় তার সহপাঠীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সে আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। কাভার্ডভ্যানটি আটক করেছে হাইওয়ে পুলিশ।


সংশ্লিষ্ট খবর