বাংলাদেশ

প্রতিদিন নিষ্ঠুরতার শিকার ১৪ শিশু

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদকের কুফল সামাজিক অবক্ষয় ও শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় বাড়ছে নৃশংসতা

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিদিন নিষ্ঠুরতার শিকার ১৪ শিশু

  আতাউর রহমান

যশোরের মনিরামপুর থেকে গত রোববার অপহৃত হয় স্কুলছাত্র তারিফ হোসেন (৯)। মুক্তিপণের জন্য দাবি করা হয় পাঁচ লাখ টাকা। এ নিয়ে মামলা হওয়ার পর পুলিশের উদ্ধার অভিযানের মধ্যে ৯ জানুয়ারি বুধবার ভোরে 'বন্দুকযুদ্ধে' মারা যায় এক অপহরণকারী। তবে শিশু তারিফকে জীবিত উদ্ধার করা যায়নি। মনিরামপুরের সাতনল এলাকার কালভার্টের নিচে পাওয়া যায় তার লাশ। শুধু যশোরের তারিফ নয়, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভয়ানক নিষ্ঠুরতায় মারা গেছে একাধিক শিশু। একটি ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটছে আরেকটি বীভৎস ঘটনা।

মানবাধিকারকর্মী ও অপরাধ বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাদকের ভয়াবহতা, সামাজিক অবক্ষয়, দ্রুত সুবিচারের সংস্কৃতি চালু না হওয়া এবং অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারায় বীভৎস ও বিকৃত নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে শিশুদের। শিশু সুরক্ষায় রাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট কৌশল না থাকায়, বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায়, পারিবারিক এবং সামাজিক অস্থিরতা ও অসতর্কতায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত ৫ জানুয়ারি শনিবার পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় দুই বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় বাড়ির মালিক। এর পর শিশুটিকে তিনতলার বারান্দা থেকে ছুড়ে ফেলে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় এলাকার লোকজন ফুঁসে ওঠে। এর মাত্র একদিন পর ৭ জানুয়ারি ঢাকার ডেমরায় দুই শিশুর ওপরও নেমে আসে বীভৎস নিষ্ঠুরতা। ওই এলাকার কোনাপাড়ায় স্কুলপড়ূয়া পাঁচ বছর বয়সী দুই ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় দুই প্রতিবেশী। শিশু দুটি চিৎকার করলে তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। একই দিন রাতে ঢাকার তুরাগ এলাকায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এর আগের দিন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় ধর্ষণের পর তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে পানিতে ফেলে হত্যা করা হয়।

নতুন বছরের শুরুতেই একের পর এক এমন নিষ্ঠুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও হতবিহ্বল অভিভাবকরা। অবশ্য পরিসংখ্যান বলছে, আগের বছরগুলোতেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের ওপর এমন বীভৎসতা, পাশবিকতা আর বড়দের হাতে নিষ্ঠুরতার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের (বিএসএএফ) গত বছরের পরিসংখ্যান বিশ্নেষণে দেখা গেছে, মাসে অন্তত ৪০৮ শিশু নানা ধরনের নিষ্ঠুর অপরাধের শিকার হয়। সে হিসেবে দিনে অন্তত ১৪ শিশু নানা নিষ্ঠুরতার শিকার হচ্ছে। শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলছেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে তৈরি করা ওই পরিসংখ্যানের বাইরেও শিশু নির্যাতনের অনেক ঘটনা রয়েছে যা লোকচক্ষুর আড়ালেই থাকছে।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওমর ফারুক বলেন, শিশুদের প্রতি নির্যাতন, নিষ্ঠুরতা বা পাশবিকতার একটি অন্যতম কারণ- অপরাধীরা মনে করছে শিশুদের আত্মনিয়ন্ত্রণ নেই বা অপরাধের শিকার হলেও তারা প্রতিবাদ করতে পারবে না। এ ছাড়া সাইবার প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ ও এর অপব্যবহারে কারও কারও মধ্যে বিকৃত মানসিকতা দেখা দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে শিশুদের ওপরে। তিনি বলেন, শিশু সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় কৌশলগুলো নিশ্চিত করতে হবে। অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে।

মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, নানা কারণে রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারে অস্থিরতা রয়েছে। এই অস্থিরতার মধ্যে অনেকে মাদকাসক্ত হয়ে শিশুর প্রতি নিষ্ঠুর হচ্ছে। শিশুরা ধর্ষণের শিকার হলেও সামাজিক আতঙ্কে অভিভাবকরা মুখ খোলেন না। এর ফলে অপরাধী আরও বেপরোয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত সারাদেশে চার হাজার ৮৯৬ শিশু খুন ও ধর্ষণসহ নানা অপরাধের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬৩ শিশু ধর্ষণের এবং ৯৩ শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। প্রতিবন্ধী শিশুরাও এই পরিস্থিতির বাইরে নেই। গত বছরের প্রথম ১১ মাসে ২৬ প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষিত হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে ৯২ শিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৫৭ শিশুকে। ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেছে ছয় শিশু। এর বাইরেও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৮৭ শিশু। পর্নোগ্রাফীর শিকার হয়েছে ১৪ শিশু।

শিশু অধিকার ফোরাম জানাচ্ছে, ২০১৮ সালে ৩৯৬ জন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে আরও ৯০ শিশুকে। এ ছাড়া ১৪৬ শিশু অপহরণ হয়েছে। অপহরণের পর ১৩৫ শিশুকে উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অপহরণের পর ২৮ শিশুকে হত্যা করা হয়। নিখোঁজ হয়েছে ২৩৩ শিশু এবং নিখোঁজের পর উদ্ধার হয়েছে ৫১ শিশু।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

শপথ নিলেন সংরক্ষিত আসনের ৪৯ নারী এমপি


আরও খবর

বাংলাদেশ

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত ৪৯ সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাদের শপথ পড়ান।

স্পিকার প্রথমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সাংসদের এবং পরে জাতীয় পার্টির এমপিদের পৃথকভাবে শপথ বাক্য পাঠ করান।

সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ প্রার্থীর নাম উল্লেখ করে গত রোববার গেজেট প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। গেজেট অনুযায়ী, নির্বাচিত ৪৯ সংসদ সদস্যের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৪৩ জন, জাতীয় পার্টির চারজন, ওয়ার্কার্স পার্টির একজন ও স্বতন্ত্র একজন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

রাজধানীতে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১


আরও খবর

বাংলাদেশ

  সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড় এলাকায় র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মেহেদি নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। 

বুধবার ভোরে এই ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে। 

ঘটনাস্থল থেকে বিদেশি রিভলবার ও ৩০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় র‍্যাবের দুই সদস্য আহত হন।

র‍্যাবের দাবি, নিহত মেহেদি শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা রয়েছে।

র‍্যাব-২-এর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, বুধবার ভোরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মাদকের চালান নিয়ে একটি বাসে করে ঢাকায় নামেন মেহেদীসহ কয়েকজন। তারা বাস থেকে নামার পরপরই শ্যামলীর সড়ক ও জনপথ অফিসের সামনে প্রধান সড়কে তাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। সে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি করলে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। মেহেদী সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। বাকি তিনজন দৌড়ে পালিয়ে যান।

পরের
খবর

দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী


আরও খবর

বাংলাদেশ
দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

  অনলাইন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জার্মানি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে তার ৬ দিনের সরকারি সফর শেষে বুধবার সকালে দেশে ফিরেছেন।

বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে সকাল ৬টা ২৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। খবর বাসসের

এর আগে আরব আমিরাতের স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ২টা ১৫ মিনিট) বিমানটি প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে বিদায় জানান।

চতুর্থ বারের মতো এবং টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই দু’টি রাষ্ট্রে সরকারি সফর ছিল নতুন মেয়াদে তার প্রথম কোন বিদেশ সফর।

সফরের প্রথম পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ১৪-১৬ ফেব্রুয়ারি মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগদানের জন্য জার্মানি সফর করেন।

এবারের নিরাপত্তা সম্মেলনের ৫৫তম অধিবেশনের সাইড লাইনে প্রধানমন্ত্রী একটি স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত গোলটেবিল আলোচনায় ভাষণ দেন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কিত একটি প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আইসিসি)-এর প্রধান আইনজীবী ড. ফাতু বেনসৌডা এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবলিশ নিউক্লিয়ার উইপন এর নির্বাহী পরিচালক নোবেল বিজয়ী ব্যাট্রিস ফিন পৃথকভাবে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

জার্মানিতে বাংলাদেশ মিশনের উদ্যোগে স্থানীয় হোটেল শেরাটনে আয়োজিত জার্মানিতে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও যোগদান করেন তিনি।

সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ১৭-১৯ ফেব্রুয়ারি আবুধাবির ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীর (আইডিইএক্স-২০১৯) উদ্বোধনী পর্বে যোগদান করেন।

১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী আবুধাবির যুবরাজ শেখ মোহাম্মেদ বিন জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি দুবাইয়ের শাসক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মেদ বিন রশিদ আল মকতুমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

একই দিনে প্রধানমন্ত্রী দুবাইয়ের বাহার প্রাসাদে দুবাইয়ের স্থপতি প্রয়াত শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের স্ত্রী এবং দুবাই মাতা শেখ ফাতিমা বিনতে মুবারাক আল কেতবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর