বাংলাদেশ

পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ-সংঘর্ষ অব্যাহত

মজুরি পর্যালোচনায় ফের বৈঠক রোববার

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৯

মজুরি পর্যালোচনায় ফের বৈঠক রোববার

বৃহস্পতিবারও রাজধানীর মিরপুর শেওড়াপাড়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাক শ্রমিকরা— ফোকাস বাংলা

  সমকাল প্রতিবেদক ও নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

নতুন মজুরি কাঠামো নিয়ে পোশাক খাতের চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসনে গঠিত ত্রিপক্ষীয় পর্যালোচনা কমিটি গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য নিয়ে গভীর পর্যালোচনা করছে। এ সংক্রান্ত শ্রমিকদের আপত্তি আমলে নেওয়া হয়েছে। আগামী রোববার এ বিষয়ে আবারও বৈঠকে বসবে কমিটি। তবে গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানের জন্য শ্রমিকদের কাছে আরও কিছু সময় চেয়ে কমিটির পক্ষ থেকে তাদের কাজে ফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে চতুর্থ দিনের মতো বৃহস্পতিবারও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এবং সাভারের কিছু কিছু কারখানায় শ্রমিকরা কর্মবিরতি এবং সড়ক অবরোধ করে। কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে শ্রমিকরা।

এদিকে এক টুইটবার্তায় পোশাক কারখানায় শ্রম অসন্তোষের ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার জার্মানির ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত পিটার ফাহরেনহোল্‌জ।

শ্রমিকদের মূল আপত্তি ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেড নিয়ে। নতুন কাঠামোয় এই তিন গ্রেডে অন্যান্য গ্রেডের সমহারে মজুরি বাড়েনি বলে অভিযোগ তাদের। বৃহস্পতিবার পর্যালোচনা কমিটির বৈঠকে এ তিন গ্রেডের মজুরি পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন সরকার, মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিরা। বিভিন্ন কারখানায় শ্রম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ায় জরুরিভিত্তিতে বৃহস্পতিবারই প্রথম বৈঠকে বসেন প্রতিনিধিরা।

নতুন মজুরি পাওয়ার পর রাজধানী এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু কারখানার শ্রমিকদের অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ ও শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার মালিকপক্ষের ৫ জন, শ্রমিকপক্ষের সমসংখ্যক সদস্য নিয়ে মোট ১২ সদস্যের ত্রিপক্ষীয় পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হচ্ছেন শ্রম ও বাণিজ্য সচিব। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কমিটির প্রায় সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সমস্যাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে সরকার: শ্রম মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন শ্রম সচিব আফরোজা খান। তিনি বলেন, কমিটির সব পক্ষ মজুরি নিয়ে তাদের আপত্তির জায়গা থেকে বিশদ আলোচনা করেছেন। এতে দেখা যায়, ১, ২, ৬ ও ৭ নম্বর গ্রেডের মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে কোনো পক্ষের আপত্তি নেই। তবে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেড নিয়ে কিছু আপত্তি আছে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের। তাদের মতে, অন্যান্য গ্রেডের মতো এই তিন গ্রেডে একই হারে বাড়েনি। বিষয়গুলো আমলে নিয়েছেন তারা। এ আপত্তি গভীর পর্যালোচনা করছেন তারা। একটা সমাধানে আসার চেষ্টা চলছে।

শ্রম সচিব বলেন, আগামী রোববারের বৈঠকে একটা সমাধানে আসার চেষ্টা করবেন তারা। সেটা না হলেও খুব কম সময়ের মধ্যেই সমাধান আশা করছেন তারা। তিনি বলেন, কমিটিকে এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে। তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমাধান হবে। এ সময় পর্যন্ত ধৈর্য ধরে কাজে ফিরতে শ্রমিকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। শ্রমিকদের যেকোনো সমস্যা 'হেল্পলাইন'-এ জানানোর অনুরোধ করেন তিনি। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) অধীনে পরিচালিত এ কার্যক্রম সম্পর্কে আজ কারখানা অধ্যুষিত এলাকায় মাইকে প্রচার চালানো হবে। এ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার কথা জানান তিনি।

শ্রম অসন্তোষ নিয়ে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা না খুঁজলেও এর পেছনে অসন্তোষের পেছনে কেবল মজুরি নয়, অন্য কিছু আছে বলে মনে করেন শ্রম সচিব। যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, যে সব কারখানায় বর্ধিত মজুরির তুলনায়ও বেশি মজুরি দেওয়া হয়, সে সব কারখানায়ও অসন্তোষ হয়েছে। আবার যে সব এলাকায় পোশাক কারখানা নেই সেখানেও সড়ক অবরোধ হয়েছে।

শ্রম সচিব ছাড়াও বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইর বর্তমান এবং বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতিদের মধ্যে সাংসদ আব্দুস সালাম মুর্শেদী, আতিকুল ইসলাম, পোশাক খাতের বড় প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদী গ্রুপের এমডি রুবানা হক প্রমুখ। শ্রমিক নেতাদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মন্টু ঘোষ, আমিরুল হক আমিন, সিরাজুল ইসলাম রনি, লিমা ফেরদৌসী, নাজমা বেগম প্রমুখ।

সমঝোতার আহ্বান জার্মানির রাষ্ট্রদূতের: ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত পিটার ফাহরেনহোল্‌জ বৃহস্পতিবার এক টুইটবার্তায় বলেন, 'ধর্মঘটি পোশাক শ্রমিকদের দমন করা উচিত নয় পুলিশের। সমঝোতা করতে হবে কারখানা মালিকদের।' সংঘাতের একটি 'শান্তিপূর্ণ ও ন্যায্য' সমাধান প্রত্যাশা করেছেন তিনি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার এখন জার্মানি। এক সময়ের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে দুই বছর ধরে এক নম্বর অবস্থানে উঠে আসে জার্মানি। এ দেশটির মাধ্যমে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও যায় বাংলাদেশের পোশাক।

মিরপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ: ন্যূনতম মজুরির দাবিতে বৃহস্পতিবারও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। মিরপুরের শেওড়াপাড়া ও কালশী এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এর মধ্যে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মিরপুরের শেওড়াপাড়া এবং সকাল ১১টা পর্যন্ত কালশী সড়ক অবরোধ করা হয়। এ সময় ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে আশপাশ এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভের সময় কোনো বড় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে কাফরুল এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিকরা শেওড়াপাড়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের সঙ্গে মিরপুর থানা এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরাও যোগ দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ অবস্থান নেয় সেখানে। দফায় দফায় পুলিশ তাদের সরে যেতে মাইকিং করে। কিন্তু তারা বিক্ষোভ করতে থাকেন। সড়ক অবরোধ থাকায় মিরপুর ১০ থেকে আগারগাঁও সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশ এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। দুপুর ২টার দিকে পুলিশ বুঝিয়ে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর থেকে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে। কাফরুল থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, পোশাক শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে সকাল ৯টার দিকে পল্লবী থানাধীন কালশী এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ওই এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে কালশী ও আশপাশের সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে যান চলাচল করতে থাকে। নিরাপত্তার জন্য বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যসহ জলকামান, সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়। পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মইনুল কবির জানান, সকাল ১১টার দিকে মালিকদের সঙ্গে আলোচনার পর শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে চলে যান। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, ১০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা: বৃহস্পতিবার সকালে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের আশুলিয়ার বেরন, কাঠগড়া ও জামগড়া এলাকায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করায় পুলিশ তাদের বাধা দিলে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, শ্রমিকদের ইট পাটকেলের বিপরীতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। এ সময় পুলিশ ও শ্রমিকসহ আহত হয়েছে অন্তত ৩০ জন। বৃহস্পতিবারও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে ১০টি পোশাক কারখানায়।

পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, সকালে বেরন এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কারখানায় ঢুকে কর্মবিরতি পালন করেন। এক পর্যায়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিতে একযোগে শ্রমিকরা কারখানার বাইরে বেরিয়ে এসে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় তারা সড়কের ওপর ইট ও কাঠের টুকরা ফেলে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ শ্রমিকদের ধাওয়া ও লাঠিচার্জ করে। এ সময় শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিক ও পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরে বিজিবি ও পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রায় এক ঘণ্টা পর টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। শ্রমিক বিক্ষোভ এড়াতে এসব এলাকার ১০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন জানান, সকালে আশুলিয়া এলাকায় শ্রমিকরা সড়ক অরবোধ করে বিক্ষোভের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

হলি আর্টিজানে হামলার জন্য ভারত থেকে অস্ত্র-অর্থ জোগাড় করেন রিপন


আরও খবর

বাংলাদেশ

  সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার আগে মামুনুর রশিদ রিপন ওরফে রেজাউল করিম ওরফে আবু মুহাজির (৩০) ৩৯ লাখ টাকা জোগাড় করে দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে হামলার জন্য ভারত থেকে তিনি অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ করেন। এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মামুনুর রশিদ রিপন গ্রেফতারের পর এই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব। শনিবার মধ্যরাতে তাকে গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকায় একটি বাস থেকে গ্রেফতার করা হয়।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান এসব কথা জানান। এ সময় মামুনুর রশিদ রিপনকে হাজির করা হয়।  

রিপনের স্বীকারোক্তির কথা তুলে ধরে মুফতি মাহমুদ খান জানান, গ্রেফতারের সময় রিপনের কাছ থেকে একটি ডায়েরি, চারটি খসড়া মানচিত্র ও নগদ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫৫ টাকা পাওয়া গেছে। রিপনের বাড়ি বগুড়ার নন্দীগ্রামের শেখের মারিয়া গ্রামে। বাংলা মাধ্যমে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। ঢাকার মিরপুর, বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও নওগাঁর বিভিন্ন মাদ্রাসায় পড়াশুনা করেছেন রিপন। ২০০৯ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাদ্রাসাতুল দারুল হাদিস থেকে দাওরায়ে হাদিসে পড়াশোনা শেষে বগুড়ার সাইবার টেক নামে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে অফিস অ্যাপ্লিকেশন কোর্স করে ওই প্রতিষ্ঠানেই চাকরি নেন।

সংবাদ সম্মেলনে মুফতি মাহমুদ জানান, সাইবার টেকে চাকরি করার সময় জেএমবির একাংশের আমির ডা. নজরুলের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। তার সাংগঠনিক নাম দেওয়া হয় রিপন। এর আগে তিনি রশিদ নামে পরিচিত ছিলেন। মামুনুরের প্রাথমিক কাজ ছিল চাঁদা সংগ্রহ করে ডা. নজরুলের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

তিনি আরও জানান, সারওয়ার জাহান (পরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত) জেএমবির আমির হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে অর্থ সংগ্রহ ও দাওয়াতি কাজ শুরু করেন। রিপন একটি বিকাশের দোকান লুট করে ছয় লাখ টাকা, সিগারেট বিক্রেতার টাকা ছিনতাই করে এক লাখ টাকাসহ মোট আট লাখ টাকা জোগাড় করে সারওয়ার জাহানের হাতে তুলে দেন। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে তামিম চৌধুরী (পরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত) ও সারওয়ার জাহানের মধ্যে গোপন বৈঠক ও সমঝোতা হয়। ওই বৈঠকে রিপনের উপস্থিতিতে তাকে সুরা সদস্য করা হয়। সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে রিপনের নেতৃত্বে একটি দল অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহের জন্য ভারতে যায়। হলি আর্টিজানে হামলার আগে মামুনুর ৩৯ লাখ টাকা জোগাড় করে সারওয়ার জাহানকে দিয়েছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, রিপন হলি আর্টিজানে হামলার পরিকল্পনা ও অর্থ সরবরাহের কাজে যুক্ত ছিলেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলে বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলা ঘটেছিল তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে। ওই সব হামলার নেতৃত্বে ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী।

হলি আর্টিজান হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী রাজীব গান্ধী এ মামলায় গ্রেফতার আছেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে হলি আর্টিজানে জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে তারা অস্ত্রের মুখে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে। ওই রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হন। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ ৬ জন নিহত হয়। পরে পুলিশ ১৮ বিদেশিসহ ২০ জনের লাশ উদ্ধার করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এক রেস্তোরাঁকর্মী।

এ হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ততা পাওয়া ২১ জনের মধ্যে ৫ জন ঘটনাস্থলে নিহত হন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে ৮ জন নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। গত বছরের ২৬ নভেম্বর মামলায় আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। 

মামলায় রাজীব গান্ধী, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাতকাটা সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, রাশেদ ইসলাম ওরফে আবু জাররা, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশিদ ওরফে রিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এখন কেবল এজাহারভুক্ত আসামি শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ পলাতক আছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

দেশের উন্নয়ন চাইলে মাদক-দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী


আরও খবর

বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা— ফাইল ছবি

  অনলাইন ডেস্ক

দেশ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি নির্মূল করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ নির্দেশ দেন। খবর ইউএনবির

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি দেশের উন্নয়ন চাই, তাহলে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে। আমি এই মন্ত্রণালয়ের (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘সংক্রামক রোগের মতো দুর্নীতি সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এটি শুরু হয়েছিল দেশে সামরিক শাসনামলের শুরুতে। সে সময় জঙ্গিবাদ পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিল, কিন্তু তারা জঙ্গিবাদকে তখন কেন রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিল তা আমি জানি না।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই ধরনের সংক্রামক রোগ থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে... এর জন্য যা যা প্রয়োজন তাই করবো... এটি এখন সময়ের প্রয়োজন।

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ অভিযান আরও তীব্রতর করার আহ্বান জানাচ্ছি।

মাদকের উৎস, বিতরণকারী ও বহনকারীদের খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী এক্ষেত্রে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

হলি আর্টিজান মামলার পলাতক আসামি রিপন গ্রেফতার


আরও খবর

বাংলাদেশ

মামুনুর রশিদ রিপন

  সমকাল প্রতিবেদক

গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকা থেকে গুলশানের হলি আর্টিজান মামলার পলাতক আসামি মামুনুর রশিদ রিপনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শনিবার মধ্যরাতে বোর্ডবাজার এলাকায় একটি বাস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার সকালে র‌্যাবের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো মোবাইল ফোনের খুদে বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়। 

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান, রিপন হালুয়াঘাট থেকে ঢাকার দিকে আসছিল। রাত একটার দিকে বোর্ডবাজার এলাকায় একটি বাস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছে দেড় লাখ টাকা পাওয়া গেছে।

রোববার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

র‌্যাব সূত্র জানায়, মামুনুর রশিদ রিপন ওরফে রেজাউল করিম ওরফে রেজা নব্য জেএমবির প্রথম সারির নেতা। ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় সে অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহের দায়িত্বে ছিল।

সংশ্লিষ্ট খবর