বাংলাদেশ

বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকে ৩ ধাপ এগোল বাংলাদেশ

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯

বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকে ৩ ধাপ এগোল বাংলাদেশ

  অনলাইন ডেস্ক

বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকে গত বছরের চেয়ে তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। এবার ওই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। একই অবস্থানে আছে লেবানন, লিবিয়া ও দক্ষিণ সুদান।

বুধবার হেনলি পাসপোর্ট সূচকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, ৪১টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার আছে বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী নাগরিকদের। এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জাপান এবং সবার নিচে ইরিত্রিয়া। খবর ইউএনবির।

ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) সহায়তায় ২০০৬ সাল থেকে প্রকাশিত হচ্ছে হেনলি পাসপোর্ট সূচক। এআইটিএ বিশ্বের পর্যটকদের তথ্যভিত্তিক সবচেয়ে বড় ডাটাবেজ।

এবারের সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে ভারত। দেশটির অবস্থান ৭৯তম। তাদের নাগরিকদের ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে ৬১টি দেশে। তবে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে পাকিস্তান। সূচকে দেশটি ১০২ নম্বর অবস্থানে রয়েছে। তাদের নাগরিকদের ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার আছে ৩৩টি দেশে। ৯৫তম অবস্থানে থাকা শ্রীলংকার নাগরিকদের ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে ৪৩টি দেশে। ৯৮তম স্থানে থাকা নেপালের নাগরিকদের ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে ৪০টি দেশে। আর ৪৮টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকারের সুবিধাপ্রাপ্ত মিয়ানমারের অবস্থান ৯০তম।

এ তালিকায় দু'বছরের মধ্যে ২০ ধাপ অগ্রগতি হয়েছে চীনের। তারা ২০১৭ সালে ছিল এ সূচকে ৮৫তম স্থানে। এ বছর তাদের অবস্থান ৬৯তম।

তালিকার শীর্ষে থাকা জাপানের পাসপোর্টধারী ব্যক্তি ভিসা ছাড়া ১৯০টি দেশে প্রবেশ করতে পারেন। এর পরের অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া। দেশ দুটির নাগরিকরা ১৮৯টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকারের সুযোগ পান।

সুবিধাজনক অবস্থানে আছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স ও জার্মানি এ সূচকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। এই দুই দেশের নাগরিকরা ১৮৮ দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকারের সুযোগ পান। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ডেনমার্ক, ইতালি, ফিনল্যান্ড ও সুইডেন। ১৮৭টি দেশে তাদের রয়েছে ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ। যৌথভাবে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। এ দুই দেশের নাগরিকরা ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পান ১৮৫টি দেশে। অন্যদিকে কানাডা অবস্থান করছে সপ্তম স্থানে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

হলি আর্টিজানে হামলার জন্য ভারত থেকে অস্ত্র-অর্থ জোগাড় করেন রিপন


আরও খবর

বাংলাদেশ

  সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার আগে মামুনুর রশিদ রিপন ওরফে রেজাউল করিম ওরফে আবু মুহাজির (৩০) ৩৯ লাখ টাকা জোগাড় করে দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে হামলার জন্য ভারত থেকে তিনি অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ করেন। এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মামুনুর রশিদ রিপন গ্রেফতারের পর এই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব। শনিবার মধ্যরাতে তাকে গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকায় একটি বাস থেকে গ্রেফতার করা হয়।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান এসব কথা জানান। এ সময় মামুনুর রশিদ রিপনকে হাজির করা হয়।  

রিপনের স্বীকারোক্তির কথা তুলে ধরে মুফতি মাহমুদ খান জানান, গ্রেফতারের সময় রিপনের কাছ থেকে একটি ডায়েরি, চারটি খসড়া মানচিত্র ও নগদ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫৫ টাকা পাওয়া গেছে। রিপনের বাড়ি বগুড়ার নন্দীগ্রামের শেখের মারিয়া গ্রামে। বাংলা মাধ্যমে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। ঢাকার মিরপুর, বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও নওগাঁর বিভিন্ন মাদ্রাসায় পড়াশুনা করেছেন রিপন। ২০০৯ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাদ্রাসাতুল দারুল হাদিস থেকে দাওরায়ে হাদিসে পড়াশোনা শেষে বগুড়ার সাইবার টেক নামে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে অফিস অ্যাপ্লিকেশন কোর্স করে ওই প্রতিষ্ঠানেই চাকরি নেন।

সংবাদ সম্মেলনে মুফতি মাহমুদ জানান, সাইবার টেকে চাকরি করার সময় জেএমবির একাংশের আমির ডা. নজরুলের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। তার সাংগঠনিক নাম দেওয়া হয় রিপন। এর আগে তিনি রশিদ নামে পরিচিত ছিলেন। মামুনুরের প্রাথমিক কাজ ছিল চাঁদা সংগ্রহ করে ডা. নজরুলের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

তিনি আরও জানান, সারওয়ার জাহান (পরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত) জেএমবির আমির হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে অর্থ সংগ্রহ ও দাওয়াতি কাজ শুরু করেন। রিপন একটি বিকাশের দোকান লুট করে ছয় লাখ টাকা, সিগারেট বিক্রেতার টাকা ছিনতাই করে এক লাখ টাকাসহ মোট আট লাখ টাকা জোগাড় করে সারওয়ার জাহানের হাতে তুলে দেন। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে তামিম চৌধুরী (পরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত) ও সারওয়ার জাহানের মধ্যে গোপন বৈঠক ও সমঝোতা হয়। ওই বৈঠকে রিপনের উপস্থিতিতে তাকে সুরা সদস্য করা হয়। সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে রিপনের নেতৃত্বে একটি দল অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহের জন্য ভারতে যায়। হলি আর্টিজানে হামলার আগে মামুনুর ৩৯ লাখ টাকা জোগাড় করে সারওয়ার জাহানকে দিয়েছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, রিপন হলি আর্টিজানে হামলার পরিকল্পনা ও অর্থ সরবরাহের কাজে যুক্ত ছিলেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলে বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলা ঘটেছিল তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে। ওই সব হামলার নেতৃত্বে ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী।

হলি আর্টিজান হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী রাজীব গান্ধী এ মামলায় গ্রেফতার আছেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে হলি আর্টিজানে জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে তারা অস্ত্রের মুখে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে। ওই রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হন। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ ৬ জন নিহত হয়। পরে পুলিশ ১৮ বিদেশিসহ ২০ জনের লাশ উদ্ধার করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এক রেস্তোরাঁকর্মী।

এ হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ততা পাওয়া ২১ জনের মধ্যে ৫ জন ঘটনাস্থলে নিহত হন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে ৮ জন নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। গত বছরের ২৬ নভেম্বর মামলায় আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। 

মামলায় রাজীব গান্ধী, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাতকাটা সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, রাশেদ ইসলাম ওরফে আবু জাররা, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশিদ ওরফে রিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এখন কেবল এজাহারভুক্ত আসামি শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ পলাতক আছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

দেশের উন্নয়ন চাইলে মাদক-দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী


আরও খবর

বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা— ফাইল ছবি

  অনলাইন ডেস্ক

দেশ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি নির্মূল করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ নির্দেশ দেন। খবর ইউএনবির

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি দেশের উন্নয়ন চাই, তাহলে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে। আমি এই মন্ত্রণালয়ের (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘সংক্রামক রোগের মতো দুর্নীতি সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এটি শুরু হয়েছিল দেশে সামরিক শাসনামলের শুরুতে। সে সময় জঙ্গিবাদ পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিল, কিন্তু তারা জঙ্গিবাদকে তখন কেন রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিল তা আমি জানি না।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই ধরনের সংক্রামক রোগ থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে... এর জন্য যা যা প্রয়োজন তাই করবো... এটি এখন সময়ের প্রয়োজন।

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ অভিযান আরও তীব্রতর করার আহ্বান জানাচ্ছি।

মাদকের উৎস, বিতরণকারী ও বহনকারীদের খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী এক্ষেত্রে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

হলি আর্টিজান মামলার পলাতক আসামি রিপন গ্রেফতার


আরও খবর

বাংলাদেশ

মামুনুর রশিদ রিপন

  সমকাল প্রতিবেদক

গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকা থেকে গুলশানের হলি আর্টিজান মামলার পলাতক আসামি মামুনুর রশিদ রিপনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শনিবার মধ্যরাতে বোর্ডবাজার এলাকায় একটি বাস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার সকালে র‌্যাবের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো মোবাইল ফোনের খুদে বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়। 

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান, রিপন হালুয়াঘাট থেকে ঢাকার দিকে আসছিল। রাত একটার দিকে বোর্ডবাজার এলাকায় একটি বাস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছে দেড় লাখ টাকা পাওয়া গেছে।

রোববার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

র‌্যাব সূত্র জানায়, মামুনুর রশিদ রিপন ওরফে রেজাউল করিম ওরফে রেজা নব্য জেএমবির প্রথম সারির নেতা। ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় সে অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহের দায়িত্বে ছিল।

সংশ্লিষ্ট খবর