বাংলাদেশ

১৫৬ আপিল নিষ্পত্তি, স্থগিত ৪

৮০ জন ফিরে পেলেন প্রার্থিতা, বিএনপির ৩৯

নির্বাচন ২০১৮

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

৮০ জন ফিরে পেলেন প্রার্থিতা, বিএনপির ৩৯

  সমকাল প্রতিবেদক

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল শুনানির প্রথম দিনে বাতিল হওয়া ৮০ প্রার্থী আবার নির্বাচনী লড়াইয়ে ফিরে এলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ১৬০টি আপিল শুনানির ৭৬টি খারিজ করে দিয়েছে ইসি। চারটি আপিল স্থগিত রাখা হয়েছে। এর আগে ২ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তারা সারাদেশে ৭৮৬ জনের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। এর বিরুদ্ধে ৫৪৩টি আপিল আবেদন জমা পড়ে ইসিতে। পাশাপাশি মনোনয়ন গ্রহণের বিরুদ্ধেও বেশকিছু আবেদন জমা পড়ে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ চার কমিশনার শুনানি গ্রহণ করেন। প্রথম দিনে আপিল খারিজ হওয়া প্রার্থীদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, তারা ফৌজদারি অপরাধে দুই বছরের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত এবং ঋণখেলাপি। অন্যদিকে, আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়াদের বিরুদ্ধে মনোনয়নপত্র ও হলফনামায় সই না থাকা এবং উপজেলা চেয়ারম্যানদের পদত্যাগ যথাযথ না হওয়াসহ ছোটখাটো ত্রুটি ছিল। কমিশন এসব প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ের পর বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছিলেন, তাদের দলের মনোনীত অনেকের প্রার্থিতা বেছে বেছে বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু প্রথম দিনের শুনানি শেষে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়াদের মধ্যে প্রায় ৪০ জনই বিএনপি প্রার্থী। বাছাইয়ের পরে ছয়টি আসনে বিএনপির প্রার্থিতাশূন্য হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। গতকাল এই ছয়টির মধ্যে চারটি আসনের আপিল আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে তারা চারটি আসনেই প্রার্থিতা ফিরে পান।

আজ দ্বিতীয় দিন শুক্রবার আরও ১৬০ আপিলের শুনানিীঅনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ১৬১ থেকে ৩১০ নম্বর আপিল শোনা হবে। কাল শনিবার শেষ দিনে ৩১১ থেকে ৫৪৩ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে এবার তিন হাজার ৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এগুলো যাচাইয়ের পর ৭৮৬ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ফলে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল দুই হাজার ২৭৯ জনে।

ইসির নিবন্ধিত ৩৯ রাজনৈতিক দলের মধ্যে সবগুলো দল থেকেই এবার প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র হিসেবেও ৪৯৮টি মনোনয়ন দাখিল করা হয়। কিন্তু বাছাইয়ে ৩৮৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। গতকালের শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়াদের মধ্যে বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন।

আপিল খারিজ হওয়ায় নির্বাচনের মাঠ থেকে আরও দূরে সরে যাওয়া বিএনপি নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও চট্টগামের বিএনপি নেতা মীর নাছির, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও নাটোরের বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ঝিনাইদহ-২ আসনের সাবরিনা সুলতানা ও পার্বত্য খাগড়াছড়ি আসনের আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। ইসিতে যাদের আপিল খারিজ হয়েছে তারা অনেকেই উচ্চ আদালতে ফের আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

বিএনপি মনোনীতদের মধ্যে প্রথম দিনে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন- রাজশাহী-১ আসনের সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের ও পটুয়াখালী-৩ আসনের গোলাম মাওলা রনি।

গোলাম মাওলা রনির হলফনামায় সই না থাকায় মনোনয়পত্র বাতিল করেছিলেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ রকম হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা বা স্বাক্ষরে গরমিল বা ঋণ পুনঃতফসিলের প্রমাণাদি না থাকা, উপজেলা চেয়ারম্যান বা পৌরসভার মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার প্রমাণপত্র না থাকার কারণে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল, তাদের অনেকেই নির্বাচন কমিশনে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। যারা উপযুক্ত প্রমাণপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন, তারা প্রার্থিতা ফিরে পাননি। তবে দণ্ডপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে কাউকেই প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি।

প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীর সঙ্গে থাকা অনুসারীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা ফোন করে এলাকায় প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার খবর দেন। এ সময় প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকার অনুসারী ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। ঠিক এর বিপরীত চিত্র প্রকাশ পায় প্রার্থিতা না ফিরে পাওয়াদের অনুসারী ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে।

বিএনপির অনেকেই প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইসিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। যদিও বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের বলেন, 'আমাদের বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন ফিরিয়ে দিয়েছে কমিশন। এখন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন ফিরিয়ে দেওয়ার ওপর আমাদের সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি নির্ভর করছে।'

চট্টগ্রাম-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের পক্ষে তার আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন জানান, একটি মামলায় মীর নাছিরকে ১০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। কিন্তু আপিল করার পর আদালত ওই রায় স্থগিত করেন। কাজেই তার মনোনয়নপত্র বাতিল হতে পারে না। এ সময় শুনানিস্থলে উপস্থিত ব্যারিস্টার তানজিব উল আলম বলেন, আপিলের পর আসামির রায় আদালত স্থগিত করলে বাদীপক্ষ স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হয়ে যায়। এ সময় দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হলে নির্বাচন কমিশন দুপুরের মধ্যাহ্নভোজের পর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবে বলে জানিয়ে দেয়। বিকেলে মীর নাছিরের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানায় কমিশন।

ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল তার ঋণ পুনঃতফসিলের কাগজ না থাকার কারণে। শুনানিকালে তিনি ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার প্রমাণপত্র উপস্থাপন করেন। এ সময় ব্যাংকের প্রতিনিধি উপস্থিত আছেন কি-না কমিশন জানতে চাইলে ব্যাংকের প্রতিনিধি জানান, তিনি যথাসময়ে টাকা জমা দিয়েছেন। পরে কমিশন তার মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করেন। কুমিল্লা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী কে এম মুজিবুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল তার দাখিল করা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে আয়কর-সংক্রান্ত সার্টিফিকেট না থাকার কারণে। গতকাল তিনি নির্বাচন কমিশনে সেটা উপস্থাপন করলে কমিশন মূল কপি দেখে অনুলিপি জমা নিয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।

আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন যারা :বগুড়া-৭ আসনের বিএনপি প্রার্থী মোরশেদ মিল্টন, ঢাকা-২০ আসনের বিএনপি প্রার্থী তমিজ উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-২-এর বিএনপি প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান, পটুয়াখালী-৩ বিএনপি প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি, ঝিনাইদহ-২-এর বিএনপি প্রার্থী মো. আব্দুল মজিদ, ঢাকা-১-এর বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক, জামালপুর-৪ এর বিএনপি প্রার্থী ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম, পটুয়াখালী-৩ এর বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহান, পটুয়াখালী-১ ন্যাশনালিস্ট পিপলস পার্টির মো. সুমন সন্যামত, মাদারীপুর-১ জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহিরুল ইসলাম মিন্টু, সিলেট-৩ বিএনপি প্রার্থী আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জয়পুরহাট-১ বিএনপি প্রার্থী ফজলুর রহমান, পাবনা-৩ বিএনপি প্রার্থী হাসাদুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ-২ আবিদুর রহমান খান, সিরাজগঞ্জ-৩ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আইনাল হক, গাজীপুর-২ মো. মাহবুব আলম, গাজীপুর-২ জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়নাল আবেদীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ জাতীয় পার্টির প্রার্থী জেসমিন নূর বেবী, রংপুর-৪ জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তফা সেলিম, খুলনা-৬ এসএম শফিকুল আলম, হবিগঞ্জ-১ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী জুবায়ের আহমেদ, ময়মনসিংহ-৭ বিএনপি প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ জাতীয় পার্টির আব্দুল্লাহ আল হেলাল, ময়মনসিংহ-২ স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক, শেরপুর-২ একেএম মুখলেছুর রহমান, হবিগঞ্জ-৪ মৌলানা মুহাম্মদ ছোলাইমান খান রাব্বানী, নাটোর-৪ মো. আলাউদ্দিন মৃধা, সাতক্ষীরা-২ আফসার আলী, কুড়িগ্রাম-৪ মো. ইউনুস আলী, বরিশাল-২ মো. আনিচুজ্জামান, ঢাকা-৫ মো. সেলিম ভুইয়া, ঝিনাইদহ-৩ মো. কামরুজ্জামান স্বাধীন, কুমিল্লা-৩ কে এম মুজিবুল হক, মানিকগঞ্জ-১ মো. তোজ্জাম্মেল হক, সিলেট-৫ ফয়জুল মুনীর চৌধুরী, ময়মনসিংহ-৩ আহমদ তায়েবুর রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আবদুল মান্নান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ সৈয়দ আনোয়ার আহাম্মদ লিটন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ মো. মামুনুর রশিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আবু আসিফ, ঢাকা-১৪ জাকির হোসেন, পঞ্চগড়-২ ফরহাদ হোসেন, মানিকগঞ্জ-৩ আতাউর রহমান, ময়মনসিংহ-৮ এম এ বাশার, ঢাকা-১৪ সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক, কুড়িগ্রাম-৩ আবদুল খালেক, কুড়িগ্রাম-৪ মাহফুজার রহমান, চট্টগ্রাম-১ মি. নুরুল আমীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ মুখলেছুর রহমান, লক্ষ্মীপুর-১ মো. মাহবুব আলম, কুমিল্লা-৫ মো. ইউনুস, চাঁদপুর-৫ নেয়ামুল বশির, চট্টগ্রাম-৩ মোস্তফা কামাল পাশা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আশরাফুদ্দিন, রংপুর-১ আসাদুজ্জামান, গাইবান্ধা-৩ আবু জাফর, কুড়িগ্রাম-৪ শাহ আলম, গাইবান্ধা-৩ রফিকুল ইসলাম, গাইবান্ধা-৫ নাজিমুল ইসলাম (শর্তসাপেক্ষে গ্রহণ), যশোর-৬ সাইদুজ্জামান, নড়াইল-২ ফকির শওকত আলী, সিরাজগঞ্জ-৫ আবদুল্লাহ আল মামুন, নাটোর-৪ আ. আজিজ, সিরাজগঞ্জ-৬ এম এ মুহিত, সিরাজগঞ্জ-৪ আবদুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৫ মে. (অব.) মঞ্জুর কাদের, বগুড়া-৫ আবদুর রউফ মণ্ডল, সিরাজগঞ্জ-৬ হাবিবুর রহমান, বগুড়া-৭ শফিকুল ইসলাম, বগুড়া-৬ মোহাম্মদ ফয়সল বিন, রাজশাহী-১ আমিনুল হক, দিনাজপুর-১ মো. হানিফ, গাইবান্ধা-৪ আবদুর রহিম সরকার, চট্টগ্রাম-৮ এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-১০ আনিছুর রহমান, কুমিল্লা-১১ তাজুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-১৬ জহিরুল ইসলাম, কুমিল্লা-৫ শাহ আলম, নীলফামারী-৪ শওকত চৌধুরী।

আপিলে যারা টিকলেন না :চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী নবাব মো. শামছুল হুদা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. তৈয়ব আলী, মাদারীপুর-৩ মোহাম্মদ আবদুল খালেক, দিনাজপুর-২ স্বতন্ত্র প্রার্থী মোকারম হোসেন, দিনাজপুর-১ স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. পারভেজ হোসেন, ঠাকুরগাঁও-৩ এসএম খলিলুর রহমান, ফেনী-১ মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৩ ড. মিজানুল হক, ময়মনসিংহ-৪ আবু সাঈদ মহিউদ্দিন, নেত্রকোনা-১ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-২ মো. এমদুদল হক, খুলনা-২ এস এম এরশাদুজ্জামান, নাটোর-১ বীরেন্দ্রনাথ সাহা, ঢাকা-১ মো. আইয়ুব খান, বগুড়া-৩ মো. আবদুল মুহিত, বগুড়া-৪ জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আশরাফুল হোসেন আলম (হিরো আলম), হবিগঞ্জ-২ মো. জাকির হোসেন, ঢাকা-১৪ সাইফুদ্দিন আহমেদ, সাতক্ষীরা-১ এসএম মুজিবর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. বশিরউল্লাহ, নওগাঁ-৪ স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আফজাল হোসেন, খাগড়াছড়ি বিএনপি প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, ঝিনাইদহ-১ বিএনপি প্রার্থী আবদুল ওয়াহাব, দিনাজপুর-৩ সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, বগুড়া-৬ মাহবুবুর রহমান, মৌলভীবাজার-২ মহিবুল কাদির চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৫ মীর মোহাম্মদ নাসির, ফেনী-৩ হাসান আহমদ, ময়মনসিংহ-১০ মো. হাবিবুল্লাহ, জামালপুর-৪ মোহা. মামুনুর রশিদ, বগুড়া-২ আবুল কাশেম, নেত্রকোনা-১ শাহ কুতুব উদ্দীন তালুকদার, নীলফামারী-৪ আমজাদ হোসেন, নীলফামারী-৩ ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আখতার হোসেন, লক্ষ্মীপুর-২ আবুল ফয়েজ ভূঁইয়া, কুমিল্লা-১০ আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা-২ সারোয়ার হোসেন, কুমিল্লা-৪ মাহবুবুল আলম, নোয়াখালী-৩ এইচআর এম সাইফুল ইসলাম, ফেনী-১ নূর আহম্মদ মজুমদার, গাইবান্ধা-২ মকদুবর রহমান, লালমনিরহাট-১ আবু হেনা মো. এরশাদ হোসেন, গাইবান্ধা-৩ মনজুরুল হক, নীলফামারী-৪ আখতার হোসেন বাদল, লালমনিরহাট-৪ জাহাঙ্গীর আলম, নীলফামারী-৪ মিনহাজুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৪ আবুল হাশেম, রংপুর-৫ মমতাজ হোসেন, কুড়িগ্রাম-১ ওসমান গনি, মাগুরা-২ খন্দকার মেহেদী আল মাহমুদ, ঝিনাইদহ-২ সাবিরা সুলতানা, নড়াইল-১ শিকদার মো. শাহাদাত হোসেন, যশোর-২ আবদুল্লাহ আল মাসুদ, যশোর-২ হাজি মাহিদুল ইসলাম, সাতক্ষীরা-১ নুরুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ শেখ মুস্তাফিজুর রহমান, নাটোর-২ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বগুড়া-৭ সরকার বাদল, সিরাজগঞ্জ-২ ইকবাল হাসান মাহমুদ, বগুড়া-৪ অধ্যাপক মো. জাহিদুর রহমান, নওগাঁ-২ আবদুর রউফ মান্নান, নওগাঁ-৬ নজমুল হক, বগুড়া-৭ আবদুর রাজ্জাক, নাটোর-৪ ডিএম রনি পারভেজ আলম, নাটোর-৪ শান্তি রিবারু, সিরাজগঞ্জ-৩ সাইফুল ইসলাম শিশির, দিনাজপুর-৪ মাহবুব আলী, গাইবান্ধা-৩ আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম-৯ মোহাম্মদ দুলাল খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ মুশফিকুর রহমান, বান্দরবান-৩ বাকুল হোসেন, বাগেরহাট-৪ আমিনুল ইসলাম খান।

শূন্য হওয়া চার আসনে প্রার্থী ফিরে পেল বিএনপি :যাচাই-বাছাইয়ের পর ছয়টি আসনে বিএনপির সব প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তারা। গতকাল আপিল শুনানির প্রথম দিনে এর মধ্যে চারটি আসনে বিএনপি প্রার্থীর আপিল শুনানি হয়। এ সময় বগুড়া-৭ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোর্শেদ মিল্টন, ঢাকা-১ আসনের খন্দকার আবু আশফাক, মানিকগঞ্জ-২ আসনের আবিদুর রহমান খান ও জামালপুর-৪ আসনের ফরিদুল কবির তালুকদার প্রার্থিতা ফিরে পান।

স্থগিত চার আপিল আবেদন :কুড়িগ্রাম-৪ আসনের মোহাম্মদ আবিদ আলভী, গাইবান্ধা-৫ আসনের মো. নাজিমুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের মো. ঈমান আলী ও চট্টগ্রাম-৯ আসনের মো. শামসুল আলম।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ডাকসুর ভোট অনুষদে চান ৯১ ভাগ শিক্ষার্থী


আরও খবর

বাংলাদেশ

ছাত্র ফেডারেশনের গণস্বাক্ষর কর্মসূচি

ডাকসুর ভোট অনুষদে চান ৯১ ভাগ শিক্ষার্থী

প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

  বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯১ ভাগেরও বেশি শিক্ষার্থী চান ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে হলের পরিবর্তে অনুষদে ভোট গ্রহণ করা হোক। ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা পরিচালিত এক গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে 'হলে নয়, অনুষদে ভোটকেন্দ্র চাই' শিরোনামে পরিচালিত এ কর্মসূচির ফল প্রকাশ করা হয় বুধবার। দুপুর ১টার দিকে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

সাত কার্যদিবস ধরে পরিচালিত গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের ৩ হাজার ১৪৫ জন শিক্ষার্থী স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষরকারীরা তাদের স্বাক্ষরের মাধ্যমে অনুষদে হ্যাঁ (অনুষদে ভোট চাই) এবং অনুষদে না (হলে ভোট চাই) মতামত প্রদান করেন। এতে ২ হাজার ৮৮১ জন শিক্ষার্থী অনুষদে ভোটকেন্দ্র চান আর ১৫৯ জন শিক্ষার্থী হলে ভোটকেন্দ্র চান। অনাবাসিক ১০৫ শিক্ষার্থী কোনো মন্তব্য করেননি।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিক রেজা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক ইশতিয়াক, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসীর আবদুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক ইমরান হোসেন এবং ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক সৈকত আরিফ।

কার্যকর সহাবস্থান চায় ছাত্রদল: কার্যকর সহাবস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ডাকসু নির্বাচন করার দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ দাবি জানানো হয়।

তাদের অভিযোগ, প্রশাসন যেভাবে নির্বাচন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাতে কার্যকর ডাকসু হবে না, বরং সেটি ছাত্রলীগের একটি শাখায় পরিণত হবে। এ সময় সেখানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমবার মধুর ক্যান্টিনে ইশা ছাত্র আন্দোলন: ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বুধবার বেলা ১২টার দিকে প্রথমবারের মতো মধুর ক্যান্টিনে আসেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের (ইশা) নেতাকর্মীরা। সেখানে তারা প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে থাকলেও এর আগে কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মধুর ক্যান্টিনে যাননি সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি হাসিবুল ইসলাম বলেন, ডাকসুতে পূর্ণ প্যানেলে নির্বাচন করবে ইশা।

মনোনয়নপত্র বিতরণ অব্যাহত: ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণের দ্বিতীয় দিনে বুধবারও প্রার্থীরা বিনামূল্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এদিন ডাকসু ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট ৫৫টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন প্রার্থীরা। এ কার্যক্রম চলবে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ডাকসুর তফসিল অনুযায়ী ১১ মার্চ ভোট গ্রহণ হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

এনটিএমসির সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


আরও খবর

বাংলাদেশ
এনটিএমসির সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইনে অপপ্রচার ছড়ালে ব্লক হবে সাইট

প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল— ফাইল ছবি

  বিশেষ প্রতিনিধি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোনো ধরনের গুজব ও অপ্রচার ছড়ালে সংশ্লিষ্ট পোস্ট ব্লক করা সম্ভব হবে দেশে বসেই। এ ছাড়া গুজব ছড়ানো ওই পোস্ট ডিলিট বা ফিল্টারও করা যাবে। এমন সক্ষমতা অর্জনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরে টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম ব্যবহার করে যদি কোনো দেশি-বিদেশি সংস্থা মনিটরিংয়ের জন্য কোনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে, তা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে এনটিএমসি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজও চলমান রেখেছে। এনটিএমসির দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে এসব তথ্য।

বুধবার রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর-সংলগ্ন এনটিএমসির কার্যালয় পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। এনটিএমসিকে কীভাবে আরও সমৃদ্ধ ও এর সক্ষমতা বাড়ানো যায় এ ব্যাপারে রুদ্ধদ্বার আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, সুরক্ষা বিভাগের সচিব, নির্বাচন কমিশনের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, পুলিশ মহাপরিদর্শক, এন্টি টেররিজমের অতিরিক্ত আইজিপি, ডিজিএফআই'র মহাপরিচালক, র‌্যাব মহাপরিচালক, ডিএমপি কমিশনার, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, এনএসআইর মহাপরিচালক, এসবির ডিআইজি, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, এটুআইর প্রকল্প পরিচালক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব, র‌্যাবের মিডিয়া শাখার প্রধান, এনআইডির প্রকল্প পরিচালক।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির দ্রুত উৎকর্ষতার ফলে নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে আইনি কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন ২০০৬ (সংশোধিত)-এর অনুচ্ছেদ ৯৭-ক ক্ষমতা বলে টেলিযোগাযোগ সেবাদানকারী সকল মাধ্যমকে নিরবছিন্নভাবে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিংয়ের মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে এনটিএমসি। এনটিএমসির প্রতিটি কার্যক্রমের সঙ্গে দেশের এক বা একাধিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং তদন্তকারী সংস্থা জড়িত। দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এনটিএমসি ইতিমধ্যে তার সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার কাছে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সমর্থ হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারণ বিবেচনা করে এনটিএমসিতে বিদ্যমান কেন্দ্রীয় মনিটরিং ও সরকারের কার্যক্রমকে সুসংহত করার লক্ষ্যে ইন্টিগ্রেটেড ল'ফুল ইন্টারসেপশন সিস্টেম বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। রাষ্ট্র তথা জনগণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে তাদের চাহিদামত তথ্যাদি প্রদানের মাধ্যমে দেশের সকল টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী সংস্থার ডাটাবেজের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এনটিএমসিতে জাতীয় পর্যায়ের টেলিকমিউনিকশন ডাটা হাব তৈরির কার্যক্রম চলমান আছে। এছাড়া এনটিএমসির ইন্টেলিজেন্স প্লাটফর্মের সঙ্গে সকল মোবাইল অপারেটরের ভয়েস, ডাটা, নির্বাচন কমিশন ডাটাবেজ, পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন, জন্মনিবন্ধন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন, র‌্যাব, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কাজ চলছে, যার মাধ্যমে আইন প্রয়োগকারী, গোয়েন্দা, তদন্তকারী ও হজ নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যক্রমের তথ্য যাচাই-বাছাই করতে পারবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে এনটিএমসি বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিহীন ভুয়া ৭৫২টি ফেসবুক আইডি, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারবর্গ, রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নামে মানহানিকর ও ভুয়া ৭১টি ফেসবুক পোস্ট লিংক বন্ধ করা হয়েছে। ভুুয়া, মিথ্যা খবর, জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায় ও জঙ্গি তৎপরতা প্রচারণার কাজে ব্যবহূত এমন ৫৪টি ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর নামে অনুমতিহীন ভুয়া ফেসবুক আইডি ৫৭৮টি, ভুয়া ফেসবুক পেজ ২৭০টি, ভুয়া ফেসবুক গ্রুপ ৮টি বন্ধ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নামে অনুমতিবিহীন ভুয়া ফেসবুক আইডি ৮, ভুয়া ফেসবুক পেজ ৩, ভুয়া ফেসবুক গ্রুপ বন্ধ করা হয়েছে ১৪টি। জঙ্গি তৎপরতা প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত ১৪১টি ফেসবুক আইডি বন্ধ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, 'কীভাবে এনটিএমসিকে আরও সমৃদ্ধ করা যায় এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এনটিএমসির সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। যাতে দেশ, জনগণ ও জাতীয় নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখতে পারে তারা। গোয়েন্দা সংস্থাকে সমৃদ্ধ করার জন্য যা যা প্রয়োজন, তা একে একে করে যাচ্ছি। কোথায় কোথায় আমাদের দুর্বলতা রয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা একটা কমন প্ল্যাটফর্মের কথা ভাবছি। যেখান থেকে সব তথ্য পাওয়া যাবে।'

জাতীয় নির্বাচনের আগে অনেক সময় ফোনালাপ ফাঁস হয়। তা কারা ফাঁস করেছে তা নিয়ে তদন্ত হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'এনটিএমসি তৈরি করা হয়েছে অপরাধী কী ধরনের আলাপ করে তা বের করার জন্য।'

এই প্রশ্নের উত্তরে র‌্যাবপ্রধান বেনজীর আহমেদ বলেন, 'দুইজন ব্যক্তি আলাপ করে নিজেরা রেকর্ড করতে পারেন। এটা যে এনটিএমসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তা কিন্তু নয়। যারা কথা বলেন তারা দুই দিকের হতে পারেন।'

একই প্রশ্নের উত্তর দেন এনটিএমসির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসানও। তিনি বলেন, 'যদি কারও সঙ্গে বিরোধ থাকে, তাহলে যে কেউ তার কল রেকর্ড করে বিব্রত করতে অনলাইনে পোস্ট করতে পারে। এ ধরনের কল সরকারি সংস্থা রেকর্ড করেছে, তা বলা যাবে না। এটা তাদের কাজ নয়। আসলে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে যদি কেউ কোনো ধরনের অপরাধ করে থাকে তাহলে তা শনাক্ত করতে সহায়তা করে এনটিএমসি। গুজব যাতে না ছড়ায় তার জন্য কাউন্টার ইন্টিলিজেন্স রয়েছে।'

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'যার যখন প্রয়োজন তখন এনটিএমসিতে আসছেন। এরপর তারা সহায়তা নিচ্ছেন। সব গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা এখানে কাজ করছেন। তাই এখানে সবার মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এনটিএমসি কাজ করছে।'

আসাদুজ্জামান খান কামাল আরও বলেন, সাধারণ মানুষকে নয়, শুধু অপরাধীদের নজরদারিতে রাখা হয়। যারা সমালোচনা করে তাদের মুখ বন্ধ রাখা যাবে না। সমালোচনা করলে অনেকে সংশোধিত হয়। তবে মিথ্যা মানহানিকর সমালোচনা গ্রহণযোগ্য নয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চায় অস্ট্রিয়া


আরও খবর

বাংলাদেশ

বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ও অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কারিন কেনিস নিজেদের মধ্যে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন— পিআইডি

  কূটনৈতিক প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চায় অস্ট্রিয়া। দেশটি মনে করে, মিয়ানমারে যেসব দেশের বিনিয়োগ রয়েছে, তাদের উচিত এ সমস্যা সমাধানে একসঙ্গে কাজ করা।

বুধবার রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কারিন কেনিসের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তারা। বৈঠকে ঢাকা-ভিয়েনা সরাসরি বিমান চলাচল ও দেশে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।

বৈঠক শেষে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ড. আবদুল মোমেন বলেন, অস্ট্রিয়ার সঙ্গে কীভাবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো যায়, তা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কোন কোন খাতে তারা বিনিয়োগ করতে পারে, তা নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

কারিন কেনিস বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চায় অস্ট্রিয়া। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে এ সংকট সমাধানে ইইউর উদ্যোগের সঙ্গে সব সময়ই আছে তারা। তিনি বলেন, মিয়ানমারে বড় বড় দেশের বিভিন্ন কোম্পানির বিনিয়োগ রয়েছে। সেসব দেশের উচিত, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা। তিনি বলেন, সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এ সংকটের কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-ভিয়েনার মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযাগ চালুর বিষয়ে শিগগিরই চুক্তি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সত্যিই খুব প্রশংসনীয়। বাংলাদেশে ওষুধশিল্প, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও নির্মাণ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী অস্ট্রিয়ার ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে চলেছে।

তিনি জানান, তার সঙ্গে অস্ট্রিয়ার ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল এসেছে। তারা বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা করছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট খবর