বাংলাদেশ

জাহাঙ্গীরনগরে ‘মুক্তিযুদ্ধের জন ইতিহাস’ শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮

জাহাঙ্গীরনগরে ‘মুক্তিযুদ্ধের জন ইতিহাস’ শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

সম্মেলনে আগত অতিথিরা

  অনলাইন ডেস্ক

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে অগণিত সাধারণ মানুষের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস জানতে নতুন প্রজন্মের প্রতি আহবান জানিয়েছেন  বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ ও জন-ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের যৌথ আয়োজনে বুধবার সকালে জাবির জহির রায়হান অডিটোরিয়ামে 'মুক্তিযুদ্ধের জন- ইতিহাস' শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহবান জানান।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন অর রশীদ বলেন, আমাদের ইতিহাস ও ভাষা গৌরবের, যা সবার সামনে তুলে ধরতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ সঠিক পথে চলবে ও উন্নয়ন হবে। 

কনফারেন্সে কিনোট বক্তৃতায় যুদ্ধশিশু গবেষক মোস্তফা চৌধুরী বলেন, এখন দেশে যেসব যুদ্ধশিশু আছে তাদের বয়স প্রায় ৪৬/৪৭ বছর হয়ে গেছে। কিন্তু এখনও যদি তারা লোকলজ্জার ভয়ে নিজেদেরকে আত্মগোপন করে রাখেন, তা জাতির জন্যই লজ্জার। তাদের খুঁজে বের করে সঠিক মূল্যায়ন করতে হবে। 

কনফারেন্সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও জন ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি মেসবাহ কামাল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের কৃষক, শ্রমিক বা নারী যোদ্ধাদের কাছ থেকে তাদের জীবদ্দশায় অনেক না জানা ইতিহাস সংগ্রহ করে তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে। না হলে মুক্তিযুদ্ধের অনেক জন-ইতিহাসই হারিয়ে যাবে। 

আন্তর্জাতিক এই কনফােেরন্সে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চারটি কিনোট পেপার ও প্রায় ৪০টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গণযোদ্ধা ও বীরঙ্গনাদের সংবর্ধনা জানানো হয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে লোকগান পরিবেশন করেন লোককবি লাল মামুদ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ডাকসুর ভোট অনুষদে চান ৯১ ভাগ শিক্ষার্থী


আরও খবর

বাংলাদেশ

ছাত্র ফেডারেশনের গণস্বাক্ষর কর্মসূচি

ডাকসুর ভোট অনুষদে চান ৯১ ভাগ শিক্ষার্থী

প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

  বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯১ ভাগেরও বেশি শিক্ষার্থী চান ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে হলের পরিবর্তে অনুষদে ভোট গ্রহণ করা হোক। ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা পরিচালিত এক গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে 'হলে নয়, অনুষদে ভোটকেন্দ্র চাই' শিরোনামে পরিচালিত এ কর্মসূচির ফল প্রকাশ করা হয় বুধবার। দুপুর ১টার দিকে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

সাত কার্যদিবস ধরে পরিচালিত গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের ৩ হাজার ১৪৫ জন শিক্ষার্থী স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষরকারীরা তাদের স্বাক্ষরের মাধ্যমে অনুষদে হ্যাঁ (অনুষদে ভোট চাই) এবং অনুষদে না (হলে ভোট চাই) মতামত প্রদান করেন। এতে ২ হাজার ৮৮১ জন শিক্ষার্থী অনুষদে ভোটকেন্দ্র চান আর ১৫৯ জন শিক্ষার্থী হলে ভোটকেন্দ্র চান। অনাবাসিক ১০৫ শিক্ষার্থী কোনো মন্তব্য করেননি।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিক রেজা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক ইশতিয়াক, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসীর আবদুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক ইমরান হোসেন এবং ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক সৈকত আরিফ।

কার্যকর সহাবস্থান চায় ছাত্রদল: কার্যকর সহাবস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ডাকসু নির্বাচন করার দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ দাবি জানানো হয়।

তাদের অভিযোগ, প্রশাসন যেভাবে নির্বাচন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাতে কার্যকর ডাকসু হবে না, বরং সেটি ছাত্রলীগের একটি শাখায় পরিণত হবে। এ সময় সেখানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমবার মধুর ক্যান্টিনে ইশা ছাত্র আন্দোলন: ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বুধবার বেলা ১২টার দিকে প্রথমবারের মতো মধুর ক্যান্টিনে আসেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের (ইশা) নেতাকর্মীরা। সেখানে তারা প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে থাকলেও এর আগে কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মধুর ক্যান্টিনে যাননি সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি হাসিবুল ইসলাম বলেন, ডাকসুতে পূর্ণ প্যানেলে নির্বাচন করবে ইশা।

মনোনয়নপত্র বিতরণ অব্যাহত: ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণের দ্বিতীয় দিনে বুধবারও প্রার্থীরা বিনামূল্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এদিন ডাকসু ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট ৫৫টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন প্রার্থীরা। এ কার্যক্রম চলবে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ডাকসুর তফসিল অনুযায়ী ১১ মার্চ ভোট গ্রহণ হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

এনটিএমসির সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


আরও খবর

বাংলাদেশ
এনটিএমসির সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইনে অপপ্রচার ছড়ালে ব্লক হবে সাইট

প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল— ফাইল ছবি

  বিশেষ প্রতিনিধি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোনো ধরনের গুজব ও অপ্রচার ছড়ালে সংশ্লিষ্ট পোস্ট ব্লক করা সম্ভব হবে দেশে বসেই। এ ছাড়া গুজব ছড়ানো ওই পোস্ট ডিলিট বা ফিল্টারও করা যাবে। এমন সক্ষমতা অর্জনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরে টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম ব্যবহার করে যদি কোনো দেশি-বিদেশি সংস্থা মনিটরিংয়ের জন্য কোনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে, তা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে এনটিএমসি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজও চলমান রেখেছে। এনটিএমসির দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে এসব তথ্য।

বুধবার রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর-সংলগ্ন এনটিএমসির কার্যালয় পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। এনটিএমসিকে কীভাবে আরও সমৃদ্ধ ও এর সক্ষমতা বাড়ানো যায় এ ব্যাপারে রুদ্ধদ্বার আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, সুরক্ষা বিভাগের সচিব, নির্বাচন কমিশনের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, পুলিশ মহাপরিদর্শক, এন্টি টেররিজমের অতিরিক্ত আইজিপি, ডিজিএফআই'র মহাপরিচালক, র‌্যাব মহাপরিচালক, ডিএমপি কমিশনার, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, এনএসআইর মহাপরিচালক, এসবির ডিআইজি, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, এটুআইর প্রকল্প পরিচালক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব, র‌্যাবের মিডিয়া শাখার প্রধান, এনআইডির প্রকল্প পরিচালক।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির দ্রুত উৎকর্ষতার ফলে নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে আইনি কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন ২০০৬ (সংশোধিত)-এর অনুচ্ছেদ ৯৭-ক ক্ষমতা বলে টেলিযোগাযোগ সেবাদানকারী সকল মাধ্যমকে নিরবছিন্নভাবে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিংয়ের মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে এনটিএমসি। এনটিএমসির প্রতিটি কার্যক্রমের সঙ্গে দেশের এক বা একাধিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং তদন্তকারী সংস্থা জড়িত। দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এনটিএমসি ইতিমধ্যে তার সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার কাছে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সমর্থ হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারণ বিবেচনা করে এনটিএমসিতে বিদ্যমান কেন্দ্রীয় মনিটরিং ও সরকারের কার্যক্রমকে সুসংহত করার লক্ষ্যে ইন্টিগ্রেটেড ল'ফুল ইন্টারসেপশন সিস্টেম বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। রাষ্ট্র তথা জনগণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে তাদের চাহিদামত তথ্যাদি প্রদানের মাধ্যমে দেশের সকল টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী সংস্থার ডাটাবেজের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এনটিএমসিতে জাতীয় পর্যায়ের টেলিকমিউনিকশন ডাটা হাব তৈরির কার্যক্রম চলমান আছে। এছাড়া এনটিএমসির ইন্টেলিজেন্স প্লাটফর্মের সঙ্গে সকল মোবাইল অপারেটরের ভয়েস, ডাটা, নির্বাচন কমিশন ডাটাবেজ, পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন, জন্মনিবন্ধন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন, র‌্যাব, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কাজ চলছে, যার মাধ্যমে আইন প্রয়োগকারী, গোয়েন্দা, তদন্তকারী ও হজ নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যক্রমের তথ্য যাচাই-বাছাই করতে পারবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে এনটিএমসি বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিহীন ভুয়া ৭৫২টি ফেসবুক আইডি, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারবর্গ, রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নামে মানহানিকর ও ভুয়া ৭১টি ফেসবুক পোস্ট লিংক বন্ধ করা হয়েছে। ভুুয়া, মিথ্যা খবর, জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায় ও জঙ্গি তৎপরতা প্রচারণার কাজে ব্যবহূত এমন ৫৪টি ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর নামে অনুমতিহীন ভুয়া ফেসবুক আইডি ৫৭৮টি, ভুয়া ফেসবুক পেজ ২৭০টি, ভুয়া ফেসবুক গ্রুপ ৮টি বন্ধ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নামে অনুমতিবিহীন ভুয়া ফেসবুক আইডি ৮, ভুয়া ফেসবুক পেজ ৩, ভুয়া ফেসবুক গ্রুপ বন্ধ করা হয়েছে ১৪টি। জঙ্গি তৎপরতা প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত ১৪১টি ফেসবুক আইডি বন্ধ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, 'কীভাবে এনটিএমসিকে আরও সমৃদ্ধ করা যায় এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এনটিএমসির সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। যাতে দেশ, জনগণ ও জাতীয় নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখতে পারে তারা। গোয়েন্দা সংস্থাকে সমৃদ্ধ করার জন্য যা যা প্রয়োজন, তা একে একে করে যাচ্ছি। কোথায় কোথায় আমাদের দুর্বলতা রয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা একটা কমন প্ল্যাটফর্মের কথা ভাবছি। যেখান থেকে সব তথ্য পাওয়া যাবে।'

জাতীয় নির্বাচনের আগে অনেক সময় ফোনালাপ ফাঁস হয়। তা কারা ফাঁস করেছে তা নিয়ে তদন্ত হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'এনটিএমসি তৈরি করা হয়েছে অপরাধী কী ধরনের আলাপ করে তা বের করার জন্য।'

এই প্রশ্নের উত্তরে র‌্যাবপ্রধান বেনজীর আহমেদ বলেন, 'দুইজন ব্যক্তি আলাপ করে নিজেরা রেকর্ড করতে পারেন। এটা যে এনটিএমসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তা কিন্তু নয়। যারা কথা বলেন তারা দুই দিকের হতে পারেন।'

একই প্রশ্নের উত্তর দেন এনটিএমসির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসানও। তিনি বলেন, 'যদি কারও সঙ্গে বিরোধ থাকে, তাহলে যে কেউ তার কল রেকর্ড করে বিব্রত করতে অনলাইনে পোস্ট করতে পারে। এ ধরনের কল সরকারি সংস্থা রেকর্ড করেছে, তা বলা যাবে না। এটা তাদের কাজ নয়। আসলে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে যদি কেউ কোনো ধরনের অপরাধ করে থাকে তাহলে তা শনাক্ত করতে সহায়তা করে এনটিএমসি। গুজব যাতে না ছড়ায় তার জন্য কাউন্টার ইন্টিলিজেন্স রয়েছে।'

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'যার যখন প্রয়োজন তখন এনটিএমসিতে আসছেন। এরপর তারা সহায়তা নিচ্ছেন। সব গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা এখানে কাজ করছেন। তাই এখানে সবার মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এনটিএমসি কাজ করছে।'

আসাদুজ্জামান খান কামাল আরও বলেন, সাধারণ মানুষকে নয়, শুধু অপরাধীদের নজরদারিতে রাখা হয়। যারা সমালোচনা করে তাদের মুখ বন্ধ রাখা যাবে না। সমালোচনা করলে অনেকে সংশোধিত হয়। তবে মিথ্যা মানহানিকর সমালোচনা গ্রহণযোগ্য নয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চায় অস্ট্রিয়া


আরও খবর

বাংলাদেশ

বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ও অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কারিন কেনিস নিজেদের মধ্যে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন— পিআইডি

  কূটনৈতিক প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চায় অস্ট্রিয়া। দেশটি মনে করে, মিয়ানমারে যেসব দেশের বিনিয়োগ রয়েছে, তাদের উচিত এ সমস্যা সমাধানে একসঙ্গে কাজ করা।

বুধবার রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কারিন কেনিসের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তারা। বৈঠকে ঢাকা-ভিয়েনা সরাসরি বিমান চলাচল ও দেশে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।

বৈঠক শেষে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ড. আবদুল মোমেন বলেন, অস্ট্রিয়ার সঙ্গে কীভাবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো যায়, তা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কোন কোন খাতে তারা বিনিয়োগ করতে পারে, তা নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

কারিন কেনিস বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চায় অস্ট্রিয়া। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে এ সংকট সমাধানে ইইউর উদ্যোগের সঙ্গে সব সময়ই আছে তারা। তিনি বলেন, মিয়ানমারে বড় বড় দেশের বিভিন্ন কোম্পানির বিনিয়োগ রয়েছে। সেসব দেশের উচিত, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা। তিনি বলেন, সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এ সংকটের কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-ভিয়েনার মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযাগ চালুর বিষয়ে শিগগিরই চুক্তি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সত্যিই খুব প্রশংসনীয়। বাংলাদেশে ওষুধশিল্প, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও নির্মাণ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী অস্ট্রিয়ার ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে চলেছে।

তিনি জানান, তার সঙ্গে অস্ট্রিয়ার ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল এসেছে। তারা বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা করছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট খবর