বাংলাদেশ

দুই জোটে আসন ভাগাভাগি

শরিকদের সঙ্গে সমঝোতায় হিমশিম বিএনপি

নির্বাচন ২০১৮

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

শরিকদের সঙ্গে সমঝোতায় হিমশিম বিএনপি

  কামরুল হাসান

দফায় দফায় বৈঠক করেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছতে পারছে না বিএনপি জোট। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন বণ্টন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে জোটের প্রধান শরিক বিএনপি। যোগ্য ও শক্তিশালী প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারছে না দলটি।

দুই জোটকে ৫০ থেকে ৫৫টি আসন ছাড়তে চাইছে বিএনপি। তবে নিজেদের প্রার্থীকে যোগ্য দাবি করে আরও আসন চাইছে জোটের শরিকরা। আজ বৃহস্পতিবার ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত ফয়সালা হবে বলে জোটের নেতারা আশা করছেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা গুছিয়ে আনা হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না সমকালকে বলেন, আসন বণ্টনের বিষয়টি সমাধানের চূড়ান্ত পথে রয়েছে। কাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক রয়েছে। সেখান থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বৃহস্পতিবার অথবা শুক্রবার ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিএনপি সূত্র জানায়, আসন বণ্টন নিয়ে ২০ দলীয় জোটের চেয়ে ঐক্যফ্রন্টে সমস্যা বেশি হচ্ছে। ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও নাগরিক ঐক্য পঞ্চাশের বেশি আসন চাইছে। এর মধ্যে গণফোরামের আসন সংখ্যা বেশি।

বিষয়টি সমাধান করতে গতকাল বুধবার দুপুরে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে নাগরিক ঐক্যসহ অন্যান্য দলের সঙ্গেও ধারাবাহিক বৈঠক করেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এর আগেও দফায় দফায় এসব দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে দলটি। তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি।

সূত্র জানায়, নির্বাচনকে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই বলে মনে করছে বিএনপি। সে ক্ষেত্রে দলটি নির্বাচনে জয়লাভকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই জয় পেতে তারা জনপ্রিয় ও দক্ষ নেতাকে মনোনয়ন দিতে চায়। জোটের শরিক দলের নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে তা কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তার হিসাবও করা হচ্ছে। প্রয়োজনে নির্বাচিত হতে পারলে রাষ্ট্র পরিচালনায় শরিক দলগুলোকে গুরুত্ব দেবে তারা। কিন্তু আবেগের বশে কোনো নেতাকে মনোনয়ন দিয়ে হারের ঝুঁকি বাড়াতে রাজি নয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

সূত্র আরও জানায়, গণফোরামকে ছয়টি আসন দিতে এরই মধ্যে সম্মতি জানিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে দলটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুকে ঢাকা-৭, নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরীকে ঢাকা-৬, রেজা কিবরিয়াকে হবিগঞ্জ-১, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে পাবনা-১ ও সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে মৌলভীবাজার-২, মেজর জেনারেল (অব.) আ ম সা আমিনকে কুড়িগ্রাম-২ আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে। তবে দলটির পক্ষে আরও ১২টি আসন দাবি করা হচ্ছে। তা নিয়েই দরকষাকষি চলছে।

গণফোরামকে দেওয়া ছয়টি আসনের মধ্যে ঢাকা-৬ নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাই এ আসনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিএনপি মনে করে, আসনটি ছাড়া হলে জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে সুব্রত চৌধুরীর পক্ষে কাজ করবে কি-না তা নিয়ে সন্দিহান বিএনপি।

দলটির সিনিয়র নেতারা জানান, ঢাকা-৬ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তিনি দেশের বাইরে থাকলেও তার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এখান থেকে নির্বাচন করতে চান। তিনি ইতিমধ্যে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। এ আসনে গণফোরামের কোন ভোটব্যাঙ্ক নেই। বিএনপির নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে না পারলে গনফোরাম প্রার্থীর ভরাডুবি ঘটতে পারে। তাই অন্য কাউকে মনোনয়ন দিয়ে সুব্রত চৌধুরীকে অন্যভাবে মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।

জেএসডিকে ৩টি আসনের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে দলটির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের লক্ষ্মীপুর-৪, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতনের কুমিল্লা-৪ রয়েছে। তবে দলটির পক্ষে আরও ৪টি আসন দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-১৪ আসনে কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী ও ঢাকা-১৮ আসনে শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন রয়েছেন। এর বাইরে বগুড়া-৭ ও কিশোরগঞ্জ-৩ আসনও তারা দাবি করেছে।

জেএসডি সহসভাপতি তানিয়া রব সমকালকে বলেন, আসন বণ্টনের বিষয়টি এখনও সমাধান হয়নি। তবে হয়ে যাবে। আমরা যোগ্য প্রার্থীদেরই প্রাধান্য দেব। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমরা যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকে ২টি আসন দিতে চাইছে বিএনপি। তা হলো- টাঙ্গাইল-৪ ও টাঙ্গাইল-৮। তবে দলটির পক্ষ থেকে আরও ৩টি আসন দাবি করা হয়েছে। সেগুলো হলো- টাঙ্গাইল-৭, টাঙ্গাইল-৫ এবং গাজীপুর-৩।

নাগরিক ঐক্যকে ২টি আসন দেওয়ার বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। তা হলো দলটির আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার জন্য বগুড়া-২ এবং দলটির নেতা এস এম আকরামের জন্য নারায়ণগঞ্জ-৫। তবে তাদের পক্ষে আরও ৪টি আসন দাবি করা হচ্ছে। তবে সেসব আসনে দলটির প্রার্থীর থেকে বিএনপির প্রার্থী অনেক শক্তিসালী।

আসন বণ্টনে ২০ দলীয় জোটর শরিকদের মধ্যে সমস্যা না থাকলেও অস্বস্তিতে রয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে জামায়াতের সঙ্গে ২৫টি আসনে সমঝোতা করে দলটির প্রার্থীদের ধানের শীষে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে দিনাজপুর-১ আসনে জামায়াত নেতা মুহম্মদ হানিফের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। তিনি আপিল করেছেন।

নিবন্ধন হারানো জামায়াত আরও তিনটি আসন চাইছে। সে আসনগুলো হলো- চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, পাবনা-১, রাজশাহী-১। রাজশাহী-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান। তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তিনি আপিল করেছেন। পাবনা-১ চান মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। ঢাকা-১৫ আসন নিয়েও বেকায়দায় আছে বিএনপি। এ আসন থেকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচন করতে চান।

এলডিপিকে ৪টি আসন দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে চট্টগ্রাম-১৪, মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদকে কুমিল্লা-৭, আবদুল করিম আব্বাসীকে নেত্রকোনা-১ ও শাহাদাত হোসেন সেলিমকে লক্ষ্মীপুর-১ দেওয়া হয়েছে। দলটি আরও ১টি আসনের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছে। চট্টগ্রাম-৭ আসন পেতে গতকাল রাতেও গুলশান কার্যালয়ে বৈঠক করেন নেতারা।

দলটির যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, ৪টি আসনের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছালেও আরও ২টি আসনে তাদের যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। তারা দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

এ ছাড়া জোটের অন্যান্য শরিক দলের মধ্যে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টি আই ফজলে রাব্বীর জন্য গাইবান্ধা-৩সহ আরও একটি আসন ছাড়বে বিএনপি। কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম চট্টগ্রাম-৫, বিজেপির আন্দালিভ রহমান পার্থ ভোলা-১, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি ওয়াক্কাস যশোর-৫ এবং শাহীনুর পাশা চৌধুরী সুনামগঞ্জ-৩ আসন পাচ্ছেন। খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের হবিগঞ্জ-৪, জাগপার শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান পঞ্চগড়-২, মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে পিপলস পার্টির রিটা রহমান রংপুর-৩ আসন পাচ্ছেন। এর বাইরে মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মণ্ডল যশোর-৪ আসন পেতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ ভাষাশহীদদের


আরও খবর

বাংলাদেশ

শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বৃহস্পতিবার ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সর্বস্তরের মানুষ— সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

ভোর হতেই দেশের সব রাজপথ যেন মিশে যায় শহীদ মিনারে। মায়ের ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে জয়ী বীর বাঙালি জাতি আবারও বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করে তার গর্বিত পূর্বসূরিদের।

দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আর সমাজে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দেওয়ার অঙ্গীকারে বৃহস্পতিবার সারাদেশে পালিত হলো মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শহীদ মিনারের বেদিগুলোও এদিন ভরে ওঠে ফুলেল শ্রদ্ধায়। ফাল্গুন ভোরের হিম হাওয়ায় নগ্ন পদে সবাই ছুটে যান শহীদ মিনারে। দুপুর অবধি রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছিল লাখো মানুষের ঢল। মা, মাটি, দেশ আর মাতৃভাষার প্রতি বাঙালির অপরিসীম মমত্ববোধের চিরায়ত প্রকাশ ঘটে এদিন। ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ, যুবা, তরুণ-তরুণী, পাহাড়ি, বাঙালি, ভিনদেশি, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সবাই সারিবদ্ধভাবে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় সবার কণ্ঠে ছিল অমর একুশের কালজয়ী সেই গান 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি...।'

ভাষা শহীদদের প্রতি বৃহস্পতিবার ফুলেল শ্রদ্ধা জানায় সর্বস্তরের মানুষ— সমকাল

বুধবার মধ্যরাতে ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার আগেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সারি দেখা যায় শহীদ মিনারে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর্ব শেষ হলে শহীদ মিনার সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়। তবে শ্রদ্ধার্ঘ্য অপর্ণের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে নামে মানুষের ঢল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সর্বস্তরের মানুষের সারি আরও দীর্ঘ হয়। এই দিনে বাঙালির শোককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বুধবার রাতের চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। আগুনে পোড়া শতাধিক হতাহতের স্বজনের দুঃখ-বেদনা যেন সালাম-বরকতদের শোকে লীন হয়ে তৈরি করে মর্মন্তুদ এলিজি। চকবাজারের আগুনে স্বজনহারাদের হাহাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজের করিডোর আর মর্গ পেরিয়ে এসে মেশে শহীদ মিনারের অর্ধনমিত জাতীয় পতাকায়, প্রভাতফেরির কালো পোশাকে।

একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্র্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপরই শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। এরপর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় প্রধান হিসেবে আওয়ামী লীগের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর একে একে শ্রদ্ধা জানান ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্যানেল মেয়র মোস্তফা কামাল। সহকর্মীদের নিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। শ্রদ্ধা জানান ঢাকার বিভিন্ন মিশনের কূটনীতিক, একাত্তরের সেক্টর কমান্ডার এবং মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের নেতারা। শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সৈনিক, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন সংগঠন। বিশিষ্টজনের শ্রদ্ধা জানানোর পর সবার জন্য উন্মুক্ত হয় শহীদ মিনার।

সভাপতি এ. কে. আজাদের নেতৃত্বে একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানায় ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন— সমকাল

বিশিষ্টজনের প্রতিক্রিয়া: বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় শহীদ মিনারে ফুল দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্বের ৩৩ কোটি বাংলা ভাষাভাষী মানুষের মাতৃভাষা বাংলা। ভাষার দিক দিয়ে এর অবস্থান সপ্তম। তাই বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষার দাবি গোটা জাতির। এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ভাষাশহীদরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের অবদানে আজ বাংলা ভাষা বিশ্ব দরবারে স্বীকৃতি পেয়েছে। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই এসেছে স্বাধীনতা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলটির নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ভাষাশহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গণতন্ত্র হরণ করে সরকার একুশের চেতনাকে ভূলণ্ঠিত করেছে। এ সময় তিনি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান।

বিভিন্ন সংগঠনের শ্রদ্ধা নিবেদন: সভাপতি এ. কে. আজাদের নেতৃত্বে একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানায় ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। প্রথম প্রহরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শ্রদ্ধা জানায় জাসদের দুই অংশ, ওয়ার্কার্স পার্টি, সিপিবি, সাম্যবাদী দল, বাসদ, গণতন্ত্রী পার্টি, ন্যাপসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে শ্রদ্ধা জানায় ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রমৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট। ভোরে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এ সময় নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ— সমকাল

আরও শ্রদ্ধা জানায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন মহিলা কলেজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, রাজউক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স সমিতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, জাতীয় প্রেস ক্লাব, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট, সামাজিক মহিলা ফোরাম, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, শিল্পকলা একাডেমি, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, বাংলা একাডেমি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, মহিলা পরিষদ, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স (আইবি), ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিবি), বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নস, ঢাকা নার্স কলেজ, বাংলাদেশ এনজিও ফেডারেশনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন। শহীদ মিনারের পাশাপাশি আজিমপুর কবরস্থানে ভাষাশহীদদের কবরেও শ্রদ্ধা জানায় আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষকদের সমন্বয় বদলির নির্দেশ


আরও খবর

বাংলাদেশ

  সমকাল প্রতিবেদক

পুরনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়াশোনার মান নতুন সরকারি হওয়া বিদ্যালয়গুলোর চেয়ে ভালো। এমন ধারণা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। নতুন সরকারি হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আগের বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। সে সময় নানাভাবে প্রভাব ও তদবিরের জোরে অনেক অযোগ্য শিক্ষকও অনায়াসে চাকরি পেয়েছেন।

নতুন সরকারি হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান বাড়াতে তাই নতুন উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন করে সরকারি হওয়া বিদ্যালয় ও আগে থেকেই সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক বা সমন্বয় বদলি করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এত দিন অন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হতে পারতেন না। এর ফলে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান 'কাঙ্ক্ষিত মাত্রায়' নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে গত বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন ও পুরনো বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ে সমন্বয় বদলি করে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তা মন্ত্রণালয়কে জানাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে একযোগে ৩৬ হাজার ১৬৫টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি করে দেন। বর্তমানে বাংলাদেশে ৬৫ হাজার ৫৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশে বলা হয়েছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মানসম্মত ও একীভূত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে, নতুন জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়গুলোতে শুধু আত্তীকরণকৃত শিক্ষকদের দ্বারা পাঠদান কার্যক্রম চলায় সেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিটি বিদ্যালয়ে মানসম্মত ও একীভূত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পুরনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নতুন জাতীয়করণকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা জরুরি বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

শোক সন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার আইনমন্ত্রীর


আরও খবর

বাংলাদেশ

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

পুরান ঢাকায় চকবাজার এলাকায় মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

এই প্রাণহানির ঘটনায় বৃহস্পতিবার এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। শোক সন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। তবে এই দুঃখের সময় আমি তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি।

এ সময় নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন মন্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট খবর