বাংলাদেশ

ঢাবিতে হামলায় কোটা আন্দোলনের ৫ জন আহত

প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮

ঢাবিতে হামলায় কোটা আন্দোলনের ৫ জন আহত

   বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'নিরাপদ বাংলাদেশ চাই' ব্যানারে সমাবেশ করতে গিয়ে হামলায় আহত হয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের পাঁচজন। রোববার বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দের (টিএসসি) অভ্যন্তরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত পাঁচ আন্দোলনকারী হলেন- কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম-আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা, তারেক রহমান, আহমেদ কবির, জসিম উদ্দিন আকাশ ও সোহরাব হোসেন। নিরাপত্তা জনিত কারণে আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত সোহরাব হোসেন বলেন, আমরা ব্যক্তিগতভাবে 'নিরাপদ বাংলাদেশ চাই' ব্যানারে রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান কর্মসূচির পালনের জন্য দুপুর থেকে ঢাকা বিশ্বিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে বসে ছিলাম। পরে দুপুরের খাবার খেতে টিএসসির ভিতরে গেলে ছাত্রলীগের ৮০ থেকে ৯০ জন কর্মী আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। হামলাকারীদের মধ্যে সোহান, শহীদুল, আনোয়ার ও মামুন অন্যতম। হামলায় তাদের পাঁচজন আহত হওয়ার কথা জানান তিনি। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া সোহানুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আর শহীদুল শান বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের স্কুল-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক। তারা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের অনুসারী। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে আনোয়ার ও মামুনের পুরো পরিচয় পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নুর জানান, 'কিছু ছাত্র নিজেদের উদ্ধেগ-উৎকন্ঠা থেকে 'নিরাপদ বাংলাদেশ চাই' ব্যানারে রাজু ভাস্কর্যে মানববন্ধন করতে চেয়েছিল। তাদের সাথে আমাদের সংগঠনের কিছু লোক ছিল। কিন্তু অবস্থানের পূর্বেই ছাত্রলীগ ওদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। এতে আমাদের পাঁচজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।'

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, 'হামলার বিষয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে ভিন্ন সূত্রে জানতে পেরে আমি প্রক্টরিয়াল টিমকে সেখানে পাঠিয়েছিলাম। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে তারা জানিয়েছে কোনো একটা গ্রুপ কিছু করার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছিল। ফলে দুই গ্রুপের মধ্যে একটা সংঘর্ষ হয়েছে।'

হামলার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস জানান, 'হামলার বিষয়ে আমি এখনো কিছু জানি না। খোঁজ নিয়ে পরে জানাবো।'

মন্তব্য


অন্যান্য