বাংলাদেশ

মিডিয়া সেন্টার অন্তর্ভুক্ত করা হলো রাবির মাস্টার প্ল্যানে

প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮

মিডিয়া সেন্টার অন্তর্ভুক্ত করা হলো রাবির মাস্টার প্ল্যানে

  রাবি সংবাদদাতা

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনায় 'মিডিয়া সেন্টার' অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে 'মহাপরিকল্পনায় মিডিয়া সেন্টার অন্তর্ভুক্তকরণ' বিষয়ে একটি মতবিনিময় সভায় মাস্টার প্ল্যান কমিটি এ তথ্য জানায়।

মাস্টার প্ল্যান কমিটির সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের দুই শিক্ষক মহাপরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করছেন। এতে ২০১৮-৬৭ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও একাডেমিক উৎকর্ষতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

কমিটির আহ্বায়ক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম মোস্তাফিজুর রহমান। 

জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকারের সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাস্টার প্ল্যান পরিকল্পনাকারী ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক রকীব আহমদ ও অধ্যাপক রেজাউর রহমান।

মিডিয়া সেন্টার স্থাপন প্রসঙ্গে উপ-উপাচার্য চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত মিডিয়া সেন্টার নামে কিছু নেই। তবে ষাটের দশক থেকেই ইউরোপ-আমেরিকার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে মিডিয়া সেন্টার কাজ শুরু করেছে। এর মাধ্যমে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ডিং করেন আবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন। রাবির এ মিডিয়া সেন্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি তুলে ধরতেও কাজ করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান বলেন, '১৯৬২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে মাস্টার প্ল্যান করা হয়েছিল, তার কোনো অস্তিত্ব এখন আর নেই; কিন্তু পরিকল্পনা করে কাজ করলে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৫০ বছর মেয়াদি নতুন একটি মাস্টার প্ল্যান করা হচ্ছে। 

এতে আর যা কিছুই থাকুক না কেন, একটি মিডিয়া সেন্টার থাকা উচিত। কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতিসহ নানা কার্যক্রম মিডিয়া সেন্টার প্রকাশ করতে পারবে। আর এ প্রকাশের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিয়ে যাওয়া যাবে।'

মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, নতুন মাস্টার প্ল্যানের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ও ঘটনা সংরক্ষণের জন্য একটি আর্কাইভের কাজ শুরু করা হয়েছে। এ আর্কাইভটিকে ডিজিটাইজেশনের জন্য কাজ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনার নামকরণ এবং বানান সংশোধন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথম বিজ্ঞান ভবনের নাম 'সত্যেন্দ্রনাথ বসু একাডেমিক ভবন', দ্বিতীয় ভবনের নাম 'ড. মুহম্মদ কুদরত-ই-খুদা একাডেমিক ভবন', তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনের নাম 'স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবন', চতুর্থ বিজ্ঞান ভবনের নাম 'ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া একাডেমিক ভবন' করা হবে। 

এ ছাড়া চারুকলা ভবনসহ বেশ কিছু প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের নাম পরিবর্তন করা হবে।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ বারী, ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু, প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান প্রমুখ।

মন্তব্য


অন্যান্য