বাংলাদেশ

এবার বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার পথ রুদ্ধ

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৮

এবার বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার পথ রুদ্ধ

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

নির্বাচন কমিশনের বিদ্যমান নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে কে কার সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচনে আগ্রহী তা রোববারের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানাতে হবে। পাশাপাশি অনিবন্ধিত কোন দলের প্রার্থী নিবন্ধিত দলের প্রতীকে নির্বাচনের সুযোগ থাকবে। 

অন্যদিকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকছে না নির্বাচনী আইনে। তবে আগে থেকেই যারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর শর্ত পুরণ করে মনোনয়ন ফরম জমা দিবেন তাদের জন্য এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

ইসি কার্যালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ শুক্রবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিন দিনের মধ্যে জোটবদ্ধ দলগুলোকে তাদের অবস্থান জানিয়ে ইসিকে চিঠি দিতে হবে। সেই হিসেবে রোববারের মধ্যেই দলগুলোকে নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে। অন্যথায় একদলের প্রতীক অন্যদলের প্রার্থী ব্যবহারের সুযোগ পাবেন না। ইসির পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা শুক্রবার সব রাজনৈতিক দলকে জানিয়ে দিয়েছে। 

এছাড়া নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার ব্যানার দেয়াল লিখন, বিলবোর্ড, গেট, তোরণ বা ঘের, প্যান্ডেল, আলোকসজ্জা ইত্যাদি প্রচার সামগ্রী আগামী ১৪ নভেম্বর রাত বারোটার আগেই নিজ খরচে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছে ইসি। এ নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যমান আরওপি অনুযায়ী এসব প্রার্থীরা দলীয় পরিচয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরে যদি তারা প্রতীক বরাদ্দের চিঠি না পান তবে তাদের প্রার্থীতা বাতিল হয়ে যাবে। কারণ কোন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তিনি কোন দলের মনোনীত তা ফরমে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। যে দলের মনোনীত ওই দলের প্রধানের সই করা প্রতীক বরাদ্দের চিঠি না পেলে তিনি আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও ভোটের মাঠে থাকতে পারছেন না।

এদিকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তরা আগেই জানিয়েছেন, আইনগত দূর্বলতার কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিবন্ধিত বা নিবন্ধন অবৈধ ঘোষিত হয়েছে এমন দলের নেতাদেরও জোটভুক্ত হয়ে নিবিন্ধত কোন দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে। তবে জোটের যে দলের প্রতীকে তারা প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন সে দলের প্রার্থী হিসেবেই গণ্য হবেন তারা। 

এর আগে ইসিতে গিয়ে একাধিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত ইসলামের নেতাদের প্রার্থী হওয়ার পথ বন্ধ করতে ইসিকে উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার ইসি সচিব জানিয়েছেন, আইনগতভাবে সেই সুযোগ নেই। অন্য যে কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতীকে অথবা স্বতন্ত্র হিসেবে তারা প্রার্থী হতে কোন বাধা নেই।

ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ ব্যয় ১০ টাকা: নির্বাচনে ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ব্যয় ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে একজন প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয় ২৫ লাখ টাকা বহাল রাখা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারপ্রতি ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ টাকা।

ইসির সর্বোচ্চ ব্যয়ের নির্দেশনা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ ব্যয় ২৫ লাখ নির্ধারিত থাকলেও এবার দেশের সবচেয়ে কম ভোটারের আসন ঝালকাঠি-১ আসনের একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ১৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫০ টাকার বেশি ব্যয় করতে পারবেন না। এই আসনের ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৫ জন। আবার ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ ব্যয় ১০ টাকা নির্ধারণ হলেও দেশের সবচেয়ে বেশি ভোটারের আসন ঢাকা-১৯ আসনে ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ব্যয় করা যাবে ৩ টাকা ৩৫ পয়সা। কারণ এই আসনে ভোটার সংখ্যা সাত লাখ ৪৭ হাজার ৩০১ জন।

প্রচার উপকরণ অপসারণের নির্দেশ: সারাদেশের দৃশ্যমান সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার উপকরণ আগামী বুধবারের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন এবং সিটি ও পৌরসভাকে চিঠি দিয়েছে তারা।

পরে ইসি কার্যালয়ের সচিব সাংবাদিকদের জানান, মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়ে শুক্রবারই এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত সব ধরনের প্রচার নিষিদ্ধ। তাই আগামী সাত দিনের মধ্যে জেলা, উপজেলা এবং সিটি করপোরেশন আওতাধীন এলাকায় যেখানে পোস্টার, ব্যানার, গেট, তোরণ এবং আলোকসজ্জা রয়েছে- সেগুলো অপসারণের জন্য বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী এবং পৌরসভার মেয়রদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য কোনো প্রার্থী যদি তার প্রচার উপকরণ অপসারণ না করেন তবে তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হবেন এবং আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচিব বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা প্রচারে নামতে পারবেন। এর আগ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন না। এ বিষয়ে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছে চিঠি পাঠানো হবে। 

এক প্রশ্নের জবাবে হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, যেসব জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে চায়, তাদের এ সংক্রান্ত তথ্য আগামী তিন দিনের মধ্যে ইসিকে জানাতে। 

তিনি বলেন, অনিবন্ধিত কোনো দল নিবন্ধিত কোনো দলের সঙ্গে জোটগতভাবে নির্বাচন করতে চাইলে ইসির কিছু করার থাকবে না। এই বিষয়ে আইনে কোনো ব্যাখ্যা নেই।

তিনি আরও জানান, আগামী রোববার থেকে অনলাইনে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে। প্রার্থীরা চাইলে অনলাইন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহও করতে পারবেন।

রিটার্নিং-সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ: সচিব বলেন, সারা দেশের ৬৪টি জেলার জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি এলাকায় স্থানীয় বিভাগীয় কমিশনারকে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার-ভূমি এবং জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ৫৮০ জনের মতো সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানাল বাংলাদেশ


আরও খবর

বাংলাদেশ

  সমকাল প্রতিবেদক

দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ওই প্রতিবেদনে সঠিক তথ্য প্রতিফলিত হয়নি। বাংলাদেশের চেয়ে বরং যুক্তরাষ্ট্রেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে অনানুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের হামলার ঘটনায় সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এম শহীদুল আলম।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটি ভ্রমণে বাংলাদেশিদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।

ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে নৃশংস হামলায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশির পরিচয় তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. আব্দুস সামাদ, সিলেটের ফরিদ আহমেদের স্ত্রী হুসনে আরা আহমেদ, চাঁদপুরের মোজাম্মেল হক, নরসিংদীর জাকারিয়া ভূঁইয়া ও নারায়ণগঞ্জের মোহাম্মদ ওমর ফারুক। আহত হয়েছেন কিশোরগঞ্জের লিপি ও গাজীপুরের মুনতাসীম। তবে লিপির অবস্থা গুরুতর। এ ছাড়া শাওন নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

ড. মোমেন বলেন, নিউজিল্যান্ডের ঘটনার বিষয়ে খোঁজ-খবর ও যাবতীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য সহকারী সচিব ওয়ালিদ বিন কাশেমকে ফোকাল পারসন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডে নিহতদের শনাক্ত করার জন্য বাংলাদেশ থেকে পরিবারপ্রতি একজনকে খরচ দিয়ে নিয়ে যাবে নিউজিল্যান্ড সরকার।

মন্ত্রী আরও জানান, হামলার পর পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশটির ক্যানবেরায় থাকা বিদেশি মিশনের মধ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনই সবার আগে ক্রাইস্টাচার্চে পৌঁছায়। হতাহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ান কর্মকর্তারা। তিনি আরও জানান, বিশ্বে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে জাতিসংঘের মাধ্যমে একটি উদ্যোগ নেবে বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

ঢাবিতে আন্দোলনকারী পাঁচ প্যানেলের কর্মসূচি স্থগিত


আরও খবর

বাংলাদেশ

সোমবার উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে পাঁচ ঘণ্টা অবস্থানের পর কর্মসূচি স্থগিত করে ডাকসু নির্বাচন বর্জনকারী পাঁচ প্যানেলের নেতারা -সমকাল

  বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে পাঁচ ঘণ্টা অবস্থানের পর কর্মসূচি স্থগিত করেছে নির্বাচন বর্জন করা পাঁচটি প্যানেল। পরবর্তী কর্মসূচি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে বলে প্যানেলগুলোর নেতারা জানিয়েছেন। সোমবার বিকাল ৫টায় আন্দোলনরত পাঁচ প্যানেলের প্রার্থী ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেন ডাকসু নির্বাচনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জিএস প্রার্থী রাশেদ খান এবং স্বতন্ত্রী শিক্ষার্থী প্যানেলের ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান।

রাশেদ খান বলেন, আমরা পাঁচ ঘন্টা ধরে এখানে বসে আছি। আমরা ক্ষুব্ধ এবং হতাশ। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বা প্রক্টর কেউ আমাদের সঙ্গে কথা বলতে আসেনি। তারা নৈতিকভাবে এমন দুর্বল হয়ে গেছেন যে, শিক্ষার্থীদের সামনে আসার সৎসাহসটা পর্যন্ত তাদের নেই। এটা খুবই লজ্জাজনক। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসম্মান যা ছিল সব নষ্ট হয়ে গেছে এ নির্লজ্জ প্রশাসনের কারণে।

অরণি সেমন্তি খান বলেন, আমরা খুবই হতাশ। আমাদের শিক্ষক যারা আছেন অভিভাবক হিসেবে তাদের আমাদের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু এটা আমাদের জন্য লজ্জার যে, তারা আসেননি। তাদের এত ভয় কিসের? এত লুকানোর কী আছে? কারণ আমাদের সামনে আসার সৎ সাহস তাদের নেই।

পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে রাশেদ খান বলেন, আমাদের যে পাঁচটি প্যানেল রয়েছে- সবার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের গলায় সমস্যা হওয়ায় কথা বলতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন সহকারী প্রক্টর আবদুর রহিম। পাঁচ প্যানেলের নেতাদের তাদের দাবিগুলো লিখিত আকারে উপাচার্য বরাবর পেশ করতে বলেন তিনি।

এর আগে পাঁচ দফা দাবিতে দুপুর ১২টার দিকে পাঁচ প্যানেলের নেতারা রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হন। সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন তারা। এরপর উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

তাদের পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো- ১. অবিলম্বে নির্বাচন বাতিল, ২. পুনঃতফসিল ঘোষণা, ৩. ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে উপাচার্যের পদত্যাগ, ৪. নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে জড়িত সব শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদত্যাগ ৫. শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহার।

আন্দোলনকারীরা উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে বসে বিভিন্ন স্লোগান ও বিদ্রোহী সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান। তবে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেল থেকে নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর ও বামজোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দীকে সেখানে দেখা যায়নি। নুরের বোন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকায় তিনি আসতে পারেননি বলে জানা যায়। 

ক্লাস-পরীক্ষা স্বাভাবিক: পাঁচ দফা দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল পাঁচ প্যানেলের প্রার্থীরা। তবে সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবে চলছে। ক্যাম্পাসেও শিক্ষার্থীদের আনাগোনাও স্বাভাবিক।

সব বিভাগেই ক্লাস স্বাভাবিকভাবেই হচ্ছে জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ক্লাস না হওয়ার কোনো কারণ নেই।

উপাচার্যের সঙ্গে অনশনকারীদের বৈঠক: এদিকে ডাকসু নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাজু ভাস্কর্যে অনশন করা শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকাল ১১টার দিকে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে অনশন করা শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম, রাফিয়া তামান্না, শোয়েব মাহমুদ অনন্ত, তাওহিদ তানজিম ও মইন উদ্দিন উপাচার্যের কাছে ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন। এ সময় উপাচার্য বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।

প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক শেষে শোয়েব মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনে ভোট কারচুপি, ভোট প্রদানে বাধা ও প্রার্থীদের ওপর হামলার বিষয়গুলো উপাচার্যকে জানানো হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন হলে ভোটের অনিয়ম, ভোটারদের লিখিত অভিযোগ ও হামলার ভিডিও ফুটেজ দেওয়া হয়েছে। উপাচার্য স্যার জানিয়েছে, নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ১৩ মার্চ যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের কাছে এই ডকুমেন্টগুলো সরবরাহ করা হবে।

তবে এই বৈঠক নিয়ে তারা সন্তুষ্ট নন বলে জানান আরেক অনশনকারী মঈন উদ্দিন। তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের উত্থাপিত অনিয়মগুলো নিয়ে তদন্ত করা হবে বলে উপাচার্য জানিয়েছেন, তাই আমরা কিছুদিন অপেক্ষা করব। দ্রুত তদন্তের ফল প্রকাশ না করলে আমরা চলমান আন্দোলনে যোগ দেব।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে উপাচার্য, চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অপসারণ, পুনঃনির্বাচন ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছিলেন চার শিক্ষার্থী। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন আরো তিনজন। এর মধ্যে ছয়জন ডাকসু ও হল সংসদে বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ছিলেন। অনশনের চতুর্থ দিনের মাথায় শুক্রবার রাতে প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মাকসুদ কামালসহ ডাকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএস গিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়ে তাদের অনশন ভাঙান।


সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

ডা. রাজনের মরদেহে আঘাতের চিহ্ন মেলেনি


আরও খবর

বাংলাদেশ

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজন কর্মকারের মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সোমবার সকালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সেলিম রেজা সমকালকে বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য ভিসেরা নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত করে কারণ বলা যাবে। তবে মৃতদেহে কোনোপ্রকার আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

এ দিকে সোমবার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে রাজনের লাশ দেখতে যান তার স্ত্রী ডা, কৃষ্ণা মজুমদার। স্বামীর মৃত্যুতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বিএসএমএমইউ'র চিকিৎসকরা জানান, ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে রাজনের মৃতদেহ তার কর্মস্থল বিএসএমএমইউ-এ নেওয়া হয়। তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। দুপুর ২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে মৃতদেহ গ্রামের বাড়ির নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এখলাসপুরের উদ্দেশে নিয়ে রওনা হন স্বজনরা।

গত রোববার ভোরে পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়ার আগেই রাজনের মৃত্যু হয়। তার মৃত্যু নিয়ে সৃষ্টি হয় নানা রহস্য। তার চিকিৎসক সহকর্মী এবং স্বজনের অভিযোগ তার স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। তাকে হত্যা করা হয়েছে।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের মেয়ে ডা. কৃষ্ণা মজুমদারের স্বামী ডা. রাজন। কৃষ্ণাও বিএসএমএমইউ'র সহকারী অধ্যাপক। তাদের বাসা ফার্মগেট এলাকার ইন্দিরা রোডে। তবে জানুয়ারি থেকে তারা সেখানে থাকতেন না। মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ন্যাম ভবনে থাকতেন।

ইন্দিরা রোডের ৪৭ নম্বর বাড়িটির নিরাপত্তা কর্মী বাদশা মিয়া জানান, ৩/সি ফ্ল্যাটে চিকিৎসক দম্পতি ভাড়া থাকতেন। তবে এ মাসের শেষে বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথা। জানুয়ারি থেকে তারা বাসায় থাকেন না। ডা. রাজন মাঝেমধ্যে বাসায় আসতেন, তবে রাত কাটাতেন না। ভাড়ার টাকা দিয়ে চলে যেতেন। শনিবার রাত ১টার দিকে রাজন বাসায় আসেন। দেড়টার দিকে নিচে নেমে যান। ১৫-২০ মিনিট পর আবার তিনি বাসায় ওঠেন। রাত আড়াইটা-তিনটার দিকে তার স্ত্রী ডা. কৃষ্ণা গাড়িতে করে ওই বাসায় আসেন। গাড়ির ড্রাইভার নিচে অবস্থান করছিলেন। আধাঘন্টা পর কৃষ্ণা ড্রাইভারকে বাসায় ডাকেন। এরপরই ড্রাইভার চিৎকার করে লিফট চালু করতে বলেন নিরাপত্তাকর্মীকে। অচেতন অবস্থায় ডা. রাজনকে গাড়িতে করে তারা স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই রাজনের মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে বিএসএমএমইউ'র চিকিৎসক সহকর্মী ও স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে যান। তারা অভিযোগ তোলেন-স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। তাকে হত্যা করা হয়েছে। অবশ্য রাজনের মামা সুজন কর্মকার রোববার শেরেবাংলা নগর থানায় লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, রাজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সি বলেন, আমরা তার অভিযোগ খতিয়ে দেখছি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে রাজন কর্মকারের মৃতদেহ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সোমবার দুপুরে বিএসএমএমইউ'র বি ব্লকের শহীদ ডা. মিলন হলে আনা হয়। এ সময় এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয় সেখানে। রাজনের মরদেহে বিএসএমএমইউ'র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ূয়াসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা পুষ্পস্তবক অপর্ণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান।

সংশ্লিষ্ট খবর