বাংলাদেশ

৬৬ রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৮

৬৬ রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ

  সমকাল প্রতিবেদক

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৬৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক পরিপত্রে এই কথা জানানো হয়।

নিয়োপ্রাপ্ত ৬৬ জনের মধ্যে ৬৪ জন ৬৪ জেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আর অন্য দুজন বিভাগীয় কমিশনার।

কমিশন জানিয়েছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন এলাকার নির্বাচনী আসনগুলোর রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ঢাকা এবং চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার। জেলা পর্যায়ের নির্বাচনী আসনগুলোর রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকেরা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৩ ডিসেম্বর।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি বুধবার


আরও খবর

বাংলাদেশ

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি করা হবে বুধবার। 

সিঙ্গাপুর সময় বুধবার সকাল দশটায় ডা. ফিলিপ কোহ-এর নেতৃত্বে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সিনিয়র সদস্য কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ডা. সিবাস্টিন কুমার সামি এই বাইপাস সার্জারি করবেন।  

সিঙ্গাপুরে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা সমন্বয়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক এবং নিওরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. আবু নাসার রিজভী মঙ্গলবার সিঙ্গাপুর সময় সকালে এসব তথ্য জানান। 

তিনি আরও বলেন, ওবায়দুল কাদেরের রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার শারিরীক অবস্থাও স্থিতিশীল।

এর আগে কার্ডিও থোরাসিক সার্জন ডা. সিবাস্টিন কুমার সামি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের চিকিৎসার সর্বশেষ অগ্রগতি ও সার্জারির বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের জানান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী ইসরাতুন্নেসা কাদের, ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মীর্জা, আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দীন নাসিম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম, সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেও চেয়ারম্যান আবদুচ সালাম।

এদিকে, ওবায়দুল কাদেরের পরিবারের পক্ষ থেকে তার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর দোয়া কামনা করা হয়েছে। 

হৃদরোগে আক্রান্ত ওবায়দুল কাদের গুরুতর অসুস্থ হয়ে গত ৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি হন। তার হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে এবং একটিতে রিং পরানো হয়। এতে কিছুক্ষণ সুস্থ থাকার পর আবারও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। পরে ভারত থেকে বিখ্যাত হৃদরোগ চিকিৎসক ডা. দেবী প্রসাদ শেঠিকে আনা হয়। তার পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য কাদেরকে ৪ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। 

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

হাল্ট প্রাইজে অংশ নিতে চীন যাচ্ছে নোবিপ্রবি টিম


আরও খবর

বাংলাদেশ

ছবি: সমকাল

  নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

আন্তর্জাতিক হাল্ট প্রাইজে অংশ নিতে চীন যাচ্ছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অর্থনীতি বিভাগের টিম 'রোড ওয়াডেন'। আগামীকাল বুধবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চীনের সাংহাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করার কথা রয়েছে তাদের। টিম 'রোড ওয়াডেন'-এর সদস্যরা হলেন- ১০ম ব্যাচের আদন মুহতামিম খান, ১১তম ব্যাচের সালমান রহমান সোহাগ, ওমর ফারুক তালুকদার ও জেবিনা আফরোজ জেরিন। 

সেখানে তারা সাংহাইয়ের হোটেল 'হাই ইন' এ অবস্থান করবেন এবং হাল্ট প্রাইজের রিজিওনাল (এশিয়া মহাদেশ) পর্বে অংশ নেবেন। রিজিওনাল পর্বে বিজয়ী হলে চার সদস্যের এ টিম যাবে যুক্তরাজ্য। সেখানে বিজয়ী হলে এ তরুণ উদ্যেক্তারা গ্লোবাল রাউন্ডে অংশ নিতে যাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন, সেখানে বিজয়ী হলে তারা পাবেন ওয়ান বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় আট কোটি টাকা)।

নোবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড.এম অহিদুজ্জামান টিম 'রোড ওয়াডেন'কে দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। তিনি এ টিমের প্রতি শুভকামনা জানিয়েছেন। নোবিপ্রবির এ টিম সফলতা অর্জনের মাধ্যমে দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন উপাচার্য।

উল্লেখ্য, হাল্ট প্রাইজ জাতিসংঘ ক্লিনটন ইনিসিয়েটিভস এবং হাল্ট ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস স্কুল-এর যৌথ আয়োজন। এটি বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে আয়োজিত সবচেয়ে বড় উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতা, যেখানে প্রথমবারের মতো অংশ নিতে যাচ্ছে নোবিপ্রবি। গত ৫ জানুয়ারি নোবিপ্রবি হাল্ট প্রাইজের ফাইনালে বিজয়ী হয়ে চীন যাওয়ার গৌরব অর্জন করেন নোবিপ্রবি অর্থনীতি বিভাগের টিম 'রোড ওয়াডেন'।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

ডিজিটাল ফাইলে অনীহা সরকারি কর্মকর্তাদের


আরও খবর

বাংলাদেশ
ডিজিটাল ফাইলে অনীহা সরকারি কর্মকর্তাদের

ই-ফাইলিং

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  শরীফুল ইসলাম ও দেলওয়ার হোসেন

সরকারের রূপকল্প ২০২১-এর অন্যতম লক্ষ্য ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। ২০০৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ ডিজিটাল দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর এই ১১ বছরে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। সেবামুখী বহু ডিজিটাল সেবা পৌঁছে গেছে গ্রামে গ্রামে। তবে দুর্নীতি রোধ ও সুশাসনের জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দপ্তরগুলোর ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। একশ্রেণির কর্মকর্তার অনীহায় এখনও বেশিরভাগ সরকারি অফিসে ই-ফাইলিং কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হয়নি। ফলে আগের মতো হাতেকলমেই চলছে ফাইলের কাজ। এতে করে প্রশাসনে জিইয়ে রয়েছে লালফিতার দৌরাত্ম্য। অনেক ফাইলের হদিসও মিলছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ই-ফাইলিং ব্যবস্থা চালু হলে ফাইল আটকে রেখে দুর্নীতি করার পথ কমে যাবে। সহজে খুঁজে পাওয়া যাবে ফাইল। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের আরও সক্রিয় হতে হবে।

সরকারি তথ্যমতে, ৭৬ দশমিক ১৩ শতাংশ সরকারি অফিসে এখনও ই-ফাইলিং কার্যক্রম শুরুই হয়নি। আর হাতেগোনা যেসব অফিসে তা চালু হয়েছে, সেখানে গতানুগতিক কাজ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কোনো নথি ই-ফাইলিং করা হচ্ছে না। ফলে এ ক্ষেত্রে এই অফিসগুলোও ৫০ শতাংশ কার্যকর। অফিসপ্রধান ছাড়া অন্য কর্মকর্তাদের জন্য চালু হয়নি ডিজিটাল স্বাক্ষর। ফলে শতভাগ ডিজিটাল সেবা ও কাগজবিহীন অফিস গড়ার স্বপ্নও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবহেলায় বাস্তবায়ন হচ্ছে না ই-ফাইলিং ব্যবস্থা। দেশে সরকারি অফিস রয়েছে ১৯ হাজার। এর মধ্যে ই-ফাইলিং ব্যবহার করছে মাত্র চার হাজার ৫৩৮টি, যা মোট অফিসের ২৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে, ৭২টি অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরে, ২৭০টি দপ্তর ও সংস্থায়, বিভাগীয় পর্যায়ে ১২০টি, জেলা পর্যায়ে দুই হাজার ৩৫টি, উপজেলা পর্যায়ে এক হাজার ৮১৮টি ও অন্যান্য ১৬৪টি অফিসে এখন ই-ফাইলিং ব্যবহার করা হচ্ছে। ই-ফাইলিংয়ের সুবিধার ফলে এরই মধ্যে অনেক বেসরকারি অফিসেও এর ব্যবহার শুরু হয়েছে।

প্রযুক্তিবিদরা বলেছেন, সরকারের রূপকল্প ২০২১-এর অন্যতম লক্ষ্য হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। এ জন্য সবার আগে সরকারকেই ডিজিটাল হতে হবে। আর সরকারকে ডিজিটাল করতে ই-ফাইলিং ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। এর ব্যবহার নিশ্চিত না হলে কাগজবিহীন অফিস ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সরকারের মহৎ উদ্যোগ ভেস্তে যাবে। সরকারি অফিসগুলোতে বন্ধ হবে না অনিয়ম, দুর্নীতি, হয়রানি ও তদবির। এতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি বাস্তবায়ন করাও কঠিন হবে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সমকালকে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে চাইলে সরকারকে ডিজিটাল হতেই হবে। এ জন্য সরকারি অফিসের প্রতিটি সেবাই ডিজিটাল করতে হবে। এতে ই-ফাইলিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। এ কাজে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সক্রিয় করতে হবে। কারণ, একজন সিনিয়র সচিব এটি বাস্তবায়ন করলে অধীনস্থরা এমনিতেই তা করতে বাধ্য হবে। তবে সরকার ডিজিটাল হতে না পারলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশকে ডিজিটাল করা সহজ নয় জানিয়ে তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও সরকারি কর্মকর্তারা প্রাচীন পদ্ধতিতে কাজ করত। তাই রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তনের আশা করা ভুল। যেটুকু হয়েছে, সেটা অনেক দ্রুত হয়েছে। এ ছাড়া প্রশাসনে দুই শ্রেণির কর্মকর্তা আছে। এর মধ্যে একটি হলো তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত, তারা নিজেরাই এ কাজ করতে আগ্রহী। আর অন্যটি হলো বয়স্ক ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে অনাগ্রহী। তাদের প্রশাসনের শীর্ষ পদে রেখে সরকারকে সহজে ডিজিটাল করা সম্ভব নয়। তবে টেকনোলজিতে যখন একবার প্রবেশ করা হয়, তখন সেটি বাস্তবায়ন করতে বেশি সময় লাগে না। প্রাথমিক ভিত্তি গড়তে অনেক সময় লাগে। ই-ফাইলিংয়ের ভিত্তি এখন তৈরি হয়ে গেছে। বাস্তবায়ন করতে আর বেশি সময় লাগবে না।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সমকালকে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে ই-নথির ব্যবহার খুবই জরুরি। এ জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একাধিক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তবে সরকারের কিছু গোপনীয় তথ্য সবাইকে জানানো যায় না। তাই সেই বিষয়গুলো ই-ফাইলিং করা যাবে না। সব বিষয় ই-ফাইল করতে গেলে ঝামেলা হবে। এ ছাড়া তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী সরকারের অনেক তথ্য জনগণকে জানানো যায় না।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক সচিব বলেন, ই-ফাইলিং পুরোপুরি কার্যকর হলে স্বাভাবিকভাইে বড় দাগে দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যাবে। জনগণের সঙ্গে সরকারের বিশ্বাস স্থাপন হবে। ফলে প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশ এর বাস্তবায়ন চায় না। এটি ঠেকানোর জন্য একটি চক্র তৈরি হয়েছে। এর বিরুদ্ধে তারা তৎপর রয়েছে। এ ছাড়া কিছু ফাইল রয়েছে, যেগুলো ই-ফাইলিং করলে অনেক পুরনো তথ্য যুক্ত করতে হবে। এর জন্য অনেক সময়ের প্রয়োজন। তাছাড়া অনেক ফাইল হারিয়ে গেছে। সেগুলো খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। এসব কারণে ই-ফাইলিং বাস্তবায়ন বিলম্ব হচ্ছে।

তবে ই-ফাইলিং পুরোপুরি বাস্তায়নের লক্ষ্যে সরকার নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি অর্থবছর থেকে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির (এপিএ) আবশ্যিক ২৫ নম্বরের মধ্যে ৩ নম্বর ই-ফাইলিংয়ের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ডাক থেকে সৃজিত নোট, নোটে নিষ্পন্ন ও পত্র জারি করলে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা এপিএতে এই ৩ নম্বর পাবেন। আগামী অর্থবছর থেকে এই নম্বর বেড়ে ৪ হতে পারে। এ ছাড়া ই-ফাইলিং ব্যবহারের মাধ্যমে পত্রগ্রহণ ও জারি, অনলাইনে জারিকৃত নথি পুনরায় হার্ডকপিতে উপস্থাপন না করা, অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নথি ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান এবং বিভাগ, জেলা ও উপজেলা অফিসে আবশ্যিকভাবে ই-ফাইলিং ব্যবহারের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একাধিক নির্দেশনা জারি করা করেছে। সচিবালয় নির্দেশমালা ২০১৪-তে বলা হয়েছে- 'সচিবালয়ের প্রতিটি শাখা/দপ্তরের সম্ভাব্য সকল কাজে পর্যায়ক্রমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করিতে হইবে। ইলেকট্রনিক নোটিং, ফাইলিং ও ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর ব্যবহারের মাধ্যমে সকল অফিসে পর্যায়ক্রমে ইলেকট্রনিক পদ্ধতি চালু করিতে হইবে। ইলেকট্রনিক নথি ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান অনুসরণ করিতে হইবে এবং মেটাডাটা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করিতে হইবে।' তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬-এ ই-ফাইলিং ব্যবহারের জন্য আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অতিরিক্ত সচিবদের (প্রশাসন) নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্মশালা আয়োজন করে এর বাস্তায়ন কৌশল নির্ধারণ করেছে। মাসিক সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে পর্যালোচনা করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটুআই-এর মনিটরিং ডেস্ক প্রতিদিন কাজের অগ্রগতি খেয়াল করছে।

ই-ফাইলিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো- জনগণকে সরকারি সব সেবা অনলাইনে প্রদান করা। প্রয়োজনীয় সব ফরম অনলাইনে দেওয়া। এক অফিসের কাজ অন্য অফিসের সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত করে দেওয়া। এর মাধ্যমে সমন্বিত সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের ডোমেইন স্পেশালিস্ট ও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান সমকালকে বলেন, ২০১৯ সালের মধ্যে সব প্রতিষ্ঠানকে ই-ফাইলিংয়ের আওতায় আনার জন্য কাজ চলছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নিজেই এটা তদারকি করছেন। এটুআই প্রোগ্রামের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আর সরকারের রূপকল্প ২০২১-এর অন্যতম লক্ষ্য হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া। ফলে সরকারি সব অফিসে দ্রুত ই-ফাইলিং বাস্তবায়নের জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে ই-ফাইলিং বাস্তবায়নের কাজ মাঠ পর্যায়ে শুরু হয় ২০১৬ সালের মার্চে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে শুরু হয় ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে। দীর্ঘদিনেও এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন না হলেও ২০১৯ সালের মধ্যে সব অফিসে ই-ফাইলিং বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধায়নে কাজ করছে এটুআই।

সংশ্লিষ্ট খবর