বাংলাদেশ

শেখ হাসিনাকেও কেন আদালতে আনা হচ্ছে না: খালেদা

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮

শেখ হাসিনাকেও কেন আদালতে আনা হচ্ছে না: খালেদা

বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে খালেদা জিয়া- সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

নাইকো দুর্নীতি মামলার আসামি খালেদা জিয়া বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নাইকো দুর্নীতি মামলায় আসামি ছিলেন। তাকেও আদালতে হাজির করা উচিত। তিনি বলেন, 'আমি শুধু ধারাবাহিকতা রক্ষায় চুক্তিতে স্বাক্ষর করি। তাহলে এখন শুধু আমার একার বিচার হচ্ছে কেন? শেখ হাসিনাকেও কেন আদালতে আনা হচ্ছে না?'

বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালতে এই মামলার শুনানি চলাকালে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল। ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল কবির আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।

আদেশের পর খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এখন থেকে তিনি সেখানেই থাকবেন। এর আগে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে এক মাস অবস্থান করেন খালেদা জিয়া।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে খালেদা জিয়াকে হুইলচেয়ারে করে বিএসএমএমইউ থেকে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়। এর পর তাকে ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতে হাজির করা হয়। বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ জানায়, খালেদা জিয়া বর্তমানে অনেকটা সুস্থ। তার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতে এসে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি এখনও 'দারুণ অসুস্থ'। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত তাকে জেলখানায় আনা হয়েছে।

সকালেই খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র একটি গাড়িতে করে হাসপাতাল থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে একজন কারা কর্মকর্তা জানিয়েছেন।বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন সাংবাদিকদের বলেন, এক মাস চিকিৎসা শেষে খালেদা জিয়াকে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট স্থিতিশীল হওয়ায় মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার জন্য তাকে আবারও হাসপাতালে আনার প্রয়োজন মনে করলে কিংবা কারাগারে গিয়ে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার কথা বললে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে চিকিৎসার জন্য গত ৬ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নেওয়া হয়।

খালেদা জিয়ার মন্তব্য খণ্ডন বিচারকের: বুধবার আইন মন্ত্রণালয় নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচার কার্যক্রম স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষে অস্থায়ী আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। 

সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে মামলার কার্যক্রম শুরু হলে প্রথমে দুদকের প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, এ মামলায় উচ্চ আদালতের কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তাই আমরা চার্জ শুনানি শুরু করতে পারি।

এর পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, মামলায় মওদুদ আহমদের পক্ষে চার্জ শুনানি চলমান আছে। তিনি হাইকোর্টে রিভিশন করেছেন। আমাদের চার্জ শুনানি মওদুদ আহমদের শুনানি শেষ হওয়ার পর হবে। আমরা আজ মুলতবি চেয়েছি। এরপর মওদুদ আহমদ বলেন, আমার রিভিশন মামলা এখনও বিচারাধীন। কোনো আদেশ পাইনি। তাই আমিও মুলতবি চাচ্ছি।

জবাবে কাজল বলেন, ২০০৮ সালের ৫ মে থেকে এ মামলায় চার্জ শুনানি শুরু হয়। আজও শেষ হয়নি। মওদুদ আহমদের জন্যই শুনানি ঝুলে আছে। এ মামলায় এ পর্যন্ত এজাহার, চার্জশিট, প্রসিডিংসহ অনেক বিষয়ই তারা চ্যালেঞ্জ করেছেন। কিন্তু কোনো আদেশ আনতে পারেননি। তাই এখন আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই।

এর পর মওদুদ আহমদ আদালতের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এখানে তো মামলার বিচারকাজ চলার মতো পরিবেশ নেই। বসার জায়গা নেই। ওয়াশরুম নেই। এরপর বিচারক বলেন, যেহেতু উচ্চ আদালতের কোনো স্থগিতাদেশ নেই, তাই সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করা হলো। চার্জ শুনানি শুরু করুন। এরপর মওদুদ আহমদ বলেন, বেশি সময় থাকতে পারব না। সুপ্রিম কোর্টে মামলা রেখে এসেছি। জবাবে বিচারক বলেন, আপনি যত দেরি করবেন, আপনার নেত্রীকেও তত সময় বসে থাকতে হবে। আপনি বিলম্ব করলে তার কষ্ট হবে। তাই আপনি যত তাড়াতাড়ি শেষ করবেন, খালেদা জিয়া তত তাড়াতাড়ি যেতে পারবেন। তার তত কষ্ট কম হবে। এরপর মওদুদ আহমদ বলেন, জানলাম, আজই তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে এখানে আনা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।

শুনানির একপর্যায়ে খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও নাইকো দুর্নীতি মামলায় আসামি ছিলেন। কাজেই তাকেও এখানে হাজির করা উচিত। একজনকে সেভ করার জন্য আরেকজনকে বলি দেবেন, এটা ঠিক না। এ সময় বিচারক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মামলার আসামি নন। কাজেই তাকে এখানে হাজির করার কোনো প্রশ্ন ওঠে না।

শুনানির সময় মামলার অপর আসামিদের মধ্যে গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। জামিনে থাকা অপর আসামি জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম অনুপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া এই মামলার আসামি নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ, তখনকার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক পলাতক রয়েছেন।

কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ২০০৮ সালের মে মাসে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে দুদক। অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

জয়নুলের প্রতিবাদ: আদালতকে অবহিত না করেই খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আদালত অবমাননা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। সমিতি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

বাদের খাতায় অন্তত ১৩ এমপি


আরও খবর

বাংলাদেশ

আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাই সম্পন্ন

বাদের খাতায় অন্তত ১৩ এমপি

নতুন মুখের তালিকায় শামীম অসীম, গোলাপ, শিখর নূর মোহাম্মদ ও শাহীন

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  শাহেদ চৌধুরী

জাতীয় পার্টি, বিকল্পধারা ও ১৪ দলের শরিকদের জন্য নির্ধারিত আসন খালি রেখে ২৩২টিতে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। বাকি ৬৮টি আসনে দলীয় প্রার্থী তালিকা তৈরি করেনি সরকারি দল। দ্রুতই তিনশ' আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও মহাজোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার প্রস্তুতি রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলীর কয়েকজন সদস্য গতকাল রোববার সমকালকে জানিয়েছেন, বেশিরভাগ আসনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হলেও দলের কেন্দ্রীয় দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমানের আসনে মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে, অর্থাৎ ঢাকা-১৩ ও ফরিদপুর-১ আসনে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়নি। এ দুই নেতা বর্তমান সংসদের সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

ভাগ্য বিপর্যয় ঘটেছে দুই কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক এবং আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের। বর্তমান সংসদের সদস্য এ দুই নেতা দলের মনোনয়ন পাননি। শরীয়তপুর-১ আসনে বি এম মোজাম্মেল হকের পরিবর্তে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ইকবাল হোসেন অপু ও মাদারীপুর-৩ আসনে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের বদলে দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান সংসদের কমপক্ষে আরও ১১ এমপি এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকায় স্থান পাননি। তাদের বিভিন্নজনের বিরুদ্ধে নানা কারণে বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। কারও কারও জনপ্রিয়তা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিবাদে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও আছে কারও কারও বিরুদ্ধে। দুর্নীতি, মাদক ও বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত এমপিদেরও দলের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

বাদ পড়া এমপিদের মধ্যে রয়েছেন- মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আবদুল ওয়াহহাব (মাগুরা-১), খন্দকার আসাদুজ্জামান (টাঙ্গাইল-২), আমানুর রহমান রানা (টাঙ্গাইল-৩), সোহরাব উদ্দিন (কিশোরগঞ্জ-২), সুকুমার রঞ্জন ঘোষ (মুন্সীগঞ্জ-১), ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু (নেত্রকোনা-৩), আবদুর রহমান বদি (কক্সবাজার-৪), আবদুল ওয়াদুদ দারা (রাজশাহী-৫), কর্নেল (অব.) শওকত আলী (শরীয়তপুর-২), অধ্যাপক ডা. আমান উল্লাহ (ময়মনসিংহ-১১) ও অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির (যশোর-২)।

বেশ কয়েকজন নতুন মুখ রয়েছেন আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী তালিকায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম (শরীয়তপুর-২), কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল (নেত্রকোনা-৩), প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর (মাগুরা-১), পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নূর মোহাম্মদ (কিশোরগঞ্জ-২) ও আবদুর রহমান বদি এমপির স্ত্রী শাহীন চৌধুরী (কক্সবাজার-৪)।

আওয়ামী লীগ সংসদীয় বোর্ডের কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, সর্বশেষ গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হলেও এতে পরিবর্তন ও সংযোজনের সুযোগ রয়েছে। সংসদীয় বোর্ডের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে এই ক্ষমতা দিয়েছেন। প্রার্থী তালিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে সংসদীয় বোর্ডের কোনো সদস্যই মুখ খুলতে চাননি। তবে গতকাল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, এমন কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম জানা গেছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন (পঞ্চগড়-২), রমেশ চন্দ্র সেন (ঠাকুরগাঁও-১), দবিরুল ইসলাম (ঠাকুরগাঁও-২), মনোরঞ্জন শীল গোপাল (দিনাজপুর-১), খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (দিনাজপুর-২), ইকবালুর রহিম বাবু (দিনাজপুর-৩), আবুল হাসান মাহমুদ আলী (দিনাজপুর-৪), অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার (দিনাজপুর-৫), আসাদুজ্জামান নূর (নীলফামারী-২), মোতাহার হোসেন (লালমনিরহাট-১), নুরুজ্জামান আহমেদ (লালমনিরহাট-২), টিপু মুনশি (রংপুর-৪), এইচ এন আশিকুর রহমান (রংপুর-৫), ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী (রংপুর-৬), মাহাবুব আরা বেগম গিনি (গাইবান্ধা-২), ডা. ইউনুস আলী সরকার (গাইবান্ধা-৩), অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া (গাইবান্ধা-৫), শামসুল আলম দুদু (জয়পুরহাট-১), আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন (জয়পুরহাট-২), আবদুল মান্নান (বগুড়া-১), হাবিবুর রহমান (বগুড়া-৫), সাধন চন্দ্র মজুমদার (নওগাঁ-১), শহীদুজ্জামান সরকার (নওগাঁ-২), ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক (নওগাঁ-৪), আবদুল মালেক (নওগাঁ-৫), ইসরাফিল আলম (নওগাঁ-৬), ওমর ফারুক চৌধুরী (রাজশাহী-১), আয়েন উদ্দিন (রাজশাহী-৩), প্রকৌশলী এনামুল হক (রাজশাহী-৪), শাহরিয়ার আলম (রাজশাহী-৬), অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলক (নাটোর-৩), মোহাম্মদ নাসিম (সিরাজগঞ্জ-১), ডা. হাবিবে মিল্লাত (সিরাজগঞ্জ-২), আবদুল মজিদ মণ্ডল (সিরাজগঞ্জ-৫), হাসিবুর রহমান স্বপন (সিরাজগঞ্জ-৬), মকবুল হোসেন (পাবনা-৩), শামসুর রহমান শরীফ ডিলু (পাবনা-৪), গোলাম ফারুক প্রিন্স (পাবনা-৫), ফরহাদ হোসেন দোদুল (মেহেরপুর-১), মাহবুবউল আলম হানিফ (কুষ্টিয়া-৩), আবদুর রউফ (কুষ্টিয়া-৪), সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন (চুয়াডাঙ্গা-১), আলী আজগার টগর (চুয়াডাঙ্গা-২), শেখ আফিল উদ্দিন (যশোর-১), কাজী নাবিল আহমেদ (যশোর-৩), রণজিত কুমার রায় (যশোর-৪), স্বপন ভট্টাচার্য্য (যশোর-৫), ইসমাত আরা সাদেক (যশোর-৬), বীরেন শিকদার (মাগুরা-২), শেখ হেলাল উদ্দিন (বাগেরহাট-১), হাবিবুন্নাহার (বাগেরহাট-৩), পঞ্চানন বিশ্বাস (খুলনা-১), মন্নুজান সুফিয়ান (খুলনা-৩), আবদুস সালাম মুর্শেদী (খুলনা-৪), নারায়ণ চন্দ্র চন্দ (খুলনা-৫), অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক (সাতক্ষীরা-৩), অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ শম্ভু (বরগুনা-১), শওকত হাচানুর রহমান রিমন (বরগুনা-২), আ স ম ফিরোজ (পটুয়াখালী-২), আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন (পটুয়াখালী-৩), তোফায়েল আহমেদ (ভোলা-১), নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন (ভোলা-৩), আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব (ভোলা-৪), আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ (বরিশাল-১), অ্যাডভোকেট তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস (বরিশাল-২), পংকজ দেবনাথ (বরিশাল-৪), জেবুন্নেছা আফরোজ (বরিশাল-৫), বজলুল হক হারুন (ঝালকাঠি-১), আমির হোসেন আমু (ঝালকাঠি-২), ড. আবদুর রাজ্জাক (টাঙ্গাইল-১), হাসান ইমাম খান (টাঙ্গাইল-৪), ছানোয়ার হোসেন (টাঙ্গাইল-৫), খন্দকার আবদুল বাতেন (টাঙ্গাইল-৬), একাব্বর হোসেন (টাঙ্গাইল-৭), সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম (কিশোরগঞ্জ-১), রেজুওয়ান আহমেদ তৌফিক (কিশোরগঞ্জ-৪), আফজাল হোসেন (কিশোরগঞ্জ-৫), নাজমুল হাসান পাপন (কিশোরগঞ্জ-৬), এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয় (মানিকগঞ্জ-১), জাহিদ মালেক স্বপন (মানিকগঞ্জ-৩), সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি (মুন্সীগঞ্জ-২), অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস (মুন্সীগঞ্জ-৩), অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম (ঢাকা-২), নসরুল হামিদ বিপু (ঢাকা-৩), হাবিবুর রহমান মোল্লা (ঢাকা-৫), হাজি মোহাম্মদ সেলিম (ঢাকা-৭), সাবের হোসেন চৌধুরী (ঢাকা-৯), ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস (ঢাকা-১০), এ কে এম রহমতুল্লাহ (ঢাকা-১১), আসাদুজ্জামান খান কামাল (ঢাকা-১২), আসলামুল হক আসলাম (ঢাকা-১৪), কামাল আহমেদ মজুমদার (ঢাকা-১৫), ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ (ঢাকা-১৬), ডা. এনামুর রহমান (ঢাকা-১৯), আ ক ম মোজাম্মেল হক (গাজীপুর-১), জাহিদ আহসান রাসেল (গাজীপুর-২), সিমিন হোসেন রিমি (গাজীপুর-৪), মেহের আফরোজ চুমকি (গাজীপুর-৫), লে. কর্নেল (অব.) নজরুল ইসলাম হিরু বীরপ্রতীক (নরসিংদী-১), ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ (নরসিংদী-২), সিরাজুল ইসলাম মোল্লা (নরসিংদী-৩), অ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন (নরসিংদী-৪), রাজি উদ্দিন আহমেদ রাজু (নরসিংদী-৫), নজরুল ইসলাম বাবু (নারায়ণগঞ্জ-২), এ কে এম শামীম ওসমান (নারায়ণগঞ্জ-৪), কাজী কেরামত আলী (রাজবাড়ী-১), ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন (ফরিদপুর-৩), কাজী জাফর উল্লাহ (ফরিদপুর-৪), লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান (গোপালগঞ্জ-১), শেখ ফজলুল করিম সেলিম (গোপালগঞ্জ-২), শেখ হাসিনা (গোপালগঞ্জ-৩), নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন (মাদারীপুর-১), শাজাহান খান (মাদারীপুর-২), নাহিম রাজ্জাক (শরীয়তপুর-৩), মির্জা আজম (জামালপুর-৩), রেজাউল করিম হিরা (জামালপুর-৫), আতিউর রহমান আতিক (শেরপুর-১), মতিয়া চৌধুরী (শেরপুর-২), এ কে এম ফজলুল হক চান (শেরপুর-৩), জুয়েল আরেং (ময়মনসিংহ-১), অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন (ময়মনসিংহ-৬), ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল (ময়মনসিংহ-১০), আরিফ খান জয় (নেত্রকোনা-২), রেবেকা মমিন (নেত্রকোনা-৪), ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন (সুনামগঞ্জ-১), জয়া সেনগুপ্তা (সুনামগঞ্জ-২), এম এ মান্নান (সুনামগঞ্জ-৩), মুহিবুর রহমান মানিক (সুনামগঞ্জ-৫), আবুল মাল আবদুল মুহিত (সিলেট-১), মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস (সিলেট-৩), ইমরান আহমদ (সিলেট-৪), নুরুল ইসলাম নাহিদ (সিলেট-৬), শাহাব উদ্দিন (মৌলভীবাজার-১), সৈয়দা সায়রা মহসিন (মৌলভীবাজার-৩), উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ (মৌলভীবাজার-৪), মাহবুব আলী (হবিগঞ্জ-৪), অ্যাডভোকেট আনিসুল হক (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪), ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া (কুমিল্লা-১), অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু (কুমিল্লা-৫), আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার (কুমিল্লা-৬), অধ্যাপক আলী আশরাফ (কুমিল্লা-৭), আ হ ম মুস্তফা কামাল লোটাস (কুমিল্লা-১০), মুজিবুল হক (কুমিল্লা-১১), মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম (চাঁদপুর-২), ডা. দীপু মনি (চাঁদপুর-৩), এইচ এম ইব্রাহিম (নোয়াখালী-১), একরামুল করিম চৌধুরী (নোয়াখালী-৪), ওবায়দুল কাদের (নোয়াখালী-৫), এ কে এম শাহজাহান কামাল (লক্ষ্মীপুর-৩), ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন (চট্টগ্রাম-১), মাহফুজুর রহমান মিতা (চট্টগ্রাম-৩), এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৬), ড. হাছান মাহমুদ (চট্টগ্রাম-৭), ডা. আফছারুল আমীন (চট্টগ্রাম-১০), সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (চট্টগ্রাম-১৩), সাইমুম সরওয়ার কমল (কক্সবাজার-৩), কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (খাগড়াছড়ি) ও বীর বাহাদুর উশৈ সিং (বান্দরবান)।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

রাষ্ট্রপতির সহায়তা চেয়ে চিঠি দেবে ঐক্যফ্রন্ট


আরও খবর

বাংলাদেশ
রাষ্ট্রপতির সহায়তা চেয়ে চিঠি দেবে ঐক্যফ্রন্ট

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

  লোটন একরাম

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে রাষ্ট্রপতির সহায়তা চেয়ে চিঠি দিচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। দু-একদিনের মধ্যেই ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে এ চিঠি দিচ্ছেন। চিঠিতে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় ঐক্যফ্রন্টের অসন্তোষের কথা জানানো হবে। নির্বাচনের বর্তমান পরিবেশ সব দলের জন্য 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে'র উপযোগী নয় বলেও জানাবে জোটটি। সংবিধান অনুযায়ী দেশের অভিভাবক রাষ্ট্রপতিকে এ ব্যাপারে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাবে নির্বাচনী এই জোট। ঐক্যফ্রন্টের উচ্চপর্যায়ের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। কমিশন নিজেই আচরণবিধি ভঙ্গ করছে। নির্বাচনের জন্য 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' তৈরি হয়নি। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার এখনও সরকারের উন্নয়নের খবর বারবার প্রচার করছে, তারা কোনো নিরপেক্ষতা বজায় রাখছে না। বিরোধী দলের সংবাদ প্রচার করা হয় না। বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতারও বন্ধ হয়নি। এসব সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী গতকাল সমকালকে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ দৃশ্যমান হচ্ছে না। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন অর্পিত দায়িত্ব পালন করছে বলে মনে হচ্ছে না। সংবিধানে ১২৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য। তবে সংবিধানের এ অর্পিত দায়িত্ব পালনে ইসি  নিষ্ফ্ক্রিয় বলে মনে হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারি।

সূত্র জানায়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারি দলের নেতাকর্মীদের ভূমিকা পর্যবেক্ষণ করছে ঐক্যফ্রন্ট। পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকা নিরপেক্ষ নয় বলে মনে করছেন তারা। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না বলে তাদের চোখে দৃশ্যমান।

সংবিধানের ১১৮(৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবে এবং কেবল সংবিধান ও আইনের অধীনে হবে। তবে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলে মনে হয় না। এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

সূত্র জানায়, ঐক্যফ্রন্টের চিঠিতে রাষ্ট্রপতিকে বলা হবে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দুই দফায় সংলাপ করে সুষ্ঠু নির্বাচনের সাত দফার কোনো দাবি পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে তারা। প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানি বন্ধের আশ্বাস দেওয়ার পরও তা বন্ধ হয়নি। সারাদেশে ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নতুন করে কয়েকশ' মামলা হয়েছে। চলছে গ্রেফতার ও হয়রানি।

ঐক্যফ্রন্ট অভিযোগ করবে, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না ইসি। কার্যত ইসির পক্ষ থেকে সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির কোনো উদ্যোগ নেই। তফসিল ঘোষণার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ইসির অধীনে ন্যস্ত হলেও গায়েবি মামলা অব্যাহত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইসি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। অতীতে তফসিল ঘোষণার পর মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করলেও বর্তমান ইসি বিরোধী জোটের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেও নীরবতা পালন করছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সমকালকে বলেন, তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া গ্রহণ করার কথা নয়। অথচ কমিশনকে না জানিয়েই প্রশাসন থেকে সহকারী রিটার্নিং অফিসারসহ নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পোলিং এজেন্টের তালিকা নির্বাচন কমিশন থেকে সংগ্রহ করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে কেন্দ্রপ্রধানদের নাম ও ঠিকানা সংগ্রহ করছে তারা। এবারও সম্ভাব্য পোলিং এজেন্ট ও কেন্দ্রপ্রধান হওয়ার মতো ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের নাম ও ঠিকানা সংগ্রহ করছে পুলিশ। এগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষণ নয় বলে মনে করেন তারা।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

এরশাদ কোথায়


আরও খবর

বাংলাদেশ
এরশাদ কোথায়

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রাজীব আহাম্মদ

অজ্ঞাত স্থানে 'বিশ্রাম নিচ্ছেন' জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। গত শনিবার রাতে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে ছাড়া পেয়ে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসভবনে ফেরেননি তিনি। এরশাদ হঠাৎ আড়ালে যাওয়ায় রাজনৈতিক গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।

জাপা নেতারা প্রকাশ্যে বলছেন, ৮৮ বছর বয়সী এরশাদ অসুস্থ নন। তবে দলীয় সূত্র সমকালকে নিশ্চিত করেছে অবস্থা গুরুতর না হলেও বার্ধক্যজনিত  নানান সমস্যায় ভুগছেন তিনি। ভোটের আগে দলীয় কর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে এরশাদের অসুস্থতার খবর গোপন রাখা হয়েছে। রাজধানীর গুলশানে নিজ বাড়িতে বিশ্রামে আছেন এরশাদ। তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

ক্ষণে ক্ষণে মত বদলের কারণে রাজনীতির বিতর্কিত চরিত্র সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ। ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিলেও এরশাদ শেষ পর্যন্ত কী করবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেকের।

বিএনপির সঙ্গে জোট করেও ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে চার দল ছাড়েন এরশাদ। আবার বিএনপির সঙ্গে আলাপ চালিয়েও ২০০৬ সালে ভোটের আগে যোগ দেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে। তিন দিন 'আত্মগোপনে' থাকার পর ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর পল্টনে আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশে যোগ দিয়ে রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দেন তিনি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগের কয়েক মাসে এরশাদের ভূমিকা ছিল নাটকীয়তায় পূর্ণ। ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর তিনি মহাজোট ছাড়েন। নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ না দেওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু পরের মাসেই নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ দিয়ে ভোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ১৫ দিনের মধ্যে মত বদলে নির্বাচনকালীন সরকার থেকে দলীয় মন্ত্রীদের পদত্যাগ করে ভোট বর্জনের নির্দেশ দেন।।

নির্বাচন বর্জনকারী এরশাদকে ২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর সিএমএইচে 'ভর্তি' করে র‌্যাব। জাপার একাংশ রওশন এরশাদের নেতৃত্বে বিএনপিবিহীন নির্বাচনে অংশ নেয়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন শেষে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত সিএমএইচে 'চিকিৎসাধীন' ছিলেন এরশাদ। হাসপাতাল থেকে এসে সংসদ সদস্যের শপথ নেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হয়ে বাসায় ফেরেন।

গত ৫ নভেম্বর গণভবনে সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপা চেয়ারম্যানকে বলেন, আর ডিগবাজি না দিতে। তবে নির্বাচনের আগে এরশাদের অসুস্থতা এবং তিনি বাসায় না থাকায় নতুন গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। এরশাদ মহাজোট ছাড়তে পারেন এমন গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। ৭৬ আসনে মহাজোটের মনোনয়ন চেয়েছে জাপা। আওয়ামী লীগ ৩০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি নয়। প্রত্যাশিত আসন না পেলে এরশাদ বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যেতে পারেন, এমন গুঞ্জনও রয়েছে।

এরশাদের ছোট ভাই জাপার কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের এসবকে গুজব বলে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি সমকালকে বলেন, এসব গুঞ্জন শতভাগ মিথ্যা। দলের শত শত মনোনয়নপ্রত্যাশী এরশাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে প্রতিদিন তার বারিধারার বাসায় ভিড় করছেন। তাই তিনি বিশ্রাম নিতে পারছেন না। অন্য একটি বাসায় বিশ্রাম নিচ্ছেন।

জিএম কাদেরের দেওয়া তথ্যকে সঠিক বলেছেন মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনি সমকালকে বলেন, জাপা চেয়ারম্যান অসুস্থ না হলেও বার্ধক্যজনিত কিছু স্বাভাবিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি। তার বিশ্রাম প্রয়োজন। বারিধারার বাসায় বিশ্রাম নিতে না পারায় ঢাকায় তার অন্য একটি বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছেন।

তবে বাড়ির ঠিকানা বলতে রাজি হননি জাপা মহাসচিব। তার দাবি, এরশাদের 'অসুস্থতা ও বিশ্রামে'র পেছনে অন্য কারণ নেই। গতবারের নির্বাচনের আগের ঘটনাক্রমের সঙ্গে এরশাদের এবারের বিশ্রামের মিল আছে কি-না? এ প্রশ্নে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, 'এবার তেমন কিছু না। আসলেই তার বিশ্রাম প্রয়োজন। এতে কোনো রাজনীতি নেই।'

জাপা সূত্র জানায়, সিএমএইচের চিকিৎসকরা সাবেক সেনাশাসক এরশাদকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। গতকাল রোববার বারিধারায় এরশাদের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড় দেখা যায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা জাপার মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তার সাক্ষাৎ না পেয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। এরশাদের একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সমকালকে জানিয়েছেন, সাক্ষাৎপ্রত্যাশীদের ভিড় এড়াতেই বাড়ি ছেড়েছেন এরশাদ।

গত বৃহস্পতিবার রাতে সাবেক সেনাপ্রধান এরশাদকে সিএমএইচে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি হাসপাতাল ছাড়েন বলে জানিয়েছেন এরশাদের ব্যক্তিগত সচিব মেজর (অব.) খালেদ আকতার। গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে দুই দফা সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেন এরশাদ। রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তিনি আগের মতো নিয়মিত নন। গত ২০ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশে এরশাদ চেয়ারে বসে বক্তৃতা করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর