বাংলাদেশ

শেখ হাসিনাকেও কেন আদালতে আনা হচ্ছে না: খালেদা

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮

শেখ হাসিনাকেও কেন আদালতে আনা হচ্ছে না: খালেদা

বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে খালেদা জিয়া- সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

নাইকো দুর্নীতি মামলার আসামি খালেদা জিয়া বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নাইকো দুর্নীতি মামলায় আসামি ছিলেন। তাকেও আদালতে হাজির করা উচিত। তিনি বলেন, 'আমি শুধু ধারাবাহিকতা রক্ষায় চুক্তিতে স্বাক্ষর করি। তাহলে এখন শুধু আমার একার বিচার হচ্ছে কেন? শেখ হাসিনাকেও কেন আদালতে আনা হচ্ছে না?'

বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালতে এই মামলার শুনানি চলাকালে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল। ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল কবির আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।

আদেশের পর খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এখন থেকে তিনি সেখানেই থাকবেন। এর আগে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে এক মাস অবস্থান করেন খালেদা জিয়া।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে খালেদা জিয়াকে হুইলচেয়ারে করে বিএসএমএমইউ থেকে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়। এর পর তাকে ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতে হাজির করা হয়। বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ জানায়, খালেদা জিয়া বর্তমানে অনেকটা সুস্থ। তার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতে এসে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি এখনও 'দারুণ অসুস্থ'। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত তাকে জেলখানায় আনা হয়েছে।

সকালেই খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র একটি গাড়িতে করে হাসপাতাল থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে একজন কারা কর্মকর্তা জানিয়েছেন।বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন সাংবাদিকদের বলেন, এক মাস চিকিৎসা শেষে খালেদা জিয়াকে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট স্থিতিশীল হওয়ায় মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার জন্য তাকে আবারও হাসপাতালে আনার প্রয়োজন মনে করলে কিংবা কারাগারে গিয়ে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার কথা বললে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে চিকিৎসার জন্য গত ৬ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নেওয়া হয়।

খালেদা জিয়ার মন্তব্য খণ্ডন বিচারকের: বুধবার আইন মন্ত্রণালয় নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচার কার্যক্রম স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষে অস্থায়ী আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। 

সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে মামলার কার্যক্রম শুরু হলে প্রথমে দুদকের প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, এ মামলায় উচ্চ আদালতের কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তাই আমরা চার্জ শুনানি শুরু করতে পারি।

এর পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, মামলায় মওদুদ আহমদের পক্ষে চার্জ শুনানি চলমান আছে। তিনি হাইকোর্টে রিভিশন করেছেন। আমাদের চার্জ শুনানি মওদুদ আহমদের শুনানি শেষ হওয়ার পর হবে। আমরা আজ মুলতবি চেয়েছি। এরপর মওদুদ আহমদ বলেন, আমার রিভিশন মামলা এখনও বিচারাধীন। কোনো আদেশ পাইনি। তাই আমিও মুলতবি চাচ্ছি।

জবাবে কাজল বলেন, ২০০৮ সালের ৫ মে থেকে এ মামলায় চার্জ শুনানি শুরু হয়। আজও শেষ হয়নি। মওদুদ আহমদের জন্যই শুনানি ঝুলে আছে। এ মামলায় এ পর্যন্ত এজাহার, চার্জশিট, প্রসিডিংসহ অনেক বিষয়ই তারা চ্যালেঞ্জ করেছেন। কিন্তু কোনো আদেশ আনতে পারেননি। তাই এখন আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই।

এর পর মওদুদ আহমদ আদালতের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এখানে তো মামলার বিচারকাজ চলার মতো পরিবেশ নেই। বসার জায়গা নেই। ওয়াশরুম নেই। এরপর বিচারক বলেন, যেহেতু উচ্চ আদালতের কোনো স্থগিতাদেশ নেই, তাই সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করা হলো। চার্জ শুনানি শুরু করুন। এরপর মওদুদ আহমদ বলেন, বেশি সময় থাকতে পারব না। সুপ্রিম কোর্টে মামলা রেখে এসেছি। জবাবে বিচারক বলেন, আপনি যত দেরি করবেন, আপনার নেত্রীকেও তত সময় বসে থাকতে হবে। আপনি বিলম্ব করলে তার কষ্ট হবে। তাই আপনি যত তাড়াতাড়ি শেষ করবেন, খালেদা জিয়া তত তাড়াতাড়ি যেতে পারবেন। তার তত কষ্ট কম হবে। এরপর মওদুদ আহমদ বলেন, জানলাম, আজই তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে এখানে আনা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।

শুনানির একপর্যায়ে খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও নাইকো দুর্নীতি মামলায় আসামি ছিলেন। কাজেই তাকেও এখানে হাজির করা উচিত। একজনকে সেভ করার জন্য আরেকজনকে বলি দেবেন, এটা ঠিক না। এ সময় বিচারক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মামলার আসামি নন। কাজেই তাকে এখানে হাজির করার কোনো প্রশ্ন ওঠে না।

শুনানির সময় মামলার অপর আসামিদের মধ্যে গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। জামিনে থাকা অপর আসামি জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম অনুপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া এই মামলার আসামি নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ, তখনকার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক পলাতক রয়েছেন।

কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ২০০৮ সালের মে মাসে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে দুদক। অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

জয়নুলের প্রতিবাদ: আদালতকে অবহিত না করেই খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আদালত অবমাননা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। সমিতি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানাল বাংলাদেশ


আরও খবর

বাংলাদেশ

  সমকাল প্রতিবেদক

দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ওই প্রতিবেদনে সঠিক তথ্য প্রতিফলিত হয়নি। বাংলাদেশের চেয়ে বরং যুক্তরাষ্ট্রেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে অনানুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের হামলার ঘটনায় সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এম শহীদুল আলম।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটি ভ্রমণে বাংলাদেশিদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।

ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে নৃশংস হামলায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশির পরিচয় তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. আব্দুস সামাদ, সিলেটের ফরিদ আহমেদের স্ত্রী হুসনে আরা আহমেদ, চাঁদপুরের মোজাম্মেল হক, নরসিংদীর জাকারিয়া ভূঁইয়া ও নারায়ণগঞ্জের মোহাম্মদ ওমর ফারুক। আহত হয়েছেন কিশোরগঞ্জের লিপি ও গাজীপুরের মুনতাসীম। তবে লিপির অবস্থা গুরুতর। এ ছাড়া শাওন নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

ড. মোমেন বলেন, নিউজিল্যান্ডের ঘটনার বিষয়ে খোঁজ-খবর ও যাবতীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য সহকারী সচিব ওয়ালিদ বিন কাশেমকে ফোকাল পারসন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডে নিহতদের শনাক্ত করার জন্য বাংলাদেশ থেকে পরিবারপ্রতি একজনকে খরচ দিয়ে নিয়ে যাবে নিউজিল্যান্ড সরকার।

মন্ত্রী আরও জানান, হামলার পর পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশটির ক্যানবেরায় থাকা বিদেশি মিশনের মধ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনই সবার আগে ক্রাইস্টাচার্চে পৌঁছায়। হতাহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ান কর্মকর্তারা। তিনি আরও জানান, বিশ্বে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে জাতিসংঘের মাধ্যমে একটি উদ্যোগ নেবে বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

ঢাবিতে আন্দোলনকারী পাঁচ প্যানেলের কর্মসূচি স্থগিত


আরও খবর

বাংলাদেশ

সোমবার উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে পাঁচ ঘণ্টা অবস্থানের পর কর্মসূচি স্থগিত করে ডাকসু নির্বাচন বর্জনকারী পাঁচ প্যানেলের নেতারা -সমকাল

  বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে পাঁচ ঘণ্টা অবস্থানের পর কর্মসূচি স্থগিত করেছে নির্বাচন বর্জন করা পাঁচটি প্যানেল। পরবর্তী কর্মসূচি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে বলে প্যানেলগুলোর নেতারা জানিয়েছেন। সোমবার বিকাল ৫টায় আন্দোলনরত পাঁচ প্যানেলের প্রার্থী ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেন ডাকসু নির্বাচনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জিএস প্রার্থী রাশেদ খান এবং স্বতন্ত্রী শিক্ষার্থী প্যানেলের ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান।

রাশেদ খান বলেন, আমরা পাঁচ ঘন্টা ধরে এখানে বসে আছি। আমরা ক্ষুব্ধ এবং হতাশ। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বা প্রক্টর কেউ আমাদের সঙ্গে কথা বলতে আসেনি। তারা নৈতিকভাবে এমন দুর্বল হয়ে গেছেন যে, শিক্ষার্থীদের সামনে আসার সৎসাহসটা পর্যন্ত তাদের নেই। এটা খুবই লজ্জাজনক। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসম্মান যা ছিল সব নষ্ট হয়ে গেছে এ নির্লজ্জ প্রশাসনের কারণে।

অরণি সেমন্তি খান বলেন, আমরা খুবই হতাশ। আমাদের শিক্ষক যারা আছেন অভিভাবক হিসেবে তাদের আমাদের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু এটা আমাদের জন্য লজ্জার যে, তারা আসেননি। তাদের এত ভয় কিসের? এত লুকানোর কী আছে? কারণ আমাদের সামনে আসার সৎ সাহস তাদের নেই।

পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে রাশেদ খান বলেন, আমাদের যে পাঁচটি প্যানেল রয়েছে- সবার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের গলায় সমস্যা হওয়ায় কথা বলতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন সহকারী প্রক্টর আবদুর রহিম। পাঁচ প্যানেলের নেতাদের তাদের দাবিগুলো লিখিত আকারে উপাচার্য বরাবর পেশ করতে বলেন তিনি।

এর আগে পাঁচ দফা দাবিতে দুপুর ১২টার দিকে পাঁচ প্যানেলের নেতারা রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হন। সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন তারা। এরপর উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

তাদের পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো- ১. অবিলম্বে নির্বাচন বাতিল, ২. পুনঃতফসিল ঘোষণা, ৩. ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে উপাচার্যের পদত্যাগ, ৪. নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে জড়িত সব শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদত্যাগ ৫. শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহার।

আন্দোলনকারীরা উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে বসে বিভিন্ন স্লোগান ও বিদ্রোহী সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান। তবে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেল থেকে নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর ও বামজোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দীকে সেখানে দেখা যায়নি। নুরের বোন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকায় তিনি আসতে পারেননি বলে জানা যায়। 

ক্লাস-পরীক্ষা স্বাভাবিক: পাঁচ দফা দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল পাঁচ প্যানেলের প্রার্থীরা। তবে সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবে চলছে। ক্যাম্পাসেও শিক্ষার্থীদের আনাগোনাও স্বাভাবিক।

সব বিভাগেই ক্লাস স্বাভাবিকভাবেই হচ্ছে জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ক্লাস না হওয়ার কোনো কারণ নেই।

উপাচার্যের সঙ্গে অনশনকারীদের বৈঠক: এদিকে ডাকসু নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাজু ভাস্কর্যে অনশন করা শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকাল ১১টার দিকে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে অনশন করা শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম, রাফিয়া তামান্না, শোয়েব মাহমুদ অনন্ত, তাওহিদ তানজিম ও মইন উদ্দিন উপাচার্যের কাছে ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন। এ সময় উপাচার্য বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।

প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক শেষে শোয়েব মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনে ভোট কারচুপি, ভোট প্রদানে বাধা ও প্রার্থীদের ওপর হামলার বিষয়গুলো উপাচার্যকে জানানো হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন হলে ভোটের অনিয়ম, ভোটারদের লিখিত অভিযোগ ও হামলার ভিডিও ফুটেজ দেওয়া হয়েছে। উপাচার্য স্যার জানিয়েছে, নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ১৩ মার্চ যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের কাছে এই ডকুমেন্টগুলো সরবরাহ করা হবে।

তবে এই বৈঠক নিয়ে তারা সন্তুষ্ট নন বলে জানান আরেক অনশনকারী মঈন উদ্দিন। তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের উত্থাপিত অনিয়মগুলো নিয়ে তদন্ত করা হবে বলে উপাচার্য জানিয়েছেন, তাই আমরা কিছুদিন অপেক্ষা করব। দ্রুত তদন্তের ফল প্রকাশ না করলে আমরা চলমান আন্দোলনে যোগ দেব।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে উপাচার্য, চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অপসারণ, পুনঃনির্বাচন ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছিলেন চার শিক্ষার্থী। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন আরো তিনজন। এর মধ্যে ছয়জন ডাকসু ও হল সংসদে বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ছিলেন। অনশনের চতুর্থ দিনের মাথায় শুক্রবার রাতে প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মাকসুদ কামালসহ ডাকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএস গিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়ে তাদের অনশন ভাঙান।


সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

ডা. রাজনের মরদেহে আঘাতের চিহ্ন মেলেনি


আরও খবর

বাংলাদেশ

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজন কর্মকারের মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সোমবার সকালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সেলিম রেজা সমকালকে বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য ভিসেরা নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত করে কারণ বলা যাবে। তবে মৃতদেহে কোনোপ্রকার আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

এ দিকে সোমবার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে রাজনের লাশ দেখতে যান তার স্ত্রী ডা, কৃষ্ণা মজুমদার। স্বামীর মৃত্যুতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বিএসএমএমইউ'র চিকিৎসকরা জানান, ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে রাজনের মৃতদেহ তার কর্মস্থল বিএসএমএমইউ-এ নেওয়া হয়। তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। দুপুর ২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে মৃতদেহ গ্রামের বাড়ির নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এখলাসপুরের উদ্দেশে নিয়ে রওনা হন স্বজনরা।

গত রোববার ভোরে পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়ার আগেই রাজনের মৃত্যু হয়। তার মৃত্যু নিয়ে সৃষ্টি হয় নানা রহস্য। তার চিকিৎসক সহকর্মী এবং স্বজনের অভিযোগ তার স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। তাকে হত্যা করা হয়েছে।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের মেয়ে ডা. কৃষ্ণা মজুমদারের স্বামী ডা. রাজন। কৃষ্ণাও বিএসএমএমইউ'র সহকারী অধ্যাপক। তাদের বাসা ফার্মগেট এলাকার ইন্দিরা রোডে। তবে জানুয়ারি থেকে তারা সেখানে থাকতেন না। মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ন্যাম ভবনে থাকতেন।

ইন্দিরা রোডের ৪৭ নম্বর বাড়িটির নিরাপত্তা কর্মী বাদশা মিয়া জানান, ৩/সি ফ্ল্যাটে চিকিৎসক দম্পতি ভাড়া থাকতেন। তবে এ মাসের শেষে বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথা। জানুয়ারি থেকে তারা বাসায় থাকেন না। ডা. রাজন মাঝেমধ্যে বাসায় আসতেন, তবে রাত কাটাতেন না। ভাড়ার টাকা দিয়ে চলে যেতেন। শনিবার রাত ১টার দিকে রাজন বাসায় আসেন। দেড়টার দিকে নিচে নেমে যান। ১৫-২০ মিনিট পর আবার তিনি বাসায় ওঠেন। রাত আড়াইটা-তিনটার দিকে তার স্ত্রী ডা. কৃষ্ণা গাড়িতে করে ওই বাসায় আসেন। গাড়ির ড্রাইভার নিচে অবস্থান করছিলেন। আধাঘন্টা পর কৃষ্ণা ড্রাইভারকে বাসায় ডাকেন। এরপরই ড্রাইভার চিৎকার করে লিফট চালু করতে বলেন নিরাপত্তাকর্মীকে। অচেতন অবস্থায় ডা. রাজনকে গাড়িতে করে তারা স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই রাজনের মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে বিএসএমএমইউ'র চিকিৎসক সহকর্মী ও স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে যান। তারা অভিযোগ তোলেন-স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। তাকে হত্যা করা হয়েছে। অবশ্য রাজনের মামা সুজন কর্মকার রোববার শেরেবাংলা নগর থানায় লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, রাজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সি বলেন, আমরা তার অভিযোগ খতিয়ে দেখছি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে রাজন কর্মকারের মৃতদেহ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সোমবার দুপুরে বিএসএমএমইউ'র বি ব্লকের শহীদ ডা. মিলন হলে আনা হয়। এ সময় এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয় সেখানে। রাজনের মরদেহে বিএসএমএমইউ'র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ূয়াসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা পুষ্পস্তবক অপর্ণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান।

সংশ্লিষ্ট খবর